Chapter-5⇒জীবমণ্ডল

উৎপাদক বা স্বভোজীরা প্রথম পুষ্টিস্তরে যে পরিমাণ শক্তি নিজের দেহে উৎপাদন করে তাকে মোট প্রাথমিক উৎপাদন বলে।

মোট প্রাথমিক উৎপাদন থেকে শারীরবৃত্তীয় কাজে খরচ হওয়ার পর যে পরিমাণ শক্তি উদ্ভিদের দেহে সঞ্চিত হয় তাকে প্রকৃত প্রাথমিক উৎপাদন বলে।

সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে উৎপাদক ধরে রাখে।

কোনো প্রাণীর পুষ্টিলাভের নির্দিষ্ট এলাকাকে ওই প্রাণীর ইকোলজিক্যাল নিসে বলে।

বাস্তুতন্ত্রে যে সমস্ত প্রাণী পচা গলা নোংরা খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে তাদের ঝাড়ুদার প্রাণী বা স্ক্যাভেন্ডার বলে।

যেসব খাদক প্রাণীরা কেবল উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে, তাদের তৃণভোজী বলে। যেমন—ফড়িং, মৌমাছি, হরিণ, হাতি ইত্যাদি।

যেসব প্রাণী অন্য প্রাণীদের খেয়ে বেঁচে থাকে তাদের মাংসাশী প্রাণী বলে। যেমন- বাজপাখি, ময়ূর, বাঘ, সিংহ "ইত্যাদি।

 

যেসব খাদক উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়কেই খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তাদের সর্বভুক বলে। যেমন—মানুষ, ভালুক ইত্যাদি।

বিয়োজক যখন উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ আংশিকভাবে পচিয়ে দেয় তখন সেই অর্ধবিয়োজিত পদার্থকে ডেট্রিটাস বলে।

যেসব ছোটো ছোটো প্রাণী অসবিয়োজিত পদার্থ ডেট্রিটাস খেয়ে বেঁচে থাকে তাদের ডেট্রিভোর বলে।

একটি ক্লাইমেক্স ভেজিটেশনের উদাহরণ হল সাভানা তৃণভূমি অঞ্চলের হাতি ঘাস বা এলিফ্যান্ট গ্রাস (Elephant grass)।

যে সমস্ত খাদক প্রথম শ্রেণির খাদক বা তৃণভোজীদের খেয়ে বেঁচে থাকে তাদের গৌণ খাদক বলে।

যারা নিজের খাদ্য নিজেরাই তৈরি করতে পারে তাদের অটোট্রফ বলে।

খাদ্যশৃঙ্খলে উৎপাদকের খাদ্যস্তর ভিত্তিস্তর নামে পরিচিত।

উৎপাদকেরা বায়ুতে অক্সিজেনের জোগান দিয়ে পরিবেশকে দূষিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

ভূত্বক, বারিমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলের যে অংশে জীবের সৃষ্টি হয় ও অস্তিত্ব লক্ষ করা যায় তাকে জীবমণ্ডল বলে।

নির্দিষ্ট সময়ের সাপেক্ষে একটি বাস্তুতন্ত্রের সমস্ত জীবের শুষ্ক ওজনের ভরকে জীবভর বলে।

সবুজ উদ্ভিদ জীবমণ্ডলে উৎপাদকের ভূমিকা গ্রহণ করে।

 

যে চক্রাকার পথে অপরিহার্য পরিপোষক বাস্তুতন্ত্রের জীবজ ও অজীবজ উপাদানের মধ্যে আবর্তিত হয় তাকে জীব-ভূরাসায়নিক চক্র বলে।

বায়ুতন্ত্রে শিকারি প্রাণীর সংখ্যা হ্রাস পেলে তৃণভো প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

সৌরশক্তিকে উৎপাদক সালোকসংশ্লেষের মাধ রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

বাস্তুতন্ত্রে যখন উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্প্রদায় বিকাশের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছায় তখন তাকে ক্লাইমেক্স ভেজিটেশন বলে।

জলে ভাসমান ছোটো ছোটো আণুবীক্ষণিক জীবদের প্ল্যাঙ্কটন বলে।

জলে ভাসমান আণুবীক্ষণিক উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন বলে।

জলে ভাসমান ছোটো ছোটো আণুবীক্ষণিক প্রাণী গোষ্ঠীকে জুপ্ল্যাঙ্কটন বলে।

বাস্তুতন্ত্রের সমস্ত জীব যাদের জীবন আছে তাদের সজীব উপাদান বলে।

সজীব উপাদানগুলি দুটি ভাগে বিভক্ত, যথা— (1) স্বভোজী বা উৎপাদক এবং (ii) পরভোজী বা খাদক।

বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত সমগ্র উদ্ভিদ ও কিছু ব্যাকটেরিয়া রাসায়নিক সংশ্লেষের মাধ্যমে নিজেদের খাদ্য নিজেরাই তৈরি করতে পারে। এদের উৎপাদক বা স্বভোজী বলে।

স্বভোজী বা উৎপাদককে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা— (i) সালোকসংশ্লেষকারী স্বভোজী এবং (ii) রাসায়নিক সালোকসংশ্লেষকারী স্বভোজী।

কোনো বৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চলে নির্দিষ্ট প্রকার জলবায়ুর দ্বারা প্রভাবিত কোনো আঞ্চলিক জীবগোষ্ঠীর সর্বাধিক বিস্তারকে বায়োম বলে।

বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদকের ওপর নির্ভর করে যে সমস্ত জীব জীবনধারণ করে তাদের খাদক বলে।

বিয়োজক কাকে বলে? যেসব আণুবীক্ষণিক জীব, মৃত উৎপাদক ও খাদক এর দেহ অথবা জৈব বর্জ্য বস্তুর পচন ও বিয়োজন ঘটিয়ে বিভিন্ন জটিল জৈব যৌগকে সরল জৈব যৌগ বিশ্লিষ্ট করে এবং তা থেকে পুষ্টিলাভ করে তাদের বিয়োজক বলে।

বাস্তুতন্ত্রে বিয়োজক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ বিয়োজক তথা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক মৃত উৎপাদক ও খাদকদের বিয়োজিত করে নানা ধরনের মৌলগুলিকে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়।

বিয়োজকরা বায়ুতে মিথেনের জোগান দিয়ে গ্রিনহাউস প্রভাব বাড়িয়ে পরিবেশ দুষিত করে।

বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে বিভিন্ন খানা-খাদক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা খাদ্যশৃঙ্খলগুলি বিভিন্নভাবে একে অপরের সাথে যুদ্ধ হয়ে যে জালিকা সৃষ্টি করে তাকে খাদ্যজাল বলে।

বাস্তুতন্ত্রে কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবেশ এবং সেই পরিবেশে বসবাসকারী কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচিত হলে তাকে অটইকোলজি বলে।

বাস্তুতন্ত্রে একাধিক ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে বসবাসকারী একাধিক প্রজাতির পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচিত হলে তাকে সিনইকোলজি বলে।

পরিকল্পিত বা অপরিকল্পিতভাবে মানুষ দ্বারা সৃষ্ট বন্ধু তথকে কৃত্রিম বাস্তুতন্ত্র বলে।

উৎপাদক থেকে শুরু করে খাদ্য-খাদক সম্পর্কযুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে দিয়ে বাদ্যশক্তির একমুখী পর্যায়ক্রমিক প্রবাহের ধারাবাহিক পদ্ধতিকে খাদ্যশৃঙ্খল বলে।

খাদ্যশৃঙ্খলে নীচের ট্রফিক স্তর থেকে ধাপে ধাপে ওপরের ট্রাফিক স্তরে শক্তি প্রবাহিত হয়।

যে খাদ্যশৃঙ্খল উৎপাদক থেকে শুরু করে তৃণভোজী হয়ে মাংসাশীতে শেষ হয় তাকে গ্রেজিং খাদ্যশৃঙ্খল (ঘাস ঘাসফড়িং ব্যাং সাপ ময়ূর) বলে।

যে মাদ্যশৃঙ্খল ডেট্রিটাস জীব থেকে শুরু করে ছোটো মাংসাশী প্রাণী হয়ে বড়ো মাংশাসী প্রাণীতে গিয়ে শেষ হয়
(বিয়োজক → ছোটো মাছ বড়ো মাছ) তাকে ডেটিটাস) খাদ্যশৃঙ্খল বলে।

বিভিন্ন পুষ্টিস্তরগুলিকে শ্রমিক পর্যায়ে সাজিয়ে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করলে যে পিরামিড পাওয়া যায় তাকে খাদ্যপিরামিড বলে।

প্রকৃতি দ্বারা সৃষ্ট স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্রকে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র বলে।

যেসব রাসায়নিক পদার্থ জীবের পুষ্টির জন্য দরকার হয় না সেগুলি প্রকৃতিতে সঞ্চিত অবস্থায় থাকে, এদের সতি ভান্ডার বা রিজার্ভার পুল বলে।

বাস্তুতন্ত্রের কোনো স্থানের সমগ্র উদ্ভিদকুলকে একসঙ্গে ফ্লোরা বলা হয়।

কোনো নির্দিষ্ট বসতি অঞ্চলে বা বাস্তুতন্ত্রে পরস্পর নির্ভরশীল ও সম্পর্কযুক্ত জীবগোষ্ঠীকে বায়োটিক কমিউনিটি বলে।

খাদ্যশৃঙ্খলে খাদ্যস্তরের সংখ্যা সাধারণত 3-5 টি হয়।

জলজ বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদকের ভূমিকা ফাইটোপ্ল্যাংটন পালন করে।

যেসব প্রাণী জলে স্বাধীনভাবে সাঁতার কেটে ঘুরে বেড়ায় তাদের নেকটন বলে।

যেসব প্রাণী জলের নীচে বসবাস করে তাদের বেনথস বলে।

কোনো নির্দিষ্ট স্থানের সকল প্রজাতির জীবকে একত্রে বায়োটা বলে।

একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল একত্রে যুক্ত হয়ে সৃষ্টি হয় খাদ্যজাল।

যেসব পুষ্টিচক্রগুলিকে গ্যাসীয় চক্র বলা হয় সেগুলি হল- কার্বন চক্র, নাইট্রোজেন চক্র, অক্সিজেন চক্র।

সালফার চক্র ও ফসফরাস চক্রকে পাললিক চক্র বলা হয়।

যেসব উৎপাদক ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যালোককে কাজে লাগিয়ে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে তাদের সালোকসংশ্লেষকারী স্বভোজী বলে।

যেসব উৎপাদক সূর্যালোক ছাড়াই রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্য উৎপাদন করে তাকে রাসায়নিক সংশ্লেষকারী স্বভোজী বলে।

বাস্তুতন্ত্রে স্বভোজীরা গুরুত্বপূর্ণ কারণ অভোজরা বিনাশপ্রাপ্ত হলে প্রথম শ্রেণির খাদকেরা অবলুপ্ত হবে। ফলে বাস্তুতন্ত্রে বিঘ্ন ঘটবে।

খাদ্যাভাস অনুযায়ী বৃহৎ খাদকদের তিনভাগে ভাগ কর যায়, যথা— তৃণভোজী, মাংসাশী ও সর্বভুক।

বাস্তুতন্ত্রে যে সমস্ত প্রাণী খাদ্যের জন্য সরাসরি উদ্ভিদ বা অন্যান্য জীবজন্তুর ওপর নির্ভরশীল তাদের বৃহৎ খাদকর ম্যাক্রো কনজিউমার বলে।

পুষ্টিস্তর অনুযায়ী বৃহৎ খাদকদের তিনভাগে ভাগ করা যায়।যথা—প্রাথমিক, গৌণ ও প্রগৌণ খাদক।

বাস্তুতন্ত্রে শক্তি প্রবাহের প্রথম পর্যায় হল শক্তি অর্জন।

জীবের গৃহীত শক্তির যে পরিমাণ বিপাক, উন্নতা নিয়ে শ্বসন শক্তি বলে।

বাস্তুতান্ত্রিক পিরামিড তিন প্রকার, যথা—সংখ্যা পিরামিড,জীবভর পিরামিড ও শক্তি পিরামিড।

MAB-এর পুরো নাম হল –Man and Biosphere Programme.

প্রতিটি পুষ্টিস্তরে জীবগোষ্ঠী দ্বারা ব্যবহৃত মোট শক্তির পরিমাণকে পরপর সাজালে যে পিরামিড পাওয়া যায় তাকে শক্তি পিরামিড বলে।

জীবের শুষ্ক ওজনের পরিমাণকে পুষ্টিস্তর অনুসারে সাজালে যে পিরামিড গঠিত হয় তাকে জীবভর পিরামিড বলে।

উৎপাদকদের জীবভরের পরিমাণ সর্বাধিক।

সাভানা তৃণভূমির বাস্তুতন্ত্র স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের উদাহরণ।

জীবের সংখ্যা অনুযায়ী প্রতিটি পুষ্টিস্তরকে সাজালে যে পিরামিড পাওয়া যায় তাকে সংখ্যা পিরামিড বলে।

বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদনশীলতা বোঝাতে বিভিন্নপ্রকার বাস্তুতান্ত্রিক পিরামিডের মধ্যে শক্তি পিরামিডের কার্যকারিতা বেশি।

পাশাপাশি অবস্থিত দুটি বাস্তুতন্ত্র যে সংকীর্ণ স্থানে মিলিত হয় সেখানে পরিবর্তশীল মিশ্র বাস্তুতন্ত্র গড়ে ওঠে, একে ইকোটোন বলে ।

ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষি অঞ্চল ‘পৃথিবীর ফলভাণ্ডার' হিসেবে পরিচিত।

দুটি বাস্তুতন্ত্রের সংযোগস্থল বরাবর যে বৈচিত্র্যময় জীবগোষ্ঠী পরিলক্ষিত হয় সেগুলিকে বলে এফেক্ট।

উৎপাদকরা ট্রফিক স্তরের সবচেয়ে নীচের স্তরে থেকে উচ্চস্তরের প্রাণীদের প্রাণধারণের ভিত্তিরূপে কাজ করে।

খাদ্যশৃঙ্খল

বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশক্তি সর্বনিম্ন পুষ্টিস্তর থেকে সর্বোচ্চ পুষ্টিস্তর পর্যন্ত অর্থাৎ উৎপাদক থেকে বিয়োজক পর্যন্ত খাদ্য-খাদক সম্পর্কিত বিভিন্ন জীবগোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমহ্রাসমান হারে স্থানান্তরিত হয়। এই শৃঙ্খলিত পর্যায়ক্রমিক শক্তির প্রবাহকে খাদ্যশৃঙ্খল (Food Chain) বলে। অর্থাৎ, যে শৃঙ্খলে জীবেরা একে অন্যের সাথে খাদ্য-খাদক হিসেবে সম্পর্কযুক্ত থাকে এবং উৎপাদক থেকে ক্রমপর্যায়ে বিভিন্ন প্রাণীগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্য ও শক্তির ধারাবাহিক প্রবাহ ঘটে তাকে খাদ্যশৃঙ্খল বলে। খাদ্যশৃঙ্খলে শক্তির প্রবাহ একমুখী হয় [চিত্র 5.4] ।

বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্ব

সমগ্র জীবমণ্ডলের অস্তিত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্ব অপরিসীম, যেমন—

1. শক্তির সরবরাহ: উৎপাদকের মধ্যে সঞ্চিত সৌরশক্তি খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে উৎপাদক থেকে সর্বশেষ স্তর পর্যন্ত ক্রমহ্রাসমান হারে প্রবাহিত হয়। প্রতিটি পুষ্টিস্তরে 10 শতাংশ
হারে এই শক্তি কমতে থাকে। এর ফলে দেখা যায় এি উচ্চস্তরে প্রাণী প্রজাতির সংখ্যা ক্রমশ কমতে থাকে হয় খাদ্য পিরামিড বা শক্তি পিরামিড

2. জীবের অস্তিত্ব রক্ষা : খাদ্যশৃঙ্খল থাকায় উৎপাদক | তৃণভোজী → মাংসাশী → সর্বভুক প্রভৃতি স্তরে প্রতিটি তাদের খাদ্য পায়। অবিঘ্নিতভাবে খাদ্যের সরবরাহ থাকায় এতি জীব বেঁচে থাকে ও এভাবে বাস্তুতন্ত্র টিকে থাকে।

3. খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখা: খাদ্যশৃঙ্খল সুগঠিত হ ক্রমোচ্চ পুষ্টিস্তরে খাদ্যের কোনোরূপ অভাব হয় না। প্রাকৃতি দুর্যোগ বা মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত কাজের ফলে খাদ্যশৃঙ্খ কোনো স্তরে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে ও কুফল গোটা বাস্তুতন্ত্রের ওপর পড়ে। তবে প্রাকৃতিক ব্যা প্রকৃতি নিজেই দ্রুত সামলে নিয়ে খাদ্যের সরবরাহে ভারসা নিয়ে আসে।

4. বাস্তুতন্ত্রে আন্তঃসম্পর্ক বজায় রাখা: খাদ্যশৃঙ্খল অ খাদ্যজাল ও খাদকের মধ্যে রীতি ও সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। ফলে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব পদার্থের চক্রাকার আবর্তন সর্বদা চলতে থাকে যাকে বলা হ নিয়মমাফি জীব-ভূরাসায়নিক চক্র বা পুষ্টিচক্র। খাদ্যশৃঙ্খল এই চক্র ক রাখতে সাহায্য করে এবং তখনই আন্তঃসম্পর্কযুক্ত সুদৃঢ় গঠিত হয়। তাই সুদৃঢ় বাস্তুতন্ত্রে আন্তঃসম্পর্কযুক্ত বিভিন্ন কাজ হয়ে থাকে।

5. ডারসাম্যপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র গঠন: খাদ্যশৃঙ্খল যত সচল থাকে অর্থাৎ খাদ্যের সরবরাহ যত বজায় থাকে ততই বাস্তুতন্ত্র সুগঠিত হয় এবং বাস্তুতন্ত্রে ভারসাম্য বজায় থাকে। এ ধরনের বাস্তুতন্ত্রে অনেক খাদ্যজাল গড়ে ওঠে। প্রাণী তখন বিভিন্ন স্তর থেকে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে। তাই, খাদ্যজালের কোনো একটি বা দুটি অংশ বিনষ্ট হলেও সব স্তরেই খাদ্য সরবরাহ বজায় থাকে। এর ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয় না কিংবা মানুষের হস্তক্ষেপকে সহ্য করেও বাস্তুতন্ত্র টিকে থাকে।

6. বিম্নজনিত প্রভাব : খাদ্যশৃঙ্খল বিনষ্ট হলে প্রতিটি পুষ্টিস্তরের জীবগোষ্ঠীর জীবনে অস্তিত্বের সংকট দেখা দেবে এবং সেই সঙ্গে বাস্তুতন্ত্রের অস্তিত্বও বিপন্ন হবে। এমনকি বাস্তুতন্ত্র চিরতরে নষ্ট হবে। যেমন তৃতীয় পুষ্টিস্তরে প্রচুর মাংসাশী প্রাণী শিকার করলে তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। তখন এরা উৎপাদক শ্রেণিকে খেয়ে ধ্বংস করে দেবে। উৎপাদক শূন্য এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হবে এবং সমগ্র বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়ে যাবে।

বাস্তুতন্ত্রের ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য

বাস্তুতন্ত্রের ধর্ম বা বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ—

1. বাস্তুতন্ত্রের একটি নির্দিষ্ট এলাকা আছে।
2.  বাস্তুতন্ত্রকে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ।
3. এখানে শাক্ত ও পদার্থের সরবরাহ এবং উৎপাদন সবসময় ঘটতে থাকে।
4. শক্তি বাস্তুতন্ত্রে কাজ করার পর এখান থেকে বেরিয়ে যায়, তাই এটিকে একটি উন্মুক্ত প্রণালী বলা হয়।
5.বাস্তুতন্ত্র আকারে খুব ছোটো থেকে সুবৃহৎ হতে পারে। বড়ো বাস্তুতন্ত্রে জীববৈচিত্র্য বেশি হয়।
6. বাস্তুতন্ত্রে শক্তির একমাত্র উৎস হল সূর্যালোক।
7. খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে শক্তি সরবরাহে বিঘ্ন না ঘটলে বাস্তুতন্ত্র স্থায়ী ভারসাম্যের দিকে এগিয়ে যায়।
8. বাস্তুতন্ত্র সুসংগঠিত ও নির্দিষ্ট কাঠামোবিশিষ্ট হয়।

বাস্তুতন্ত্রের তাৎপর্য

1. বাস্তুতন্ত্র প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা জীবমণ্ডলের অন্যতম মূল একক। তাই এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক। যেমন— বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে অধ্যয়ন করলে বিভিন্ন পরিবেশ এবং ওই পরিবেশের জীবগোষ্ঠী সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করা যায়।

2. বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য। বাস্তুতন্ত্রের সবুজ উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করে। তাই বাস্তুতন্ত্রের কার্যকারিতা তাৎপর্যপূর্ণ।

3. পরিবেশদূষণ রোধ ও সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য বাস্তুতন্ত্রকে কাজে লাগানো যায়।
4. আদর্শ বাস্তুতন্ত্রে খরা ও বন্যার প্রকোপ থাকে না।
5. উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থানের সুরক্ষা, জমির উর্বরতা বৃদ্ধি ও ভূমিক্ষয় রোধ আদর্শ বাস্তুতন্ত্রে স্বাভাবিক নিয়মে হয়ে থাকে।
6. বাস্তুতন্ত্রের সঠিক মূল্যায়ন করলে উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা, বনভূমির গঠন ও সুরক্ষা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ইত্যাদির সফল রূপায়ণ সম্ভব।
7. বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় থাকলে উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি লোপ পায় না।

খাদক বা পরভোজী

সংজ্ঞা: বাস্তুতন্ত্রে যেসব জীব নিজেদের দেহে খাদ্য তৈরি করতে পারে না এবং খাদ্যের জন্য উৎপাদকের ওপর নির্ভর করে তাদের খাদক বা পরভোজী বলে। এই গোষ্ঠীতে আছে বৃহৎ খাদক ও অনুখাদক বা বিয়োজক। তৃণভোজী (হরিণ, গোরু প্রভৃতি), মাংসাশী (বাঘ, সিংহ প্রভৃতি) ও সর্বভুক (ভালুক, মানুষ ইত্যাদি) হল বৃহৎ খাদক এবং ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি হল অনুখাদক ও মৃতজীবী। বৃহৎ খাদকরা পাকস্থলীতে খাদ্য গ্রহণ করে কিন্তু অনুখাদকরা খাদ্যকে শোষণ করে। এদের পাকস্থলী নেই।

বৈশিষ্ট্য

1. এরা নিজেদের দেহে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। খাদ্যের জন্য উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণীদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
2. এরা শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় পরিবেশ থেকে অক্সিজেন নেয় এবং পরিবেশে কার্বন ডাইঅক্সাইডের জোগান দেয়।
3. এরা খাদ্য থেকে যে শক্তির জোগান পায় বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে তা খরচ করে।
4. দ্বিতীয় পুষ্টিস্তর থেকে সর্বোচ্চ পুষ্টিস্তর পর্যন্ত এদের অবস্থান হলেও সংখ্যা ও জীবভরের দিক থেকে পরভোজীরা আনুপাতিক হারে অনেক কম থাকে।
5. • তৃণভোজী, মাংসাশী ও সর্বভুকরূপে বৃহৎ গোষ্ঠীর এবং ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া প্রভৃতি মৃতজীবীরূপে অনুগোষ্ঠীর পরভোজী বাস্তুতন্ত্রে থাকে।

জীবমণ্ডলের উপাদান হিসেবে বায়ুমণ্ডলের

বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ তাপগতিবিদ্যার সূত্রকে অনুসরণ করার তাৎপর্য

বাস্তুতন্ত্রে সৌরশক্তি রূপান্তরিত হয়ে খাদ্যশক্তিরূপে উৎপাদকের দেহে সঞ্চিত হয়। এই শক্তি বিভিন্ন খাদকের দেহে ধাপে ধাপে প্রবাহিত হয়। শক্তির এই প্রবাহ তাপগতিবিদ্যার দুটি সূত্রকে অনুসরণ করে। যেমন—

1. প্রথম সূত্র: প্রথম সূত্রে বলা হয় যে—শক্তির রূপান্তর ঘটে, কিন্তু শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সালোকসংশ্লেষ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তি পরিবর্তিত হয়ে খাদ্যশক্তিরূপে উৎপাদকের দেহে সঞ্চিত হয়। এরপর এই খাদ্যশক্তি বাস্তুতন্ত্রের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে প্রাণীদেহে সঞ্চিত হয় কিংবা বাস্তুতন্ত্র থেকে বেরিয়ে যায়।

2. দ্বিতীয় সূত্র: দ্বিতীয় সূত্র অনুসারে, কোনো শক্তিরই 100 ভাগ রূপান্তর সম্ভব নয় এবং রূপান্তরের সময় শক্তির অপচয় ঘটে। উদ্ভিজ্জ পদার্থকে প্রাণীজ পদার্থে রূপান্তরের সময় কিছু শক্তি তাপরূপে অপচিত হয় এবং কিছু শক্তি শ্বাসপ্রশ্বাস ও রেচন ক্রিয়ার জন্য নষ্ট হয়। এসব শক্তি বাস্তুতন্ত্র থেকে বেরিয়ে যায়। এজন্য ক্রমোচ্চ ট্রফিক স্তরে শক্তির স্থানান্তরের সঙ্গে সঙ্গে শক্তির জোগান কমতে থাকে। বিজ্ঞানী রেমন্ড বলেছেন, জি. লিন্ডেম্যানের দশ শতাংশের সূত্র অনুসারে বিভিন্ন খাদ্যস্তরে শক্তির ক্রমশ হ্রাস ঘটে।

বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ একমুখী হওয়ার কারণ

বাস্তুতন্ত্রে শক্তির একমাত্র উৎসরূপে সৌরশক্তি প্রথমে উৎপাদকের দেহে আবদ্ধ হয়। উৎপাদক থেকে ওই শক্তি বিভিন্ন পুষ্টিস্তরের খাদক প্রাণীর মধ্যে ক্রমহ্রাসমান হারে স্থানান্তরিত হয়। অবশেষে সর্বশেষ স্তর থেকে অবশিষ্ট শক্তি বেরিয়ে যায় ও মিলিয়ে যায়। ওই শক্তি কখনোই প্রাথমিক অবস্থায় ফিরে আসে না। তাই বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহের অভিমুখ একদিকে।

জীবমণ্ডলের উপাদান হিসেবে বায়ুমণ্ডলের ভূমিকা

জীবমণ্ডলের ওপর বায়ুমণ্ডলের উল্লেখযোগ্য প্রভাব লক্ষ করা যায়। যেমন—

1 বায়ুমণ্ডল থেকেই প্রাণীজগৎ অক্সিজেন এবং উদ্ভিদজগৎ কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সুতরাং বায়ুমণ্ডল না থাকলে পৃথিবীতে উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ কিছুই সৃষ্টি হত না ।
2. বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন গ্যাস আছে। এর পরিমাণ প্রায় 78 শতাংশ। প্রাণের সৃষ্টির জন্য অতি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলির উৎপত্তি হয়েছে এই নাইট্রোজেন গ্যাস থেকেই।
3. সূর্য থেকে ছুটে আসা ক্ষতিকারক রশ্মিসমূহের (যেমন—অতিবেগুনি রশ্মি বা Ultra Violet Ray ) হাত থেকে এই বায়ুমণ্ডলই জীবজগৎকে রক্ষা করে।
4.বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প আছে বলেই মেঘ, বৃষ্টি, শিশির, কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি, তুষার প্রভৃতি সৃষ্টি হয়।
5. বায়ুমণ্ডলই পৃথিবীতে বাতাস ও জলের উৎস।
6. বায়ুমণ্ডল উল্কাবৃষ্টির হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে।
7. বায়ুমণ্ডল আছে বলেই আমরা কথা বা শব্দ শুনতে পাই।
৪. বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর, যার নাম ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere) বা ক্ষুদ্ধমণ্ডল এবং তার ওপরের স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere) বা শান্তমণ্ডল ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুমণ্ডলীয় পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পরিচক্র বা জীব-ভরাসায়নিক চক্র

যে চক্রাকার পথে অপরিহার্য পরিপোষক বাস্তুতন্ত্রের জীবজ ও অজীবজ উপাদানের মধ্যে আবর্তিত হয় তাকে পুষ্টিচক্র বা Biogeochemical Cycle বলে। যে চক্রাকার পথে বিভিন্ন রাসায়নিক পুষ্টিমৌল বা মৌলিক উপাদানগুলি (H, C, N, P, K ইত্যাদি) ভূত্বক, বারিমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিবেশ থেকে উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে আসে এবং পুষ্টিসাধন করতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য | তাদের দেহে অবস্থান করার পর পুনরায় পরিবেশে ফিরে যায় তাকে পুষ্টিচক্র বা জীব-ভূরাসায়নিক চক্র বলে। উদাহরণ—এই চক্র দুই প্রকারের- গ্যাসীয় পুষ্টিচক্র, যেমন—কার্বন চক্র, নাইট্রোজেন চক্র, অক্সিজেন চক্র; পাললিক চক্র, যেমন—সালফার চক্র ও ফসফরাস চক্র। এইসব চক্রের পৃথক অস্তিত্ব থাকলেও তারা একে অন্যের পরিপূরক। এর ফলে মৌলের পরিবহণ ও স্থানান্তর ঘটে।

বাস্তুতন্ত্রে পুষ্টিপদার্থের আবর্তনশীল প্রবাহের ব্যাখ্যা

পরিবেশে আন্তঃসম্পর্কযুক্ত জড় ও জৈব উপাদানের মধ্যে বিভিন্ন ভূরাসায়নিক চক্রের মাধ্যমে পদার্থের আবর্তনশীল প্রবাহ ঘটে। উদ্ভিদ থেকে পুষ্টিপদার্থ বিভিন্ন প্রাণীদেহে সঞ্চারিত হয়। এরপর ব্যাকটেরিয়া পরিবেশের মৃত উদ্ভিদ, প্রাণীর বর্জ্য ও প্রাণীর মৃতদেহের পচন ঘটিয়ে জটিল জৈব যৌগকে ভেঙে সরল উপাদান, যেমন—লবণ, ফ্যাট, প্রোটিন, শর্করা ইত্যাদিতে পরিণত করে এবং পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। খাদ্য উৎপাদনের জন্য উদ্ভিদ এসব উপাদানগুলিকে মাটি থেকে নিয়ে ব্যবহার করে। এভাবে উদ্ভিদ থেকে খাদক ও বিয়োজক হয়ে মাটিতে এবং পুনরায় মাটি থেকে উদ্ভিদের মধ্যে পদার্থের আবর্তন ঘটতে থাকে।

বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহের ধরন বা বৈশিষ্ট্য

বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক থেকে বিভিন্ন খাদকের দেহে রূপান্তরিত সৌরশক্তির স্থানান্তরিত হওয়াকে শক্তিপ্রবাহ বলে। এরূপ শক্তিপ্রবাহের বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

1• উৎপাদক স্তরে সবুজ উদ্ভিদ সর্বপ্রথম সৌরশক্তিকে নিজেদের দেহে রাসায়নিক শক্তিরূপে সঞ্চয় করে। তারপর ওই সঞ্চিত শক্তি বিভিন্ন খাদক স্তরে ছড়িয়ে পড়ে।

2. বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহ সর্বদা একমুখী। শক্তির প্রবাহ সর্বদা উৎপাদক স্তর থেকে গৌণ স্তর ও গৌণ স্তর থেকে প্রগৌণ স্তরে প্রবাহিত হবে।

3. উৎপাদক স্তর থেকে প্রগৌণ স্তর পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে শক্তির স্থানান্তরের সময় শক্তির জোগান 10 শতাংশ হারে কমতে থাকে।শক্তিপ্রবাহের ক্রমহ্রাসমান হারটি দশ শতাংশের সূত্র নামে পরিচিত।

4• বাস্তুতন্ত্রে শক্তির রূপান্তর ঘটে, কিন্তু একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। এটি তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রকে অনুসরণ করে। যেমন—সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে সৌরশক্তি খাদ্যশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এরপর বাস্তুতন্ত্রে এই শক্তি প্রবাহিত হয় অথবা প্রাণীদেহে সঞ্চিত হয় অথবা বাস্তুতন্ত্র থেকে বেরিয়ে যায়।

5. তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র অনুসারে ট্রফিক স্তরে কোনো শক্তিরই 100 ভাগ রূপান্তর সম্ভব নয়। রূপান্তরের সময় তাপ হিসেবে কিছু শক্তির ক্ষয় হয়।

6. বাস্তুতন্ত্রে শক্তির কোনো আবর্তন হয় না। একমুখী প্রবাহে এটি বাস্তুতন্ত্র থেকে বেরিয়ে যায়। আর ফিরে আসে না।