Chapter-4⇒পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা

উঃ-খাদ্যলবণের রাসায়নিক নাম হল সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং এর সংকেত NaCl

খাদ্যলবণের ধর্ম :

(i) এটি গন্ধহীন, বর্ণহীন কঠিন পদার্থ। (ii) এটি অনুদ্বায়ী (গলনাঙ্ক—808°C ) অজৈব যৌগ। (iii) এটি কেলাসাকার কঠিন পদার্থ। এর কেলাস গঠন ছয়তলযুক্ত ঘনকের মতো। (iv) এটি জলে দ্রাব্য। জলীয় দ্রবণে অ্যাসিড বা ক্ষারের ধর্ম প্রকাশ পায় না। (v) বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি জলাকর্ষী বা উদ্‌গ্রাহী নয়। (vi) এটি তড়িৎযোজী যৌগ। এটি বিয়োজিত হয়ে সোডিয়াম আয়ন (Na+) ও ক্লোরাইড আয়ন (CI-) উৎপন্ন করে এবং এর জলীয় দ্রবণ তড়িৎ পরিবহণ করে।

খাদ্যলবণের ব্যবহার : (i) খাদ্যের একটি প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। (ii) মাছ, মাংস এবং অন্যান্য খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। (iii) হিমমিশ্রণ তৈরি করতে কাজে লাগে। (iv) কলেরা, আন্ত্রিক প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য স্যালাইন ওয়াটার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। (v) সাবান শিল্প, রঞ্জক শিল্প এবং চিনামাটির বাসন পালিশ করতে ব্যবহৃত হয়।

উঃ-নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলিতে আমাদের দেহে অম্লের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে— (i) বিভিন্ন জীবাণু যখন আমাদের দেহে রোগ সৃষ্টি করে। তখন দেহকোশে ল্যাকটিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। (ii) যখন কোনো ভারী কাজ দীর্ঘসময় ধরে করা হয়, তখন পেশিকোশ ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং পেশিকোশে গ্লুকোজ ভেঙে ল্যাকটিক অ্যাসিড উৎপাদন বেড়ে যায়। (iii) রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে বেশি হলে দেহকোশে অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। (iv) মানসিক চাপ বাড়লে বা দীর্ঘদিন ধূমপান করলেও দেহে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ে। (v) কোনো অসুখের ফলে পাতলা পায়খানা হলে, অন্ত্রের ক্ষারকীয় রস বেরিয়ে যায়, ফলে অম্লত্ব বেড়ে যায়। (vi) বৃক্ক কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিড, ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ বেড়ে যায়।

 

উঃ-আয়রন বা লোহা একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌল উপাদান। মানবদেহে লোহা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এইগুলি হল— (1) প্রাণীদেহে রক্ত গঠনে আয়রন খুব প্রয়োজনীয়। রক্তের লোহিত কণিকায় হিমোগ্লোবিন একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকা উচিত। আয়রন বা Fe2+ আয়ন রক্তে এই হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ঠিক রাখে। লোহা হিমোগ্লোবিনের ‘হিম’ অংশ গঠন করে।(2) গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে লোহা ভ্রূণের বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। (3) কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎসেচক গঠনে লোহা অংশ নেয়।

উঃ-আমাদের দেহে যে হাড় আছে সেই হাড়ের প্রধান উপাদান হল ক্যালশিয়াম ফসফেট যৌগ। হাড়কে সুস্থ ও মজবুত রাখতে ক্যালশিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ ছাড়া কোশের অনেক কাজ ক্যালশিয়াম আয়ন (Ca2+) ছাড়া হয় না। ছোটো মাছের হাড়ে ক্যালশিয়াম ফসফেট যৌগ আছে, তাই ডাক্তারবাবুরা ছোটো মাছ খেতে বলেন। এ ছাড়া হাড়ের ক্ষয় বা অন্যান্য অসুখের জন্য ক্যালশিয়াম ট্যাবলেটও খেতে দেওয়া হয়।

উঃ- আমাদের দেহে প্রয়োজনীয় খাদ্য লবণের উৎস হল—

(i) বিভিন্ন প্রাণীজ উৎস (যেমন– দুধ, মাখন ইত্যাদি) থেকে পাওয়া খাদ্য, (ii) পানীয় জল, (iii) উদ্ভিদ উৎস থেকে পাওয়া বিভিন্ন খাদ্য (যদিও এর পরিমাণ কম), (iv) বাইরে থেকে রান্নার মাধ্যমে খাওয়া নুন।

উঃ-খাদ্যলবণ বা নুনের মূল উপাদান হল সোডিয়াম ক্লোরাইড। এ ছাড়াও নুনে ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম-এর ক্লোরাইড লবণ মিশে থাকে। সোডিয়াম ক্লোরাইড বায়ু থেকে জল শোষণ করতে পারে না। কিন্তু ক্যালশিয়াম ক্লোরাইড ও ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড উদ্‌গ্রাহী পদার্থ অর্থাৎ, বায়ু থেকে জল শোষণ করতে পারে। ফলে ওই জলে খাদ্যলবণ বা নুন দ্রবীভূত হয়ে যায় এবং গলে যায়।

 

উঃ-হ্যাঁ। আমাদের রক্তের মধ্যেও নুন দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। রক্তের প্রধান উপাদান রক্তরস। রক্তরসের মধ্যেই থাকে NaCl ও অন্যান্য উপাদান। এই NaCl আয়নিত হয়ে Na+ ও Cl- আয়ন তৈরি করে। দেহে Na+-এর কার্যকারিতাও বহুমুখী। উল্লেখ্য মানুষের দেহের রক্তের 100 মিলিলিটারে NaCl এর পরিমাণ 0.9 গ্রাম।

উঃ-বেশি নুন খেলে রক্তচাপ বাড়ে।

♦ রক্তে নুনের পরিমাণ বেড়ে গেলে রক্তের মধ্যে থাকা জলের পরিমাণ বেড়ে যাবে। ফলে, রক্তের পরিমাণ অর্থাৎ, রক্তের ঘনত্ব কমবে।

♦ রক্তে জল বাড়ার ফলে রক্তচাপ বাড়বে।

♦ রক্তচাপ বেশি হলে – (i) শিরা-ধমনি কাটলে ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়ে, (ii) হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচল বাড়ে, ফলে হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি পায়, (iii) মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়।

উঃ-শামুক, ঝিনুকের খোলক ক্যালশিয়াম কার্বনেট দিয়ে তৈরি। জলে দ্রবীভূত ক্যালশিয়াম আয়ন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডকে কাজে লাগিয়ে এই খোলক তৈরি হয়।

উঃ-স্পাইরোগাইরা, ক্ল্যামাইডোমোনাস, ভলভক্স ইত্যাদি উদ্ভিদ জলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো চলাচল করতে পারে বলে খাদ্য তৈরি করতে পারে ।

উঃ-আমাদের দেহে উপস্থিত হাড়ের প্রধান উপাদান হল ক্যালশিয়াম ফসফেট যৌগ। হাড়কে সুস্থ ও মজবুত রাখতে ক্যালশিয়াম আয়ন দরকার। ছোটো মাছের হাড়ে ক্যালশিয়াম ফসফেট যৌগ আছে, তাই ডাক্তারবাবুরা ছোটো মাছ খেতে বলেন। বা বলা যায় ছোটো মাছ খাওয়া ভালো।

 

উঃ-ক্যালশিয়াম মানবদেহের একটি অতিপ্রয়োজনীয় ধাতু। আমাদের শরীর সরাসরি এইসব ধাতুকে কাজে লাগাতে পারে না। ক্যালশিয়ামের বিভিন্ন যৌগ আমাদের শরীরে ক্যালশিয়ামের চাহিদা মেটায়। মহিলাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেহে ও হাড়ে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়। ফলে, দাঁত ও হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। ক্যালশিয়াম ট্যাবলেটে থাকে ক্যালশিয়ামের নানা যৌগ যেমন— ক্যালশিয়াম কার্বনেট, যা আমাদের শরীর কাজে লাগাতে পারে। এই কারণে একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর ডাক্তাররা মহিলাদের ক্যালশিয়াম ট্যাবলেট খেতে দেন।

 

উঃ-মেটে বা লিভারে থাকে আয়রন ঘটিত যৌগ। আমাদের দেহের পক্ষে আয়রন বা লোহা হল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

উঃ-পুকুরের জলে বসবাসকারী বিভিন্ন মাছের বেঁচে থাকার জন্য জলের একটি নির্দিষ্ট pH মানের দরকার। অ্যাসিড বৃষ্টি ও বিভিন্ন কারণে পুকুরের জলে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে পুকুরে বসবাসকারী মাছের মৃত্যু ঘটতে পারে। এই অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে স্বাভাবিক pH বজায় রাখার জন্য জলে চুন মেশানো হয়।

উঃ-পাথুরে চুন বা ক্যালশিয়াম অক্সাইডকে অতিরিক্ত জলে দ্রবীভূত করলে তা গলে গিয়ে ক্যালশিয়াম হাইড্রক্সাইড বা কলিচুন উৎপন্ন করে। এই মিশ্রণের ওপরে থাকা স্বচ্ছ জলের মতো অংশকে বলা হয় চুনজল

♦ চুনজল ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোনোভাবেই এটি চোখে না পড়ে।

 

উঃ-বৃষ্টির জলের মধ্যে অ্যাসিড ধর্ম দেখা যায়।

♦ একটি পরিষ্কার কাচের পাত্রে বৃষ্টির জল নিয়ে তাতে একটি নীল লিটমাস কাগজ যোগ করলে যদি লাল হয় তবে বুঝতে হবে, দ্রবণটি অ্যাসিড।

উঃ-সব অ্যাসিড সমান শক্তিশালী হয় না। অ্যাসিডের শক্তি নির্ভর করে জলীয় দ্রবণে নির্গত H+ আয়নের সংখ্যার ওপর। যে অ্যাসিড জলীয় দ্রবণে বেশি সংখ্যক H+ আয়ন উৎপন্ন করে, সেই অ্যাসিড বেশি শক্তিশালী হয়। এ কারণে একই গাঢ়ত্বের অ্যাসিটিক অ্যাসিড অপেক্ষা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের শক্তি বেশি হয়।

 

উঃ-উৎস অনুযায়ী অ্যাসিড দুই প্রকার। যথা— জৈব অ্যাসিড ও অজৈব অ্যাসিড।

♦ জীবদেহ বা জৈব উৎস থেকে প্রাপ্ত অ্যাসিডকে বলা হয় জৈব অ্যাসিডযেমন— আপেলে ম্যালিক অ্যাসিড, লেবুতে সাইট্রিক অ্যাসিড, পিঁপড়ের হুলে ফরমিক অ্যাসিড ইত্যাদি।

♦ জৈব উৎস নয়, খনিজ উৎস থেকে পাওয়া অ্যাসিডকে বলা হয় অজৈব অ্যাসিডযেমন—সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড।

 

উঃ-বিভিন্ন কারণে দেহে অ্যাসিড-ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে নানা শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। অনেকক্ষণ ধরে ভারী কাজ করলে, দীর্ঘদিন ধূমপান করলে, মানসিক চাপ বাড়লে বা বৃক্ক কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেহে অ্যাসিডের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। ফলে, আমাদের মুখ টক হয়ে ওঠে এবং চোঁয়া ঢেকুর ওঠে।

উঃ-প্রাচীনকালেই মানুষ তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছিল যে, দেহের সম্পূর্ণ চাহিদা মেটাবার জন্য বাইরে থেকে নুন খাওয়া প্রয়োজন। তখন সামুদ্রিক লবণ ছিল খাবার নুনের প্রধান উৎস। আবার, বিভিন্ন পাথরের খাঁজে জমে থাকা নুনও খাবার লবণ হিসেবে তারা সংগ্রহ করত।

 

উঃ-আমরা খাবার জন্য মূলত তিন ধরনের লবণ ব্যবহার করি। যথা – ১) সৈন্ধব লবণ বা সামুদ্রিক লবণ, ২) বিট লবণ বা রক সল্ট, ৩) খাবার লবণ বা টেবিল সল্ট।

 

উঃ-থাইরয়েড গ্রন্থি মানবদেহে স্বরযন্ত্রের ওপর দুপাশে অবস্থিত।

♦ এই গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়।

♦ এই থাইরক্সিন হরমোনের অধিক ক্ষরণে গয়টার বা গলগণ্ড রোগ হয়। এই হরমোনের কম ক্ষরণে মহিলাদের বন্ধ্যাত্ব রোগ হয়।

 

উঃ-রঙের দুটি অংশ। যথা— দ্রাবক অংশ এবং রঞ্জক অংশ। দ্রাবক অংশটি সাধারণত বর্ণহীন বা হালকা রঙিন হয় এবং রঞ্জক অংশটি গঠিত হয় রঙিন যৌগের কণা দ্বারা।