Chapter-5, প্রাকৃতিক ঘটনা ও তার বিশ্লেষণ

উঃ-বায়ুর কম্পন বজ্রপাতের সময় শব্দ উৎপন্ন করে।

♦ রোজ কোনো একটি স্থানে বজ্রপাত হয় না কিন্তু পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রতিনিয়তই বজ্রপাত হয়ে চলেছে | পৃথিবী জুড়ে রোজ প্রায় চল্লিশ হাজার ঝড়বৃষ্টি হয়, যা থেকে প্রচুর বজ্রপাত হয়। ফলে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে বিভবপার্থক্য বজায় থাকে |

উঃ-শীতকালে প্লাস্টিকের চিরুনি দিয়ে শুকনো চুল আঁচড়ালে চিরুনিতে ঋণাত্মক তড়িদাধান জমে।

এই অবস্থায় চিরুনিটাকে ছোটো ছোটো কাগজের টুকরোর কাছে নিয়ে গেলে কাগজের টুকরো আকৃষ্ট হয়| আহিত চিরুনির প্রভাবে কাগজের টুকরোর যে দিকটা চিরুনির কাছে আছে সেই অংশে ধনাত্মক আধান জমে। একেই তড়িৎ আবেশ বলে।

চুল আঁচড়ে চিরুনিটাকে বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিলে, দেখা যায় চিরুনিটার আকর্ষণ ধর্ম একেবারেই নেই | সময় যথেষ্ট বেশি হলে চিরুনিটার আধান হয় বাইরে বেরিয়ে যায়, নয় বাইরে থেকে বিপরীত আধান চিরুনিতে চলে আসে এই ঘটনাই হল চিরুনির আধান ক্ষরণ হওয়া বা তড়িৎ ক্ষরণ হওয়া।

উঃ-কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িদাধানের প্রবাহকে তড়িৎপ্রবাহ বলে।

♦ তড়িৎপ্রবাহ ঘটতে গেলে পরিবাহী তার লাগবেই এটি ঠিক নয়। কারণ বায়ুর মধ্য দিয়ে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক তড়িৎকণার চলাচল ঘটলেও তাকে তড়িৎপ্রবাহ বলা হয়।

♦ LED-এর পুরো কথাটি হল Light Emitting Diode |

উঃ-মৌলিক পদার্থের যে ক্ষুদ্রতম কণার মধ্যে মৌলটির সব ধর্ম বর্তমান থাকে এবং যে কণা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, তাকে পরমাণু বলে। ।

♦ পরমাণু তড়িৎ নিরপেক্ষ। প্রশমিত অবস্থায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতগুলি প্রোটন থাকে বাইরের বিভিন্ন কক্ষপথে ঠিক ততগুলি ইলেকট্রন থাকে। কোনো পরমাণু সবচেয়ে বাইরের কক্ষ থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন বর্জন করলে, পরমাণুটিতে ইলেকট্রন সংখ্যার তুলনায় প্রোটন সংখ্যা বেশি হয়ে যায়।তখন পরমাণুটি ধনাত্মক আয়নে বা ক্যাটায়নে পরিণত হয়। আবার, কোনো পরমাণু বাইরের কক্ষে এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করলে, পরমাণুটিতে প্রোটন সংখ্যার তুলনায় ইলেকট্রন সংখ্যা বেশি হয়ে যায়। তখন পরমাণুটি ঋণাত্মক আয়নে বা অ্যানায়নে পরিণত হয় |

উঃ-সূর্যের তাপে ভূপৃষ্ঠের কোনো বিস্তৃত অঞ্চলের জলীয় বাষ্প ভরা বায়ু ওপরের দিকে উঠতে থাকে | আশেপাশের অঞ্চল থেকেও বায়ু ওই অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে ও ওপরের দিকে উঠতে থাকে | ওপরের বায়ুর উন্নতা ও চাপ অপেক্ষাকৃত কম থাকায় জলীয় বাষ্পে ভরা বায়ু ওপরে উঠে শীতল হয়। এর ফলে জলীয় বাষ্প জমে জলকণা তৈরি হয়| বাষ্প জমে জল হলে লীন তাপ নির্গত হয়। এই লীন তাপের প্রভাবে বাষ্প ও জলকণাপূর্ণ বায়ু আশপাশের বায়ুর তুলনায় গরম ও হালকা হয়ে আরও ওপরে উঠতে থাকে। একসময় জলকণাগুলি এতটাই ভারী হয়ে যায় যে বায়ুমণ্ডলে আর ভেসে থাকতে পারে না, মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে নীচে নামতে থাকে। বায়ুর ঊর্ধ্বমুখী গতিও জলকণাগুলির নীচে পড়া আটকাতে পারে না। এই অবস্থায় ঝড়ের মেঘের গঠন সম্পূর্ণ হয়। একটা সময় পরে বায়ুও হঠাৎ করে নীচে নামতে শুরু করে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়।

উঃ-ঝড়ে মেঘের ওপরে ওঠা ও নীচে নামার সময় জলকণাগুলি তড়িগ্রস্ত হয়। নীচের দিকে নামা জলকণাগুলি ঋণাত্মক তড়িদ্ গ্রস্ত এবং ওপরের দিকে ওঠা জলকণাগুলি ধনাত্মক তড়িদ্ গ্রস্ত হয়। এর ফলে সাধারণত মেঘের নীচের দিক ঋণাত্মক তড়িদ্ গ্রস্ত ও ওপরের দিক ধনাত্মক তড়িদ্ গ্রস্ত হয়ে পড়ে। ভূপৃষ্ঠ ও ওপরের আকাশের মধ্যে বিভবপার্থক্য থাকায় ভিন্ন আধানগুলি মেঘের মধ্যে দুটি আলাদা অঞ্চলে জমা হয়। সাধারণ সময়ে মাটি ঋণাত্মক তড়িদ্ গ্রস্ত হলেও মেঘের নীচের দিক প্রবল ঋণাত্মক তড়িদ্ গ্রস্ত হওয়ায় আবেশের ফলে মাটিতে ধনাত্মক তড়িৎ জমে। এভাবে তড়িৎ জমতে জমতে মেঘ ও মাটির বিভবপার্থক্য খুব বেশি হলে অত্যন্ত বড়ো স্ফুলিঙ্গের আকারে ঋণাত্মক তড়িদাধান মেঘ থেকে মাটিতে চলে আসে। এর ফলে ক্ষণস্থায়ী কিন্তু প্রবল তড়িৎপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। এটিই হল বজ্রপাত। এর ফলে বায়ু অত্যন্ত গরম হয়ে ওঠে এবং আলো বিকিরণ করে। এই সময় বাতাসে সাময়িক শূন্যতার সৃষ্টি হয়। এজন্যই বায়ুতে প্রবল কম্পন তৈরি হয় যা বজ্রপাতের সময় শব্দ উৎপন্ন করে।

উঃ-যে রোগগুলি এক ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে কোনো বাহক প্রাণীর মাধ্যমে বাহিত হয়, সেই রোগগুলিকে সংক্রামক রোগ বা ছোঁয়াচে রোগ বলে।

উদাহরণ: বসন্ত, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি |

উঃ-কোনো রোগ মহামারিতে পরিণত হবে কিনা তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলির পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা সম্ভব হয়—

1) রোগটির লক্ষণ বা উপসর্গ কী, 2) রোগটি কতটা এলাকা জুড়ে বিস্তার লাভ করেছে, 3) কোন্ এলাকায় বা স্থানে রোগটি প্রথম ধরা পড়েছে, 4) কোন্ সময় এই রোগটি ঘটেছে, 5) কোন্ বয়সের ব্যক্তিরা এতে আক্রান্ত হয়েছে, 6) এই রোগ বিস্তার লাভ করার কারণ কী, 7) কী কী ব্যবস্থা নিলে এই রোগটিকে এড়ানো যেতে পারত, ৪) কী করলে এই রোগের প্রকোপ থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব ইত্যাদি।

উঃ-মহামারি তিন প্রকার — 1) সাধারণ উৎস মহামারি, যেমন— জল, বায়ু, মাটি বা খাদ্যের বিষক্রিয়াজনিত রোগ, 2) সংক্রামক মহামারি, যেমন— ইনফ্লুয়েঞ্জা, ম্যালেরিয়া, বসন্ত ইত্যাদি, 3) অসংক্রামক রোগঘটিত মহামারি, যেমন— করোনারি হার্ট ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার ইত্যাদি।

উঃ-কলেরা রোগের জন্য দায়ী জীবাণু হল ভিব্রিও কলেরি (Vibrio cholerae) নামক ব্যাকটেরিয়া।

♦ কলেরা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রচণ্ড বমি করতে থাকে ও চাল ধোয়া জলের মতো পাতলা মল ত্যাগ করতে থাকে। এর ফলে রোগীর দেহ থেকে সব জল বেরিয়ে যেতে থাকে। শরীরে অম্ল-ক্ষারের ও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। শরীরের চামড়া ধোঁয়াটে নীল রঙের হয়ে যায়। পেশির অবসাদ ও ত্বক শিথিল হয়ে যায়।

উঃ-ম্যালেরিয়া: ম্যালেরিয়া কথার অর্থ খারাপ বায়ু। এটি একটি মশাবাহিত মারণ রোগ। স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে। এই রোগের জীবাণুর নাম প্লাসমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স বা প্লাসমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম। এটি একপ্রকার প্রোটোজোয়া বা আদ্যপ্রাণী। ম্যালেরিয়া রোগের প্রধান উপসর্গগুলি হল— [i] কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। [ii] ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যায়, মাথার যন্ত্রণা হয়, যকৃৎ ও প্লিহা বড়ো হয়ে যায়। [iii] গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা, গোটা শরীরে ব্যথা হয়।

উঃ-মশাবাহিত ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করা দরকার—

1) মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে। মশা যাতে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য ঘরের মধ্যে মশা তাড়ানোর ধূপ জ্বালিয়ে রাখতে হবে। এ ছাড়া দেহের উন্মুক্ত স্থানে ওডোমস-জাতীয় ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।

2) বাড়ির আশেপাশের ঝোপঝাড়, নালা নর্দমা পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও জল জমিয়ে রাখা যাবে না।

3) চৌবাচ্চা, বালতি, ফুলদানি ইত্যাদির জায়গায় দু-দিন অন্তর জল পালটাতে হবে।

4) মশা যেখানে ডিম পাড়ে, সেই সমস্ত জায়গায়, DDT, BHC স্প্রে করতে হবে।

5) বাড়ির নিকটে কোনো মুক্ত জলাশয় থাকলে, তাতে গ্যাম্বুসিয়া, তেচোখো, খলিশা, গাপ্পি প্রভৃতি পতঙ্গভুক মাছ ছেড়ে দিতে হবে। তাহলে মশার লার্ভা ও পিউপা ধ্বংস হবে |

6) কোনো ব্যক্তি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ মতো চিকিৎসা করতে হবে।

উঃ-ডেঙ্গি: ডেঙ্গি একটি মশাবাহিত মারণ রোগ | ইডিস ইজিপ্টি মশা এই রোগের জীবাণু বহন করে। ডেঙ্গি রোগের জীবাণুর নাম ফ্ল্যাভিভাইরাস। ডেঙ্গি রোগের প্রধান উপসর্গগুলি হল ভয়াবহ জ্বর, মাথার ব্যথা, গাঁটে গাঁটে ব্যথা, অণুচক্রিকার সংখ্যা ভয়াবহভাবে হ্রাস পেয়ে রক্ত জমাট বাঁধতে না পারা। এই রোগে অনেকসময় দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। শ্বেতকণিকা ধ্বংস হয়ে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

উঃ-প্লেগ হল একপ্রকার ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ | এই রোগের জন্য দায়ী জীবাণুটি হল ইয়ারসিনিয়া পেসটিস (Yersinia pestis) |

প্লেগ রোগের লক্ষণ হল – 1) লসিকাগ্রন্থি ফুলে গিয়ে ভয়াবহ যন্ত্রণা হয়, 2) ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটে, 3) কাশির সঙ্গে রক্ত বের হয়, 4) মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা হয়, 5) মাঝেমাঝে বমি হয়, 6) শরীর থেকে রক্তক্ষরণ ঘটে।

● জেনপসিল্লা চেঅপিস (Xenopsylla cheopis) নামক মাছি প্লেগ রোগগ্রস্ত ইঁদুরের দেহ থেকে এই রোগের জীবাণু বহন করে। এই মাছি যদি কোনো সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ায় তাহলে সেই ব্যক্তি প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়।

উঃ- ডায়ারিয়া শব্দের অর্থ প্রবাহিত হওয়া।

ডায়ারিয়া হল ভাইরাসঘটিত পেটের রোগ।

এই রোগের জীবাণুর নাম রোটাভাইরাস। 

সমীক্ষায় দেখা গেছে যে 2011 সালে গোটা বিশ্বে প্রায় 1 লক্ষ 60 হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত | যার মধ্যে বেশিরভাগই পাঁচ বছর বয়সের শিশু।

উঃ-কলেরা রোগ হল একটি মারণ রোগ। এই রোগ ছড়ায় সাধারণত দূষিত জল, মাছি বসা, না-ঢাকা খাবার এবং নোংরা পরিবেশ থেকে।

ডায়ারিয়া রোগের জন্য দায়ী হল একধরনের রোটাভাইরাস। সাধারণত দূষিত জল খাওয়া, অরক্ষিত খাবার থেকে এই রোগ ছড়ায়।

উঃ-ডায়ারিয়া হলে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেগুলি হল— 1) শরীর থেকে অনেকটা জল বেরিয়ে যেতে পারে। 2) শরীরের পাচক রস নষ্ট হয়ে যেতে পারে। 3) মলের সঙ্গে থেকে রক্ত বের হয়ে যেতে পারে। 4) শরীরের জলসাম্য, অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য; এমনকি লবণের ভারসাম্যও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

উঃ-ডায়রিয়া রোগের প্রতিকারের উপায়গুলি হল — 1) রোগীকে অল্প পরিমাণে খাদ্য বারে বারে খাওয়াতে হবে।2) বাড়িতে ORS বানিয়ে রোগীকে বারে বারে অল্প করে খাওয়াতে হবে। 3) খাবার খুব বেশি গরম বা খুব বেশি ঠান্ডা হবে না। বেশি পরিমাণে সেলুলোজযুক্ত খাদ্যসরবরাহ করা উচিত নয়। 4) রোগীকে বেশি মশলাযুক্ত ও ভাজা খাবারদাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

উঃ-ORS-এর পুরো কথাটি হল Oral Rehydration Solution (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন) | দেহে জল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এটি রোগীকে খাওয়ানো হয়।

♦ বাড়িতে সবসময় ORS প্রস্তুতির সবরকম রাসায়নিক উপাদান না পাওয়া গেলেও ঘরোয়াভাবে ORS তৈরি করা যায়।

বাড়িতে সাধারণ উপায়ে ORS প্রস্তুতির জন্য ব্যবহার করা হয় – 1 চামচ খাদ্যলবণ, 4 চামচ চিনি, ½ চামচ সোডিয়াম বাইকার্বনেট, কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস এবং ফোটানো, ঠান্ডা করা 1 লিটার পানীয় জল | এইগুলি ভালোভাবে মিশিয়ে ORS তৈরি করা হয়।

উঃ-SARS এর সম্পূর্ণ রূপটি হল—Servere Acute Respiratory Syndrome .

● 2003 সালে এশিয়াতে প্রথম এই রোগ দেখা যায়। তারপর এই রোগ ধীরে ধীরে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।

● এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রবল জ্বর হয়। মাথা ও শরীরে তীব্র যন্ত্রণা হয়। বহু মানুষ এই ভয়াবহ ছোঁয়াচে রোগে মারা গিয়েছে।

● এই রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য রাস্তাঘাটে বের হলে নাক-মুখ চাপা দেওয়া মুখোশ পড়তে হয়।

উঃ-যক্ষ্মা একটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত বায়ুবাহিত রোগ।

● এই রোগের জন্য দায়ী জীবাণুর নাম মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস (Mycobacterium tuberculosis) |

● যক্ষ্মা রোগাক্রান্ত ব্যক্তির নাক-মুখ দিয়ে হাঁচি, কাশি ও নিশ্বাসের সঙ্গে যক্ষ্মার জীবাণু শরীর থেকে বেরিয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্বাসের সঙ্গে সেই জীবাণু নাক-মুখ দিয়েই সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করে এবং দেহ সংক্রামিত হয়।

উঃ-কোনো ব্যক্তি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত কিনা তা যেসব লক্ষণগুলি দেখে বলা যাবে, সেগুলি হল(1) সারাক্ষণ খুশখুশে কাশি, (2) দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, (3) বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট, (4) কফের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, (5) অত্যধিক দুর্বল হয়ে যাওয়া, (6) সংক্রমণ বেশি হলে ফুসফুসের রক্তবাহ ফেটে যাওয়া এবং থুতুর সঙ্গে রক্ত উঠে আসা।

উঃ-হেপাটাইটিস (A এবং E) রোগের লক্ষণগুলি হল—(1) হেপাটাইটিস (A এবং E) রোগের সংক্রমণ ঘটলে রোগীর বমিভাব লক্ষ করা যায়, ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। (2) মাঝেমাঝে পেট ব্যথা করে এবং উদরাময় শুরু হয়। (3) মূত্র গাঢ় হলদে হয় এবং রোগী ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। (4) রোগীর চোখ ও ত্বক হলদে হতে শুরু করে।

উঃ-এইডস (AIDS) রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসটির নাম হল Human Immuno- deficiency Virus বা HIV।

এইডস (AIDS) রোগের অন্যতম লক্ষণগুলি হল— 1) রোগীর দেহের ওজন ক্রমাগত কমতে থাকে। 2) রোগীর প্রায়ই জ্বর হয় | 3) দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায় | ফলে সহজেই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্য নানারকম রোগে আক্রান্ত হয় | 4) যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডায়ারিয়া, গলা ব্যথা প্রভৃতি রোগের লক্ষণ দেখা যায়।

উঃ-‘রাত জাগা ও কম ঘুমানো’ মানুষের শরীরে যেসব অসুবিধা তৈরি করতে পারে, তা হল—

1) দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হয়।

2) অজীর্ণ ও পেটের রোগ দেখা দেয়।

3) মেজাজ খিটখিটে হয়।

4) কোনো ব্যাপারে আগ্রহ, কাজ করার শক্তি বা ক্ষমতা এবং মনঃসংযোগ হ্রাস পায়।

উঃ-কম্পিউটারের সামনে বসে দীর্ঘ সময় কাজ করলে শরীরে যেসব অসুবিধা দেখা দেয়, সেগুলি হল—

1) মেরুদণ্ডের হাড়, পিঠ, ঘাড়, কোমর প্রভৃতি স্থানে ব্যাথা অনুভূত হয়।

2) চোখে ক্লান্তি অনুভূত হয়। অনেকসময় চোখ খারাপ হয়।

3) হৃদ্‌যন্ত্রের রোগ, মেদ বৃদ্ধি প্রভৃতির সম্ভাবনা বাড়ে।

4) মেজাজ খিটখিটে হয়, বিষাদগ্রস্ততা দেখা দেয়।

উঃ-মোবাইল ফোনের অত্যধিক ব্যবহার মানুষের শরীরে নানা অসুবিধার সৃষ্টি করে। যেমন—

1) মানুষের প্রবণক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে।

2) মোবাইলের শব্দ হৃদ্‌যন্ত্রের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। অনেকসময় হৃৎস্পন্দনের গতি বাড়িয়ে দেয়।

3) কোনো কাজে সঠিকভাবে মনঃসংযোগ করা যায় না।

4) বেশিক্ষণ ধরে মোবাইল ফোনে কথা বললে রাতে ঘুমানোর সময় সহজে ঘুম আসতে চায় না।

5) মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

উঃ-ধূমপান ও নেশার বস্তু গ্রহণ করলে শরীরে যেসব অসুবিধা দেখা দেয়, সেগুলি হল—

1) ধূমপানের ফলে হাতের আঙুল ও দাঁত হলদে ছোপযুক্ত হয়।

2) ধূমপানের কারণে গলায় প্রদাহ, স্নায়ুদৌর্বল্য এবং মাঝে মাঝে মাথা ধরা প্রভৃতি দেখা দেয়।

3) ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

4) ধূমপান ও নেশার বস্তু গ্রহণের ফলে পাকস্থলীতে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং হৃদ্‌রোগের সম্ভাবনা বাড়ে।

5) অধিক পরিমাণ নেশার বস্তু গ্রহণ করলে স্নায়ুর ক্ষতি হয়।

6) শ্বাসক্রিয়া নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়।