Chapter-3.4⇒আগ্নেয়োচ্ছ্বাস ও সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ

ভূগর্ভের শিলা গলে গিয়ে ম্যাগমায় পরিণত হয়, ওই ম্যাগমা ভূগতের স্থানে একত্রিত হয়, সেই স্থানটিকে ম্যাগনা গহ্বর বা ম্যাগমা প্রকোষ্ঠ বলে ।

ভূগর্ভে তেজস্ক্রিয় পদার্থের ভাঙনের আমেয়োচ্ছাসের সৃষ্টি ফলে

অগ্ন্যুৎপাতের সময় নির্গত জ্বলন্ত গ্যাসীয় পদার্থকে বলে

ভূ-অভ্যন্তরে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের প্রভাবে শিলা গলে গিয়ে ম্যাগমার উৎপত্তি ঘটে। অপরপক্ষে ভূ-অভ্যন্তরের ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে এসে পৌঁছালে লাভার সৃষ্টি হয়।

আগ্নিক লাভা সান্দ্র প্রকৃতির হওয়ার ধীর গতিতে প্রবাহিত হয় এবং ভূপৃষ্ঠে নির্গত হয়ে বাতাসের সংস্পর্শে এসে দ্রুত জমাট বেধে শক্ত হয়ে গম্বুজাকৃতি ভূমিরূপ সৃষ্টি করে।

আম্লিক লাভায় সৃষ্ট লাভা গম্বুজের আকৃতি সরার মতো উলটানো ও স্বল্প উচ্চতাবিশিষ্ট হলে তাকে কিউমুলো গম্বুজ বলে।

ভূ-অভ্যন্তরস্থ ম্যাগমার ওপর চাপ হ্রাস পেলে বা শিলার স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হলে ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে নির্গত হয়।

ভূমিকম্পপ্রবণ চালু পাত সীমান্ততলকে অধঃপাত অঞ্চল বলে।

পৃথিবীর উচ্চতম আগ্নেয়গিরিটি হল আর্জেন্টিনা ও চিলির সীমান্তে অবস্থিত ওজোস-ডেল-সালাডো (6,893 মিটার) নামক আগ্নেয়গিরি।

জলের তলদেশে সজ্জিত লাভাকে পিলো লাভা বলে ।

মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা বরাবর বিদার অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

নিরপেক্ষ পাত সীমানায় দুটি পাত পরস্পরকে অনুভূমিকভাবে পাশ কাটিয়ে চলে গেলে ওই সীমানা বরাবর ট্রান্সফর্ম চ্যুতির সৃষ্টি হয়।

তন্তু অঞ্চলে তেজস্ক্রিয় পদার্থের প্রভাব বেশি বলে ম্যাগমার ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ হয়, এই প্রবাহকে প্লিউম বলে।

যে ধরনের ভূমিরূপ সৃষ্টিতে ভূপৃষ্ঠের আপেক্ষিক উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাকে ধনাত্মক ভূমিরূপ বলে

জ্বালামুখের চারপাশে পাইরোক্লাস্ট দ্রব্য, আগ্নেয় ভস্ম ও ধূলিকণা সম্ভিত হয়ে মোচাকৃতির ও সিতার শঙ্কুবিশিষ্ট আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হয়।

লাভা ও স্কোরিয়া পর্যায়ক্রমে স্তরে স্তরে সজ্জিত হয়ে যে এক জ্বালামুখবিশিষ্ট শঙ্কু আকৃতির আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হয়। তাকে বিমিশ্র আগ্নেয়গিরি বলে।

ক্ষারকীয় তরল লাভায় গঠিত আগ্নেয়গিরি চ্যাপটা হয় এবং এর চারপাশের ঢাল কম খাড়া  হয়। এই আগ্নেয়গিরি দেখতে চালের মতো হয় বলে একে শিল্ড আগ্নেয়গিরি বলে।

আত্মিক পাতায় গঠিত গম্বুজাকৃতির আগ্নেয়গিরিটি সবার মতো উলটানো ও স্বল্প উচ্চতাবিশিষ্ট হলে তাকে কিউমুলো গম্বুজ বলে।

স্তম্ভের আকারে জমাটবদ্ধ ক্ষারকীয় লাভা ভূমি থেকে উঁচুতে অবস্থান করলে তাকে প্লাগ গম্বুজ বলে।

মহাসাগরের তলদেশে চ্যাপটা মস্তকবিশিষ্ট যে পাহাড় বা আগ্নেয়গিরি অবস্থান করে তাকে গায়ট বলে।

জ্বালামুখের মধ্যে লাভা জমাট বেঁধে যে কঠিন স্তম্ভ তৈরি করে তাকে প্রাণভোম বলে।

খাগডোমের মাথা চওড়া ছাতার মতো আকৃতি ধারণ করলে তাকে খোলয়েড বলে।

লাভা অত্যধিক ঠান্ডা হয়ে জমাট বাঁধার পর যে খাড়া পার্শ্বটালবিশিষ্ট শঙ্কু গড়ে ওঠে তাকে হৰ্নিটো বলে।

লাভায় ঢেকে যাওয়া বিস্তীর্ণ এলাকাকে লাভাক্ষেত্র বলে।

পো-হো-হো লাভায় মসৃণ উপরিভাগবিশিষ্ট ভূমিরূপ গঠিত হয়।

আ-আ লাভায় সাধারণত এবড়ো-খেবড়ো লাভাক্ষেত্র তৈরি হয়।

ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমি অঞ্চলে লাভাগঠিত মালভূমির নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়।

ধস কিংবা ক্ষয়কাজের ফলে উঁচু ভূভাগ নীচু হয়ে যে, অবতন ভূভাগ গঠন করে, সেই অবনত ভূভাগকে ঋণাত্মক

ভূমিরূপ বলে।

আগ্নেয় ছিদ্রপথ বা লাভা-নির্গম নলের বাইরের যে খোলামুখ দিয়ে লাভা, গ্যাস, বাষ্প প্রভৃতি পদার্থ বেরিয়ে আসে সেই মুখকে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ বা ক্রেটার বলে।

আগ্নেয়গিরির গায়ে অনেক ছোটো ছোটো জ্বালামুখ থাকে, এদের গৌণ জ্বালামুখ বলে।

তীব্র বিস্ফোরণ বা ধসের ফলে আগ্নেয় শঙ্কুর মস্তক বা ঊর্ধ্বাংশ অপসারিত হয়ে যে জ্বালামুখ অপেক্ষা বহুগুণ বড়ো উপবৃত্তাকার আগ্নেয় ভূভাগ সৃষ্টি হয় তাকে ক্যালডেরা বলে।

অগ্ন্যুৎপাতের বহুদিন পরে আগের গ্রীবা বা ম্যাগমা গহ ম্যাগমাশূন্য হলে জ্বালামুখ অবলম্বনহীন হয়ে পড়ে ও ধসে গিয়ে ক্যালডেরার সৃষ্টি হয়।

উত্তর সুমাত্রার টোবা হ্রদ ক্যালডেরা থেকে সৃষ্ট।

শিলাস্তরকে যে-কোনো কৌণিক মানে কেটে ম্যাগম প্রবেশ করলে সরু পাতের মতো যে উদ্‌বেধী মূর্তি তৈরি হয় তাকে ডাইক বলে।

সাধারণত ডোলেরাইট ও ডায়োরাইট শিলার ডাইক গঠিত হয়।

ডিম্বাকৃতি ডাইককে বলয় ডাইক বলে।

ভূগর্ভে অজানা তল থেকে উত্থিত এবং ভূপৃষ্ঠে প্রকাশিত শতাধিক বর্গকিমি বিস্তৃত উদ্‌বেধী গ্র্যানাইট শিলার বিশাল অবয়বকে ব্যাথোলিথ বলে।

ভাঁজহীন দুটি পাললিক শিলাস্তরের মধ্যে উত্তল লেন্সের আকারে ও প্রায় সমতল তলদেশবিশিষ্ট আগ্নেয় উদ্‌বেধকে ল্যাকোলিথ বলে।

খুব বেশি সান্দ্র লাভায় গঠিত ল্যাকোলিথের প্রান্তদেশ খুব খাড়াভাবে অবস্থান করলে তখন তাকে বিসমালিথ বলে।

পাললিক শিলাস্তর বা অন্য কোনো ভূতাত্বিক গঠন তলের সমান্তরালে অবস্থিত পাতের আকৃতিবিশিষ্ট উদ্‌বেধী আগ্নেয় অবয়বকে সিল বলে।

শিলার স্থানীয় গঠনের সঙ্গে সমান্তরালভাবে বা সামন্তস্যপূর্ণভাবে অবস্থিত চামচ বা মরার মতে আকৃতিবিশিষ্ট অবতল আগ্নেয় উদ্‌বেধকে লোপোলিস বলে।

আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত উয় গ্যাস, অতি উগ্ন জলীয়বাষ্প এবং জনত শিলাকণার সমন্বয়ে উৎপন্ন দীপ্তিমান বস্তুর প্রবাহকে ন্যুয়ে আরদেখি বলে।

উৎপত্তি ও গঠন অনুসারে আমেয়োচ্ছ্বাসকে দুটি ভাগে বিভর (i) বিসারী অগ্ন্যুৎপাত, (ii) উবেধী অগ্ন্যুৎপাত।

ম্যাগমা নির্গমনের পার্থক্য অনুসারে অগ্ন্যুৎপাতকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়— (i) কেন্দ্রীয় অগ্ন্যুৎপাত, (ii) বিদার অগ্ন্যুৎপাত।

ম্যাগমা প্রকোষ্ঠ থেকে ম্যাগমা যখন নলাকার পথে আগ্নেয়গিরির প্রধান ও গৌণ জ্বালামুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। তখন তাকে কেন্দ্রীয় অগ্ন্যুৎপাত বলে।

কেন্দ্রীয় অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা অতি সান্দ্র ও আঠালো প্রকৃতির হয়।

কেন্দ্রীয় অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আগ্নেয়গিরি, লাভা মালভূমি, আগ্নেয় হ্রদ, গোলয়েড প্রভৃতি ভূমিরূপের সৃষ্টি।

আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে বৃষ্টির জল জমে আগ্নেয় হ্রদের সৃষ্টি হয়।

 

হাওয়াই শ্রেণির অগ্ন্যুৎপাতে গ্যাসের সঙ্গে লাভা বাতাসে। ছড়িয়ে পড়ে ও লম্বা সুতোর আকারে শক্ত হয়ে যায়, যাকে পিলির চুল বলে।

ভূত্বকের অনেকটা এলাকা জুড়ে এক বা একাধিক লম্বা ফাটল দিয়ে লাভা যখন নিঃশব্দে ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে তখন তাকে বিদার বা ফিসার অগ্ন্যুৎপাত বলে।

উত্তর আমেরিকা পাত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত সীমানায় ট্রান্সফর্ম চ্যুতি দেখা যায়।

অনেকসময় ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে নির্গত না হয়ে ভূপৃষ্ঠের নীচে বা ভূতকের মধ্যেই সঙ্কিত হলে তাকে উদবেধী অগ্ন্যুৎপাত বলে।

যেসকল আগ্নেয়গিরি সৃষ্টির পর থেকে ঘন ঘন অগ্ন্যুৎপাত হয় বা বর্তমান কালেও অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছে, তাকে জীবন্ত বা সক্রিয় আগ্নেয়গিরি বলে।

যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে অনবরত অগ্ন্যুৎপাত হয় তাকে অবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে।

একটি অবিরাম আগ্নেয়গিরির উদাহরণ হল-হাওয়াই দ্বীপের মৌনা লোয়া ।

যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে কিছুদিন অন্তর অন্তর অগ্ন্যুৎপাত হয়, তাকে সবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে।

" ইটালির স্ট্রম্বোলি" হল একটি সবিরাম আগ্নেয়গিরির

উদাহরণ।

যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে আর কোনোদিন অগ্ন্যুৎপাত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের মৃত আগ্নেয়গিরি বলে।

মায়ানমারের পোপো হল একটি মৃত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ।

যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে এখন অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছে না, কিন্তু ভবিষ্যতে হতে পারে সেগুলিকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলে।

ভারতের একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি হল নারকোনডাম।

ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া হল একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি।

আগ্নেয় ভস্ম, ধুলিকণা (আগ্নেয় তু), পাইরোক্লাস্ট ইত্যাদি জমাট বেঁধে যে কঠিন আগ্নেয় পদার্থ গঠিত হয়। তাকে ইগনিমব্রাইট বলে।

অগ্ন্যুৎপাতের সময় লাভার সঙ্গে ভূত্বকীয় শিলার নানা আকৃতির অসংখ্য টুকরো ও জমাটবদ্ধ লাভাখণ্ড নিক্ষিপ্ত হয়। এদের পাইরোক্লাস্ট বলে। এই পাইরোক্লাস্ট সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে পাইরোক্লাস্টিক শিলা বলে।

জমাট বাঁধা পাইরোক্লাস্ট পদার্থ হল আগ্নেয় তুফ্।

আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত তরল পদার্থ বা লাভা তিন প্রকার— (i) আম্লিক লাভা, (ii) মধ্যবর্তী লাভা ও (iii) ক্ষারকীয় লাভা।

স্ট্রম্বোলি, ভালক্যানো, ভিসুভিয়াস, প্লিনি - শ্রেণির আগ্নেয়গিরি থেকে মিশ্র অগ্ন্যুৎপাত হয়।

পিলি ও ক্রাকাতোয়া শ্রেণির আগ্নেয়গিরি থেকে বিস্ফোরক অগ্ন্যুৎপাত হয়।

প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় চারদিকে অভিসারী পাত সীমানা বরাবর যে অসংখ্য জীবন্ত আগ্নেয়গিরি অবস্থান করে তাদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা বলে।

পৃথিবীতে তিনটি আগ্নেয়গিরি মণ্ডল বা বলয় আছে যথা— (i) প্রশান্ত মহাসাগরীয় বলয়, (ii) মধ্য মহাদেশীয় আগ্নেয়গিরি বলয় এবং (iii) মধ্য সামুদ্রিক শৈলশিরা বলয়।

 

ভূপৃষ্ঠে মোট 25টি অভিক্ষিপ্ত তপ্ত বিন্দুর সন্ধান পাওয়া গেছে।

ভূত্বকে বড়ো পাতের সংখ্যা 7টি।

বড়ো প্রকৃতির আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের ভেতরের লাভা জমাট বেঁধে গম্বুজ গঠন করতে তাকে থোলয়েড বলে।

ডোলেরাইট ও ডায়োরাইট শিলা দিয়ে সাধারণত ডাইক গঠিত হয়।

আলাস্কার কাটমাই আগ্নেয়গিরি সন্নিহিত অঞ্চলকে ‘The Valley of Ten Thousand Smokes' নামে অভিহিত করা হয়।

অগ্ন্যুৎপাতের কারণ

ভূগর্ভে ম্যাগমা ও বিভিন্ন গ্যাসের উৎপত্তির কারণের সঙ্গে অগ্ন্যুৎপাত জড়িত। বিভিন্ন কারণে এই অগ্ন্যুৎপাত হয়ে থাকে

  1. ভূত্বকের দুর্বল স্থান বা শিলায় ফাঁটল ও চ্যূতি: ভূ-অভ্যন্তরে কোনোভাবে একবার ম্যাগমার সৃষ্টি হলে তা বেরিয়ে আসার জন্য ভূত্বকের ওপর ক্রমাগত চাপ দেয়। ভূত্বক সর্বত্র সমান পুরু ও শক্ত নয়। এ ছাড়া, ভূ-আলোড়নে শিলায় অনেক ফাটল ও চ্যুতি সৃষ্টি হয়। এগুলি হল' ভূত্বকের দুর্বল স্থান। ওইসব দুর্বল স্থান দিয়ে উত্তপ্ত ম্যাগমা, গ্যাস ও বাষ্প বেরিয়ে আসে।
  2. তরল পিলার অবস্থান বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি:

দেখা গেছে যে, ভূত্বকীয় শিলায় প্রচুর তেজস্ক্রিয় পদার্থ আ ভূ-অভ্যন্তরে গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিলায় উপসি ] তেজস্ক্রিয় পদার্থ ভাঙতে থাকে এবং এর ফলে অভ্যন্তর ভাে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে। যেমন—100 কিমি গভীর তাপমাত্রা প্রায় 1000 °সে. ও 1,000 কিমি গভীরতায় তাপমা প্রায় 2000 °সে.। 1000°সে. উয়তায় শিলা গলে যায়। কি ভূ-অভ্যন্তরে চাপ বেশি থাকায় শিলা চূড়ান্ত স্থিতিস্থাপ অবস্থায় থাকে ও এর গলনাঙ্ক বেড়ে যায়। ওপরের চাপ কোয় কারণে কমে গেলে শিলার স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়। ফলে শি তরল অবস্থাপ্রাপ্ত হয়ে আয়তনে বেড়ে যায় এবং বেরিয়ে আস জন্য ওপরের দিকে প্রচণ্ড চাপ দেয়। তখন ভূত্বকের দুর্বল খা বা ফাটল দিয়ে উত্তপ্ত ম্যাগমা ও গ্যাস, বাষ্প ইত্যাদি নির্গত হা অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।

3. চাপ সৃষ্টি: ফাটল দিয়ে নদনদী, হ্রদ, জল ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে অভ্যন্তরভাগের অত্যধিক তাপে তা বাষ্পে পরিণত হয়। এ ছাড়া ভূ-অভ্যন্তরে অনেক গ্যাসও তৈরি হয়। উত্তপ্ত জলীয়বাষ্প ও অন্যান্য গ্যাসের মিলিত চাপ ম্যাগমাকে ওপরে উঠতে বাধ্য করে বা সাহায্য করে। গ্যাস-বাষ্পসহ ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের দুর্বল স্থান দিয়ে বেরিয়ে এসে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।

4. পাত সঞ্চালন: ভূত্বকে মোট ২টি প্রধান, ৪টি মাঝারি ও 20টিরও বেশি ছোটো পাত আছে। সব পাতগুলিই চলমান, তাই পাতগুলির কিনারা বিভিন্ন ধরনের পাত সীমানা গঠন করেছে। এই পাত সীমানাগুলি অগ্ন্যুৎপাতের প্রধান কারণ।

অভিসারী সীমানায় অগ্ন্যুৎপাত বা অ্যাসথেনোস্ফিয়ারে ভূত্বকীয় পাতের অনুপ্রবেশ : অভিসারী পাত সীমানায় অগ্ন্যুৎপাতের কারণ হল- (i) দুটি পাতের মুখোমুখি সংঘর্ষ অঞ্চল অর্থাৎ অভিসারী পাত সীমানা অঞ্চলে সাধারণত হালকা মহাদেশীয় পাতের নীচে ভারী সামুদ্রিক পাত প্রবেশ করে। নীচে ঢুকে যাওয়া পাতটি প্রচণ্ড তাপে গলে গিয়ে ম্যাগমায় পরিণত হয় ও অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়। (II) মহাদেশীয় শিলায় তেজস্ক্রিয় পদার্থ বেশি থাকে এবং মহাদেশীয় পাতের সঙ্গে ক্রমাগত ঘর্ষণে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। ফলে শিলা গলে গিয়ে ম্যাগমায় পরিণত হয় ও অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।

প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় চারদিকে অভিসারী পাত সীমানা থাকায় পৃথিবীর অধিকাংশ জীবন্ত আগ্নেয়গিরি এই অঞ্চলে অবস্থান করেছে। এজন্য এই অঞ্চলকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা বলে।

2. প্রতিসারী বা গঠনাত্মক পাত সীমানায় সৃষ্ট ফাটল বরাবর অগ্ন্যুৎপাত: প্রতিসারী পাত সীমানায় দুটি পাত পরস্পরের থেকে দূরে সরে যায়। যেমন—মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা বরাবর দুটি পাত ধীরে ধীরে দুদিকে সরে যাওয়ায় যে ফাটল তৈরি হয় তার মধ্য দিয়ে ভূ-অভ্যন্তরের ম্যাগমা বেরিয়ে আসে। সাধারণত এই অংশে বিদার অগ্ন্যুৎপাত ঘটে এবং এই লাভাপ্রবাহের দ্বারা সমুদ্রের তলদেশ গঠিত হয়।

3. নিরপেক্ষ পাত সীমানায় অগ্ন্যুৎপাত: নিরপেক্ষ পাত সীমানায় দুটি পাত পরস্পরকে অনুভূমিকভাবে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। এই সীমানায় ট্রান্সফর্ম চ্যুতি সৃষ্টি হয়। এই চ্যুতির দুর্বল স্থান দিয়ে বিদার অগ্ন্যুৎপাত হয়। যেমন—উত্তর আমেরিকা পাত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত

5 রিউসের অবস্থান: তপ্ত বিন্দু অঞ্চলে গুরুমণ্ডলের শিলা গলে যায় ও আয়তনে বেড়ে যায় এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থের প্রভাব বেশি হওয়ায় ম্যাগমার ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ শুরু হয়। এই প্রবাহকে প্লিউম বলে। গ্লিউমের ঊর্ধ্বমুখী চাপে ভূত্বক বিদীর্ণ হয় এবং আগ্নেয়গিরির উৎপত্তি ঘটে। প্লিউমের গড় ব্যাস হয় সাধারণত  100 কিমি। সাহারার টিনেস্টি আগ্নেয়গিরি এরকম একটিমিউমের ওপর অবস্থিত।

6. অন্যান্য কারণ: অগ্ন্যুৎপাতের আরও কয়েকটি কারণ আছে। যেমন

1. প্রচণ্ড তাপে ও চাপে ভূগর্ভে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া হলে কিছু পরিমাণ গ্যাস ও তাপ উৎপন্ন হয়।

2. ভূগর্ভের উত্তপ্ত পদার্থসমূহ ঠাণ্ডা হওয়ার সময় কিছু পাস ত্যাগ করে। ফলে ভূগর্ভে গ্যাসের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তা ভূগর্ভের তরল পদার্থসহ ভূত্বদের দুর্বল অংশ দিয়ে প্রবল বেগে বেরিয়ে আসে।

নিঃসারী অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপসমূহ
ভূপৃষ্ঠে আগ্নেয় পদার্থের সময় ও অপসারণের কারণে গঠিত নিঃসারী ভূমিরূপকে দু-ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন— [1] উন্নীত ভূমিরূপ ও [2] অবনত ভূমিরূপ।

  1. উন্নীত ভূমিরূপ: 
    এই ধরনের ভূমিরূপ ভূপৃষ্ঠের আপেক্ষিক উচ্চতা বাড়িয়ে দেয়। তাই এদের ধনাত্মক ভূমিরূপ বলে। এগুলি হল— ভগ্ন ও সিডার শবিশিষ্ট আগ্নেয়গিরি: জ্বালামুখের চারপাশে পাইরোক্লাস্ট দ্রব্য, আগ্নেয় ভস্ম ও ধূলিকণা সজ্জিত হয়ে মোচার মতো দেখতে ভস্ম ও সিন্ডার শকুবিশিষ্ট আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হয়।

বৈশিষ্ট্য: (1) জ্বালামুখের চারপাশে পাইরোক্লাস্ট, তন্ম স্থূল ও সূক্ষ্ম পদার্থসমূহ ক্রমশ জমাট বেঁধে আগ্নেয়গিরি উচ্চতা লাভ করে। (II) শঙ্কু কম উচ্চতাবিশিষ্ট হয় এবং শঙ্কুর ঢাল 30°-40%-এর বেশি হয় না। (III) অসংলগ্ন পদার্থ দিয়ে আগ্নেয়গিরি তৈরি হওয়ায় জল সহজেই ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে। জলপ্রবাহজনিত ঘর্ষণ কম হওয়ায় এই আগ্নেয়গিরির শকু বিশেষ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, ফলে শঙ্কুর উচ্চতা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

2. বিমিশ্র শব্দকুবিশিষ্ট আগ্নেয়গিরি: বহুদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অগ্ন্যুৎপাতে প্রথমে প্রধান জ্বালামুখের চারদিকে নিক্ষিপ্ত প্রস্তরখণ্ড, পাইরোক্লাস্ট ইত্যাদি জমা হয় এবং পরে লাভাপ্রবাহ এসে এদের ওপর পড়ে। এভাবে লাভা ও স্কোরিয়া পর্যায়ক্রমে স্তর গঠনের মাধ্যমে যে জ্বালামুখবিশিষ্ট শঙ্কু আকৃতির আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হয় তাকে বিমিশ্র শঙ্কুবিশিষ্ট আগ্নেয়গিরি বলে।

বৈশিষ্ট্য: (i) প্রধানত স্কোরিয়া সঞ্চয়ের ফলে আগ্নেয়গিরির উচ্চতা বাড়তে থাকে ও লাভা সঞ্চয়ের ফলে আগ্নেয়গিরির তলদেশ বিস্তৃত হতে থাকে। (ii) এই প্রকার আগ্নেয়গিরির শঙ্কুর ঢাল সমান ও খাড়া হয়। (iii) এই আগ্নেয়গিরিতে ক্রমান্বয়ে অগ্ন্যুৎপাতের সময় আদি শঙ্কু ধ্বংস হয়ে যায় ও নতুন শঙ্কুর সৃষ্টি হয়। ফলে বিমিশ্র শঙ্কুবিশিষ্ট আগ্নেয়গিরি তৈরি হয়।

3. লাভা শঙ্কুবিশিষ্ট আগ্নেয়গিরি: ভূপৃষ্ঠের ছিদ্রপথে সাধারণত কোনো বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে তরল লাভা ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে এবং ছিদ্রপথের চারদিকে ওই লাভা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ও সঞ্চিত হয়ে লাভাগঠিত আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি করে। লাভার প্রকৃতি অনুযায়ী দু-ধরনের আগ্নেয়গিরি গঠিত হয়। (i) ক্ষারকীয় তরল লাভায় গঠিত আগ্নেয়গিরি চ্যাপটা ও এর চারপাশের ঢাল কম খাড়া 10°র কম হয়। এটি পার্শ্বচিত্রে মসৃণ উত্তল হয়। এরকম আগ্নেয়গিরি দেখতে ঢালের মতো হয় বলে একে শিল্ড আগ্নেয়গিরি বলে। (ii) আম্লিক লাভা খুব সান্দ্র হওয়ায় ধীর গতিতে প্রবাহিত হয়। তখন লাভা দ্রুত জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে যায়। ফলে খাড়া ঢালযুক্ত গম্বুজাকৃতি আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি করে। লাভা-গম্বুজ সরার মতো উলটানো ও স্বল্প উচ্চতাবিশিষ্ট হলে তাকে কিউমুলো গম্বুজ বলে। স্তম্ভের আকারে জমাট লাভা, ভূমি থেকে উঁচুতে অবস্থান করলে তাকে প্লাগ গম্বুজ বলে।

4. বিস্ফোরণ ছিপথবিশিষ্ট আগ্নেয়গিরি: প্রথমে বিস্ফোরণের ফলে একটি ছিদ্রপথের সৃষ্টি হয় এবং একটি নীচু জ্বালামুখ তৈরি করে। পরে ওই জ্বালামুখের চারদিতে খণ্ডিত শিলা প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে খুবই কম উচ্চতাবিশিষ্ট আগ্নেয়গিরি তৈরি করে। এই আগ্নেয়গিরিতে একটিমার নীচু জ্বালামুখ থাকে। তরল লাভা নির্গত হয়ে জ্বালামুখের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আইসল্যান্ডের ক্রাফল আগ্নেয়গিরি এ ধরনের আগ্নেয়গিরির উদাহরণ।

5. প্লাগডোম ও থোলয়েড: জ্বালামুখের মধ্যে লাভা জমাট বেঁধে যে কঠিন স্তম্ভ তৈরি করে তাকে প্লাগডোম বলে। প্লাগডোমের মাথা চওড়া ছাতার মতো হলে তাকে খোলয়েড বলে। মাউন্ট পিলি আগ্নেয়গিরিতে এগুলি দেখা যায়।

6• হৰ্নিটো : লাভা অত্যধিক ঠান্ডা হয়ে জমাট বাধার পর যে খাড়া পার্শ্বটালের শকু গড়ে ওঠে তাকে হৰ্নিটো বলে।
7. লাভাক্ষেত্র: লাভায় ঢেকে যাওয়া বিস্তীর্ণ এলাকাকে। লাভাক্ষেত্র বলে। পা-হো-হো ধরনের লাভার দ্বারা সৃষ্ট লাভাক্ষেত্রের উপরিভাগ প্রায় মসৃণ হয়। কিন্তু আ-আ ধরনের লাভা সঞ্চিত হয়ে এবড়ো-খেবড়ো লাভাক্ষেত্র। তৈরি করে।

8. লাভা মালভূমি: বিদার অগ্ন্যুৎপাতে অতি তরল ব্যাসল্ট লাভা বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে প্রবাহিত হয় ও জমাট বেঁধে লাভা মালভূমি গঠন করে। ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি এই ধরনের মালভূমির উদাহরণ।

2.অবনত ভূমিরূপ:  ধস কিংবা ক্ষয়কাজের ফলে উঁচু ভূভাগ চীচু হয়ে অবনত ভূমিরূপ গঠন করে। এদের ঋণাত্মক ভূমিরূপ হয়। এগুলি হল—

1. জ্বালামুখ বা কেটার: আগ্নেয় ছিদ্রপথ বা লাভা-নির্গম নলের বাইরের যে খোলামুখ দিয়ে লাভা, গ্যাস, বাষ্প প্রভৃতি পদার্থ বেরিয়ে আসে সেই মুখকে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ বা ক্লেটার বলে। এটি ফানেলের মতো দেখতে হয় এবং মুখটি খাড়া দেয়াল দিয়ে ঘেরা থাকে। সাধারণ সব আগ্নেয়গিরিতে একটি প্রধান জ্বালামুখ থাকে এবং এটি আগ্নেয়গিরির চূড়ায় অবস্থান করে। তবে আগ্নেয়গিরির গায়ে অনেক ছোটো ছোটো জ্বালামুখ থাকে, এদের গৌণ জ্বালামুখ বলে। জ্বালামুখের ব্যাস কয়েক মিটার থেকে কয়েক কিমি পর্যন্ত হতে পারে।

2. ক্যালডেরা: তীব্র বিস্ফোরণ বা ধসের ফলে আগ্নেয় শকুর মস্তক বা ঊর্ধ্বাংশ অপসারিত হয়ে সৃষ্টি হওয়া জ্বালামুখ অপেক্ষা বহুগুণ বড়ো বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার বিশাল আগ্নেয় অবনমিত ভূভাগকে ক্যালডেরা বা জ্বালামুখ গহ্বর বলে। ক্যালডেরার ভূমি সমতল হয় এবং ভেতরের দিকে হেলে থাকা খাড়া দেয়াল দ্বারা ঘেরা থাকে। সাধারণত ক্যালডেরাগুলি হ্রদে পরিণত হয়। উত্তর সুমাত্রার টোবা হ্রদ একটি ক্যালডেরা থেকে সৃষ্ট।

উদ্‌বেধী অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট অসঙ্গত ভূমিরূপ

ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে না এসে ভূত্বকের মধ্যে জমাট বেঁধেও নানারকম আকৃতি বা মূর্তি তৈরি হয়। পরে আবরণী শিলা অপসারিত হলে ওইসব মূর্তি সমন্বিত নানারকম ভূমিরূপ প্রকাশিত হয়। এগুলি হল—

ডাইক: শিলাস্তরের অসমান্তরালে অর্থাৎ শিলাস্তরকে যে-কোনো কৌণিক মানে কেটে ম্যাগমা প্রবেশ করলে সরু পাতের মতো যে উদ্‌বেধী মূর্তি তৈরি হয়, তাকে ডাইক বলে। শিলাস্তরের সাপেক্ষে ডাইক উল্লম্ব বা তির্যকভাবে অবস্থান করে।

বৈশিষ্ট্য

1• ডাইক একটি অসঙ্গত আগ্নেয় উদ্ভবেধ।

2.এটি সাধারণত ডোলেরাইট ও ডায়োরাইট শিলায় গঠিত। শিলার নতির মান ও ডাইকের নভির মান আলাদা হয়।

3.ডাইক শৈলশিরা কিংবা দীর্ঘ ভূমিরূপ গঠন করে।

উদাহরণ: ভারতের ডেকানট্যাপ অঞ্চলে রানিগঞ্জের কয়লা স্তরে ডাইক দেখা যায়।

2. বলয় বা রিং ডাইক :ডিম্বাকৃতিবিশিষ্ট ডাইককে বলে বলয় ডাইক। এগুলির গড় ব্যাস 100 ফুট থেকে অর্ধেক মাইল। গড় প্রশস্থতা 1,600 ফুট। অ্যান্ডারসনের মতে, ম্যাগমা চেম্বার ও পার্শ্ববর্তী শিলার মধ্যে হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ ও শিলাচাপের পার্থক্যের ফলে এই ডাইক সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ: ভারতের মধ্যপ্রদেশের পাঁচমাঢ়িতে এধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়।

3. ব্যাথোলিখ: ভূগর্ভের অজানা তল থেকে উত্থিত এবং ভূপৃষ্ঠে প্রকাশিত শতাধিক বর্গকিমির উদবেধী গ্রানাইট শিলার বিশাল দেহ বা অবয়বকে ব্যাথোলিথ বলে। এরা ভূপৃষ্ঠে উচ্চভূমি গঠন করে।

বৈশিষ্ট্য

1● এটি গ্র্যানাইট শিলায় গঠিত হয়।

2• খুব গভীরে সৃষ্টি হয় বলে ব্যাথোলিথ সৃষ্টিকারী ম্যাগমা খুব ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হয়।
3.ওপরের শিলাস্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হলে ব্যাথোলিন ভূপৃষ্ঠে উন্মুক্ত হয়।

4. ব্যাথোলিথের প্রান্তভাগ খুব খাড়াভাবে ভূ-অভ্যন্তরে চলে যায়। এজন্য এর তলদেশ (floor) খুঁজে পাওয়া কঠিন। আয়ারল্যান্ডের উইকলো পার্বত্য অঞ্চলে এবং ভারতের বিহার ও ওড়িশায় ব্যাথোলিথের অবস্থান লক্ষ করা যায়।

সাধারণত ম্যাগমা গহ্বরের অবশিষ্ট ম্যাগমা জমাট বেঁধে স্টক ও

4 স্টক ও বস: স্টক ও বস হল ব্যাথোলিথের ক্ষুদ্র রূপ। সাধারণত ম্যাগমা গহ্বরের অবশিষ্ট ম্যাগমা জমাট বেঁধে স্টক ও
বস-এ পরিণত হয়। এদের প্লাগ গম্বুজের মতো দেখতে। ভূপৃষ্ঠে এদের বিস্তার 100 বর্গকিমির কম হয়। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের একটি স্টক দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে যথাক্রমে প্রায় 20 কিমি ও 12 কিমি এবং প্রায় 1 কিমি গভীর।

5 ল্যাকোলিথ: ভাঁজহীন দুটি পাললিক শিলাস্তরের মধ্যে উত্তল লেন্সের আকারে ও প্রায় সমতল তলদেশবিশিষ্ট আগ্নেয় উদ্‌বেধকে সাঞ্জ হওয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে ঠেলে ওপরের দিকে উঠে গম্বুজাকারে সজ্জিত হয়। ল্যাকোলিথ ভূপৃষ্ঠে প্রকাশিত গম্বুজাকৃতি করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি পর্বত এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। খুব বেশি লাভায় গঠিত ল্যাকোলিথের প্রান্তদেশ খুব হয়, তখন তাকে বিমালিখ বলে।

উদ্‌বেধী অগ্ন্যুপাতের ফলে সঙ্গত ভূমিরূপ

1. সিল: পাললিক শিলাস্তর অন্য কোনো ভূতাত্বিক তলের সমান্তরালে অবস্থিত পাতের মতো চাদরের মতো উদ্‌বেধী আগ্নেয় অবয়বকে সিল বলে। একে সঙ্গত আগ্নেয় উদবেধ বলা

• এটি প্রতিরোধী স্তররূপে অবস্থান করে।

শিলাস্তরের নতির মান ও নগ্নীভবনের ফলে অনুভূমিকভাবে অবস্থিত সিল ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে পড়লে উপরিভাগে ধাপ প্রান্তে খাড়া তৈরি কিংবা চ্যাপটা মালভূমি গঠন করে।

2. লোগোলিখ : শিলার স্থানীয় গঠনের সমান্তরালে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে অবস্থিত চামচ সরার অবতল আগ্নেয় উদ্‌বেধকে লোপোলিথ বলে। লোপোলিথের প্রভাবে অবনত

3. ফ্যাকোলিম: ভাঁজযুর আগলিক শিলাস্তরে উত্তল লেন্সের আকারে ঊর্ধ্বভঙ্গে অবতল আকারে আগ্নেয় উদ্‌বেধকে এর উত্তল অংশের ওপর হয়। কয়েক কিলোমিটার হতে পারে। কর্তন পর্বত মন্টগোমারি) এ উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

কোনো অগ্ন্যুৎপাতে আগ্নেয়গিরির জল, বেরিয়ে বস্তুর প্রবাহকে আরদেস্তি (Nuee Ardentee) বলে।

উদাহরণ: ন্যুয়ে আরদেন্তির প্রবাহ প্রচুর ধ্বংসলীলা ঘটায়। উদাহরণ হিসেবে বলা 1902 সালে হাওয়াই দ্বীপের মাউন্ট পিলির ভয়ংকর অগ্নুৎপাতে শহরটি ভস্মস্তূপে পরিণত হয়েছিল।

অগ্ন্যুৎপাতের শ্রেণিবিভাগ
অগ্ন্যুৎপাত প্রধানত যেমন— নিঃসারী উদবেদী নিঃসারী অগ্ন্যুৎপাত। ম্যাগমা ভূত্বকের কোনো ফাটল ওপরে (স্থলভাগের তলদেশে) লাভারূপে সঞ্চিত Volcanicity) ভূপৃষ্ঠে ম্যাগমা নিষ্ক্রমণের পার্থক্য অনুসারে অগ্ন্যুৎপাতকে দুটি ভাগ করা যায়। যেমন— [1] কেন্দ্ৰীয় অগ্ন্যুৎপাত এবং [2] বিদার অগ্ন্যুৎপাত।

1. কেন্দ্রীয় অগ্ন্যুৎপাত: ম্যাগমা প্রকোষ্ঠ থেকে ম্যাগমা যখন নলাকার আগ্নেয়গিরির প্রধান জ্বালামুখ একাধিক গৌণ জ্বালামুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে তাকে কেন্দ্রীয় (Central Eruption) বলে। এতে গঠিত হয়। ঘটিয়ে অগ্ন্যুৎপাতকে আবার শ্রেণিতে ভাগ যায়— ইত্যাদি দ্বীপের আগ্নেয়গিরিগুলি থেকে এ ধরনের অগ্ন্যুৎপাত হয় বলে এই নামকরণ হয়েছে।
বৈশিষ্ট্য : (i) এটি কেন্দ্রীয় তথা নিঃসারী অগ্ন্যুৎপাত। (ii) ব্যাসল্ট জাতীয় তরল ক্ষারকীয় লাভা নির্গত হয়। (ii) লাভা দ্রুত জমাট বেঁধে জ্বালামুখের চারদিকে ঝামা ইটের মতো কঠিন ত্বক সৃষ্টি করে। (iv) গ্যাসের সঙ্গে লাভা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে ও লম্বা সুতোর আকারে শক্ত হয়ে যায়, যাকে পিলির চুল বলে।

2.স্ট্রম্বোলীয় শ্রেণি: ভূমধ্যসাগরের লিপারি দ্বীপের স্ট্রম্বোলি আগ্নেয়গিরির নাম অনুসারে এই নামকরণ হয়েছে।

বৈশিষ্ট্য: (i) কয়েকদিন অন্তর অন্তর একটি নির্দিষ্ট ছন্দে অগ্ন্যুৎপাত হয়। কখনো কখনো 10-15 মিনিট অন্তর অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। (ii) লাভা প্রায় ক্ষারকীয়, সাদ ও কম সচল হয়। (iii) প্রচুর গ্যাস, বাষ্প, ল্যাপিলি ও ধাতুমল লাভার সঙ্গে বের হয়। (iv) বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অগ্ন্যুৎপাত হয়। এই আগ্নেয়গিরির থেকে নির্গত জ্বলন্ত গ্যাসের উজ্জ্বল আলো বহুদূর থেকে নিয়মিত দেখা যায় বলে স্ট্রম্বোলিকে ভূমধ্যসাগরের আলোকস্তম্ভ বলে।

3. ভালক্যানো শ্রেণি: ভূমধ্যসাগরের লিপারি দ্বীপে অবস্থিত ভালক্যানো আগ্নেয়গিরি অনুসারে এই নামকরণ হয়েছে।

বৈশিষ্ট্য: আগ্নেয়গিরি বাদে অগ্ন্যুৎপাত হয়। ক্ষারকীয় মণে পা এবং আঠালো। তাই বেশি দূর গড়িয়ে যেতে পারে দুটি অগ্ন্যুৎপাতের অন্তবর্তী সময়ে লাভা জমাট বেঁধে কঠিন লাভা করে। (iv) প্রচুর পরিমাণে ভস্ম, গ্যাস, বাষ্প একসঙ্গে বেরিয়ে ফুলকপির মতো আকৃতিবিশিষ্ট গাঢ় কালো সৃষ্টি করে।

4. ভিসুভিয়াস ও এটনা শ্রেণি:আগ্নেয়গিরি থেকে ধরনের অগ্ন্যুৎপাত থাকে।

বৈশিষ্ট্য (i) প্রায় °সে থেকে 1000 তাপমাত্রার অতি সান্দ্র লাভা বের হয়। (ii) প্রচুর ও বাষ্প হয়। এর সঙ্গে আগ্নেয় ভস্ম ল্যাপিলি থাকায় ফুলকপির মতো আকৃতিবিশিষ্ট কালো মেঘ হয়। (iii) বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অগ্ন্যুৎপাত হয়। প্রধান গৌণ জ্বালামুখ দিয়ে অগ্ন্যুদগম (v) আগ্নেয়গিরিগুলি থেকে কয়েক দশক অন্তর অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

5.প্লিনি শ্রেণি: 79 খ্রিস্টাব্দে ঐতিহাসিক অগ্ন্যুৎপাত প্রথম লক্ষ করেন। সেজন্য একে প্লিনি আগ্নেয়গিরি বলে। প্রিনি শ্রেণির আগ্নেয়গিরি থেকে ভিসুভিয়াস ধরনের অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে।

বৈশিষ্ট্য: প্রচণ্ড বিস্ফোরণসহ ধ্বংসাত্মক হয়। (ii) লাভা পরিমাণে নির্গত (iii) পরিমাণে বিস্ফোরক নির্গত হয়। ভস্মের পরিমাণ কম থাকে। (iv) গ্যাস পাইরোক্লাস্ট পদার্থ জ্বালামুখ থেকে আকাশে বহুদূর পর্যন্ত ওপরে উঠে যায়।

6.পিলি শ্রেণিঃ ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের মার্তনিকিউ দ্বীপে পিলি আগ্নেয়গিরি আছে।

7. ক্রাকাতোয়া শ্রেণি: জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝে সুভা প্রণালীতে অবস্থিত ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি।
বৈশিষ্ট্য: (i) অগ্ন্যুৎপাতের সময় অতি ভয়ংকর বিস্ফোরণ হয়। (ii) লাভা খুব কম নির্গত হয়। (ii) প্রচুর পরিমাণে গ্যাস ও জ্বলন্ত ভস্ম প্রবল বেগে ঊর্ধ্বাকাশে কয়েক কিমি পর্যন্ত উৎক্ষিপ্ত হয়। (iv) বিস্ফোরণে জ্বালামুখ উড়ে যায় এবং এটি ক্যালডেরায় পরিণত হয়।

2 . বিদার অগ্ন্যুৎপাত: ভূত্বকে বহুদূর বিস্তৃত অনেক ছোটো-বড়ো ফাটল থাকে। ভূত্বকের অনেকটা এলাকা জুড়ে এক বা একাধিক লম্বা ফাটল দিয়ে লাভা যখন নিঃশব্দে ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে তখন তাকে বিদার বা ফিসার অগ্ন্যুৎপাত (Fissure Eruption) বলে। আইসল্যান্ডের বিভিন্ন আগ্নেয়গিরি থেকে এ ধরনের অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

» উদ্‌বেধী অগ্ন্যুৎপাত: অনেক সময় ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে নির্গত না হয়ে ভূপৃষ্ঠের নীচে বা ভূত্বকের মধ্যে সঞ্চিত হয়। একে বলে উদ্‌বেধী অগ্ন্যুৎপাত (Intrusive Volcanicity)। ভূপৃষ্ঠের নীচে সঙ্কিত এই ম্যাগমা কালক্রমে শীতল ও কঠিন হয়ে নানা ধরনের আগ্নেয় অবয়ব সৃষ্টি করে। পরবর্তী সময়ে নগ্নীভবনের ফলে যখন ওপরের আবরণ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তখন নীচের ওই আগ্নেয় অবয়ব উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এইভাবে উদ্‌বেধী অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূত্বকে বিভিন্ন প্রকার আগ্নেয় ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।

আগ্নেয়গিরি

অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পাইরোক্লাস্টসহ নির্গত পদার্থ ভূপৃষ্ঠে সঞ্চিত ও ধীরে ধীরে শীতল হয়ে জ্বালামুখবিশিষ্ট যে শত্রু আকৃতির পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে আগ্নেয়গিরি বলে। আগ্নেয়গিরি সাধারণত কেন্দ্রীয় অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্টি হয় এবং একটি কেন্দ্রীয় অংশ থেকে এর চাল চারদিকে বিস্তৃত থাকে। কিলিমান্তারো, জাপানের ফুজিয়ামা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য আগ্নেয়গিরি উদাহরণ।

একটি আদর্শ আগ্নেয়গিরির গঠন

গঠন ও আকৃতি অনুযায়ী আগ্নেয়গিরিকে ভাগ করা গেলেও একটি আদর্শ আগ্নেয়গিরি গঠিত হয় প্রধানত কেন্দ্রীয় শ্রেণির বিপারী অগ্ন্যুৎপাতের দ্বারা। এ ধরনের অগ্ন্যুৎপাতে ভূতকের ফাটল বা ছিদ্রপথের বহির্মুখ নিয়ে বিভিন্ন আগ্নেয় পদার্থ নির্গ হয়ে মুখের চারপাশে ক্রমশ জমতে জমতে শঙ্কু আকৃতির আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি করে। যেসব উপাদান বা অংশ নিয়ে কোনো আধোয়াগিরি গঠিত হয় সেগুলি হল

1. প্রধান জ্বালামুখ বা কেটার: শঙ্কু আকৃতির পর্বত বা আগ্নেয়গিরির মাঝখানে একটি প্রায় গোলাকার ছিদ্র বা মুখ থাকে। .. একে প্রধান জ্বালামুখ বলে। এখান দিয়ে লাভা, গ্যাস, বাষ্প প্রভৃতি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নির্গত হয়। প্রতিটি অগ্ন্যুৎপাত জ্বালামুখটিকে বড়ো হতে সাহায্য করে।

2. যৌন জ্বালামুখ: আগ্নেয়গিরির পায়ে অনেক ছোটো ছোটো জ্বালামুখ দিয়েও ম্যাগমা বের হয়, এদের গৌণ জ্বালামুখ বলে। এরা ছোটো ছোটো শঙ্কু গঠন করে। তাই এদের গৌণ শঙ্কুও বলা হয়।

3. ম্যাগমা প্রকোষ্ঠ : ভূগর্ভের শিলা গলে গিয়ে ম্যাগমায় পরিণত হয়। ওই ম্যাগমা ভূগর্ভের একটি স্থানে একত্রিত হয়। এটিকে ম্যাগমা গহ্বর বা ম্যাগমা প্রকোষ্ঠ বলে। প্রধানত 100-300 কিমি গভীরতায় ম্যাগমা অবস্থান করে।

4 আমের গ্রীবা ওই ম্যাগমা প্রকোষ্ঠ থেকে ম্যাগমা একটি নলাকার পথে জ্বালামুখ দিয়ে বের হয়। ম্যাগমা প্রকোষ্ঠ ও জ্বালামুখ সংযোগকারী ম্যাগমা নির্গমনের নলাকার পথকে আমের গ্রীবা বলে।
আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পদার্থসমূহ:
আগ্নেয়গিরি থেকে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থ নির্গত হয়। এগুলি হল—
1. কঠিন পদার্থসমূহ: অগ্ন্যুৎপাতের সময় লাভার সঙ্গে সুস্বকীয় শিলার নানা আকৃতির অসংখ্য টুকরো ও জমাট লাভাষণ্ড নিক্ষিপ্ত হয়। এদের একত্রে পাইরোক্লাস্ট বলে। আকৃতি অনুসারে এরা বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন ।
1 ল্যাপিলি:অতি সচ্ছিন্ন ও ছোটো ছোটো শিলাখণ্ড।

2. সিডার: ছিদ্রযুক্ত 4 মিমি থেকে 32 মিমি ব্যাসের শিলাখন্ড।
3. স্কোরিয়া :চূর্ণ-বিচূর্ণ ও সিন্ডার এথনের পাতা ও পাইরোক্লাস্ট পদার্থ।
4. পিউমিস: কম ঘনত্বযুক্ত সাদা ও ধূসর বর্ণের শিলাখণ্ড।
5.আগ্নেয় বোমা: বড়ো আকৃতির প্রায় গোলাকার শ লাভাপিণ্ড।
6. আগ্নেয় ধূলি ও আগ্নেয় জন্ম: অতি ক্ষুদ্র বিন্দু বিন্দু তরল ম্যাগমা এবং অতি ক্ষুদ্র শিলাখণ্ড।
7. আগ্নেয় তুফ ও ইগনিব্রাইট: জমাট বাঁধা পাইরোক্লাস্ট পদার্থ হল আগ্নেয় তুম্। আর এগুলি ঢালাই লোহার মতো দৃঢ়ভাবে যুক্ত হলে ইগনিমব্রাইট হয়।

2. তরল পদার্থ: আগ্নেয়গিরি থেকে তরল পদার্থরূপে একমাত্র লাভা বের হয়। লাভা তিন প্রকারের

1. আম্লিক লাভা: সিলিকার পরিমাণ বেশি থাকে (70-80%)। উদাহরণ——রায়োলাইট।
2. মধ্যবর্তী লাভা : সিলিকার পরিমাণ মাঝারি অনুপাতের হয়। ( 50-60%)। উদাহরণ-অ্যান্ডেসাইট।
3. ক্ষারকীয় লাভা: সিলিকার পরিমাণ কম থাকে (50%-এরকম)। উদাহরণ—ব্যাসল্ট।
[3] বায়বীয় পদার্থ : অগ্ন্যুৎপাতের সময় বিভিন্ন গ্যাস ও জলীয় বাষ্প বের হয়। গ্যাসের নির্গমন অনুযায়ী এগুলিকে বলা হয়।

1 .সালফাটারা: সালফার বাষ্প।
2. মফেটিস: কার্বন ডাইঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ইত্যাদির বাষ্প।
3. স্যাফিওনি: প্রধানত বোরিক গ্যাস।

অগ্ন্যুৎপাতের ধারাবাহিকতা বা পর্যায় অনুযায়ী আগ্নেয়গিরির শ্রেণিবিভাগ

অগ্ন্যুৎপাতের ধারাবাহিকতা বা পর্যায় অনুসারে পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিগুলিকে তিনভাগে ভাগ করা যায়।

আগ্নেয়গিরি
জীবন্ত আগ্নেয়গিরি 1. অবিরাম আগ্নেয়গিরি , 2. সবিরাম আগ্নেয়গিরি
মৃত আগ্নেয়গিরি,
শুপ্ত আগ্নেয়গিরি ।

1. জীবন্ত আগ্নেয়গিরি: যেসকল আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হবার থেকে অগ্ন্যুৎপাত বর্তমানকালেও অগ্ন্যুৎপাত তাদের সক্রিয় বা আগ্নেয়গিরি বলে। আগ্নেয়গিরির ম্যাগমা প্রকোষ্ঠের আয়তন বৃহদায়তনের হয়। এক্ষেত্রে বিস্ফোরণের মাত্রা সমান থাকে বা সকল পদার্থ একত্রে নির্গত হয় উদাহরণ—স্ট্রম্বোলি, মেরাপি, পোপোক্যাটেপেটল, মাউন্ট ইরেবাস নির্গমনের মাত্রা অনুসারে আগ্নেয়গিরিকে দুভাগে করা

1. অবিরাম আগ্নেয়গিরি:  আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত হয়, অবিরাম আগ্নেয়গিরি উদাহরণ- হাওয়াই দ্বীপের মৌনা লোয়া (এখানে সালে 24 মার্চ থেকে 15 এপ্রিল পর্যন্ত এক অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল)।

2. সবিরাম আগ্নেয়গিরি: আগ্নেয়গিরি থেকে অন্তর অগ্ন্যুৎপাত হয়, তাদের আগ্নেয়গিরি বলা উদাহরণ—ইটালির স্ট্রম্বোলি (এখানে 2000 বছরে কিছু সময় পর অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। সম্প্রতি 2002, 2003, 2007, 2012 অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে)।

2. মৃত আগ্নেয়গিরি: যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে কোনোদিন অগ্ন্যুৎপাত হওয়ার সম্ভাবনা তাদের আগ্নেয়গিরি বলা হয়। এই আগ্নেয়গিরি থেকে ঐতিহাসিককালের উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্ন্যুৎপাত এবং অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল সেগুলির প্রভাবও খুব কম ভূতাত্ত্বিকরা বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষার দ্বারা সকল আগ্নেয়গিরির ভবিষ্যতে কোনো অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা দেখতে সেইসব আগ্নেয়গিরিকে আগ্নেয়গিরি হয়। উদাহরণ—মাউন্ট পোপা, মাউন্ট মেডিসন প্রভৃতি।

3 শুপ্ত আগ্নেয়গিরি: যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে এখন অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছে না, ভবিষ্যতে হতে সেগুলিকে আগ্নেয়গিরি বলা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত বা আগ্নেয়গিরি ও আগ্নেয়গিরির মধ্যে পার্থক্য করা বেশ হয়ে পড়ে। যেমন উল্লেখ করা ফিলিপিনস্-এর পিনাটবো (Pinatubo) আগ্নেয়গিরিটি 1991 সালের অগ্ন্যুৎপাতের পূর্বে আগ্নেয়গিরি পরিচিত ছিল। তাই ভবিষ্যতে আগ্নেয়গিরিগুলি যে-কোনো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সুপ্ত চিহ্নিত হতে পারে। এইসকল ক্ষেত্রে একবারে প্রচুর আগ্নেয়পদার্থ নির্গত হওয়ার ম্যাগমা প্রকোষ্ঠের গ্যাসের এতই কমে যায় সেগুলি সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা বহুদিন নিষ্ক্রিয় থাকার ফলে অর্থাৎ ধীরে ধীরে ম্যাগমা প্রকোষ্ঠের চাপ বৃদ্ধি ঘটলে এগুলি আবার কার্যকরী ওঠে। এরূপ আগ্নেয়গিরি বিপজ্জনক। উদাহরণ—মৌনা কিয়া, মাউন্ট ফুজি, মাউন্ট রেইনার প্রভৃতি।