Chapter-4.2⇒সামুদ্রিক সঞ্চয়

উৎপত্তি অনুসারে সামুদ্রিক অবক্ষেপকে প্রধান ছয়টি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা— (i) স্থলজ পদার্থসমূহের অবক্ষেপ, (i) অগ্ন্যুৎপাতজাত পদার্থসমূহের অবক্ষেপ, (iii) জৈব পদার্থসমূহের অবক্ষেপ, (iv) অজৈব পদার্থসমূহের অবক্ষেপ, (v) রাসায়নিক বিক্রিয়ায় রূপান্তরিত পদার্থের সঞ্চয়, (vi) অপার্থিব পদার্থসমূহের অবক্ষেপ।

স্থলভাগ থেকে পরিবাহিত অজৈব উপাদান অগভীর সমুদ্রে সঞিত হলে, তাকে টেরিজেনাস সঞ্চয় বলে।

অগভীর সমুদ্রে জৈব উপাদানের সঞ্চয় হল নেরিটিক সঞ্চয়।

নেরিটিক সঞ্চয় দুই প্রকার, যথা— (i) তটদেশীয় সঞ্চয় ও (i) অগভীর সমুদ্রে সঞ্চয়।

নুড়ি, কাঁকর, বালি, কর্দম প্রভৃতি অজৈব পদার্থ, শামুক ও ঝিনুকজাতীয় প্রাণী এবং বিভিন্ন উদ্ভিদের দেহাবশেষ নেরিটিক সঞ্চয়ের অন্তর্গত।

গভীর র সমুদ্রের সমভূমি ও সমুদ্রখাতে শ্যাওলা, টেরোপড়, গ্লোবিজেরিনা, ডায়াটম, প্রবাল মিশ্রিত কর্দমের সঞ্চয়কে • পিলেজিক বা গভীর সমুদ্রের সঞ্চয় বলে।

পিলেজিক সত্যয় দুই প্রকার, যথা— (1) হেমিপিলেজিক ও (ii) ইউপিলেজিক সঞ্চয়।

মহীঢাল অঞ্চলের নীল, লাল ও সবুজ কর্দম কণার সয়ে এবং গভীর সমভূমি ও খাত অঞ্চলে চুন ও সিলিকাজাতীয় সিন্ধুকদের সঞ্চয় পিলেজিক সঞ্চয়ের অন্তর্গত।

গভীর সমুদ্রে ভাসমান প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহাবশেষ থেকে উৎপন্ন তরল ও পিচ্ছিল কাদার মতো পদার্থকে সিন্ধুকদ বা উজ বলে।

 

সমুদ্রগর্ভের আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পদার্থগুলি সমুদ্রের তলদেশে সঞ্চিত হলে, তাকে অন্তঃসাগরীয় অবক্ষেপ বলে।

স্থলভাগের আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের সময় বেরিয়ে আসা হালকা ও সূক্ষ্ম বস্তুসমূহ বাতাসের দ্বারা বাহিত হয়ে সমুদ্রের জলে অধঃক্ষিপ্ত হয় এবং সমুদ্রের তলদেশে সঞ্চিত হয়, একে উপ-বায়বীয় অবক্ষেপ বলে।

যেসকল পদার্থ সমুদ্রের জলে দ্রবীভূত না হয়ে তলদেশে থিতিয়ে সঞ্চিত হয়, তাদের অজৈব অবক্ষেপ বলে।

মহাকাশ থেকে আগত অপার্থিব পদার্থ, যেমন—উল্কা, ধূমকেতুর কণা প্রভৃতি সমুদ্রে পড়ে সমুদ্রের তলদেশে যখন অবক্ষেপ হিসেবে সঞ্চিত হয়, তখন তাকে অপার্থিব অবক্ষেপ বলে।

লোহিত কর্ণমের মূল উপাদান হল লৌহ অক্সাইড ও অ্যালুমিনিয়ামের সিলিকেটের সোদক।

মহীসোপান ও মহীঢালের সংযোগস্থল (200 মিটার পত্নীরতা) থেকে সমুদ্রের সমভূমি ও সমুদ্রখাত পর্যন্ত সমস্ত রকমের সঞ্চয়কে গভীর সমুদ্রের সঞ্চয় বলে।

মাহীচালের পলিতে আয়রন সালফাইড ও জৈব পদার্থ বেশি মাত্রায় সজ্জিত হলে নীল কর্দমের সৃষ্টি হয়।

গভীর সমুদ্রের দুটি জৈব সঞ্চয়ের নাম হল – সিন্ধুকর্ম ও লাল কদম।

ইসলে লিমপেট শক্তিকেন্দ্রটি ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যে অবস্থিত। 1

মুদ্রে বাণিজ্যিকভাবে ঝিনুক চাষ করে সেখান থেকে মুক্তা সংগ্রহ করাকে পার্ল কালচার বলে।

সামুদ্রিক আগাছা হল সামুদ্রিক উদ্ভিদ।

মহীসোপান অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত নিজ ইভাপোৱাইট, বালি, নুড়িপাথর প্রভৃতি।

সিনেটেরাটা গোষ্ঠীর এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র সামুদ্রিক কীটের নাম হল প্রবাল।

পূর্ব এশিয়ার চিন ও জাপান উপকূলে সামুদ্রিক আগাছা। উৎপাদিত হয়।

গভীর সমুদ্র থেকে লোহা, ম্যালানিজ, ভাষা, কোবাল্ট নিকেল সমৃদ্ধ মুক্তি পাওয়া যায়।

সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত ফসফোরাইড প্রধানত লৌহ-ইস্পাত শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত হয়।

সমুদ্রের বিভিন্ন অংশে অর্থাৎ মহীসোপান, মহীঢাল, গভীর সমুদ্রের সমভূমিতে বিপুল পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল এবং বিভিন্ন ধাতব পদার্থ ছাড়াও বহু মণিমুগ্ধ ও প্রবালের ভাণ্ডার সঞ্চিত থাকায় সমুদ্রকে রত্নাকর বলা হয়।

সমুদ্রের তলদেশ থেকে যেসব বহু ধাতবীয় নুড়ি উত্তোলিত হয়, তাদের ফেরোম্যাঙ্গানিজ নোডিউলস বলে।

প্রশান্ত মহাসাগরে ফেরোম্যাপানিজ নোডিউলস সর্বাধিক সজ্জিত রয়েছে।

পৃথিবীর অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমুদ্রপথের মাধ্যমে হয়।

সমুদ্রপথে কম খরচে ভারী ও বৃহদায়তন পণ্যদ্রব্য পরিবহণ করা যায় বলে পৃথিবীর অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমুদ্রপথে হয়ে থাকে।

সমুদ্র তলদেশে বালি এবং কাদায় যে সমস্ত উদ্ভি সামুদ্রিক প্রাণী বৃদ্ধি লাভ করে তাদের দেহাবশেষ সি হয়ে যে অবক্ষেপ সৃষ্টি হয়, তাকে বেনথস বলে। এটি হল একধরনের পিলেজিক অবক্ষেপ।

সমুদ্রে বিচরণকারী বৃহৎ মেরুদণ্ডী প্রাণী ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহাবশেষ সঞ্চিত হয়ে যে অবক্ষেপ সৃষ্টি হয়, তাকে নেকটন বলে। এই নেকটন হল একধরনের পিলেজির অবক্ষেপ।

গভীর সমুদ্রের সঞ্চয়:

মহীসোপান মহীঢালের সংযোগস্থল (200 মিটার গভীরতা) সমুদ্রের সমভূমি সমুদ্রখাত পর্যন্ত রকমের সঞ্চয়কে গভীর সময় বলে। সঞ্চিত দ্রব্যের প্রকৃতি অনুযায়ী গভীর সঞ্চয়কে সমুদ্রের সমভূমি ও সমুদ্রখাতের সঞ্চয়ঃএই দু-ভাগে ভাগ যায়।

মহীচালের সঞ্চয়: মহীঢালে স্থলভাগের কর্দমকণা এবং সমুদ্রের জৈব ও অজৈব পদার্থ একত্রে সঞ্চিত এরূপ সঞ্চয়কে হেমিপিলেজিক সয়ে বলে। রঙের পার্থক্য অনুযায়ী সমুদ্রবিজ্ঞানী মারে মহীঢালে সঞ্চিত অতিসুক্ষ্ম কমকণাগুলিকে কর্দম, লাল কর্দম সবুজ কর্দমে করেছেন। পলিতে আয়রন সালফাইড জৈব পদার্থ বেশি মাত্রায় সজ্জিত হলে। কর্দম হয়। পলিতে অক্সাইডের পরিমাণ বেশি লাল কর্ণম সৃষ্টি হয়। কর্দম সমুদ্রের দ্রবীভূত রাসায়নিক পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটিয়ে কর্দম করে।

গভীর সমুদ্রের সমভূমি সমুদ্রতের সঞ্চয়: গভীর সমুদ্রের সমভূমি ও সমুদ্রখাতে জৈব অজৈব পদার্থের সঞ্চয় ঘটে, তাকে ইউপিলেজিক সঞ্জয় বলে। উপাদানের অনুযায়ী গভীর সমুদ্রের সঞ্চয়কে কদম সিন্ধুকৰ্দ উজ—এই দু-ভাগে ভাগ করা হয়।

গভীরতায় লোহিত

লৌহ অক্সাইড ও অ্যালুমিনিয়ামের সিলিকেট সোদক। এ ছাড়াও এতে আছে ক্যালশিয়াম ও সিলিকাজাতীয় পদার্থ।

সিন্ধুকদ: গভীর সমুদ্রে ভাসমান উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে উৎপন্ন তরল ও পিচ্ছিল কাদার মতো পদার্থকে সিন্ধুক বা সিন্ধুমল বা উজ বলে। এই অবক্ষেপে চুন ও সিলিকাজাতীয় পদার্থের প্রাধান্য থাকে। এই দুই বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সিন্দুকে জাতীয় দিক সিলিকাজাতীয় সিন্ধুকর্ম এই দু-ভাগে ভাগ করা হয়।

1. চুনজাতীয় সিন্ধুকর্ম: সমুদ্রের তলদেশে 2,000 4,000 মিটার গভীরতা পর্যন্ত অঞ্চলে এই জাতীয় সিন্ধুকদ দেখা যায়। টেরোপডজাতীয় মোচাকৃতি ভাসমান শামুকের খোলক থেকে যে চুনজাতীয় সিন্ধুকর্ম সৃষ্টি হয়, তাকে টেরোপড সিন্ধুকর্ম বলে। এতে প্রায় ৪০ শতাংশ ক্যালশিয়াম কার্বনেট থাকে। টেরোপডের খোলকগুলি খুব পাতলা ও জলে সহজদ্রাব্য। ফোরামিনিফেরা জীবের খোলকের সঙ্গে গ্লোবিজেরিনা নামক জীবের দেহাবশেষ মিশ্রিত হয়ে যে চুনজাতীয় সিন্ধুকর্ম সৃষ্টি হয়, তাকে গ্লোবিজেরিনা সিন্ধুকর্দ বলে। ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোয় অঞ্চলের সমুদ্রের 4,000 মিটার গভীরতা থেকে 8,000 মিটার গভীরতায় এই জাতীয় কর্ম সৃষ্টি হয়।

সিলিকাজাতীয় সিন্ধুকর্ম এইজাতীয় সিন্ধুকর্মে সিলিকার প্রাধান্য বেশি। রেডিওল্যারিয়ান প্রাণীর দেহে খুব বেশি মাত্রায় সিলিকা থাকলেও ক্যালশিয়ামের পরিমাণ কম। তাই এদের দেহাবশেষ সমুদ্রজলে দ্রবীভূত হয় না। এগুলি ভাসতে ভাসতে গভীর সমুদ্রে পৌঁছে সমুদ্রের তলদেশে সঞ্চিত হয়। ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে 4,000 10,000 মিটার গভীরতার মধ্যে রেডিও ল্যারিয়ান সিম্পকর্ম দেখা যায়। শীতল ও গভীর সমুদ্রে ডায়াটম নামে একপ্রকার ডায়টিম উপকূলের দিকে এর কিন্তু সমুদ্রের দিকে এর রং ঘিয়ে হয়। সুমেরু কুমেরু মহাসাগরে এই জাতীয় সিন্ধুক বেশি মাত্রায় দেখা যায়।

অতি সূক্ষ্ম উদ্ভিদ জন্মায়। এদের দেহাবশেষ থেকে সিলিকাজাতীয় সিন্ধুকর্ম সৃষ্টি হয়। এই জাতীয় সিন্ধুকদকে ডায়াটম সিন্ধুকর্দ বলে। উপকূলের দিকে এর রং নীল, কিন্তু গভীর সমুদ্রের দিকে এর রং হলুদ বা ঘিয়ে রঙের হয়। সুমেরু ও কুমেরু মহাসাগরে এই জাতীয় সিন্ধুকদ খুব বেশি মাত্রায় দেখা যায় ৷

সমুদ্রকে ‘রত্নাকর' বলার কারণ

‘রত্নাকর’ শব্দের অর্থ হল ‘রত্নের আকার’ অর্থাৎ বিভিন্নপ্রকার রত্নের ভাণ্ডার। সমুদ্রের তলদেশে—মহীসোপান, মহীটাল, গভীর সমুদ্রের সমভূমিতে বিপুল পরিমাণে মূল্যবান খনিজ সম্পদ সঞ্চিত রয়েছে। তাই একে ‘রত্নাকর' বলে। এইরূপ বলার কারণগুলি হল—

1 খনিজ তেলের প্রাপ্তি: সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলাস্তর সঙ্কিত হওয়ার সময় ‘ফোরামিনিফেরা' নামক একপ্রকার অতি ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী শিলাস্তরে চাপা পড়ে। ওপরের শিলাস্তরের চাপে এবং ভূগর্ভের তাপে ক্রমশ তা তরল পদার্থে পরিণত হয়ে খনিজ তেলে রুপান্তরিত হয়। সমুদ্রের মহীসোপান অঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খনিজ তেল পাওয়া যায়।

2 মৎস্য সম্পদ: মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় উৎকৃষ্ট প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যের প্রধান উৎস হল মাছ—যা সমুদ্র থেকে পাওয়া যায়। -
3. শক্তি সম্পদ: সমুদ্র থেকে জোয়ারভাটার শক্তি, সমুদ্রের তাপীয় ও তর শাস্তি, লবণতার ঢাল শক্তি ইত্যাদির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
4.মণিজ সম্পদ: সমুদ্র উপকূল থেকে প্ল্যাটিনাম, হিরে, সোনা, লোহা, ইলমেনাইট, মোনাজাইটচ মহীসোপান অঞ্চল থেকে ফসফোটিক নডিউলস্ বা নুড়ি, ইভাপোরাইট, বালি, নুড়িপাথরচ গভীর সমুদ্র থেকে লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, কোবাল্ট, নিকেল সমৃদ্ধ নুড়ি প্রভৃতি পাওয়া যায়।
5.অন্যান্য উপাদান: পারমাণবিক উপাদান থোরিয়াম ও ইউরেনিয়াম এবং মুক্তা, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক প্রভৃতিও সমুদ্র থেকে পাওয়া যায়।

"সমুদ্র কর্মসংস্থানের উৎস' —উক্তিটির ব্যাখ্যা:
সমুদ্র শ্রমপ্রগাঢ় চরিত্রের কর্মসংস্থানের উৎস। সমুদ্রকেন্দ্রিক বা সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজে, তা ছোটো হোক বা বড়ো, সবক্ষেত্রেই প্রচুর লোক নিযুক্ত থাকেন। যেমন

1. মাছ ধরা, মাছ বাছাই, মাছ সংরক্ষণ, মাছ বিক্রি, মাছ টিনজাতকরণের জন্য।
2. মাছ ধরার ট্রলার, নৌকা, যন্ত্রাংশ, অন্যান্য উপকরণ ও জাল তৈরির সঙ্গে।
3. মৎস্যকেন্দ্রিক ও সমুদ্রে অন্যান্য উৎপাদন কেন্দ্রিক বিভিন্ন শিল্প, যেমন—লবণ তৈরি, বরফ কল, সার তৈরি ইত্যাদির সঙ্গে।
4.সমুদ্রে মুক্তা, প্রবাল, স্পা, শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি অচিরাচরিত কৃষিতে।
5. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পণ্য পরিবহণ ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে।
6• সমুদ্র অফুরন্ত খনিজ ও শক্তি সম্পদের উৎস যা উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রচুর লোকের দরকার হয় এবং বহু মানুষ যুক্ত থাকেন।

সামুদ্রিক অবক্ষেপের উৎসসমূহ

কোটি কোটি বছর ধরে আমাদের চোখের অলক্ষ্যে প্রাকৃতিক শক্তির ঘাত-প্রতিঘাতে স্থলভাগ প্রতিনিয়ত ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। তারপর এইসব ক্ষয়ীভূত পদার্থসমূহ বায়ুপ্রবাহ, নদীপ্রবাহ,জলপ্রবাহ, হিমবাহ, সমুদ্রতরা ইত্যাদির ধারবাহি শেষ পর্যন্ত সমুদ্রের তলদেশে নন্দিত হচ্ছে। এ ছাড়া সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহাবশেষ, সমুদ্রতলদেশে আরে উৎক্ষিপ্ত পদার্থসমূহ, উত্তাপিণ্ডের ধূলিকণা প্রভৃতি সমুদ্রের তলদেশে সম্ভিত হয়। সমুদ্রের তলদেশে এইসব সামুদ্রিক অবক্ষেপ বা সামুদ্রিক সয়ে বলে। সামুদ্রিক অবক্ষেপের বিভিন্ন উৎসগুলি হল

1.বিভিন্ন প্রাকৃতিক শঝি (নদী, হিমবাহ, বায়ুর কার্য ইত্যাদি) এর মাধ্যমে ভূত্বকের ফ্যাসাধন।
2. সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষের অবক্ষেপণ।
3.সমুদ্রে নিমজ্জিত আগ্নেয়গিরি থেকে উৎক্ষিপ্ত পদার্থসমূহের অবক্ষেপণ |
4.বায়ুমণ্ডলের সূক্ষ্ম ধূলিকণাসমূহের বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে। সমুদ্রজলে মিশে সৃষ্ট অবক্ষেপ।
5..বায়ুবাহিত অন্যান্য উপাদানসমূহের অবক্ষেপণ।
6. সমুদ্রে উল্কাপাতজনিত অবক্ষেপ প্রভৃতি।

প্রবাল কীট

ধারণা: সিলেনটেরাটা গোষ্ঠীর এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র সামুদ্রিক কীটের নাম প্রবাল। অসংখ্য প্রবাল একসাথে ঝাঁকে ঝাঁকে বাস করে। এদের দেহনিঃসৃত রস থেকে দেহের আবরণরূপে ক্যালশিয়াম কার্বনেটের একটি খোলা বা খোলক তৈরি হয়।

বৃদ্ধির অনুকূল অবস্থা: অপেক্ষাকৃত শান্ত সমুদ্র ও স্বচ্ছ জল, ও জলের উন্নতা 20° সেলসিয়াসের বেশি এবং ও জলের গভীরতা 40 থেকে 45 মিটারের কম — প্রবালের বাঁচার জন্য এই বিশেষ ধরনের অবস্থার প্রয়োজন হয় বলে সমুদ্রের কেবলমাত্র 30° উত্তর থেকে 30° দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যে সর্বাধিক পরিমাণে। প্রবালের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

প্রবালদ্বীপের উৎপত্তি: মৃত প্রবালের খোলকগুলি সমুদ্রপে জমে জমে প্রবালগঠিত ভূভাগ (প্রবালদ্বীপ, প্রবালপ্রাচীর, অ্যাটল প্রভৃতি) তৈরি হয়। এর মধ্যে যেগুলি মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে সমুদ্রের মধ্যে দ্বীপ আকারে গঠিত হয়, সেগুলিকে বলে প্রবালদ্বীপ। সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে প্রবালদ্বীপে ধূলিকণা, বালুকণা প্রভৃতি জমতে থাকে। এরপর একসময় সমুদ্রস্রোতের মাধ্যমে আসা বা পাখির বিষ্ঠায় পড়া গাছের বীজ থেকে ক্রমে ঘন গাছপালা জন্মায়। প্রবালদ্বীপ সাধারণত বহু কিলোমিটার লম্বা এবং যথেষ্ট প্রশস্ত হয়। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর ভূমি বেশি উঁচু হয় না।

উদাহরণ : আরব সাগরে লাক্ষাদ্বীপ, মালদ্বীপ, প্রশান্ত মহাসাগরে মার্শাল, গিলবার্ট প্রভৃতি হল প্রবালদ্বীপ।

অ্যাটল :

প্রবাল দ্বীপগুলি যখন বৃত্তাকারে বা উপবৃত্তাকারে গড়ে ওঠে তখন। তাকে অ্যাটল বলে। ক্রান্তীয় অঞ্চলে সমুদ্রতলে গায়টগুলির উপরিভাগে প্রবালের দেহাবশেষ সঞ্চিত হয়ে অ্যাটল সৃষ্টি করে। অনেকসময় অ্যাটলগুলি সুবিশাল হয়ে প্রবাল প্রাচীর সৃষ্টি করে।

সমুদ্র থেকে ধাপ্ত শক্তি সম্পদ

সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত শক্তি সম্পদের অধিকাংশই হল প্রবহমान সমুদ্র হল বিভিন্নপ্রকার প্রবহমান শক্তির উৎস। যেমন [1] জোয়ারভাটার শক্তি, [2] সামুদ্রিক তরাশক্তি, (3) সমৃদ্ধ স্রোতের শক্তি, [4] সমুদ্রজলের তাপীয় শক্তি, [5] পার্থক্যজনিত শক্তি প্রভৃতি। এইসব শক্তির উৎসগুলিকে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়। যেমন—

1 জোয়ারভাটার শক্তি: সামুদ্রিক জোয়ারভাটার শক্তিরে। বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করার উদ্দেশ্যে 1966 খ্রিস্টাব্ে ফ্রান্সের লা-রান্স নদীর খাড়িতে বিশ্বের প্রথম ও বৃহত্তম এ জাতীয় শক্তি উৎপাদনকেন্দ্রটি গড়ে ওঠে। এই কেন্দ্রটি প্রায় 350 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। পৃথিবীর দ্বিতীয় জোয়ারভাটা শক্তি উৎপাদনকেন্দ্রটি রাশিয়ার মুমনিস্ক-এর উত্তরে 1964 খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয়। এই কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র 400 কিলোওয়াট। কানাডার নোভাস্কোশিয়ার অ্যানাপোলিস রয়্যাল এ গড়ে ওঠা জোয়ারভাটা শক্তিকেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা খুই কম। চিনে স্থাপিত ৪টি ক্ষুদাকৃতি জোয়ারভাটা শক্তিকেন্দ্রে সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র 6 মেগাওয়াট। ভারতে চেন্নাই উপকূলে পরীক্ষামূলকভাবে একটি জোয়ারভাটা শক্তিকেও স্থাপিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলের খাঁড়ি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

2. সামুদ্রিক তরাশক্তি: সমুদ্রে যে নিয়মিত তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, তা থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। হিসাব করে দেখ গেছে যে, প্রতি মিটার দীর্ঘ সমুদ্রতরঙ্গ থেকে প্রায় 50 কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। জাপানের কাইমি শক্তিকেন্দ্রে সমুদ্রতরঙ্গ থেকে 2 মেগাওয়াট বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদন করা হয়।। সম্প্রতি নরগুরো, পোর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশেও সমুদ্রতরঙ্গ থেকে বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

3. সমুদ্রস্রোতের শক্তি: সমুদ্রস্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনের প্রচেষ্টা এখনও পর্যন্ত বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফলপ্রসূ হয়নি। বিংশ শতকের প্রথমার্ধে উপসাগরীয় স্রোতের গতিবেগকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনের প্রচেষ্টা শুরু হয়।

4 সমুদ্রতলের অপীয় শক্তি: সমুদ্রজলপৃষ্ঠে উচ্চতা, দেশের জলের তুলনায় বেশি। উন্নতার এরূপ পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদন সম্ভব। তবে এই উৎস থেকে শক্তি উৎপাদন এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে সফলতা লাভ করেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের প্রায় 99টি দেশে সমুদ্রজলের তাপীয় শক্তির সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব এবং ভারতে এইভাবে প্রায় 50,000 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। এর মধ্যে 100 মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন প্রথম কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হবে তামিলনাড়ুর উপকূলে।

5 লবণতার পার্থক্যজনিত শক্তি :বেশি লবণাক্ত জলের সঙ্গে কম লবণাক্ত জল বা পরি জগ মিশলে অভিস্রবণ উৎপন্ন হয় এবং এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বিদুৎশক্তি উৎপাদন করা যায়, এ সম্পর্কে গবেষণা চলছে।

বর্তমানে ব্যবহৃত শক্তির উৎসগুলির মধ্যে কয়লা ও খনিজ ফেলবো পেট্রোলিয়াম উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এ দুটিই অপুনর্ভব ও পরিত্ব সম্পদ এবং পরিবেশ দূষণ সৃষ্টিকারী দুই মুখ্য উপাদান। কিন্তু সমুদ্র প্রবহমান শক্তির উৎস এবং সমুদ্রের উল্লিখিত বিভিন্ন প্রকার শক্তির ব্যবহারে ধোঁয়া বা ছাই নিগর্ভ হয় না বলে পরিবেশ। দূষণ ঘটে না। তাই, সমুদ্রের বিভিন্ন প্রকার শক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যাবহার করা সম্ভব হলে সমগ্র বিশ্বেরই শক্তি সমস্যার সমাধান হবে এবং পরিবেশও পরিচ্ছন্ন থাকবে। সুতরাং আশা করা যায়, অদূর ভবিষ্যতে জীবাশ্ম জ্বালানির সমস্যা জর্জরিত বিশ্বে প্রবহমান ও পরিচ্ছন্ন শক্তির উৎস হিসাবে সমুদ্রের গুরুত্ব যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে।

সমুদ্রজাত রাসায়নিক ও খনিজ সম্পদ

সমুদ্র রাসায়নিক ও খনিজ সম্পদের বিপুল ভাণ্ডার। সমুদ্রজল, উপকূলের বেলাভূমি, মহীসোপান, মহীখাত, গভীর সমুদ্রের বিস্তীর্ণ তলদেশ প্রভৃতি সর্বত্র বিভিন্ন পরিমাণে নানাধরনের বায়নিক ও খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়।

1. বেলাভূমি থেকে আহরণযোগ্য সম্পদ :

1. হিরে: দক্ষিণ আফ্রিকায় আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলভাগের বিস্তীর্ণ বেলাভূমি থেকে মূল্যবান হিরে আহরণ করা হয়। বর্তমানে পৃথিবীর হিরে সমৃদ্ধ। বেলাভূমির খোঁজে সমীক্ষা চলছে। নামিবিয়া, কঙ্গো, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের বেলাভূমি থেকেও হিরে আহরণ লক্ষ করা যায়।
2. সোনাঃ আলাস্কার বেরিং প্রণালী সংলগ্ন নোম উপকূলভাগ থেকে সোনা আহরিত হয়।
3. লোহা: জাপানের কিউস দ্বীপে লোহা সমৃদ্ধ বালি পাওয়া যায়। বর্তমানে বেলাভূমি থেকে লোহা উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সমীক্ষা চলছে।
4. রুটাইল: ইলমেনাইট, জারকন, মোনাজাইট : অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড, নিউ সাউথ ওয়েলস-এর সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল থেকে বুটাইল, ইলমেনাইট, মোনাজাইট প্রভৃতি খনিজ পদার্থ উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া, ভারতের তামিলনাড়ু, ওডিশা, অন্ধ্রপ্রদেশ সংলগ্ন উপকূলভাগে মোনাজাইট, সিলমেনাইট প্রভৃতি খনিজ পদার্থ পাওয়া যায়।
5. রেয়ার আর্থ: চিন বেয়ার আর্থ (Rare Earth) উৎপাদনে বিশ্বে অগ্রণী দেশ। এ ছাড়া ভারত, ব্রাজিল, কানাডা, তানজানিয়া, গ্রিনল্যান্ড প্রভৃতি দেশের উপকূল অঞ্চলে থেকেও রেয়ার আর্থ সংগ্রহ করা হয়।

2 মহীসোপান অঞ্চলে থেকে প্রাপ্ত খনিজ পদার্থ:

1. ফসফোরাইট: সমুদ্রের 30-200 মিটার গভীর মহীসোপান অসলে সণিতে ফসফেট পাওয়া যায়। বাণিজ্যিকভাবে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, টিউনিশিয়া, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি দেশের উপকূলভাগ থেকে ফসফোরাইট সংগ্রহ করা হয়।

2. লবণ ও রাসায়নিক পদার্থ: সমুদ্রজলে অনেক ধরনের লবণ থাকে। এদের মধ্যে সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাদ্যলবণ, ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড ও ক্যালশিয়াম সালফেট প্রভৃতি প্রধান। বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে এই লবণ থেকে মানুষ ক্ষার ও ক্লোরিন নিষ্কাশন করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। এ ছাড়া, সমুদ্রজল থেকে পটাশ ও ম্যাগনেশিয়াম নিষ্কাশন করা হয়।

3. ধাতব খনিজ: সমুদ্রের তলদেশ থেকে বহুধাতবীয় নুড়ি উত্তোলন করা হয়। এদের সাধারণভাবে ম্যাঙ্গানিজ নুড়ি বলে। এই নুড়িগুলি থেকে ম্যাঙ্গানিজ, লোহা, তামা, নিকেল, কোবাল্ট, দস্তা, ক্রোমিয়াম-সহ প্রায় 40 ধরনের ধাতু পাওয়া যায়।

4. জ্বালানি খনিজ: সমুদ্রের মহীসোপান অঞ্চল খনিজ তেল। উত্তোলনের জন্য বিখ্যাত। ভারতের বম্বে হাই; সৌদি আরবের সাফানিয়া, আবু সাফা; ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের উত্তর সাগর; মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলিত হয়। সমুদ্র থেকে কয়লাও পাওয়া যায়। ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ড প্রদেশের কাছে সমুদ্রে প্রায় 100টি কয়লা খনি গড়ে উঠেছে। জাপানেও সমুদ্র থেকে কয়লা উত্তোলন করা হয়।

3. গভীর সমুদ্র থেকে আহরণযোগ্য সম্পদ

ফেরোম্যাঙ্গানিজ নুড়ি: সমুদ্রের গভীর তলদেশে (200 মিটারের অধিক) লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, নিকেল, কোবাল্ট সমৃদ্ধ অসংখ্য গোলাকার মুড়ি আকৃতির সয় লক্ষ করা যায়। এগুলি 'ফেরোম্যাঙ্গানিজ 'নোডিউলস' (Ferromanganese Nodules) নামে পরিচিত। সমুদ্রের নীচে সমীক্ষা চালিয়ে দেখো গেছে যে, গভীর সমুদ্রের প্রায় 4.6 কোটি বর্গকিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে 1.7 x 1010 টন ম্যাঙ্গানিজ নোডিউলস মণিত আছে। প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে এর পরিমাণ সর্বাধিক। আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরেও এই ফেরোম্যাঙ্গানিজ নুড়ি দেখা যায়।

সামুদ্রিক অবক্ষেপের গুরুত্ব

বর্তমানে জ্ঞানবিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অবক্ষেপের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সামুদ্রিক সঞ্চয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন—

1. প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের সঞ্চয়: উপকূলবর্তী মহীসোপান অঞ্চল পৃথিবীর প্রায় 30 খনিজ তেল প্রাকৃতিক গ্যাস সংগৃহীত হয়। মহীসোপান অঞ্চলের পলিস্তরের মধ্যে ফোরামিনিফেরা নামক অতি সামুদ্রিক কীটের দেহাবশেষ থেকে হাইড্রোকার্বন সৃষ্টি হাইড্রোকার্বন খনিজ বঙ্গোপসাগর, মেক্সিকো ও উত্তর থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাস তেল সংগ্রহ করা হয়।

2 খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার: মহীসোপান অঞ্চলের সামুদ্রিক অবক্ষেপের মধ্যে যেসব প্রাকৃতিক গ্যাস এবং খনিজ তেলের সঞ্চয় রয়েছে, তেমনি এই অংশে প্রচুর পরিমাণে দস্তা, রুপো, গন্ধক, ফসফেট ও কয়লা সঞ্চিত আছে। তা ছাড়া, সমুদ্র গহ্বরে প্রচুর নুড়ির আকারে বহু ধাতুর মিশ্রণে সৃষ্ট সংকর জাতীয় ধাতব পদার্থের সন্ধান পাওয়া গেছে।

3 রত্ন ডান্ডার :মহীসোপান অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল, রুপো, দস্তা প্রভৃতি ধাতব পদার্থ ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে মণিমুক্তা ও প্রবাল সংগ্রহ করা হয়। মহীসোপান অঞ্চল বহুবিধ রত্নের ভাঁড়ার ঘর। তাই সমুদ্রকে রত্নাকর বলা হয়।
OTEC
পুরো নাম: OTEC-এর পুরো নাম— 'Ocean Thermal
সংজ্ঞা: সমুদ্রজলের উয়তাকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে Energy Conversion. OTEC বলে।

উৎপাদন পদ্ধতি: ক্রান্তীয়মণ্ডলে 30° উত্তর থেকে 30° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে সমুদ্রজলের উপরিপৃষ্ঠ ও 1,000 মিটার গভীরতার মধ্যে উন্নতার পার্থক্য হয় প্রায় 20 °সে.। এই উয়তার পার্থক্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দুটি পাইপ ব্যবহার করা। হয় এবং তার সংযোগস্থলে অ্যামোনিয়া, ফ্রেয়ন, প্রপেনের তরল ব্যবহার করা হয়।

উৎপাদন: UNO-এর হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীর মোট ৭৭টি দেশ এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে শুরু করেছে। ভারতে প্রথম তামিলনাড়ুর উপকূলে 100 মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছিল।

সমুদ্রে অ্যাকোয়াকালচার বা জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রতিপালন

1. সমুদ্রে বাণিজ্যিকভাবে ঝিনুক চাষ করে সেখান থেকে মুক্তা সংগ্রহ করা হয়, একে পার্ল কালচার বলে। এ ছাড়া প্রবাল, স্পঞ্জ প্রভৃতিরও চাষ কার হয়।
2. সমুদ্রের বিস্তীর্ণ প্লাবনভূমিতে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও রাজ্য দপ্তর গড়ে তুলেছে বাগদার ভেড়ি। সেখান থেকে পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক চাহিদাযুক্ত বাগদা চিংড়ি।
3. বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী যেমন— অলিভ রিডলে কচ্ছপ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ক্রিল হল একপ্রকার প্রাণী যা শীতল সমুদ্রে পাওয়া যায়।

প্রবাল দ্বীপগুলি যখন বৃত্তাকারে বা উপবৃত্তাকারে গড়ে ওঠে তখন তাকে অ্যাটল বলে।

 

আংশিক স্থল বিধৌত ও আংশিক সামুদ্রিক পদার্থে সমৃদ্ধ মহীতলের সঞ্চয়কে বলা হয় হেমিপিলেজিক সঞ্জয়।

সিন্দুকর্মের সময় গভীর সমুদ্রের সমভূমিতে লক্ষ করা যায়।

গ্র্যান্ড ব্যাংক হল একটি মগ্নচড়া।

OTEC-এর পুরো নাম হল Ocean Thermal Energy

Conversion.

সমুদ্রজলের উম্মতাকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে OTEC বলে।

 

ভারতের তামিলনাড়ুর উপকূলে সমুদ্র তাপশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য OTEC কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

টেরোপড়জাতীয় মোচাকৃতি ভাসমান শামুকের খোলক থেকে যে চুনজাতীয় সিন্ধুকর্ম সৃষ্টি হয়, তাকে টেরোপড় সিং কর্ম বলে।

ফোরামিনিফেরা জীবের খোলকের সঙ্গে গ্লোবিজেরিনা নামক জীবের দেহাবশেষ মিশ্রিত হয়ে যে চুনজাতীয় সিন্ধুকর্ম সৃষ্টি হয়, তাকে গ্লোবিজেরিনা সিন্ধুকর্দ বলে।

গভীর সমুদ্রে সামুদ্রিক শৈবালের দেহাবশেষ থেকে গঠিত জৈব অবক্ষেপকে ইউপিলেজিক সময় বলে।

5,000 মিটারের বেশি গভীরতায় লৌহ অক্সাই সিলিকেট সোদক দিয়ে খুব নরম, প্লাস্টিকজাতীয় তৈলার পদার্থ হিসেবে লোহিত কর্দমের সৃষ্টি হয়।

 

সিন্ধুকর্মে চুন ও সিলিকাজাতীয় পদার্থের প্রাধান্য ে লক্ষ করা যায়।

চুনজাতীয় সিন্ধুকর্মে প্রায় ৪০% ক্যালশিয়াম কার্বনেট ধারে 29 রেডিও ল্যারিয়ান প্রাণীর দেহাবশেষ সমুদ্রের  করা

রেডিওল্যারিয়ান প্রাণীর দেহে খুব বেশি মাত্রায় সিলিক থাকলেও ক্যালশিয়ামের পরিমাণ কম থাকায় এসে

দেহাবশেষ সমুদ্রের জলে দ্রবীভূত হয় না।

ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে 4,000-10,000 মিটার গভীরতায় মধ্যে রেডিওল্যারিয়ান সিন্ধুকর্মের সময় বেশি দেখা যায়।

ভায়টিম সিন্ধুকর্ম উপকূলের দিকে নীল বর্ণের এবং গতর সমুদ্রের দিকে হলুদ বা ঘিয়ে বর্ণের হয়।

গভীর ও শীতল সমুদ্রে একপ্রকার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম উদ্ভিদে জন্ম হয়, এদের ডায়াটম বলে।

ডায়াটম সিন্ধুকর্ম সুমেরু ও কুমেরু মহাসাগরে বেশি দেখ যায়।

EEZ-এর সীমারেখা International Sea B Authority ঠিক করে।

মহীঢালে স্থলভাগের কর্দমকণা এবং সমুদ্রের জৈব অজৈব পদার্থ একত্রে সঞ্চিত হয় বলে এরূপ সামনে হেমিপিলেজিক সঞ্চয় বলে।

গভীর সমুদ্রের সমভূমি ও সমুদ্রখাতে জৈব ও অজৈ পদার্থের যে সময় ঘটে, তাকে ইউপিলেজিক সপ্তায় বলে।