তীর্যক তরঙ্গ কাকে বলে? 1
পার্শ্ব তরঙ্গের অভিমুখের সাপেক্ষে কণাগুলি তির্যকভাবে ওঠা-নামা করে বলে পার্শ্ব ভরাকে তীর বলা
কোন্ ভরাকে দীর্ঘ তরঙ্গ বা 1. ভরা বলা হয় ? 1
পার্শ্ব তরঙ্গকে দীর্ঘ তরঙ্গ বা 1 ভরা বলা হয়।
1 তরঙ্গের ব্যাপ্তি কতদূর? 1
1. তরঙ্গ কেবল ভূত্বক বরাবর অগ্রসর হতে পারে, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের ভিতর দিয়ে অগ্রসর হতে পারে না।
L তরঙ্গকে পীড়ন তরঙ্গ বলা হয় কেন ? 1
L তরঙ্গ কঠিন পদার্থের পীড়ন ঘটায় বলে একে পীড়ন তরঙ্গ বলে।
ভূগাঠনিক ভূমিকম্প বলতে কী বোঝ ? 1
ভূত্বকে চ্যুতি গঠনের সময় শিলাস্তূপ স্থানচ্যুত হলে বা ভাঁজ গঠনের কারণে ভূকম্পনের সৃষ্টি হলে তাকে ভূগাঠনিক ভূমিকম্প বলে।
অগাঠনিক ভূমিকম্প কাকে বলে? 1
ভূত্বকের বাইরে সৃষ্ট যে যে প্রাকৃতিক কারণে ভূমিকম্প হয়ে থাকে তাদের অভূগাঠনিক ভূমিকম্প বলে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র কাকে বলে? 1
পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখান থেকে ভূকম্প তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্প কেন্দ্র বলে।
ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র কাকে বলে? 1
ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে ঠিক সোজাসুজি ও পরে ভূপৃষ্ঠের যে স্থানে তরঙ্গ প্রথম পৌঁছায় তাকে ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র বলে।
ভূমিকম্পের প্রতিপাদ কেন্দ্র কাকে বলে? 1
ভূগোলকের ওপর অবস্থিত উপকেন্দ্রের ঠিক বিপরীত স্থানটিকে প্রতিপাদ কেন্দ্র (Anticentre) বলে।
গুজরাতে রান অঞ্চলের সৃষ্টি কীভাবে হয়েছিল ? 1
1819 খ্রিস্টাব্দে গুজরাতের কচ্ছ উপদ্বীপের ভূমিকম্পে এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল বসে গিয়ে গুজরাতের রান অঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছিল।
ভূমিকম্পের ছায়া বলয় বলতে কী বোঝ ? 1
ভূপৃষ্ঠের যে-কোনো উপকেন্দ্র থেকে 104-140" কৌণিক দূরত্বের মধ্যে P বা তরল পৌঁছাতে পারে না, তাই এই অঞ্চলকে ছায়া বলয় হয়।
ভূমিকম্পের ছায়া বলয় সৃষ্টির কারণ কী? ১
পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগের পদার্থগুলি কঠিন, তরল, সাঞ্জ ও স্থিতিস্থাপক বলয়াকারে অবস্থান করে। তরঙ্গ তরল বলয়ে প্রবেশমাত্র হয়ে যায় এবং তর ঘনত্বের তারতম্যজনিত কারণে প্রতিসৃত হয়। তরঙ্গ ভূকম্পকেন্দ্রের বিস্তীর্ণ পারে না বলে সেখানে ছায়া বলয় হয়।
ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিবেগ কত হয়? 1
ভূপৃষ্ঠে ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিবেগ থাকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় থেকে কিমি কিন্তু ভূগর্ভে এই গতিবেগ বেশি হয়।
রিখটার স্কেলে প্রতি মাত্রা বৃদ্ধির মানে ভূমিকম্পের তীব্রতা কতগুণ বৃদ্ধি পায় ?
রিস্টার স্কেলে প্রতি মাত্রা বৃদ্ধির মানে ভূমিকম্পের তীব্রতা 10 গুণ বৃদ্ধি পায়।
ভূকম্প তরঙ্গ কাকে বলে ?
শিলাস্তরে পীড়নের ফলে উৎপন্ন শক্তি তরঙ্গের আকারে ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। শক্তির
এরূপ বহিঃপ্রকাশই হল ভূকম্প তরঙ্গ।
দেহ তরঙ্গ কাকে বলে ? 1
যেসব তরঙ্গ ভূ-অভ্যন্তরে উৎপন্ন হয়ে ভূগর্ভের বিভিন্ন পদার্থের মধ্যে দিয়ে ভূপৃষ্ঠে এসে পৌঁছায়, সেই তরঙ্গগুলিকে দেহ তরঙ্গ বলে।
ভূমিকম্পের কোন্ তরঙ্গকে দেহ তরঙ্গ বলে?
ভূমিকম্পের প্রাথমিক বা P তরঙ্গ এবং মাধ্যমিক বা তরঙ্গকে দেহ তরঙ্গ বলে।
ভূকম্প পরিলেখ বা সিসমোগ্রাফ কী? 1
যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূকম্প তরঙ্গের গতিবিধির রেখাচিত্র পাওয়া যায়, তাকে ভূকম্প পরিলেখ যন্ত্র বা সিসমোগ্রাফ বলে।
সিসমোগ্রাফের প্রধান কাজগুলি কী কী? 1
সিসমোগ্রাফের প্রধান কাজগুলি হল (1) ভূকম্পনের তীব্রতা নির্ণয়, (1) স্থায়িত্বসূচক লেখচিত্র অঙ্কন, (iii) ভূকম্পনের সময় নির্ণয়, (iv) উপকেন্দ্রের স্থান নির্ণয়।
রিখটার স্কেলের আবিষ্কারক কে? 1
ক্যালিফোর্নিয়ার ভূকম্পবিদ চার্লস রিটার হলেন রিটার স্কেলের আবিষ্কর্তা।
জাপান অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ কেন? 1
এশীয় পাত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অবস্থিত হওয়ায় অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ।
সমতীব্রতা সমভূকম্পন রেখা কাকে বলে? 1
মানচিত্রে ভূমিকম্পের সমান তীব্রতাবিশিষ্ট স্থানগুলিকে করলে পাওয়া তাকে সমভূকম্পন রেখা বলে।
সমকম্পন কাল রেখা কাকে বলে? 1
কোনো ভূকম্পে পৃথিবীর যেসব স্থানে একই সময়ে ভূমিকম্পের কম্পন উৎপন্ন হয়, মানচিত্রে সেইসব স্থানকে যোগ করলে কাল্পনিক রেখা পাওয়া তাকে রেখা বলে।
P তরঙ্গের ব্যাপ্তি কতটা? 1
P তরঙ্গ ভূ-অভ্যন্তরের ভূত্বক, গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্রমণ্ডলের ভিতর দিয়ে অগ্রসর হতে পারে।
প্রাথমিক তরঙ্গকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলা হয় কেন? 1
প্রাথমিক তরঙ্গের অভিমুখের সমান্তরালে বস্তু বা মাধ্যমের কণাগুলি কাঁপতে থাকে বলে প্রাথমিক তরঙ্গকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে।
ধাক্কা তরঙ্গ বা ঠেলা তরঙ্গ কাকে বলে? 1
প্রাথমিক তরঙ্গ শক্তিশালী এবং ভূত্বকে সজোরে ধাক্কা দেয় বলে প্রাথমিক তরঙ্গকে ধাক্কা তরঙ্গ বা ঠেলা বলে
2004 সালে সুনামির উপকেন্দ্র কোথায় কোথায় ছিল ? 1
2004 সালে সুনামির উপকেন্দ্র ছিল সুমাত্রা, জাভা, থাইল্যান্ড ইত্যাদি অঞ্চলে।
2006 সালে ইন্দোনেশিয়ায় সামুদ্রিক ভূমিকম্প বা সুনামিটি কোন্ দুটি পাতের সংঘর্ষের ফলে ঘটেছিল।
2006 সালে ইন্দোনেশিয়ায় সৃষ্ট সামুদ্রিক ভূমিকম্প সুনামিটি অস্ট্রেলীয় পাত ও সুন্দা পাতের সংঘর্ষের ঘটেছিল।
কত সালের ভূমিকম্পের আল্লা বাঁধ (Allah bund)-সৃষ্টি হয়েছিল ? 1
1819 সালের ভূমিকম্পের আল্লা বাঁধ (Allah bund)-সৃষ্টি হয়েছিল ?
ভূমিকম্পের সম্ভাব্য কারণগুলি আলোচনা করো ও ভারত থেকে উদাহরণ দাও। ৭
ভূমিকম্পের সম্ভাব্য কারণ
ভূত্বকের হঠাৎ কেঁপে ওঠাকে বলা হয় ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের সম্ভাব্য কারণগুলিকে দুটি মুখ্য শ্রেণিতে ভাগ করা যায়
[1] প্রাকৃতিক কারণ এবং [2] কৃত্রিম কারণ। ।
[1] প্রাকৃতিক কারণ :বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি ও প্রক্রিয়ার ফলে তীব্র থেকে মৃদু ভূমিকম্প হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক কারণকে পুনরায় দুটি ভাগে ভাগ করা যায়
1. ভূগাঠনিক কারণ এবং
2• অভূগাঠনিক কারণ।
1.ভূগাঠনিক কারণ: ভূত্বকে চ্যুতি গঠনের সময় শিলাস্তূপ স্থানচ্যুত হলে বা ভাঁজ গঠনের কারণে ভূকম্পনের সৃষ্টি হলে তাকে ভূগাঠনিক ভূমিকম্প বলা হয়। এ ধরনের ভূমিকম্পের কারণগুলি হল—
i পাতের সঞ্চালন: পৃথিবীর ভূত্বক যে বড়ো সাতটি, আটটি মাঝারি ও ছোটো কুড়িটি পাত নিয়ে গঠিত সেগুলির বিভিন্ন দিকে সঞ্চালনই ভূমিকম্পের প্রধান কারণ এবং দেখা গেছে যে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প ঘটে বিভিন্ন পাত সীমানা বরাবর। যেমন
(a) প্রতিসারী বা গঠনকারী পাত সীমানা: গঠনকারী পাত সীমান্তে দুটি পাত পরস্পরের থেকে দূরে সরে গেলে ম্যাগমা ওপরে উঠে আসে এবং এর প্রবল চাপে ভূকম্প হয়। ভারত মহাসাগরের তলদেশের বিভিন্ন শৈলশিরা বরাবর এইভাবে ভূকম্প ঘটে।
(b) অভিসারী বা ধ্বংসাত্মক পাত সীমানা: ধ্বংসাত্মক পাত সীমানা বরাবর দুটি পাত পরস্পরের কাছে চলে এলে একটি পাতের নীচে আর একটি পাত প্রবেশ করে। তখন দুটি পাতের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এইরূপ সংঘর্ষের ফলে ভূ-আলোড়ন, চ্যুতি, অগ্ন্যুদ্গম ঘটে এবং প্রবল ভূকম্প অনুভূত হয়। কামচাটকা, জাপান, পূর্ব চিন, ইন্দোনেশিয়া অঞ্চলে এজন্য ভূমিকম্প হয়। সম্প্রতি, 2004 সালে 26 ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে ভারতীয় পাত ও বার্মা পাতের সংঘর্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল ও সেইসঙ্গে সুনামির তাণ্ডব ঘটেছিল। এ ছাড়া দুটি মহাদেশীয় পাতের সংঘর্ষেও প্রবল ভূকম্প ঘটে। যেমন, আল্লস-হিমালয় অক্ষ বরাবর ভূমিকম্প হয়।
(c) নিরপেক্ষ পাত সীমানা: নিরপেক্ষ পাত সীমানা বরাবর দুটি পাত পাশাপাশি সঞ্চরণশীল হলে দুই পাতের অন্তবর্তী কিনারা বরাবর ব্যাপক শিলাচ্যুতি ঘটে এবং প্রবল ভূকম্প অনুভূত হয়। ভারত সংলগ্ন আরব সাগরের তলদেশে অতীতে অনেকবারই এরূপ ভূমিকম্প হয়েছে।
ii নবীন ভঙ্গিল পর্বতের উত্থান: গিরিজনি আলোড়নের প্রভাবে প্রবল পার্শ্বচাপে পর্বতের উত্থান ঘটে এবং শিলাচ্যুতি হয়। ফলে ভূকম্প অনুভূত হয়। 1950 সালে অসমে এভাবে ভূমিকম্প হয়েছিল।
iii. অগ্ন্যুদ্গম: আগ্নেয়গিরি থেকে (a) গ্যাস ও লাভার মুক্তি লাভের ফলে সৃষ্ট বিস্ফোরণ, (b) গলিত লাভার গহ্বরে চাপের ফলে আগ্নেয়গিরির মধ্যে সৃষ্ট চ্যুতি, (c) গ্যাস ও গলিত লাভা জাতীয় পদার্থের নিঃসরণের ফলে সৃষ্ট শূন্যস্থানে ধস ইত্যাদির ফলে ভূকম্পন অনুভূত হয়। 1991 ও 1995 সালে আন্দামানের ব্যারেন দ্বীপের অগ্ন্যুৎপাতকালে আগ্নেয়গিরির সংলগ্ন স্থানে এ ধরনের ভূমিকম্প হয়েছিল।
iv. সমস্থিতিক ভারসাম্য: ম্যাগমার অনুপ্রবেশ, পাতের অনুপ্রবেশ প্রভৃতির জন্য শিলা ঘনত্বের পার্থক্য এবং একস্থানে ক্ষয় ও অন্যত্র ক্রমাগত হয়। 1967 সঞ্চিত জলরাশির চাপে ভূমিকম্প সঞ্ঝয় ইত্যাদি ঘটলে ভূত্বকের শিলার সমস্থিতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। ভারসাম্যের এই ব্যাঘাতে ভূকম্প অনুভূত হয়। ভারতের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে এই কারণের জন্য প্রায়ই ভূকম্প হয়।
2 . অনুগাঠনিক কারণ: ভূত্বকের বাইরে সৃষ্ট যে যে প্রাকৃতিক কারণে ভূমিকম্প হয়ে থাকে তাদের অভগাঠনিক ভূমিকম্প বলে। এই কারণগুলি হল—
i. ভূগর্ভ গহ্বরের ধস: চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলে ভৌমজলের দ্রবণ ক্রিয়ার ফলে ভূত্বকের নীচে বড়ো আকারের গুহা সৃষ্টি হলে তার ওপরের ছাদ ধসে গিয়ে কম্পন সৃষ্টি হয়। মেঘালয়ের চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলে এরূপ কম্পন ঘটে থাকে।
ii. সমুদ্রতরঙ্গের আঘাত: সমুদ্র সৈকত বরাবর তরঙ্গের প্রবল আঘাতে যেমন কম্পন হয় তেমনি তরঙ্গের প্রবল আঘাতে জোরপূর্বক শিলাতে ভাঙন ধরলে বা শিলা ফেটে
গেলে ভূকম্পন হয়।
iii শিলাপতন, হিমানী সম্প্রপাত প্রভৃতি: পার্বত্য অঞ্চলের ঢাল বেয়ে বড়ো বড়ো টাই আকৃতির শিলার পতন, হিমানী সম্প্রপাত এবং বিশাল আকারে ভূমিধস ঘটলে মৃদু ভূকম্প হয়। হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলের উচ্চ অংশে এই কারণে প্রায়শই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
iv. উল্কাপাত: খুব বড়ো মাপের উল্কাপিণ্ড ভূপৃষ্ঠে সজোরে আছড়ে পড়লে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হতে পারে। ভূতাত্ত্বিক তথ্য অনুযায়ী, জুরাসিক যুগের শেষে আরব সাগরীয় অঞ্চলে উল্কাপাতের ফলে ভূমিকম্প হয়েছিল।
2 কৃত্রিম কারণ: মানুষের বিভিন্ন কাজকর্মের জন্যও ভূমিকম্প ঘটে। যেমন—
1. জলাধার নির্মাণ: নদীতে বাঁধ দিয়ে জলাধার নির্মাণ করলে জলাধারের জলরাশির প্রবল চাপে ওই অঞ্চলের হয়। 1967 সঞ্চিত জলরাশির চাপে ভূমিকম্প হয়েছিল।
2. পারমাণবিক নিরীক্ষা : পারমাণবিক নিরীক্ষার কারণে ভূগর্ভে শক্তিশালী প্রবল আশেপাশের অঞ্চল খুব জোরে ওঠে। 1974 3 1999 সালে রাজস্থানের পরমাণু বোমা বিস্ফোরণে ওই অঞ্চলের অসংখ্য ফাটল ধরেছিল ।
3.ডিনামাইট বিস্ফোরণ: সম্পদ নির্মাণ, বিশেষত পার্বত্য অঞ্চলে সুড়ঙ্গ তৈরি, রেলপথ নির্মাণ করতে ডিনামাইট বিস্ফোরণ ঘটানো ফলে মৃদু ভূকম্পন সৃষ্টি হয় ।
4. অন্যান্য কারণ: ভূগর্ভ থেকে খনিজ সম্পদ খনিজ তেল ইত্যাদি) উত্তোলনের ফলে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। গর্তের ওপরের ছাদ ধসে গিয়ে ভূকম্পন ঘটে।
ভূকম্পীয় তরঙ্গের শ্রেণিবিভাগ করে আলোচনা কর। [7]
ভূকম্পীয় তরঙ্গের শ্রেণিবিভাগ
ভূ-অভ্যন্তরে শিলায় ফাটল বা চ্যুতির মাধ্যমে পীড়নজনিত শক্তির মুক্তি ঘটলে সেটি যে তরঙ্গের আকারে ভূ-অভ্যন্তরভাগ থেকে ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত চারিদিকে ক্রমে ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে তাকে ভূকম্পীয় তরঙ্গ (Seismic Waves) বলে। ভূকম্পীয় তরঙ্গের ভাগগুলি হল— [1] প্রাথমিক বা P তরঙ্গ, [2] মাধ্যমিক বা গৌণ বা S তরঙ্গ এবং [3] পার্শ্ব তরঙ্গ বা L তরঙ্গ বা পৃষ্ঠতরঙ্গ।
1 প্রাথমিক তরঙ্গঃ ভূকম্প কেন্দ্র থেকে যে তরঙ্গ সর্বপ্রথম উপকেন্দ্রে আসে তাকে প্রাথমিক তরঙ্গ বা Primary Wave বা P তরঙ্গ বলে।
বৈশিষ্ট্য
1• দ্রুতগামী তরঙ্গ: এটি সবচেয়ে দ্রুত গতির তরঙ্গ, প্রতি সেকেন্ডে গতিবেগ গড়ে 6 কিমি। তরঙ্গের গতিবেগ মাধ্যমের প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। এজন্য কঠিন থেকে তরল মাধ্যমে এলে তরঙ্গের গতিবেগ বেড়ে যায়।
2. অভিমুখ: তরঙ্গ অভিমুখের সমান্তরালে বস্তু বা মাধ্যমের কণাগুলি কাঁপতে থাকে। এটি শব্দতরঙ্গের অনুরূপ। একে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গও বলা হয় ৷
3.মাধ্যমঃ এই তরঙ্গ ভূ-অভ্যন্তরের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করতে পারে।
4. পদার্থের সংকোচন ঘটানো: তরঙ্গ পদার্থের সংকোচন ও প্রতিসরণ ঘটায়, তাই এটি সংকোচন তরঙ্গ নামেও পরিচিত।
5. প্রকৃতি: এই ভরা শক্তিশালী এবং ভূতকে সজোরে ধাক্কা দেয় তাই একে থাকা তরা বা ঠেলা বলে।
6.দৈর্ঘ্য: তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোটো ও ভূকম্পলি যন্ত্রে প্রথম ধরা পড়ে, তাই একে প্রথম প্রাথমিক কম্পন (First Primary Termor) বলা হয়।
2. মাধ্যমিক তরঙ্গ: উপকেন্দ্রে যে তরঙ্গ P তরঙ্গের পরে পৌঁছোয় তাকে মাধ্যমিক স্তর বা Secondary Wave বা S তরঙ্গ বলে।
বৈশিষ্ট্য
1.গতিবেগ: এটি কম গতিবেগসম্পন্ন তরঙ্গ। এর গতিবেগ সেকেন্ডে গড়ে 3.5 কিমি। তরঙ্গের গতিবেগ পদার্থের অনড়তা ও ঘনত্বের সঙ্গে সমানুপাতিক।
2.অভিমুখঃ তরঙ্গ অভিমুখের সমকোণে বস্তু বা মাধ্যমের কণাগুলি কাঁপতে থাকে, তাই পদার্থসমূহ উন্নভাবে ওঠা-নামা করে। এটি আলোকতরঙ্গ বা জলের তরঙ্গের অনুরূপ। একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলা হয়।
3.মাধ্যমঃ এই তরঙ্গ ভূ-অভ্যন্তরে কেবলমাত্র কঠিন অংশের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে পারে।
4.পদার্থের পরিবর্তনঃ তরঙ্গ পদার্থের আয়তনগত পরিবর্তন ঘটায় না। এটি পদার্থের আকৃতিগত পরিবর্তন ঘটায়।
5.প্রকৃতিঃ তরঙ্গের প্রকৃতি কঠিন পদার্থে পীড়ন ঘটায়, তাই একে পীড়ন তরঙ্গও বলে।
6.দৈর্ঘ্য: তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোটো, গ্রাহক যন্ত্রে P তরঙ্গের পরে ধরা পড়ে। তাই একে দ্বিতীয় প্রাথমিক কম্পন (Second Primary Termor) বলা হয়।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে যে তরঙ্গ অগ্রসর হয় তাকে পার্শ্ব তরঙ্গ বা I তরঙ্গ বলা হয়। এই তরঙ্গ উপকেন্দ্রে সবথেকে শেষে পৌছায় ।
বৈশিষ্ট্য
1. গতিবেগ :সর্বাধিক দীর গতির ও দীর্ঘস্থায়ী তরঙ্গ ।
2. প্রকৃতিঃ তরঙ্গ অভিমুখের সাপেক্ষে কণাগুলি তির্যকভাবে ওঠা-নামা করে। চরিত্রগতভাবে তাই এটি তির্যক তরঙ্গ।
3. মাধ্যম: তরঙ্গ কঠিন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করে।
4.পদার্থের পরিবর্তন: এই তরল পদার্থের সংকোচনের সঙ্গে পীড়ন ঘটায়। তাই শিলার আকৃতি ও আয়তনের পরিবর্তন ঘটে।
5.দৈর্ঘ্য: এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনেক বড়ো। তাই একে দীর্ঘ 1. তরঙ্গ বলা হয়।
পৃথিবীর প্রধান তিনটি ভূমিকম্প বলয়ের নাম লেখ। 1
পৃথিবীর প্রধান তিনটি ভূমিকম্প বলয় হল— (1) প্রশান্ত মহাসাগরীয় বলয়, (ii) আল্পীয় হিমালয় বলয়, (iii) মধ্য আটলান্টিক সামুদ্রিক শৈলশিরা ও আফ্রিকার বৃহৎ প্রস্ত উপত্যকা বলয়।
জাপান অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ কেন? 1
জাপান এশীয় পাত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ।
পৃথিবীর নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলগুলি কী কী? 1
পৃথিবীর নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলগুলি হল—হিমালয়, রকি, আন্দিজ ও আল্পস পর্বত।
সুনামি কাকে বলে ? 1
সমুদ্রের তলদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে সমুদ্রে যে বিশালাকৃতি ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়, তাকে সুনামি বলে।
সুনামির প্রভাব কোথায় সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় 1
সুনামির প্রভাবে সমুদ্রের উপকূল ভূমিতে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।
কোন্ সুনামিটিকে বিশ্বের উচ্চতম সুনামি হিসেবে গণ্য করা হয় ? 1
1958 সালে আলাস্কার লিটুয়া উপসাগরে যে মহাশক্তিশালী সুনামির আবির্ভাব হয়েছিল সেটিকে বিশ্বের উচ্চতম সুনামি হিসেবে গণ্য করা হয় ।
বর্তমান সময় পর্যন্ত বিশ্বের সর্বাপেক্ষা উচ্চতম সুনামির উচ্চতা কত? 1
বর্তমান সময় পর্যন্ত বিশ্বের সর্বাপেক্ষা উচ্চতম সুনামির উচ্চতা হল প্রায় 524 মিটার।
কোন্ কোন্ স্কেলের দ্বারা সমভূকম্পন রেখা পরিমাপ করা হয়? > রিখটার স্কেল ও মার্কালি স্কেলের দ্বারা সমভূকম্পন রেখা 1
রিখটার স্কেল ও মার্কালি স্কেলের দ্বারা সমভূকম্পন রেখা পরিমাপ করা হয়।
ভূকম্পলিখ যন্ত্রে কোন্ তরঙ্গ দ্বিতীয় তরঙ্গরূপে ধরা পড়ে। 1
ভূকম্পলিখ যন্ত্রে গৌণ তরঙ্গ দ্বিতীয় তরঙ্গরূপে ধরা পড়ে।
সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভূমিকম্প তরঙ্গ কোনটি ? 1
P তরঙ্গ হল সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভূমিকম্প তরঙ্গ।
ভূমিকম্পের যে-কোনো একটি গঠনমূলক প্রভাবের উল্লেখ কর। 1
প্রস্রবণের উৎপত্তি হল ভূমিকম্পের গঠনমূলক প্রভাব।
ভারতের কোন্ অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পপ্রবণ? 1
ভারতের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পপ্রবণ।
আল্পীয়- হিমালয় বলয়ের অন্তর্গত দুটি পর্বতশ্রেণির নাম লেখ। 1
ইউরোপের আল্পস পর্বতশ্রেণি এবং ভূমধ্যসাগরের ককেসাস পর্বতশ্রেণি হল আল্পীয়-হিমালয় বলয়ের অন্তর্গত পর্বতশ্রেণি।
ভূ-অভ্যন্তরে কেন P তরঙ্গের গতিবেগের হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে ? 1
ভূ-অভ্যন্তরে মাধ্যমের ঘনত্ব ও অনড়তার পরিবর্তন হওয়ায় P তরঙ্গের গতিবেগের হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে।
L তরঙ্গ সিসমোগ্রাফে কেন সবচেয়ে দেরিতে ধরা পড়ে? 1
P ও S তরঙ্গ অপেক্ষা ধীর গতিসম্পন্ন হওয়ায় L তরঙ্গ সিসমোগ্রাফে সবচেয়ে দেরিতে ধরা পড়ে।
ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে কোন্ তরঙ্গ প্রবাহিত হয় ? 1
ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে L তরঙ্গ প্রবাহিত হয়।
ভূমিকম্প কাকে বলে ? 1
ভূত্বকের কোনো কোনো অংশ কোনো প্রাকৃতিক বা অপ্রাকৃতিক কারণে ক্ষণিকের জন্য হঠাৎ কেঁপে উঠলে সেই কম্পনকে ভূমিকম্প বলে।
প্রাথমিক তরঙ্গ কাকে বলে ? 1
ভূকম্প কেন্দ্র থেকে যে তরঙ্গ সর্বপ্রথম উপকেন্দ্রে এসে পৌঁছায় তাকে প্রাথমিক তরঙ্গ বলে।
P তরঙ্গকে কেন প্রাথমিক কম্পন বলা হয় ? 1
ভূকম্পনলিখ যন্ত্রে সর্বপ্রথম P তরঙ্গই ধরা পড়ে বলে একে প্রাথমিক কম্পন তরঙ্গ বলে।
প্রাথমিক তরঙ্গের গতিবেগ কত? 1
প্রাথমিক তরঙ্গের গতিবেগ সেকেন্ডে গড়ে 6 কিমি।
মাধ্যমিক তরঙ্গ কাকে বলে ? 1
উপকেন্দ্রে যে তরঙ্গ প্রাথমিক বা P তরঙ্গের পরে পৌঁছায় তাকে মাধ্যমিক তরঙ্গ বলে।
মাধ্যমিক তরঙ্গের গতিবেগ কত? 1
মাধ্যমিক তরঙ্গের গতিবেগ সেকেন্ডে গড়ে 3.2 কিমি।
S তরঙ্গ ভূ-অভ্যন্তরের কোন্ স্তরে প্রবেশ করতে পারে না ? 1
S তরঙ্গ ভূ-অভ্যন্তরের কেন্দ্রমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে না ।
P ও S তরঙ্গ L তরঙ্গ অপেক্ষা দ্রুত ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায় কীভাবে?
P ও S তরঙ্গ সোজা ও সংক্ষিপ্ত পথে ভ্রমণ করে, কিন্তু L তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠের পরিধি বরাবর বাঁকা ও দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বলে P ও S তরঙ্গ L তরঙ্গ অপেক্ষা দ্রুত ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায় ।
অনুপ্রস্থ তরঙ্গ কাকে বলে ? 1
মাধ্যমিক তরঙ্গের অভিমুখের সমকোণে বস্তু বা মাধ্যমের কণাগুলি কাঁপতে থাকে, তাই পদার্থসমূহ উল্লম্বভাবে ওঠা নামা করে বলে মাধ্যমিক তরঙ্গকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।