Chapter -5⇒নদী

উ:- ভূপৃষ্ঠে কোনো আদর্শ নদীর 3 টি প্রবাহ পথ লক্ষ করা যায়, যথা – 1)উচ্চপ্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহ,2) মধ্যপ্রবাহ বা মালভূমি প্রবাহ, নিম্নপ্রবাহ বা সমভূমি প্রবাহ

আদর্শ নদীর বিভিন্ন প্রবাহভিত্তিক মুখ্য কার্যাবলি - কোনো আদর্শ নদীর সমগ্র প্রবাহপথে নিম্নলিখিত তিনটি কার্যাবলি মুখ্য, যেমন-

1)ক্ষয়কার্য (Erosion) : পার্বত্য অগালে উচ্চগতিত্বে যে-কোনো নদীই মূলত ক্ষয়কাজ করে থাকে। কারণ, এই গতিতে ভূমির বন্ধুরতা কিংবা ভূমিঢাল উভয়ই বেশি থাকায় নদী প্রচণ্ড বেশে বয়ে চলে, যার ফলে ঘর্ষণ, অবমর্ষ, দ্রবণ কিংবা বুদবুদ্‌ ধারা বিভিন্নভাবে স্থানীয় শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

2)বহনকার্য (Transportation) : মালভূমি থেকে উচ্চ সমভূমি পর্যন্ত বা মধ্যগতিতে নদী মূলত বহনকার্য করে থাকে। এই অংশে ভূমির ঢাল যথেষ্ট পরিমাণে কমে যাওয়ায় নদীর ক্ষয়কারী শক্তি বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে এই সময় নদী লম্ফদান, ভাসমান, দ্রবণ কিংবা টানের দ্বারা বহনকার্য চালায়।

3)সঞ্চয়কার্য (Deposition): সমভূমিতে বা নিম্নপ্রবাহে ভূমি প্রায় সমুদ্র সমতলে থাকে, ফলে এই অংশে নদী প্রায় বেগশূন্য হয়ে পড়ায় এখানে নদীর মুখ্য কাজ হল সঞ্চয় করা। এই অংশে হ্রাসপ্রাপ্ত নদীর জল এবং অতিরিক্ত ক্ষয়জাত পদার্থের বোঝা সঞ্চয়ের আদর্শ পরিবেশ গড়ে তোলে।

উ:- কোনো নদী যখন উৎস থেকে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে খরবেগে প্রবাহিত হয়, তখন নদীর ওই গতিকে উচ্চ বা পার্বত্য গতি বলে। এই সময় নদীর জলরাশির প্রবল স্রোত ও নদীবাহিত শিলাখণ্ডের সংঘর্ষে নদীর তলদেশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বিভিন্ন ভূমিরূপ গঠন করে। সেগুলি নীচে আলোচনা করা হল-

1) 'I' ও 'V' আকৃতির উপত্যকা : পার্বত্যপ্রবাহে নদী প্রবলবেগে প্রবাহিত হয় বলে নিম্নক্ষয় খুব বেশি, কিন্তু পার্শ্বক্ষয় খুব কম হয়। ফলে এই অংশে সংকীর্ণগভীর আকৃতির উপত্যকা গঠিত হয়। পরবর্তীকালে জলপ্রবাহ, ধস প্রভৃতি কারণে ‘।' আকৃতির উপত্যকা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে 'V’ আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি করে।

2)মন্থকূপ : নদীর গতিপথে কোমল শিলা অবস্থান করলে নদীর জলের সঙ্গে বাহিত প্রস্তরখণ্ড, নুড়ি, বালি প্রভৃতি ঘুরতে ঘুরতে অগ্রসর হয়ে অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় নদীখাতে ছোটো ছোটো প্রায় গোলাকার গর্তের সৃষ্টি করে। এদের মন্থকূপ বা পটহোল বলে। বেলেপাথর বা গ্রানাইট পাথরে গঠিত নদীখাতে সাধারণত ম্যকূপের সৃষ্টি হয়। যেমন— জব্বলপুরের পূর্বদিকে গৌর নদীর তলদেশে এরূপ অনেক মন্থকূপ রয়েছে।

3)গিরিখাত বা ক্যানিয়ন : নদীর পার্বত্যপ্রবাহে যদি পার্বত্য জএলের কোনো শিলাস্তর অপেক্ষাকৃত কম কঠিন হয় এবং সেই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত যদি বেশি হয়, তাহলে সেখানে নদী পাশের দিকে ক্রমশ ক্ষয়সাধন করতে থাকে। এর ফলে নদী-উপত্যকা খুব সংকীর্ণ ও গভীর আকার ধারণ করে। তখন এই উপত্যকাকে দেখতে অনেকটা ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো হয়। পার্বত্যপ্রবাহে ইংরেজি ‘V’ আকৃতির নদী উপত্যকা অত্যন্ত তীর ও সংকীর্ণ হলে, তাকে গিরিখাত বলে। যেমন— পেরুর এল ক্যানন দ্য কলকা পৃথিবীর গভীরতম গিরিখাত

বৃষ্টিবিরল স্থানে নদীর নিম্নক্ষয়ের ফলে এই উপত্যকা আরও গভীর হলে দেখতে ইংরেজি ‘।‘ অক্ষরের মতো হয়। তখন একে ক্যানিয়ন বলে।

 উদাহরণ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন

4)জলপ্রপাত: নদী উপত্যকার কোনো অংশ কোমল শিলায় আবার কোনো অংশ  কঠিন শিলায় গঠিত হলে অথবা কঠিন ও নরম শিলা আনুভুমিকভাবে অবথান করলে উচ্চগতিতে নদীর  ক্ষয়কার্যের  সময়  জলস্রোত এই কঠিন শিলায় বিশেষ ক্ষয়সাধন করতে পারে না, কিন্তু কোমল শিলা ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় স্থানটি অনেক নীচু হয়ে যায় এবং ধাপের সৃষ্টি হয়। ফলে জলরাশি উঁচু থেকে নীচে সোজাসুজি প্রচণ্ড বেগে পড়তে থাকে। উচ্চভূমি থেকে নীচে জলপ্রবাহের এই বেগবান পতনকে জলপ্রপাত বলে। যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লরেন্স নদীর ওপর নায়াগ্রা জলপ্রপাত বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

5)খরস্রোত: নদীর গতিপথে কোমল ও কঠিন শিলাস্তর পাশাপাশি উল্লম্বভাবে সাজানো থাকলে নদীর ক্ষয়কার্যের তারতম্যের ফলে নদী উপত্যকায় একাধিক ধাপের সৃষ্টি হয় এবং জলস্রোত ধাপে ধাপে নীচে নেমে আসে, একে খরস্রোত বলে।

6)আবদ্ধ শৈলশিরা : পার্বত্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় বিভিন্ন শৈলশিরা নদীর গতিপথে বাধার সৃষ্টি করে। এর ফলে নদীকে এঁকেবেঁকে একটার পর একটা বাধা অতিক্রম করে অগ্রসর হতে এসব শৈলশিরাকে বলা হয় আবদ্ধ শৈলশিরা বা ইন্টারলকিং স্পার বা অন্তবদ্ধ শৈলশিরার অভিক্ষিপ্তাংশদূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন দুই পাশ থেকে শৈলশিরাগুলি উপত্যকায় নেমে এসে পরস্পর হয়েছে।

উ:-সাধারণত নদী মধ্যগতিতে বা সমভূমি প্রবাহে ক্ষয় ও সঞ্চয়কার্য করে থাকে। মধ্যগতিতে নদীর কার্যের ফলে যেসব ভূমিরুপ গঠিত হয়, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল –

1)মিয়েন্ডার: সমভূমি প্রবাহ বা মধ্যগতিতে ভূমির ঢাল কমে বলে নদী ধীরগতিতে যায় প্রবাহিত হয়। ফলে নদী সামান্য বাধা পেলেই এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়। নদীর এই বাঁককেই আঁকাবাঁকা নদী বলে। গ্রিক পুরাণের নদীর দেবতা মায়াড্রস (Maindros)-এর নাম অনুযায়ী যে-কোনো নদীর আঁকাবাঁকা গতিপথকে মিয়েন্ডার বলে।

2)বালুচর বা নদী দ্বীপ : সমভূমি প্রবাহে নদীর শক্তি কমে যাওয়ায় গতিপথে কোনো বাধা পেলে তা এড়িয়ে চলার জন্য নদী আঁকাবাঁকা পথে অগ্রসর হয়। সমভূমি অঞ্চলে নদী বাঁক ঘোরবার সময় তার বিপরীত দিকে পলি সঞ্চয়ের ফলে ওই স্থান উঁচু হয়ে বালুচরের সৃষ্টি করে। এ ছাড়াও নদীর মাঝে মাঝে নুড়ি, কাঁকর, কাদা, পলি জমেও নদী কোথাও কোথাও দ্বীপের সৃষ্টি করে। যেমন— ব্রহ্মপুত্র নদীর মাজুলি দ্বীপ ভারতের বৃহত্তম একটি নদীচর

3)অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ : সমভূমি অঞ্চলে কোনো কোনো নদীতে অসংখ্য বাঁক দেখা যায়। নদীর এই বাঁক ক্রমশ আয়তনে বৃদ্ধি পায় এবং একসময় বাঁকের মধ্যবর্তী স্থান সংকীর্ণ হয়ে পরস্পর কাছে এসে ক্ষয় পেয়ে দুটি বাঁক মিলিত হয় এবং নদী সোজাপথে চলতে থাকে। ফলে ফেলে রাখা নদীর বাঁকটিতে জল জমে হ্রদের সৃষ্টি হয়। এই হ্রদের আকৃতি অনেকটা ঘোড়ার ক্ষুরের মতো বলে একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে। যেমন - মুরশিদাবাদ জেলায় গঙ্গা নদীর দুপাশে এ ধরনের হ্রদ দেখতে পাওয়া যায়।

4)চওড়া অগভীর নদী উপত্যকা : মধ্যগতিতে নদীর নিম্নক্ষয় প্রায় থাকে না, কিন্তু নদীবাহিত পদার্থসমূহ নদীগর্ভে সঞ্চিত হতে থাকে এবং পার্শ্বক্ষয় চলতে থাকে। ফলে নদী উপত্যকা চওড়া ও অগভীর হয়।

5)নদীর খাড়া পাড় ঢালু পাড় : সমভূমিতে নদীর গতিপথে চরা পড়লে নদীপথ ক্রমশ ধনুকের মতো বেঁকে যেতে থাকে। এইভাবে নদীর বেঁকে যাওয়া অংশে অতিরিক্ত ক্ষয়ের ফলে খাড়া পাড়ের সৃষ্টি হয়। খাড়া পাড়ের উলটোদিকে নদীর স্রোত কম থাকায় কিছুটা সঞ্চয়কার্য চলে। ফলে ওই দিকে ঢালু পাড় সৃষ্টি হয়।

উ:-সাধারণত নদী নিম্নপ্রবাহে এসে তার গতি হারিয়ে ফেলে এবং  সঞ্চয়কার্য শুরু করে। নদীর নিম্নপ্রবাহে সঞ্জয়কার্যের ফলে গঠিত  ভূমিরূপগুলি হল—

1)প্লাবনভূমি : সমভূমি অঞ্চলে জলস্রোত কমে যাওয়ার দরুন নদী তার তলদেশে নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি সঞ্চয় করে নিজের গভীরতা কমিয়ে দেয়। তাই বর্ষাকালে নদীর জলের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে  দু-কূল প্লাবিত করে দুধারে নদী প্রচুর পরিমাণে পলি, কাকর, বালি সঞ্জয়  করে যে ভূমিরূপ সৃষ্টি করে, তাকে প্লাবনভূমি বলে। যেমন— গঙ্গা,  নিল, ইয়াংসি নদীর নিম্ন অববাহিকায় প্লাবনভূমি রয়েছে। প্লাবনভূমিতে  স্বাভাবিক বাঁধ, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, জলাভূমি প্রভৃতি দেখা যায়।

2)স্বাভাবিক বাঁধ বা লেভি : সমভূমি অঞ্চলের কোনো কোনো  স্থানে নদী নুড়ি, কাঁকর, কাদা, বালি ইত্যাদি উভয় তীর বরাবর সঞ্চয়  করে। ধীরে ধীরে ওই সঞ্চয় নদীর দুধারে বাঁধের সৃষ্টি করে।  স্বাভাবিকভাবে এই বাঁধ তৈরি হয় বলে একে স্বাভাবিক বাঁধ বা লেডি  বলে। স্বাভাবিক বাঁধের উচ্চতা 2 – 3 মিটার পর্যন্ত হয়।

3)বালুচর: সমভূমি প্রবাহে নদীর শক্তি কমে যাওয়ায় গতিপথে  কোনো বাধা পেলে তা এড়িয়ে চলার জন্য নদী আঁকাবাঁকা পথে অগ্রসর  হয়। সমভূমি অঞ্চলে নদী বাঁক ঘোরবার সময় তার বিপরীত দিকে পলি  সঞ্চয়ের ফলে ওই স্থান উঁচু হয়ে বালুচরের সৃষ্টি করে। এ ছাড়াও  নদীর মাঝে মাঝে নুড়ি, কাঁকর, কাদা, পলি জমেও নদী কোথাও  কোথাও দ্বীপের সৃষ্টি করে। যেমন— ব্রহ্মপুত্র নদীর মাজুলি দ্বীপ ভারতের বৃহত্তম একটি নদীচর

4)বিনুনি নদী: কোনো নদীর মধ্যে অসংখ্য চর বা নদী দ্বীপের  সৃষ্টি হলে নদী বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিনুনির (Braided) মতো  প্রবাহিত হয়, একে বিনুনি নদী বলে।

5)অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ : সমভূমি অঞ্চলে কোনো কোনো নদীতে  অসংখ্য বাক দেখা যায়। নদীর এই বাক ক্রমশ আয়তনে বৃদ্ধি পায় এবং    একসময় বাঁকের মধ্যবর্তী স্থান সংকীর্ণ হয়ে নিজেদের কাছে এসে ক্ষয়  পেয়ে দুটি বাঁক মিলিত হয় এবং নদী সোজা পথে চলতে থাকে। ফলে  ফেলে রাখা নদীর বাঁকটিতে জল জমে হ্রদের সৃষ্টি হয়। এই হ্রদের  আকৃতি অনেকটা ঘোড়ার ক্ষুরের মতো বলে একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ  বলে। যেমন— মুরশিদাবাদ জেলায় গঙ্গা নদীর দুপাশে এ ধরনের হ্রদ  দেখতে পাওয়া যায়।

6)বদ্বীপ : নদী যখন মোহানার কাছে পৌঁছোয় তখন নদীতে  একেবারে  থাকে না। দীর্ঘদিন  নদীবাহিত  বালি,  পলি, কাদা নদীর  কাছে  মোহানার  সঞ্চিত হয়ে   মাত্রাবিহীন বাংলা ‘ব’ অক্ষরের মতো দ্বীপের সৃষ্টি করে। এখানে নদী  বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে সাগরে গিয়ে মেশে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের মিলিত  বদ্বীপ পৃথিবীর মধ্যে বৃহত্তম মোহানার নিকট পলি সঞ্চিত হয়েও দ্বীপ  গঠিত হয়। যেমন—  হুগলি নদীর মোহানায় সাগর দ্বীপ। হাড়িয়াভাঙা  নদীর মোহানার অনতিদূরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন দ্বীপ পূর্বাশা।

উ:- নিম্নগতিতে মোহানার নিকট নদীবাহিত পলিসমূহ সঞ্জিত  হয়ে গ্রিক অক্ষর ‘Δ’ (ডেল্টা) বা বাংলা অক্ষর মাত্রাহীন 'ব'-এর মতো  যে বিস্তীর্ণ সমতল ভূভাগ গঠন করে, তাকে বদ্বীপ বলে। বিভিন্ন  বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বদ্বীপকে কতকগুলি ভাগে বিভক্ত করা যায়।

1)ত্রিকোণাকৃতি বদ্বীপ : প্রধান নদী ও শাখানদীর মিলনস্থলে  শাখানদীবাহিত পলিসমূহ সঞ্চিত হয়ে ত্রিকোণাকার বদ্বীপ গঠন  করে। পার্বত্য বা মরু অঞ্চলের ছোটো  ছোটো নদী এরূপ প্রকার  বদ্বীপ গঠন করে। এই  বদ্বীপকে  ধনুকাকৃতি বদ্বীপও  বলা হয়। ইংরেজিতে একে ‘Arcuate Delta’ বলা হয় । যেমন-  ভূমধ্যসাগর নিলনদ, হোয়াংহো,গোদাবরী, মহানদীতে এ ধরনের বদ্বীপ দেখতে পাওয়া যায়।

2)হ্রদ বদ্বীপ : নদী  তার পলিসমূহ নিয়ে হ্রদে  পতিত হয়ে সেখানে  বদ্বীপ গড়ে তোলে। যেমন- ইউরোপে কাস্পিয়ান  সাগরে পতিত ভlল্‌গা নদী এরূপ  বদ্বীপের সৃষ্টি করেছে।

3)সমুদ্র বদ্বীপ :  মোহানা  অঞ্চলে  নদীবাহিত পলি, কাদা, বালি সমুদ্র দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সঞ্চিত হয় এবং  সমুদ্র বদ্বীপ গঠন করে। যেমন— বঙ্গোপসাগর, ভূমধ্যসাগরে বিভিন্ন  নদীর মোহানায় বদ্বীপ গড়ে উঠেছে।

4)পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ : বদ্বীপের আকৃতি অনেকসময়  পাখির পায়ের মতো হয়। যেমন— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি  নদীর বদ্বীপ এই আকৃতির ।

5)খাঁড়ীয় বদ্বীপ : দীর্ঘ ও সংকীর্ণ খাঁড়ির মধ্য দিয়ে নদী সমুদ্রে পতিত  হলে নদীর বদ্বীপ একটি খাঁড়ির আকার ধারণ করে। এই প্রকার বদ্বীপকে  খাঁড়ীয় বদ্বীপ বলে। জার্মানির রাইন নদীতে খাঁড়ীয় বদ্বীপ দেখা যায়।

 

উঃ- জনজীবনে নদীর প্রভাব অপরিসীম। নদী যে-কোনো সভ্যতা সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন— প্রাচীনকালে নিল নদের তীরে মিশরীয় সভ্যতা, সিন্ধুনদের তীরে সিন্ধুসভ্যতা এবং বর্তমানে গঙ্গা, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, ইয়াংসি কিয়াং, হোয়াংহো, টেম্স প্রভৃতি নদীতে কেন্দ্র করে সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে। মানবজীবনে নদীর প্রভাবগুলি হল-

1)বসতি গঠন : নদীর সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত বদ্বীপ বা সমভূমি অঞ্চলে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের বসতি স্থাপিত হয়েছে এবং নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে বিখ্যাত শহর গড়ে উঠেছে। যেমন- কলকাতা,বারাণসী, এলাহাবাদ প্রভৃতি।

2)জলের জোগানঃ পানীয়  জল থেকে কৃষিকাজ বা শিল্পের  প্রয়োজনীয় জল সরবরাহ সবই নদীর ফলের জোগান  দ্বারা হয়ে থাকে। তাই নদীর তীরবর্তী  অঞ্চলগুলি কৃষি ও শিল্পে উন্নত ও  ঘনবসতিযুক্ত।

3)কৃষিকাজ : নদীর নবীন  পলিমাটি  প্লাবনভূমি  কৃষিকাজের পক্ষে আদর্শ। যেমন— ভারতের গাঙ্গেয় সমভুমি অঞ্চলে কৃষিকাজ উন্নতি লাভ করেছে। আবার মরুপ্রায় মিশরে নিলনদের পলিসমৃদ্ধ অঞ্চলও কৃষিকাজে উন্নত।

4)মৎস্য চাষ : নদীর মৎস্য শিকারকে কেন্দ্র করে নদীর মোহানা সংলগ্ন অঞ্চলের মানুষ মৎস্য শিকার ও মৎস্যচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন ।

5)জলবিদ্যুৎ উৎপাদন : মূলত পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চলের খরস্রোতা নদীগুলি থেকে টারবাইন ঘুরিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় ।বর্তমানে পরিবেশবান্ধব এই বিদ্যুৎ শক্তির ব্যবহার ও চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

6)বন্দর গঠন : নদীর মোহানায় প্রধান নদী বন্দর এবং অন্যান্য স্থানে স্থানীয় নদী বন্দর গড়ে উঠলে দেশের ব্যাবসাবাণিজ্য উন্নতিলাভ করে।

উ:- নদীর শক্তি যে বিষয়গুলির ওপর নির্ভর করে সেগুলি হল –   1)ভূমির ঢাল : ভূমির ঢাল যত বেশি হয় নদীর শক্তি (প্রধানত   ক্ষয় ও বহন করার ক্ষমতা) তত বেশি হয়। ভূমির ঢাল কমলে নদীর   শক্তিও কমে যায়। 2)নদীতে জলের পরিমাণ : নদীতে জলের   পরিমাণ বাড়লে নদীর ক্ষয় ও বহন শক্তি বাড়ে এবং জলের পরিমাণ   কমলে নদীর ক্ষয় ও বহন শক্তি কমে। 3)জলের গতিবেগ : নদীতে   জলের গতিবেগ যত বেশি হয় নদীর নিম্নক্ষয় করার শক্তি এবং বহন   ক্ষমতা তত বেশি হয়। জলস্রোতের বেগ কম হলে নদীর এই শক্তি কমে   যায়। 4)নদীবাহিত বস্তুর আকার, ওজন ও পরিমাণ : নদীবাহিত   বস্তুগুলি যদি আকৃতিতে ছোটো, হালকা এবং পরিমাণে কম হয়, তবে   নদীর বহন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আবার বাহিত বস্তুর ওজন ও পরিমাণ   বৃদ্ধি পেলে নদী তা বহন করতে না পেরে তলদেশে সঞ্চয় করে ।5)শিলার প্রকৃতি : নদীর তলদেশে শিলার প্রকৃতি নদীর ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। তলদেশের শিলা প্রকৃতিতে কঠিন হলে তা কম   ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নদীর বোঝার পরিমাণ হ্রাস করবে, যা পরোক্ষভাবে   নদীর বহন ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করবে।

উ:- নদী প্রধানত পাঁচটি পদ্ধতিতে ক্ষয়কার্য করে থাকে। যথা—  1) জলপ্রবাহ ক্ষয় : নদীবাহিত জলের আঘাতে নদীর তলদেশ। দুই পাড় ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সাধারণত অপেক্ষাকৃত কোমল ও অসংলগ্ন শিলাখণ্ডই নদীর জলপ্রবাহ দ্বারা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত ও অপসারিত হলে,   তাকে জলপ্রবাহ ক্ষয় বলে। 2)অবঘর্ষ ক্ষয় : নদীবাহিত প্রস্তরখন্ড   দ্বারা নদীখাতের (নদীর দুই পাড় ও তলদেশ) ক্ষয়কে অবঘর্ষ ক্ষয়   বলে।3)ঘর্ষণ ক্ষয় : নদীবাহিত প্রস্তরখণ্ডগুলি পরস্পরের সঙ্গে ঘষা   লেগে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং আয়তনে ক্রমশ ছোটো হতে হতে অবশেষে   নুড়ি ও বালিকণায় পরিণত হয়। একে ঘর্ষণ ক্ষয় বলে। 4)দ্রবণ ক্ষয় : চুনাপাথর ও খনিজ লবণ সমৃদ্ধ শিলাস্তর নদীর জলে দ্রবীভূত   অম্লের প্রভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়, এই প্রকার ক্ষয়কে দ্রবণ ক্ষয় বলে।5)বুদ্‌বুদ্‌ ক্ষয় : নদীর স্রোত মধ্যস্থিত বুদ্বুদের মধ্যে বাতাসের   প্রবল চাপ থাকে। ওই বুদ্‌বুদ্‌ যখন ফেটে যায় তখন তার মধ্যস্থিত   বাতাসের চাপে নদী মধ্যস্থ শিলাতে ফাটল ধরে এবং তা ক্ষয়প্রাপ্ত   হয়, একে নদীর বুদবুদ ক্ষয় বলে।

উ:- নিম্নলিখিত চারটি প্রক্রিয়ায় নদী প্রস্তরখণ্ড, বালি, কাদা বহন   করে থাকে, যথা— 1) দ্রবণ প্রক্রিয়ায় বহন : নদীর গতিপথে লবণ   বা চুনজাতীয় প্রস্তরখণ্ড থাকলে তাকে দ্রবীভূত করে জলস্রোতের   সঙ্গে নদী বহন করে থাকে। 2)ভাসমান প্রক্রিয়ায় বহন : ক্ষুদ্রাকার   ও কম ওজনের পাথর, বালি বা কাদার কণা নদীস্রোতে চক্রাকারে   ঘুরতে ঘুরতে একস্থান থেকে অন্যত্র ভেসে যায় এবং নদী এগুলিকে   ভাসমান অবস্থায় বহন করে থাকে।3)লম্ফদান প্রক্রিয়ায় বহন : নদীর স্রোতের টানে কিছু কিছু শিলাখণ্ড নদীখাতে বারবার ধাক্কা খেয়ে   লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে চলে এবং কালক্রমে নদীপথে বাহিত হয়।   4)আকর্ষণ প্রক্রিয়ায় টানের মাধ্যমে বহন : নদীগর্ভে পতিত   বিভিন্ন রকম ভারী প্রস্তরখণ্ড স্রোতের টানে নদীর তলদেশ দিয়ে বোঝা   হিসেবে (Bed load) গড়িয়ে গড়িয়ে অন্যত্র বাহিত হয়।

উঃ- পার্বত্য প্রবাহে ক্ষয়কার্যের ফলে নদী-উপত্যকা নিম্নরূপ দুটি   পদ্ধতিতে প্রথমে  '|’ ও পরে 'V' আকৃতি ধারণ করে -

1) পার্বত্যপথের প্রথম অবস্থায় নদীর উপনদীর সংখ্যা কম থাকায়   জল ও শিলার জোগান পর্যাপ্ত থাকে না। কিন্তু নদীর ঢাল খুব বেশি   হওয়ায় নদী নিম্নক্ষয় করে ‘|’ আকৃতির নদী-উপত্যকার সৃষ্টি করে।

2)নদীর পার্বত্যপথের দ্বিতীয় অবস্থায় ইংরেজি ‘।” আকৃতির   নদী-উপত্যকার দু-পাশ ধস, বৃষ্টির জল বা আবহবিকারের ফলে ক্ষয়   পেতে থাকে এবং নদী-উপত্যকার আকৃতি ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের মতো হয়।

উ:- সমভূমি অঞ্চলে নদী উপত্যকা প্রশস্ত ও অগভীর হয়। কারণ— 

1)কম ঢাল : সমভূমি অঞ্চলে ভূমির ঢাল কমে যাওয়ায় নদীর   স্রোতের বেগ কমে যায়। ফলে নদীর নিম্নক্ষয় করার ক্ষমতাও হ্রাস পায়।

2)পার্শ্বক্ষয় বৃদ্ধি : নদীর বেগ কমে যাওয়ায় জল দুইপাশে   ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। উপরন্তু এই অঞ্চলের পার্শ্বদেশে কঠিন।   পাথরের দেয়াল না থাকায় পার্শ্বক্ষয় বৃদ্ধি পায়। ফলে নদী উপত্যকা   চওড়া বা প্রশস্ত হতে থাকে।

3)নদীগর্ভে সঞ্চয় : নদীর বেগ কমে যাওয়ায় নদীবাহিত পলি,   বালি, কাদা প্রভৃতি নদীগর্ভে সঞ্চিত হতে থাকে। ফলে নদী উপত্যকা   ক্রমশ অগভীর হয়ে পড়ে।

উ:- সমভূমি প্রবাহের পর নদী যখন প্রায় সাগরের নিকটবর্তী স্থানে   এসে পড়ে তখন ভূমির ঢাল একেবারে কমে যায়, ফলে নদীর গতিবেগও   কমে যায়। এই গতিকে নদীর নিম্নগতি বা বদ্বীপ প্রবাহ বলে।

নিম্নপ্রবাহে নদীর কাজ : নিম্নগতিতে নদী অত্যন্ত ধীর   গতিতে প্রবাহিত হয় বলে পলি, বালি বহনক্ষমতাও একেবারে কমে   যায়। ফলে সেগুলি নদীগর্ভে সঞ্চিত হয়, অর্থাৎ, নিম্নপ্রবাহে নদীর   প্রধান কাজ সঞ্জয়। সঞ্জয়কার্যের দ্বারা নদী এই গতিতে প্লাবনভূমি, স্বাভাবিক বাঁধ, বদ্বীপ প্রভৃতি গঠন করে।

উ:- নিম্নগতিতে ভূমির ঢাল একদম থাকে না বলে নদীর স্রোতের   বেগ ও বহনক্ষমতা দুই-ই কমে যায়। ফলে নদীবাহিত পলি, বালি   মোহানা অঞ্চলে সজ্জিত হতে থাকে যা বদ্বীপ গঠন করে। বদ্বীপ   গঠনের পর্যায়গুলি হল –

1)নদীর মোহানায় সূক্ষ্ম পলির সঞ্চয় বৃদ্ধি।2)নদীগর্ভ অধিক   পলি সঞ্জয় দ্বারা ভরাট হয়ে উঁচু হয়ে ওঠে, ফলে নদীর গভীরতা কমে   যায়।3)ভূমি ঢালের অভাবে নদীতে স্রোত থাকে না বলে একটু বাধা   পেলেই নদী শাখাপ্রশাখায় বিভক্ত হয়ে প্রবাহিত হয়। 4)নদীর দুই   শাখার মধ্যবর্তী অংশে পলি সঞ্চয় ঘটে। 5) নদীর সঙ্গে সমুদ্রতরঙ্গ   বাহিত পলিরও সঞ্জয় ঘটে, ফলে নদী ও সমুদ্র দুয়ের পলির সমন্বয় হয়। 6)এরপর মাত্রাহীন ‘ব’-এর মতো বা গ্রিক অক্ষর ডেল্টার (Δ)   মতো আকৃতির পরিণত বদ্বীপের উৎপত্তি ঘটে।

নিম্নলিখিত কারণে নদীর বদ্বীপ প্রবাহে শাখানদী সৃষ্টি হয় –

1)ভূমির ঢাল হ্রাস : নিম্নগতিতে বিশেষত মোহানার কাছে   নদীর গভীরতা ও ঢাল খুব কমে যায়, প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ   জলের পরিমাণ বেশি থাকে। আবার গতিবেগও কম থাকে। তাই   কোনো শিলায় সামান্য বাধা পেলেই নদী সেই বাধা অতিক্রম না করে   তাকে এড়িয়ে বিভিন্ন শাখায় ভাগ হয়ে প্রবাহিত হয়।

2)নদীবক্ষে বালুচরের আধিক্য : নিম্নগতিতে নদীর গতিবেগ   কম অথচ বোঝা প্রচুর ফলে নদী নদীগর্ভেই সঞ্জয় শুরু করে, ফলে   নদীবক্ষে বালুচরের আধিক্য ঘটে। পরে নদীর জলপ্রবাহ ওই বালুচরে   বাধা পেয়ে শাখানদীতে ভাগ হয়ে জল পরিবহণ করে।

3)নদীতে বাহিত বোঝার পরিমাণ : এই সময় নদীতে বোঝার   পরিমাণ বেড়ে যায় কিন্তু নদীর গতি কমে যাওয়ায় বোঝা বহন করতে   না পেরে সঞ্চয় করতে থাকে। ফলে নদীবক্ষে বালুচর এবং মোহানার   কাছে ছোটো ছোটো বদ্বীপ গড়ে ওঠে এবং নদীটি বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত   হয়ে পড়ে।

 

 

উ:- পার্বত্য অঞ্চল পার হয়ে নদী যখন সমভূমিতে নেমে আসে।   তখন ভূমির ঢাল হঠাৎ   কমে যাওয়ায় নদীর   বহন   ক্ষমতা ও   স্রোতবেগ দুই-হঠাৎ   কমে যায়ফলে   পর্বতের পাদদেশে   নদীবাহিত পলি, কাঁকর,   নুড়ি-বালি প্রভৃতি জমে   যে তিনকোণা ভূমিভাগ   গঠন করে, তাকে পলল শঙ্কু বা পলি শঙ্কু (Alluvial Cone) বলে।   পলল শঙ্কুর ওপর দিয়ে নদী বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত হলে পলল শঙ্কু   অর্ধগোলাকার আকৃতিতে ভাগ হয়ে যে হাতপাখা আকৃতির ভূমিভাগ   গঠন করে, তাকে পলল ব্যজনী (Alluvial Fan) বলে। পাশাপাশি   কয়েকটি পলল ব্যজনী মিলিত হয়ে পলিমঞ্চ গঠন করে।

উ:- সাধারণত দুটি নদী অববাহিকাকে যে উচ্চভূমি বা পর্বতশ্রেণি একে অপরের থেকে পৃথক করে রাখে, তাকেই জলবিভাজিকা বলা হয়। যেহেতু বেশিরভাগ জলবিভাজিকা উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল কেন্দ্রিক  হয় এবং এই অঞ্চলে নদীর বেগ যথেষ্ট বৃদ্ধি পায় তাই পার্শ্ববর্তী   নদীদ্বয়ের দ্বারা জলবিভাজিকা ক্রমে ক্ষয় পেতে থাকে। ফলস্বরূপ-   1)জলবিভাজিকাটি ক্রমশ সংকীর্ণ হতে থাকবে।2)জলবিভাজিকা ক্রমশ সংকীর্ণ হলে সেই অঞ্চলে নদীগ্রাস ঘটবে। 3)নদীগ্রাস ঘটার   দরুণ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ব্যাপক প্লাবন সৃষ্টি হবে। 4)এর প্রভাবে   সামগ্রিকভাবে ওই অঞ্চলে ব্যাপক ভূমিধস ঘটবে।

উ:- মানবজীবনে নদীর প্রভাব অপরিসীম হলেও মানুষের কিছু  কার্যাবলি নদীর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে যা আসলে মানুষেরই   সমূহ বিপদ ডেকে এনেছে। যেমন- 1)শিল্পাঞ্চল ও শহরের   বর্জ্যপদার্থ ও জল অবাধে নিকাশি নালা ও খালের মাধ্যমে নদীতে   ফেলার ফলে জলদূষণ এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে বর্তমানে পানীয় জলের  সংকট দেখা দিয়েছে।2) শিল্পাঞ্চলের দূষিত উয় জল নদীর জলের   দূষণ ঘটিয়ে জলজ প্রাণীর বিনাশ তথা খাদ্যশৃঙ্খলে বিপর্যয় ডেকে  এনেছে।3)বহুমুখী নদী পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে নদীতে বাঁধ দেওয়ার   ফলে প্রধান নদী উপত্যকাটি জলাভাবে শুষ্ক হয়ে পড়ছে (ফারাক্কা  ব্যারেজ)। 4)কৃষিজমি থেকে ধুয়ে আসা পলি নদীবক্ষ ভরাট করে   ভয়াবহ বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।5)অতিমাত্রায় নগরায়ণ ও   শিল্পায়ন শুধু জলের চাহিদা বৃদ্ধি করেনি, এটি দূষণের তথা বাস্তুতান্ত্রি   ভারসাম্য বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উ:- সংজ্ঞা : কোনো অঞ্চলের ওপর দিয়ে কোনো একটি নদী প্রবাহিত হওয়ার সময় যখন নদীটি মোহানার সন্নিকটে এসে পৌছায় তখন আর একটি মাত্র নদীখাত (অগভীর) দিয়ে সমস্ত জল নিষ্কাশিত হতে পারে না। তখন জলপ্রবাহ বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। এইসব শাখাগুলোকে বলা হয় মূল নদীর শাখানদী

উদাহরণ: ভাগীরথী-হুগলি নদী হল গঙ্গা নদীর শাখানদী।

কাজ : শাখানদীগুলো প্রধান বা মূল নদী থেকে জল ভাগ

করে নিয়ে গিয়ে সমুদ্রে পৌঁছে দেয়। কখনো-কখনো শাখানদী দেশের

ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও প্রবাহিত হয়।

উ:- যে-সকল নদীতে সারাবছর জলপ্রবাহ প্রায় থাকে না তাদের অনিত্যবহ নদী বলে। মূলত নদীর জলপ্রবাহ নির্ভর করে নদীর উৎস অর্থাৎ নদীর জলের উৎসের ওপর। নদীর জলের উৎস যদি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বরফ গলা জল হয় কিংবা সারাবছর বৃষ্টিযুক্ত নিরক্ষীয় অঞ্চল হয় তবে নদীতে সারাবছর প্রচুর জলপ্রবাহ লক্ষ করা যায়, এগুলিকে নিত্যবহ নদী বলে। কিন্তু অনিত্যবহ নদীগুলি কম উঁচু পাহাড় বা মালভূমিতে সৃষ্টি হওয়ায় জলের উৎস সাধারণত বৃষ্টিপাত। তাই বর্ষাকাল ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ে বিশেষত শুষ্ক ঋতুতে জল থাকে না৷

উ:- নদীর নিম্নগতিতে প্রায়ই বন্যার কারণগুলি হল –

1)জলের জোগান বৃদ্ধি : নদীর উপনদীর সংখ্যা বেশি হলেতাদের মাধ্যমে বাহিত জল মোহানার কাছে প্রধান নদীখাতের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়, ফলে নদীতে জলের জোগান বৃদ্ধি পায়।

2)ভূমি ঢালের হ্রান্স : নিম্নগতিতে ভূমিঢাল প্রায় থাকে না ফলেনদীর গতিবেগ একদমই থাকে না, নদী অল্প বাধা পেলেই বাঁক নেয়।

3)অগভীর নদীখাত : ভূমি ঢাল ও নদীস্রোত প্রায় থাকে নাবলে নিম্নগতিতে নদী প্রধানত সঞ্চয় করে। উচ্চ ও মধ্যগতি থেকে ক্ষয়িত ও বাহিত পলি, বালি নিম্নগতিতে নদীবক্ষে জমা হতে থাকে,ফলে নদীখাত ক্রমশ ভরাট হয়ে অগভীর হয়ে পড়ে।

4)অতিরিক্ত বর্ষণ : বর্ষাকালে অতি বৃষ্টির ফলে জলেরজোগান হঠাৎ বৃদ্ধি পায়, অথচ নদীগর্ভ অগভীর থাকায় ওই জল বহনকরতে পারে না, ফলে দুকূল ছাপিয়ে বন্যা সৃষ্টি হয়।

উ:- সংজ্ঞা : ভূপৃষ্ঠের কোনো একটি অঞ্চলে একই ঢালের ওপরদিয়ে বিভিন্ন নদী প্রবাহিত হওয়ার সময় ছোটো নদীগুলোকে একেএকে এসে বড়ো নদীতে পড়তে বা মিলিত হতে দেখা যায়। এইসব ছোটো ছোটো নদীগুলোকে বড়ো নদীর উপনদী (Tributary) বলা হয় ।

উদাহরণ : উত্তর ভারতের সমভূমির ওপর দিয়ে যমুনা,গোমতী, গণ্ডক, কোশী, শোন ইত্যাদি নদীগুলো বয়ে গিয়ে একে একেগঙ্গা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এরা সকলেই গঙ্গার উপনদী ।

কাজ : উপনদীগুলি স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় এদের স্রোতও ভিন্নহয়। উপনদীগুলো অন্য স্থান থেকে জল এনে মূল বা প্রধান নদীরজলের যোগান বাড়িয়ে দেয় অর্থাৎ, মূল নদীতে জলের জোগানদেওয়াই উপনদীর প্রধান কাজ।

উ:- সংজ্ঞা : উচ্চগতি বা পার্বত্যপ্রবাহে নদী সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলধারা দিয়ে গঠিত হয় একটি  মূল বা প্রধান নদী। পার্বত্য অঞ্চলে এরূপ একটি মূল নদী এবং তার উপনদী ও শাখানদী বিধৌত অঞ্চলকে ওই নদীর ধারণ অববাহিকা (Catchment Basin) বলে।

বৈশিষ্ট্য : 1) ধারণ অববাহিকায় পতিত বৃষ্টির জল ওই নদীর মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। 2)ধারণ অববাহিকার বিস্তার যত বেশি হয় নদীতে জলের পরিমাণ তত বৃদ্ধি পায়। 3)ধারণ অববাহিকা শাখাযুক্ত বৃক্ষের ন্যায় দেখতে হয়।

উ:- যেসব নদী কোনো দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর দেশের অভ্যন্তরস্থ কোনো হ্রদ বা জলাভূমিতে গিয়ে মেশে অথবা প্রবাহপথে অন্তর্হিত হয়ে যায়, তাদের অন্তর্বাহিনী নদী বলে। যেমন— ভারতের লুনি, আনাসাগর হ্রদ থেকে উৎপন্ন হয়ে ধর মরু অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কচ্ছের রণে পড়েছে।

উ:- যে নদীতে সারাবছর জল থাকে তাকে নিত্যবহ নদী বলে। সাধারণত উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ সৃষ্ট তথা বরফগলা জলে পুষ্ট নদীতেই সারাবছর জল থাকে। মানচিত্রে এই নদীগুলি নীল রঙে অঙ্কন করা হয়। উদাহরণ— গঙ্গা নদী