Chapter-4.1⇒মহাসাগরতলের ভূপ্রকৃতি

সমুদ্রে নিমজ্জিত প্রায় 100 ফ্যাদম বা 200 মিটার গভীরতা বিস্তৃত মৃদু ঢালবিশিষ্ট মহাদেশীয় প্রান্তভাগকে

মহীসোপান বলে।

" মহীসোপানের গড় ঢাল 1°-এর কম হয়, তবে স্থানবিশেষে তা 2°3° পর্যন্তও হয়।

মহীসোপানের গড় গভীরতা 100 ফ্যাদম বা 200 মিটার ধরা হয়।

সমুদ্রের এই অংশে প্লাঙ্কটন ও মাছের খাদ্যের প্রাচুর্য থাকে বলে বাণিজ্যিক মৎস্যশিকার ক্ষেত্র গড়ে ওঠে।

মহীসোপান এবং মহীঢাল অঞ্চলে সাধারণত অন্তঃসাগরীয় গিরিখাত সৃষ্টি হয়।

মহীসোপান অঞ্চলকে সমুদ্র সম্পদের ভাণ্ডার বলা হয়।

সমুদ্র উপকূলের জোয়ারের জলের সর্বোচ্চ সীমা থেকে ভাটার সময়ের সর্বনিম্ন সীমারেখার মধ্যবর্তী অংশকে তদেশীয় অঞ্চল বলে।

 

তটদেশীয় অঞ্চল ও মহীঢালের মধ্যবর্তী অংশকে নেরিটীয় অঞ্চল বলে।

মহীসোপানের ভগ্ন তটরেখায় সামুদ্রিক বন্দর গড়ে ওঠে।

গঠন অনুসারে মহীঢালকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা— (i) গিরিখাতযুক্ত মহীঢাল, (ii) চ্যুতি-ভৃগুতট (iii) পাহাড়যুক্ত মহীঢাল ।

মহীসোপানের তটদেশীয় অংশে সমুদ্রতরঙ্গের কাজ বেশি স্পষ্ট।

মহীঢাল গভীর সমুদ্রের সমভূমির মধ্যবর্তী ভূমিভাগটি হল মহাদেশীয় উত্থান বা মহাদেশীয় ক্রমোচ্চ ভূমিভাগ।

গভীর সমুদ্রের সমভূমিতে সাধারণত জলমগ্ন মালভূমি, প্রভৃতি।

বেশিরভাগ সমুদ্র বিজ্ঞানীদের মতে মহীঢালের শেষ প্রায় হল মহাদেশগুলির প্রকৃত শেষ সীমা।

মহীঢাল ও গভীর সমুদ্রের সমভূমির ভূমিভাগটিকে বলা হয় মহাদেশীয় উত্থান বা মহাদেশীয় ক্রমোচ্চ ভূমিভাগ।

মহীসোপান মহাদেশীয় ভূত্বকে দেখা যায়।

পৃথিবীর বৃহত্তম সামুদ্রিক শৈলশিরাটির নাম হল আটলান্টিক শৈলশিরা।

মহীসোপানের অধিক বিস্তৃত অংশের নাম নেরিটীয় মহীসোপান।

আটলান্টিক মহাসাগরের একটি মগ্নচড়া হল—ডগার্সব্যাংক।

মহীঢালের শেষ সীমা থেকে মহাসাগরের অতল গহ্বর পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে গভীর সমুদ্রের সমভূমি বলে।

গভীর সমুদ্রের সমভূমি প্রধানত ব্যাসল্ট ও ব্যাসল্ট জাতীয় শিলায় পঠিত।

মহাসাগরবক্ষে গভীর সমুদ্রের সমভূমি অপেক্ষা আরও গভীর এবং অত্যন্ত অপ্রশস্ত পরিখার মতো অবনমিত অংশগুলিকে গভীর সমুদ্রখাত বলে।

গভীর সামুদ্রিক সমভূমির ওপর স্থানে স্থানে ফাটল বরাবর অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট হাজার হাজার অনুচ্চ টিলার ন্যায় ভূমিরূপগুলি হল সামুদ্রিক পাহাড়।

সমুদ্রের তলদেশে প্রায় 1,000 মিটার বা তার বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট শঙ্কু আকৃতির পর্বতগুলিকে সমুদ্রগিরি বলে।

সামুদ্রিক পাহাড়গুলির মধ্যে যেগুলির উচ্চতা কম, তাদের সমুদ্র নোল বলে।

সামুদ্রিক পাহাড়গুলির পার্শ্বদেশ যখন খাড়া কিন্তু উপরিভাগ সমতল হয়, তখন সেগুলিকে গায়ট বলে।

টোঙ্গা খাতের গভীরতম অংশের নাম হরাইজন ডেপথ।

সমুদ্রতলদেশে নদী উপত্যকার মতো খাড়া 'V' বা 'T' আকৃতির যে খাত দেখা যায় তাকে সামুদ্রিক গিরিখাত বা ক্যানিয়ন বলে।

পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর হল প্রশান্ত মহাসাগর।

প্রশান্ত মহাসাগরের আকার অনেকটা ত্রিভুজের ন্যায়।

সমুদ্রবিজ্ঞানী জনসন প্রশান্ত মহাসাগরকে চারটি অংশে ভাগ করেছেন।

 

প্রশান্ত মহাসাগরে মহীসোপানের সর্বনিম্ন বিস্তার আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের নিকট দেখা যায় ।

প্রশান্ত মহাসাগরের মহীসোপান তার ক্ষেত্রফলের প্রায় 5.7 শতাংশ স্থান অধিকার করে আছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত দ্বীপপুঞ্জগুলি হল— কিউরাইল, জাপান, ফিলিপিনস, নিউজিল্যান্ড প্রভৃতি।

অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডের পূর্ব অস্ট্রেলিয়া বেসিন অবস্থিত।

আমেরিকা হল— মেন্ডোসিনো, পায়োনিয়ার, মারে, গ্যালাপোগাস প্রভৃতি।

প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত দুটি প্রবাল হল— ক্যারোলিনা ও মার্শাল ।

মহাসাগরে অবস্থিত প্রান্তদেশীয় সমুদ্রের উদাহরণ হল—ওখোতস্ক সাগর ও বেরিং সাগর।

ফিলিপিনস্ খাতের পূর্বে অবস্থিত শৈলশিরাটির নাম ফিলিপিনস্ খাতের কিউসু-পালাউ শৈলশিরা।

→ টেলিগ্রাফ মালভূমি আটলান্টিক  মহাসাগরে অবস্থিত ।

মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরার দুটি অংশ, যথা— (1) ডলফিন উচ্চভূমি, (ii) চ্যালেঞ্জার উচ্চভূমি।

গঠন-প্রকৃতি অনুসারে আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপসমূহকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা— (1) মহাদেশীয় দ্বীপ, (ii) আগ্নেয় দ্বীপ, (iii) প্রবাল দ্বীপ।

মাদাগাস্কার দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে মরিশাস বেসিন অবস্থিত।

মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরার উত্তর অংশ ডলফিন উচ্চভূমি নামে পরিচিত।

মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরার দক্ষিণ অংশ চ্যালেঞ্জার উচ্চভূমি নামে পরিচিত।

মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরার আকৃতি ইংরেজি 'S' অক্ষরের মতো।

মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরাটি উত্তরে আইসল্যান্ড থেকে দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝবরাবর প্রতিসারী পাত সীমানায় ভূগর্ভস্থ লাভা নির্গত হয়ে এবং সমুদ্রতলে তা জমাটবদ্ধ হয়ে মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরার সৃষ্টি হয়েছে।

আটলান্টিক মহাসাগরে নিউফাউন্ডল্যান্ড ও শি দ্বীপপুঞ্জের কাছে পৃথিবীর প্রশস্ততম মহীসোপানটি অবস্থিত।

আটলান্টিক মহাসাগরের বৃহত্তম বেসিন হল উত্তর-পশ্চিম আটলান্টিক বেসিন।

মহাদেশীয় ক্রমোচ্চ ভূমিভাগ

সংজ্ঞা : মহীঢাল ও গভীর সমুদ্রের সমভূমির মধ্যবর্তী ভূমিভাগটি হল মহাদেশীয় উত্থান বা মহাদেশীয় ক্রমোচ্চ ভূমিভাগ । এটি মহাদেশীয় ভূত্বকেরই অংশবিশেষ এবং মহাদেশ ও মহাসমুদ্রের গভীরতম অংশের মাঝখানে চরম সীমারূপে একে চিহ্নিত করা হয়। মহাদেশীয় উত্থানের ঢাল মৃদু প্রকৃতির হয় (0.50 থেকে 1.0°)।

উৎপত্তি: মহীঢালে সৃষ্ট অন্তঃসাগরীয় গিরিখাত (Submarine Canyons)-গুলি পঙ্কিল জলস্রোতের প্রভাবে ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং ক্ষয়প্রাপ্ত পললসমূহ পরিবাহিত হয়ে মহীঢালের প্রান্তে পলিশঙ্কু গঠন করে। পঙ্কিল স্রোতের প্রভাবে মহীঢালের প্রান্তে পলিশঙ্কুর বিস্তার ক্রমশ বাড়তে থাকে। এইভাবে বাড়তে বাড়তে উচ্চতা যখন বেশ কয়েক মিটার হয়, তখন অনেকগুলি পলিশঙ্কু একত্রে সংযুক্ত হয়ে মহাদেশীয় উত্থান সৃষ্টি করে।

মহীসোপান অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব: সমুদ্রে নিমজ্জিত প্রায় 200 মিটার গভীরতা পর্যন্ত বিস্তৃত মৃদু ঢালবিশিষ্ট মহাদেশীয় প্রান্তভাগকে মহীসোপান বলে। সমুদ্র সাগরের তলদেশের ভূপ্রকৃতি উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা মহীসোপান অঞ্চল নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মহীসোপানের গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন

প্ল্যাঙ্কটনের প্রায় সরকাশ মহীসোপানের গভীরতা 200 মিটারের কম হওয়ায় সূর্যের আলো সহজেই সমুদ্রের এই অংশের জলে প্রবেশ করতে পারে। নদীবিধৌত আবর্জনার সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ মহীসোপান অঞ্চলে সঞ্চিত হওয়ায় প্ল্যাঙ্কটনের খাদ্যের কোনো অভাব হয়। না। প্লাঙ্কটনের প্রাচুর্যের কারণে এই অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সমাবেশ ঘটে। ফলে সহজেই এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্র গড়ে ওঠে। মৎস্য আহরণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজারজাতকরণের মধ্য দিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে।

2 খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার : 'মহীসোপান – সমুদ্র সম্পদের ভাণ্ডার'। মহীসোপান অঞ্চলে প্রচুর পর… চালের প্রকৃতিঃ মহীসোপান অপেক্ষা মহীঢালের ঢাল অনেক বেশি। মহীঢালের গড় ঢাল প্রায় ৪°। সমুদ্রের এই অংশের ঢালের পরিমাণ সর্বত্র সমান নয়। উপকূলের ভূমির প্রকৃতি মহীঢালের প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। পার্বত্য উপকূলে এর ঢালের পরিমাণ 25° পর্যন্ত হয়ে থাকে। সমভূমি অংশে এর ঢাল 2° থেকে 5° পর্যন্ত হয়ে থাকে ।

4. সমুদ্রতরঙ্গের কার্যকারিতা: সমুদ্রতরঙ্গ এই অংশে নিষ্ক্রিয়। সমুদ্রতরঙ্গের নিষ্ক্রিয়তাই মহীঢাল সৃষ্টির অন্যতম কারণ।
5 সামুদ্রিক অবক্ষেপণ : ঢাল খুব খাড়া হওয়ায় সামুদ্রিক অবক্ষেপের পরিমাণ এই অংশে খুবই কম।

6. অন্তঃসাগরীর ক্যানিয়ন: স্থলভাগে পার্বত্য অঞ্চলের গিরিখাতের মতো মহীঢালেও ক্যানিয়নগুলি খাড়া ঢালবিশিষ্ট ও সংকীর্ণ 'V' আকৃতির হয়। এগুলি উপকূলের সমকোণে গভীর সমুদ্রের সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত হয় ৷ মহীঢাল অঞ্চলে মৎস্যচারণক্ষেত্র না গড়ে ওঠার কারণ মহাদেশের শেষ সীমানা হল মহীঢাল। যা সাধারণত সমুদ্রের 200 মিটার গভীরতা থেকে প্রায় 3,200 মিটার গভীরতা পর্যন্ত বিস্তৃত অতি ঢালু অংশ। সমুদ্রের এই অংশে ঢাল বেশি হওয়ায় খনিজ লবণ ও অন্যান্য সামুদ্রিক পদার্থ কম সজ্জিত হয়। এখানে সূর্যের আলো পৌঁছোতে পারে না বলে মাছের খাদ্য প্ল্যাঙ্কটনও জন্মাতে পারে না। ফলে এই অংশে মাছের খাদ্যের অভাব থাকায় মাছের সমাবেশ ঘটে না। তাই এখানে মৎস্যচারণক্ষেত্র গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

গভীর সমুদ্রের সমভূমি

মহীঢাল যেখানে গভীর সমুদ্রের তলদেশে এসে মিশেছে সেখান থেকে মহাসাগরের অতল গহ্বর পর্যন্ত বিস্তৃত মহাসাগরের অংশ গভীর সমুদ্রের সমভূমি নামে পরিচিত। এই সমভূমির বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

1 বিস্তৃতি : গভীর সমুদ্রের সমভূমি মহীঢালের প্রান্তভাগ থেকে অতল গহ্বর পর্যন্ত সমুদ্র তলদেশের প্রায় 75.9 শতাংশ স্থান অধিকার করে আছে। এই সমভূমি কেবলমাত্র গভীর সমুদ্রের সমতল বক্ষকে বোঝায় না। এ অংশে আছে জলমগ্ন মালভূমি, পাহাড়, শৈলশিরা, সমুদ্রখাত প্রভৃতি। তবে এই অংশে সমতল বক্ষের অংশ মাত্র 41.8 শতাংশ।

2 গভীরতা : গভীর সমুদ্রের সমভূমির গভীরতা 3,000 মিটার থেকে 6,000 মিটার পর্যন্ত হয়।

3. ভূপ্রকৃতি: এই অঞ্চল সমভূমি নামে পরিচিত হলেও এই অংশে জলমগ্ন পাহাড়, গায়ট, শৈলশিরা ও সমুদ্রখাত বিস্তৃত।

4 ভূতাত্ত্বিক গঠন: সমুদ্রগর্ভ ব্যাসল্ট ও ব্যাসল্ট জাতীয় শিলায় গঠিত। এই অংশে সিয়াল (Sial) জাতীয় শিলার গভীরতা ও অস্তিত্ব খুবই কম।

5 সামুদ্রিক অবক্ষেপ: এই অংশ সামুদ্রিক প্রাণী, উদ্ভিদ, সিলিকা জাতীয় অবশেষ এবং আগ্নেয়গিরিজাত পদার্থে পূর্ণ এই অংশে স্থলবিধৌত কোনো পদার্থের সঞ্চয় ঘটে না।

গভীর সমুদ্রখাত

মহাসাগরবক্ষে গভীর সমুদ্রের সমভূমি অপেক্ষা আরও গভীর এবং অত্যন্ত অপ্রশস্ত পরিখার মতো অবনমিত অংশগুলিকে গভীর সমুদ্রখাত বলে । এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

1. বিস্তৃতি: গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলে গভীর সমুদ্রখাত বিস্তৃত। অধিকাংশ সমুদ্রখাত পাত সীমান্তে অবস্থিত। এগুলি নবীন ভঙ্গিল পর্বত বা দ্বীপপুঞ্জের সমান্তরালে বিস্তৃত হয়। গভীর সমুদ্রখাত সমুদ্রতলের প্রায় 1.8% স্থান অধিকার করে আছে।

2. দৈর্ঘ্য ও গভীরতা: সমুদ্রখাতের দৈর্ঘ্য ও গভীরতা প্রস্থের চেয়ে 1,000 গুণ বা তার অনেক বেশি হয়। সাধারণত এদের প্রস্থ 100 মিটার এবং গভীরতা 10,000 মিটারেরও বেশি হয়। প্রশান্ত মহাসাগরে মারিয়ানা খাতের চ্যালেঞ্জার ডেপ্‌থ প্রায় 11,033 মিটার গভীর।
3. ভূমির প্রকৃতি : গভীর সমুদ্রখাতগুলি দীর্ঘকায়। এর গভীরতা ও রৈখিক বিস্তার প্রস্থের তুলনায় অনেক বেশি। খাতগুলি অত্যন্ত খাড়া ঢালবিশিষ্ট হয়। কোনো কোনো স্থানে এর ঢাল উল্লম্বভাবে খাতের নীচের দিকে নেমে গেছে।

অন্তঃসাগরীয় বা সামুদ্রিক পাহাড়

সংজ্ঞা: গভীর সামুদ্রিক সমভূমির স্থানে স্থানে ফাটল বরাবর অগ্ন্যুৎপাতের ফলে হাজার হাজার অনুচ্চ টিলার ন্যায় ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। এগুলিকে সামুদ্রিক পাহাড় ( Abyssal Hills) বলে [ 4.1.4]।

বৈশিষ্ট্য

1• এগুলি গম্বুজাকৃতি হয়।

2.অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আগ্নেয় পদার্থ দ্বারা গঠিত হওয়ায় এগুলিকে আগ্নেয় পর্বতও বলে।

3.এদের উচ্চতা 50-100 মিটার পর্যন্ত হয়।

4 • এগুলি মহাসাগরতলের 30 শতাংশ স্থান জুড়ে আছে।

শ্রেণিবিভাগ

1.সমুদ্রের তলদেশে প্রায় 1,000 মিটার বা তার বেশি। উচ্চতাবিশিষ্ট শকু আকৃতির পর্বতগুলিকে সমুদ্রগিরি বা Sea Mounts বলা হয়। এগুলি প্রধানত সমুদ্রের জলে নিমজ্জিত থাকে।

2. ক্রমশ এই পাহাড়গুলির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে, তা জলপৃষ্ঠের ওপর অবস্থান করে তখন এগুলিকে আগ্নেয় পর্বত বলে। উদাহরণ—হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের আগ্নেয় পর্বত। আবার
3.এই পাহাড়গুলির মধ্যে যেগুলির উচ্চতা কম, তাদের সমুদ্র নোল (Sea Knolls) বলে।

4. সামুদ্রিক পাহাড়গুলির পার্শ্বদেশ যখন খাড়া কিন্তু উপরিভাগ সমতল হয় তখন সেগুলিকে গাৰ্ট (Guyots) বলে। গায়টগুলির ঢাল অত্যন্ত খাড়া প্রকৃতির (12*35*) হয় এবং এগুলি সমুদ্রে নিমজ্জিত থাকে। আবার
5 ক্রান্তীয় অঞ্চলে অনেক সময় গায়টগুলির ওপর প্রবালকীটের বংশবৃদ্ধি ঘটে ও নিমজ্জিত প্রবালদ্বীপ সৃষ্টি হয়। এগুলিকে অ্যাটল ( Atolls) বলে। এগুলি সবই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট।
সমুদ্রখাত সৃষ্টির কারণ
গভীর সমুদ্রের সমভূমিতে সৃষ্ট দীর্ঘাকার, গভীর এবং অত্যন্ত অপ্রশস্ত পরিখার মতো অবনমিত ভূভাগ সমুদ্রখাত নামে পরিচিত। এই খাত সৃষ্টি হয় নানাভাবে, যেমন
1. পাত সঞ্চালনের সময় অভিসারী পাত সীমানায় হালকা মহাদেশীয় পাতের নীচে ভারী সামুদ্রিক পাত প্রবেশ করতে থাকলে ওই সীমানা বরাবর সমুদ্রবক্ষ নীচের দিকে বেঁকে বসে গিয়ে সমুদ্রখাত সৃষ্টি করে।
2.ম্যাগমা ওপরে উঠে আসলে সমস্থিতিক ভারসাম্য লাভের জন্য সামুদ্রিক ভূত্বক বসে গিয়ে সমুদ্রখাত সৃষ্টি করে।

চারটি উল্লেখযোগ্য সামুদ্রিক খাতের বিবরণ
1.মারিয়ানা খাত :এটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গুয়াম দ্বীপের পূর্বে অর্ধচন্দ্রাকারে বিস্তৃত। এর সর্বাধিক গভীরতা 11,033 মিটার, দৈর্ঘ্য 2,550 কিলোমিটার ও গড় বেধ 70 কিলোমিটার। এই খাতের গভীরতম অংশের নাম চ্যালেঙ্কার ডেপথ।
2 . টৌঙ্গা খাত: প্রশান্ত মহাসাগরে সামোয়া দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত। এর গভীরতম অংশের নাম হরাইজন ডেপথ(গভীরতা 10,882 মিটার)।

3.পুয়ের্তোরিকো ব্লেক খাত:এটি আটলান্টিক মহাসাগরে পুয়ের্তোরিকো দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত। এর সর্বাধিক গভীরতা 8,648 মিটার এবং এটি এই মহাসাগরের গভীরতম খাত।
4 .সুন্দা খাত: এটি ভারত মহাসাগরের প্রধান খাত। সুমাত্রা ও জাভার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের সমান্তরালে সুন্দা খাত বিস্তৃত। এর সর্বাধিক গভীরতা 7,725 মিটার।

সামুদ্রিক শৈলশিরার বৈশিষ্ট্য

গভীর সমুদ্রের সমভূমির মাঝবরাবর নিরবচ্ছিন্নভাবে থাকা পাহাড়, আগ্নেয়গিরি, শৈলশিরা ইত্যাদিকে সামুদ্রিক শৈলশিরা বলে  এদের বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

[1] বিস্তৃতি: সামুদ্রিক শৈলশিরাগুলি প্রায় প্রতিটি সমুদ্রের মাঝবরাবর রৈখিক ও নিরবচ্ছিন্নভাবে বিস্তৃত। শৈলশিরাগুলি ভূপৃষ্ঠের প্রায় 23.1 শতাংশ স্থান অধিকার করে থাকলেও পৃথিবীর মোট সমুদ্র তলদেশের প্রায় 32.7 শতাংশ অধিকার করে আছে। সমগ্র পৃথিবীব্যাপী সামুদ্রিক শৈলশিরার দৈর্ঘ্য প্রায় 80,000 কিলোমিটার। সমগ্র পৃথিবীতে এর বিস্তৃতি ছেদহীন।

[2] বেধ ও উচ্চতা: শৈলশিরাগুলি মোটামুটিভাবে 1,500 মিটারের বেশি প্রশস্ত এবং সমুদ্রের তলদেশ থেকে এর উচ্চতা 2 থেকে 3 কিলোমিটার।

3 প্রস্ত উপত্যকার উপস্থিতি: শৈলশিরার অক্ষ বরাবর প্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়েছে।

4 গঠন : প্রতিসারী পাত সীমানা বরাবর লাভা নির্গত হয়ে দীর্ঘাকার শৈলশিরা সৃষ্টি হয়। সামুদ্রিক শৈলশিরাগুলি ট্রান্সফর্ম চ্যুতি দ্বারা বিচ্যুত।
সামুদ্রিক গিরিখাত বা ক্যানিয়ন
সংজ্ঞা :মহীঢালের প্রান্তীয় সমুদ্রতলদেশে নদী উপত্যকার মতো খাড়া 'V' বা '1 ' আকৃতির বহু শাখা-প্রশাখা যে খাত পরিলক্ষিত হয়, তাকে অন্তঃসাগরীয় বা সামুদ্রিক গিরিখাত বা ক্যানিয়ন বলে।

বৈশিষ্ট্য

1 অন্তঃসাগরীয় গিরিখাতগুলি প্রধানত মহীসোপান, মহীঢাল এবং মহা উত্থান অঞ্চলে গড়ে উঠেছে।

2. এগুলি বয়সে নবীন। 3.এগুলি প্রধানত প্রশস্ত 'V' আকৃতির এবং এর ঢাল - পর্যন্ত হয়ে থাকে। 4.এগুলি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র 2 কিমি) গভীরতায় অবস্থিত।

উৎপত্তির কারণ

1. ভূবিজ্ঞানী Bucher এর মতে সমুদ্রে সৃষ্ট দ্রুতগামী ভরাস্রোত অর্থাৎ সুনামির ক্ষয়কার্যের ফলে অন্তঃসাগরীয় গিরিখাতগুলি সৃষ্টি হয়।

2.সমুদ্রতলদেশে চ্যুতির ফলে চ্যুতিতল বরাবর মাঝের ভূখণ্ড অবনমিত হয়ে যে গ্রস্ত উপত্যকার সৃষ্টি হয়, তাও অন্তঃসাগরীয় গিরিখাতের সৃষ্টি করে।

3. অনেকক্ষেত্রে সমুদ্রতলদেশে ভূমি অধিক বক্রতাপ্রাপ্ত হয়ে খাড়া অধোভঙ্গের সৃষ্টি করে এবং তার ফলেও অন্তঃসাগরীয় গিরিখাতের উৎপত্তি হয়।

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ভূপ্রকৃতি

আটলান্টিক মহাসাগর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর। এই মহাসাগরকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দু-ভাগে ভাগ করা যায়। নিরক্ষরেখার উত্তরের অংশটি হল উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর যার পশ্চিমে রয়েছে উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশ এবং পূর্বে রয়েছে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ। এই মহাসাগরের তলদেশের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলি নীচে আলোচনা করা হল—

[1]মহীসোপান:উত্তর আটলান্টিকের পশ্চিম উপকূলে মহীসোপানের বিস্তার 200 থেকে 400 কিলোমিটার। কিন্তু পূর্ব উপকূলে এর বিস্তার কম। মহীসোপানের গড় গভীরতা 180 মিটার। নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে ডগার্স ব্যাংক ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের পূর্বে উত্তর সাগরে অবস্থিত গ্র্যান্ড ব্যাংক পৃথিবীর প্রশস্ততম মহীসোপান।

[2] বেসিন অবগত অঞ্চল: মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা এই মহাসাগরের অবনত অঞ্চলকে পূর্ব ও পশ্চিমে দুটি বড়ো বেসিনে ভাগ করেছে। বেসিনগুলির ভূপ্রকৃতি সমতল ও এদের গড় গভীরতা 6,000 মি.। পশ্চিমভাগের প্রধান বেসিন হল ল্যাব্রাডর বেসিন ও উত্তর-পশ্চিম আটলান্টিক বেসিন। পূর্বের প্রধান বেসিন হল উত্তর-পূর্ব আটলান্টিক বেসিন ও ক্যানারি বেসিন।
[3] সামুদ্রিক খাত :এই মহাসাগরে সমুদ্রখাত বিশেষ নেই। | পশ্চিম অংশে পুয়ের্তোরিকো দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত পুয়ের্তোরিকো খাত আটলান্টিকের গভী দক্ষিণ कম্যান বাটলেট খা

[4] শৈলশিরা ও উচ্চভূমি: ইংরেজি 'S' অক্ষরের ন্যায় বিস্তৃত মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরাটি উত্তরে আইসল্যান্ড থেকে নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে দক্ষিণে বুকেট ী পর্যন্ত বিস্তৃত। নিরক্ষরেখার নিকট রোমানশ খাত দ্বারা এই নিমজ্জিত শৈলশিরাটি দুটি অংশে বিভক্ত। উত্তর অংশটি উত্তর আটলান্টিকে চলফিন উচ্চভূমি নামে পরিচিত। এই শৈলশিরা উত্তর দিকে ধীরে ধীরে প্রশস্ত হয়ে ল্যাব্রাডর ও আয়ারল্যান্ডের কাছে টেলিগ্রাফ মালভূমিতে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া, গ্রিনল্যান্ডের নিকট গ্রিনল্যান্ড শৈলশিরা অবস্থিত।

[5]দ্বীপসমূহ: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মহাদেশীয় দ্বীপগুলি হল—ব্রিটিশ দ্বীপপুর্ব্ব, নিউফাউন্ডল্যান্ড ও ক্যানারি, আগ্নেয় দ্বীপ হল—আইসল্যান্ড ও পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং প্রবাল দ্বীপ হল—বারমুডা।
গভীর সমুদ্রের পলল ব্যজনী:
বড়ো বড়ো নদী মোহানার সম্মুখের ঢালে অন্তঃসাগরীয় ক্যানিয়ন অবস্থান করলে, এর ঠিক নীচে স্থলভাগের পলল ব্যজনীর মতো ভূমিরূপ গড়ে ওঠে। এদের গভীর সমুদ্রের পলল ব্যজনী বলে। এগুলি সাধারণত সূক্ষ্ম কর্দম কণায় গঠিত হয়।

মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা

মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তরে আইসল্যান্ড থেকে দক্ষিণে নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ আটলান্টিকের বুকেট দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত। আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরার বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

1.আকৃতি ও বিচার: মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরাটি উপকূলের সমান্তরালে উত্তরে আইসল্যান্ড থেকে দক্ষিণে বুভেট আইল্যান্ড পর্যন্ত ইংরেজি 'S' অক্ষরের ন্যায় বিস্তৃত হয়েছে। এটি একটি মগ্ন শৈলশিরা ।

2 দৈর্ঘ্য ও উচ্চতা: জলমগ্ন শৈলশিরাটি প্রায় 14,450 কিমি দীর্ঘ। সমুদ্রের তলদেশ থেকে এর উচ্চতা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকমের। উচ্চতা সাধারণত 2,000-3,000 মিটার হয়ে থাকে।
3 গঠন: আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝবরাবর প্রতিসারী পাত সীমানায় ভূগর্ভস্থ লাভা নির্গত হয়ে সমুদ্রতলে জমাটবদ্ধ হয়ে মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা গঠিত হয়েছে।

4 উচ্চভূমি ও মালভূমির উপস্থিতি: নিরক্ষরেখা বরাবর বিস্তৃত। রোমান্শ খাত আটলান্টিক শৈলশিরাটিকে দুটি ভাগে ভাগ গ্রের তলদেশের ভূপ্রকৃতি করেছে। এর উত্তর অংশটি ডলফিন উচ্চভূমি এবং দক্ষিণ অংশটি চ্যালেঙ্গার উচ্চভূমি নামে পরিচিত। ডলফিন ভূমির উত্তঅংশ প্রসারিত হয়ে টেলিগ্রাফ মালভূমিতে পরিণত হয়েছে।
5.আগ্নের দ্বীপের অবস্থান: মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরাটি স্থানে স্থানে সমুদ্রপৃষ্ঠের ঊর্ধ্বে আগ্নেয় দ্বীপরূপে অবস্থান করছে। 6 চ্যুতি, ফাটল, সায় উপত্যকা ইত্যাদির অবস্থান: 6. চ্যুতি, ফাটল, সংস্র উপত্যকা, স্তূপ পর্বত ইত্যাদি ভূমিরূপ এই শৈলশিরায় দেখা যায়।

7. ভূমিকম্প প্রবণতা: মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরাটি গঠনকারী পাত সীমানা বরাবর বিস্তৃত হয়েছে। তাই অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ।
৪. আগ্নেয়গিরির অবস্থান: এই শৈলশিরা বরাবর মাঝে মাঝে আগ্নেয়গিরির অবস্থান লক্ষ করা যায়। আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জ গঠন ও প্রকৃতি অনুযায়ী আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপসমূহকে মহাদেশীয়, আগ্নেয় ও প্রবাল দ্বীপ—এই তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।

1 মহাদেশীয় দ্বীপ : মহাদেশীয় দ্বীপগুলির মধ্যে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ, নিউফাউন্ডল্যান্ড, ক্যানারি, কেপ ভার্দে ও বেফিন উল্লেখযোগ্য।
2 আগ্নের দ্বীপ: আগ্নেয় দ্বীপগুলির মধ্যে আইসল্যান্ড, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ, সেন্ট হেলেনা ও ফকল্যান্ড প্রধান
3 প্রবাল দ্বীপ: প্রবাল দ্বীপগুলির মধ্যে বারমুডা উল্লেখযোগ্য।

ভারত মহাসাগরের শৈলশিরা

ভারত মহাসাগরের দীর্ঘতম শৈলশিরাটি ভারত মহাসাগরের মাঝবরাবর উত্তরে লাক্ষাদ্বীপ থেকে দক্ষিণে কুমেরু মহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই শৈলশিরাটির উচ্চতা 2,000 মিটারের কম। দৈর্ঘ্য বরাবর এর সংকীর্ণ অংশও 300 মিটারের বেশি প্রশস্ত। এই শৈলশিরার উত্তর অংশ লাক্ষাদ্বীপ-ভাগোস শৈলশিরা, মাঝখানের অংশ মধ্য-ভারত মহাসাগরীয় শৈলশিরা এবং এর দক্ষিণ অংশ। কারগুয়েলেন গাউসবার্গ শৈলশিরা নামে অভিহিত করা হয়। এর দক্ষিণ অংশ ক্রমশ প্রশস্ত হয়ে আমস্টারডাম- সেন্টপল উচ্চভূমিতে পরিণত হয়েছে। উত্তরে এডেন উপসাগরের পূর্বে সোকোত্র দ্বীপ থেকে সোকোত্র-চাগোস শৈলশিরা এবং দক্ষিণ প্রিন্স এডওয়ার্ড দ্বীপ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় শৈলশিরা মধ্য-ভারত মহাসাগরীয় শৈলশিরার সঙ্গে মিশেছে।

এ ছাড়াও মাদাগাস্কার দ্বীপের উত্তরে সেচেলস্-মরিশাস শৈলশিরা, দক্ষিণে মাদাগাস্কার শৈলশিরা, দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বে কেপ উচ্চভূমি, ক্রুজেট দ্বীপের পশ্চিমে প্রিন্স এডওয়ার্ড-ক্রুজেট শৈলশিরা, কুমেরুর উত্তর-পূর্বে ভারত মহাসাগর-কুমেরু শৈলশিরা, 90° পূর্ব শৈলশিরা, পূর্ব অস্ট্রেলীয় শৈলশিরা প্রভৃতি হল ভারত মহাসাগরের উল্লেখযোগ্য শৈলশিরা।

ভারত মহাসাগরের প্রান্তদেশীয় সাগরসমূহ

ভারত মহাসাগরের উপকূলভাগ বিশেষ ভগ্ন না হওয়ায়, এই মহাসাগরের সাগর ও উপসাগরের সংখ্যা খুবই কম। এই মহাসাগরের উল্লেখযোগ্য সাগর ও উপসাগরগুলি হল— লোহিত সাগর, আরব সাগর, এডেন সাগর, পারস্য উপসাগর, বঙ্গোপসাগর, ওমান উপসাগর, কচ্ছ সাগর, খাম্বাত ও মান্নার উপসাগর, মালাক্কা প্রণালী ও পক্ প্রণালী প্রভৃতি।

ভারত মহাসাগরের দ্বীপসমূহ

এই মহাসাগরে প্রধানত মহাদেশীয়, আগ্নেয় ও প্রবাল দ্বীপ লক্ষ করা যায়।

1.মহাদেশীয় দ্বীপ : উল্লেখযোগ্য মহাদেশীয় দ্বীপগুলি হল— শ্রীলঙ্কা, মাদাগাস্কার, জাঞ্জিবার, সোকোত্রো, কোমোরো প্রধান। আরাকান-ইয়োমা ভঙ্গিল পর্বতের নিমজ্জিত অংশ দিয়ে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ গঠিত।

2. আগ্নের দ্বীপ : আগ্নেয় দ্বীপের মধ্যে ব্যারেন, নারকোনডাম, মরিশাস, রিইউনিয়ন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। |
3 . প্রবাল দ্বীপ: লাক্ষাদ্বীপ ও মালদ্বীপ প্রবাল দ্বীপের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

গঠন-প্রকৃতি অনুসারে আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপসমূহকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা— (i) মহাদেশীয় দ্বীপ, (ii) আগ্নেয় দ্বীপ, (iii) প্রবাল দ্বীপ।

মাদাগাস্কার দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে মরিশাস বেসিন অবস্থিত।

মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরার উত্তর অংশ ডলফিন উচ্চভূমি নামে পরিচিত।

মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরার দক্ষিণ অংশ চ্যালেঞ্জার উচ্চভূমি নামে পরিচিত।

মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরার আকৃতি ইংরেজি 'S' অক্ষরের

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূত্বকীয় পাতের প্রান্তভাগ অধঃপাত মণ্ডলের অন্তর্গত বলে আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প কর তৈরি হয়েছে।

 

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে প্রতিসারী পাত সামানার অস্তিত্ব লক্ষ করা যায় না বলে মধ্য সামুদ্রিক শৈলশিরার অবস্থান দেখা যায় না।

ভারত মহাসাগরের আকৃতি কিছুটা ত্রিভুজের মতো।

ভারত মহাসাগরের দীর্ঘতম শৈলশিরাটি ভারত মহাসাগরের মাঝবরাবর উত্তরে লাক্ষাদ্বীপ থেকে দক্ষিণে কুমেরু মহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

ভারত মহাসাগরের গভীর সমুদ্রের সমভূমি যে তিনটি চ্যুতিরেখা দ্বারা বিভক্ত তাদের মধ্যে প্রথমটি যা আরবের দক্ষিণে অবস্থিত, তাকে ওয়ের্ন চাতিরেখা বলে।

ভারত মহাসাগরের অন্তর্গত দুটি উপসাগর হল— মার্তাবান উপসাগর ও পারস্য উপসাগর।

এই অঞ্চলে মহাদেশীয় হিমবাহের অধঃগমনের ফলে ভূতক ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে হৈমবাহিক মহীসোপান সৃষ্টি হয়।

কঠিন ও তরল অবস্থায় জল যে যে অঞ্চলে বিস্তৃত সেগুলিকে সম্মিলিতভাবে বারিমণ্ডল বলে।

সমুদ্রজলের গভীরতা (d) = =XV [যেখানে, t = শব্দ প্রেরণ ও তার প্রতিধ্বনি গ্রহণের অন্তর্বর্তী সময় এবং V = প্রতি সেকেন্ডে শব্দের গতিবেগ।]

অভিসারী পাত সীমান্তে মহাসামুদ্রিক খাতগুলি গড়ে ওঠে ।