Chapter-5, THE PLACE OF ART IN EDUCATION

Ans:-In the hostel rooms the writer sees shirts hanging from the picture frame teacups and combs on the study table and paper flowers in the cocoa tins.(হস্টেলের ঘরগুলিতে লেখক ছবির ফ্রেম থেকে জামা ঝুলতে, পড়ার টেবিলে চায়ের কাপ ও চিরুনি দেখে এবং কাগজের ফুল দেখেন কোকোর টিনের মধ্যে।)

Ans:-The dress of some people appears unsuitable to the writer as they use open breasted jacket with 'dhoti' or high-heeled shoes with the saree.(কয়েকজন লোকের পোশাক লেখকের কাছে অনুপযুক্ত মনে হয় কারণ তাঁরা ধুতির সঙ্গে বুক-খোলা জ্যাকে অথবা শাড়ির সঙ্গে উঁচু হিলের জুতো পরেন।)

Ans:-'Dhoti' and 'Saree' are two traditional dresses of the Bengali Community.(বাঙালি সম্প্রদায়ের দুটি ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম ধুতি ও শাড়ি।)

Ans:-The lack of taste points out our poverty of aesthetic sensibilities.(রুচির অভাব আমাদের নান্দনিক সংবেদনশীলতার দৈন্যের প্রতি ইঙ্গিত করে।)

Ans:-There are two aspects of literature-one is concerned with knowledge and aesthetic pleasure while the other aims at professional gains.(সাহিত্যের দুটি দিক রয়েছে একটি দিক বিবেচনা করে জ্ঞান ও নান্দনিক আনন্দ আর অন্য দিকে থাকে পেশাদারিত্বের সুফল।)

Ans:-Two forms of art mentioned in the text are Fine Art and Functional Art.(পাঠ্যাংশে উল্লিখিত দু-প্রকারের শিল্পকলা হল চারুশিল্প ও কারুশিল্প )

Ans:-Fine Art removes our sorrows and conflicts and takes us to the world of aesthetic delight. (চারুশিল্প আমাদের দুর্দশা ও দ্বন্দ্বের অপসারণ করে নান্দনিক আনন্দের জগতে নিয়ে যায়।)

Ans:-Functional Art beautifies objects of our daily use and provides with a means of livelihood. (কারুশিল্প আমাদের রোজকার ব্যবহারের জিনিসকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে এবং আমাদের জীবিকার উপায় সরবরাহ করে।)

Ans:-Exclusion of art from the fulfilment of our daily needs hampers the economic growth of our country.(শিল্পকলাকে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়াতে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি ব্যাহত হয়।)

Ans:-Art-education aims to refine our mental process. It heightens our knowledge with aesthetic vision and experience. It trains us in various modes of expression. It too makes an excursion into a dreamland of pleasure. There is widespread dispro- portion and lack of taste in the social and personal life among the educated. Art education is needed here to restore balance and harmony. Even the so called educated people themselves do not understand art. They reveal their ignorance in their dress and attitude. Art-education will remove the darkness of ignorance from their mind. Further it will train them to set a standard of art for the people. Art-education has not been introduced properly in our country. There is absence of beauty and taste in our society, contaminating our mind and health. Our aesthetic sensibilities have grown distressingly worse day by day. Our country's cultural life passes into a decaying state. The economic well-being of our country will be affected if functional art does not flourish. The functional art satisfies our daily needs. It provides us with means of livelihood. Art-education will develop our power of observation. It will us better insight to understand literature, philosophy and science. Lastly, art-education will make us aware of the glory of our past in painting, sculpture and architecture. So art-education is essential in the present state of our country.

(শিল্পকলা শিক্ষার লক্ষ্য হল আমাদের মানসিক প্রক্রিয়াকে পরিমার্জিত করা। এটি আমাদের নান্দনিক দর্শনচেতনা ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ করে জ্ঞানের উন্নতিবিধান করে। ভাব প্রকাশের বিভিন্ন পন্থায় এটি আমাদের প্রশিক্ষিত করে। আমাদের নিয়ে আনন্দের এক স্বপ্নময় জগতে এটি পাড়ি দেয়। শিক্ষিতদের মধ্যে সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে সর্বব্যাপী সামঞ্জস্যহীনতা ও রুচিবোধের অভাব রয়েছে। সেখানে ভারসাম্য রাখতে ও সমন্বয়সাধন করতে শিল্পকলা শিক্ষার প্রয়োজন আছে। এমনকি তথাকথিত শিক্ষিত লোকেরা নিজেরাই শিল্পকলা বোঝেন না।

তাঁদের পোশাক পরিচ্ছদ ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সেই অজ্ঞতা প্রকাশ পায়। শিল্পকলা শিক্ষা তাদের মন থেকে অজ্ঞতার অন্ধকার দূরীভূত করবে তাঁদের এমনভাবে প্রশিক্ষিত করবে যাতে তাঁরা জনগণের জন্য শিল্পকলার একটি মানদণ্ড নিরূপণ করতে পারে।

শিল্পকলা শিক্ষা আমাদের দেশে সঠিকভাবে চালু হয়নি। তাই আমাদের সমাজে সৌন্দর্য ও রুচির অভাব আমাদের মন ও স্বাস্থ্যকে কলুষিত করে। আমাদের নান্দনিক সংবেদনশীলতা দিনের পর দিন নিদারুণভাবে আরও শ্রীহীন হয়েছে। আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক জীবন ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় পৌঁছেছে। আমাদের দেশের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ব্যাহত হবে যদি কারুশিল্পের বিকাশ না হয়। কারুশিল্প আমাদের দৈনন্দিন চাহিদাকে তৃপ্ত করে। এটি আমাদের জীবিকার উপায় সরবরাহ করে। শিল্পকলা আমাদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার উন্নয়ন ঘটাবে। তাছাড়া সাহিত্য, দর্শন এবং বিজ্ঞান বুঝতে এটি আরও সহায়ক অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করবে। অবশেষে শিল্পকলা শিক্ষা চিত্রাঙ্কন, ভাস্কর্য ও স্থাপত্য- বিদ্যায় আমাদের অতীত গৌরব সম্বন্ধে সচেতন করে দেবে। তাই আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থায় শিল্পকলা শিক্ষা আবশ্যিক।)

Ans:-Aesthetics is an important branch of study connected with beauty. A nation will never prosper unless there is beauty, order and harmony in the life of an indi- vidual. A person grows in a society and imbibes different manners and life style that he sees around him. A society that disregards aesthetics does not care to follow the principles of beauty in all things. It falls into a decaying state. The standard of living degenerates into a sordid condition. The moribund vitality of the society directly affects the mental and physical well-being of a man.

Aesthetics helps to refine our mental process and influences the health of a person. In Ode on a Grecian Urn, John Keats idealizes beauty-"Beauty is truth, truth beauty". If we are not concerned with beauty in diverse field of our life, people around us will be thoughtless, mean and vulgar. There will be disparity and lack of taste every where in the society. The writer illustrates this point with examples and shows how the absence of beauty cheats man of aesthetic experience.

People who never think that beauty is an essential part of life display poor standard of behaviour in their daily life. They go on piling up rubbish in their houses and courtyards. They do not ever beautify their surroundings and make the place of their living filthy. They spit betel-juice on their walls, streets and railway coaches. Irrespective of their social status, they harm their own health and that of others. Thus our society becomes the germinating ground of diseases. So the poverty of aesthetic sensibility is a direct threat to the mind and health of our people.

(অধ্যয়নের অন্যতম বিভাগ নন্দনতত্ব সৌন্দর্যের সঙ্গে জড়িত। যদি একজন ব্যক্তির জীবনে সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা এবং সমন্বয় না থাকে তবে একটা দেশ/জাতি কখনই উন্নতি করতে পারে না। একটা সমাজের মধ্যে একজন ব্যক্তি গড়ে ওঠেন এবং চারপাশে দেখা বিভিন্ন আচরণ এবং জীবনধারাকে তিনি আত্মভূত করেন। যে সমাজে নন্দনতত্ব উপেক্ষিত সেখানে সব কিছুর মধ্যে সৌন্দর্যের নিয়ম-নীতি অনুসৃত হয় না। সেটা ক্ষয়িষ্ণু অবস্থার সামিল হয়।জীবনযাত্রার মান অধঃপতিত হয়ে নোংরা অবস্থায় এসে যায়। সমাজের এই মরণোন্মুখ জীবনী শক্তি প্রত্যক্ষভাবে একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক কল্যাণ সাধনের অন্তরায় হয়ে ওঠে।

নন্দনতত্ত্ব আমাদের মানসিক প্রক্রিয়াকে পরিমার্জিত করতে সাহায্য করে এবং একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। Ode on a Grecian Urn কবিতায় জন কিটস্ সৌন্দর্যকে আদর্শায়িত করেন—“সৌন্দর্যই সত্য, সত্য সুন্দর।” যদি আমাদের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা সৌন্দর্যের ব্যাপারে অবগত না হই তাহলে আমাদের আশেপাশের মানুষজন চিন্তাভাবনাহীন, নীচ ও কদর্য হয়ে যাবে। সমাজের সর্বত্র রুচিবোধের অভাব ও অসামঞ্জস্য দেখা দেবে। লেখক এই বিষয়টাকে স্পষ্ট করে উদাহরণ সহযোগে ব্যাখ্যা করেছেন এবং দেখিয়েছেন সৌন্দর্যের অভাব কেমন করে নান্দনিক অভিজ্ঞতা থেকে মানুষকে বঞ্চনা করে।

যে সকল মানুষ কখনই ভাবেন না যে সৌন্দর্য জীবনের একটা অত্যাবশ্যকীয় অংশ তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনে আচরণের নিম্ন মানকে প্রদর্শন করেন। তারা বাড়িতে ও বাড়ির উঠোনে আবর্জনা স্তূপাকারে জড়ো করে যান। তারা কখনই চারপাশের পরিবেশের সৌন্দর্যায়ণ করেন না এবং তাদের বাসস্থানের জায়গা অপরিচ্ছন্ন রাখেন। দেয়ালে, রাস্তায়, এমনকি রেলের কামরাগুলিতে পানের পিক ফেলেন। আপন সামাজিক অবস্থান ব্যতিরেকে তারা নিজেদের তথা অন্য সকলেরও স্বাস্থের ক্ষতি করেন। এইভাবে আমাদের সমাজ রোগ প্রাদুর্ভাবের স্থান হয়ে যায়। তাই নান্দনিক সংবেদনশীলতার দৈন্য আমাদের জনগণের মন ও স্বাস্থ্যের সরাসরি আশঙ্কার কারণ হয়ে যায়)

Ans:-Art-education is an important part of our life. Without art training in educational institutions, there will be absence of beauty, taste and order in our social as well as personal life. That is why art training should be given equal importance with reading and writing.

But the universities of our country do not have enough provision for art trainingunder expert guide. Even they have not provided proper environment for artstudies, nor they have made it compulsory for the students. So, there is a general  notion that art is the monopoly of a few professionals and common people have nothing to do with it.

It is useless to think that common people do not feel any aesthetic pleasure.The so called educated public do not have any sense to understand art. They think that there is no difference between painting and photograph. Japanesedolls allure them and they look at them with wonder-filled eye. Even the many coloured German wrappers do not strain their eyes. As the tin-containers are more useful than earthen pitchers, they use them in their home. If we casually look at our educational institutions, we will find the truth of the above quoted remark. Our country's aesthetic sensibilities have grown from bad to worse asthere is a lack of sense of beauty and aesthetic  vision among the educated and the universities have no proper provision for art-studies in our country.

(শিল্পকলা শিক্ষা আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানসমূহে শিল্পকলার প্রশিক্ষণ ছাড়াআমাদের সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে সৌন্দর্য, রুচি এবং মাত্রাজ্ঞানের অভাব হবে। সেই কারণে পড়া এবং লেখারমতো শিল্পকলার প্রশিক্ষণে সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

কিন্তু আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিশেষজ্ঞ নির্দেশকের অধীনে শিল্পকলা প্রশিক্ষণের যথোপযুক্ত ব্যবস্থানেই। এমনকি শিল্পকলা অধ্যয়নের জন্য তাদের না আছে উপযুক্ত পরিবেশ না-আছে শিক্ষার্থীদের জন্য এটিকেবাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা। সেই কারণে সাধারণের মনে একটা ধারণা আছে যে, কয়েকজন পেশাদারি লোকেরএকচেটিয়া অধিকার হল শিল্প এবং সাধারণ মানুষের এখানে করার কিছুই নেই।

এটি ভাবা নিরর্থক যে, সাধারণ মানুষের নান্দনিক আনন্দ অনুভূত হয় না। তথাকথিত শিক্ষিত লোকেদেরই শিল্পকলা বোঝার মতো বোধ নেই। তাঁরা ভাবেন যে, চিত্রাঙ্কন আর আলোকচিত্রের মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই। জাপানি পুতুলগুলি তাঁদের প্রলুদ্ধ করে এবং তাঁরা আশ্চর্য-অপেক্ষায় অধীর চোখ নিয়ে সেগুলোকে তাকিয়ে দেখে। এমনকি নানারকম জার্মান বহির্বাস তাঁদের চোখকে পীড়া দেয় না। যেহেতু মাটির কলশিগুলির চেয়ে টিনের পাত্রগুলি ব্যবহারের অধিক উপযোগী, তাই তাঁরা সেগুলিকে তাঁদের বাড়িতে ব্যবহার করেন। যদি আমরা সাময়িকভাবে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির দিকে তাকিয়ে দেখি, আমরা উপরি উল্লিখিত মন্তব্যের সত্যতা খুঁজে পাব। আমাদের দেশের নান্দনিক সংবেদনশীলতা খারাপ থেকে আরও খারাপে পরিণত হয়েছে। যেহেতু আমাদের দেশের শিক্ষিতদের মধ্যে নান্দনিক দর্শনচেতনা ও সৌন্দর্যবোধের অভাব রয়েছে এবং আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলির শিল্পকলা অধ্যয়নের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই।)

Ans:-The essayist, Nandalal Bose believes that art-training is more important in ourdaily life than reading and writing in a classroom. A few professionals who are solely occupied with the study and practice of art in their field think that art is exclusively meant for them. If art is entirely the preserve for them, the commoners will not be able to realize the importance of beauty and order in their social as well as personal life. A work of art is not judged by its money value. Its real value lives in the development of the sense of beauty and order. Irrespective of social status be it the case of the educated or learners, the poor or the rich,professionals or commoners-art must be cultivated in a much wider scale.

The writer illustrates his view with examples from our day to day life. A poor santhal boy living in a hut cleans everything and puts all his household articles in order. But an educated college student stays in a palatial hostel. Yet he keeps his clothes and things in a mess. The sense of beauty is more important in the life of the santhal boy. But a rich man's son pays no value to it. Even the so called educated public put shirts on picture frames, litter study table with cups and combs and use cocoa tin for paper flowers. In spite of being educated their life shows poverty of aesthetic sensibility, order and balance needed to beautify their surroundings.

(প্রবন্ধকার নন্দলাল বসু বিশ্বাস করেন যে শ্রেণিকক্ষের মধ্যে পঠনপাঠন এবং লিখনের চেয়ে শিল্পকলার প্রশিক্ষণআমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যে সকল জনাকয়েক পেশাদারী মানুষ তাদের ক্ষেত্রে শিল্পকলার অধ্যয়ন ও চর্চায় সম্পূর্ণ নিয়োজিত তারা মনে মনে ভাবেন যে তাদের জন্য শিল্পকলার অর্থ/উদ্দেশ্য বজায় রয়েছে । যদি তাদের জন্যই শিল্পকলার সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোনদিনই সামাজিকও ব্যক্তি জীবনে সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবে না। একটা শিল্পকর্ম কখনই তার অর্থ মূল্যে বিবেচিত হয় না। এর সত্যিকারের মূল্য থাকে সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা বোধ বিকাশের মধ্যে।

সামাজিক অবস্থান ব্যতিরেকে—যদি বা সেটা হয় শিক্ষিত বা শিক্ষার্থী, ধনী বা দরিদ্র, পেশাদার ব্যক্তিবর্গ বাসাধারণ মানুষের বেলায় শিল্পকলাকে অবশ্যই চর্চা করতে হবে আরও বিস্তৃত পরিমাপে।

আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে উদাহরণ নিয়ে লেখক তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে ব্যক্ত করেন। কুটিরে বাস করা এক দরিদ্র সাঁওতাল ছেলে সমস্ত কিছুই পরিষ্কার করে এবং গৃহস্থালির সমস্ত জিনিস সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে রাখে। কিন্তু একজন শিক্ষিত কলেজ পড়ুয়া প্রাসাদসম হস্টেলে থাকে। তবুও সে তার জামাকাপড় এবং জিনিসপত্র বিশৃঙ্খলভাবে রাখে। সাঁওতাল ছেলেটির জীবনে সৌন্দর্য বোধ অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একজন ধনী মানুষের ছেলে এ ব্যাপারে কোন মূল্য দেয় না। এমনকি তথাকথিত শিক্ষিত লোকজন ছবির ফ্রেমে জামা রাখে, পড়ার টেবিলে জড়ো করে রাখে চায়ের কাপ ও চিরুনি এবং কাগজের ফুলগুলির জন্য কোকো টিন ব্যবহার করে। শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জীবনে চারপাশের পরিবেশকে সৌন্দর্য প্রদান করতে প্রয়োজনীয় নান্দনিক সংবেদনশীলতা, শৃঙ্খলা এবং ভারসাম্যর দৈন্য দেখা যায়।

যদি আমরা সমাজে উচ্চবিত্ত শ্রেণির দিকে তাকাই তবে আমাদের জীবন চর্চায় আমরা সামঞ্জস্যহীনতা ও রুচিবোধের অভাব দেখতে পাই। তারা ধুতির সঙ্গে বুক খোলা জ্যাকেট পরিধান করেন। সম্ভ্রান্ত মহিলারা উঁচু হিলের জুতোর সঙ্গে শাড়ি পরেন। এমনকি শিক্ষিত লোকেদের নিজেদেরই শিল্পকলার শিক্ষার প্রয়োজন হয় কারণ তারা চিত্রশিল্পের সঙ্গে আলোক চিত্রের তফাৎ অনুধাবন করতে পারেন না। তাদেরকেই একটা মান নিরূপণ করতে হবে সাধারণ মানুষের জন্য। যদি সৌন্দর্যবোধ এবং নান্দনিক দৃষ্টি আমাদের সমাজে ফিরিয়ে আনা যায়, তবে আমাদের দেশ নান্দনিক সংবেদনশীলতা, শৃঙ্খলা এবং সমন্বয়ে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।)

Ans:-For the development of art-education in school the essayist, Nandalal Bose, has suggested the following ways Firstly, classrooms, libraries, studies and living rooms should be furnished with specimens of art, painting and sculpture. Then well-qualified people should be asked to write books full of good reproductions and historical texts. Film-shows on selected specimens of art will introduce the students into the world of art. Visit to museums and picture galleries in company with teachers will do more to arouse their aesthetic vision than a hundred classroom lectures. It will train their eyes, improve their powers of judgement and awaken their aesthetic sensibilities.

Thus, the essayist thinks that outdoor activities are more important than lessons achieved through indoor training. Seasonal festivals with a display of fruits and flowers will make them familiar with Nature. They will gradually learn how these objects of Nature find expression in art and literature. Even students should wear seasonal costumes and take part in the festival of the seasons. In this way they will be acquainted with Nature directly and Nature will provide them with artistic sensibilities and source material for artistic creation. Lastly ,students should take part in the art-festival with something they have made with his own hands. All their creations will be considered as reverential offering to the altar of art.

(বিদ্যালয়ে শিল্পকলা শিক্ষার অগ্রসর ঘটানোর জন্য প্রবন্ধকার নন্দলাল বসু নিম্নলিখিত পন্থাগুলির প্রস্তাব করেছেন: প্রথমত, শ্রেণিকক্ষ, পাঠাগারভবন, অধ্যয়নকক্ষ ও বাসগৃহ শিল্পকলা, চিত্রাঙ্কন ও ভাস্কর্যের নমুনা দিয়ে সুসজ্জিত রাখা উচিত। তারপর যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে ভালো প্রতিলিপি এবং ঐতিহাসিক তথ্য সংবলিত বই লেখানো উচিত। বাছাই-করা শিল্পকলার নিদর্শনের ওপর ছায়াছবি দেখিয়ে শিল্পকলার জগতের সঙ্গে ছাত্রদের পরিচয় করাতে হবে। শিক্ষকদের সঙ্গে সংগ্রহশালা এবং সচিত্র গ্যালারি দেখে এলে তাদের মধ্যে শ খানেক শ্রেণিকক্ষের বক্তৃতা শোনার চেয়ে আরও ভালো নান্দনিক দর্শনচেতনা জাগ্রত হবে। এটি তাদের চোখকে প্রশিক্ষিত করবে, তাদের বিচারক্ষমতার উন্নতি ঘটাবে এবং তাদের নান্দনিক সংবেদনশীলতা জাগরিত করবে।

এভাবে প্রবন্ধকার ভাবেন যে, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে অর্জিত শিক্ষার চেয়ে বহির্জগতের কার্যাবলি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। ফল ও ফুলের প্রদর্শনী সমেত ঋতুউৎসব তাদের সঙ্গে প্রকৃতির পরিচয় করিয়ে দেবে। ক্রমশ তারা শিখবে কেমন করে প্রকৃতির এই সকল বিষয়বস্তু শিল্পকলা ও সাহিত্যে প্রকাশ পায়। এমনকি শিক্ষার্থীদের ঋতুকালীন পোশাক পরিধান করা এবং ঋতুউৎসবে অংশ নেওয়া উচিত। এইভাবে তাদের প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটবে এবং প্রকৃতি তাদের শিল্পীসুলভ সংবেদনশীলতা ও শিল্পকলা সৃষ্টির মূল উপাদান সরবরাহ করবে। অবশেষে, শিক্ষার্থীদের নিজেদের হাতে গড়া কোনো জিনিস নিয়ে এই শিল্পকলা উৎসবে অংশনেওয়া উচিত। তাদের সকল সৃজনকর্ম শিল্পকলার বেদিমূলে শ্রদ্ধার্ঘ হিসেবে বিবেচিত হবে।)

Ans:-The writer firmly believes that a work of art is not judged by its money value alone. Unless there is a sense of beauty and order in it, an art will fail to fulfil its objectives. Art is not the exclusive property of the rich and pleasure-loving. It is useless to banish art from the lives of the common people because they can show greater sense of beauty and order than those belonging to the affluentsection of the society. If we look into the life of a poor Santhal boy and an educated college student, we will find that one is endowed with greater aesthetic sensibility than the other.

A poor Santhal boy lives in a hut but he cleans everything and puts all his household articles like earthen pots and torn quilts in proper places. But an educated college student stays in a hostel or lodge. Although his room is as spacious as a palace, he keeps his clothes and things in a mess. The sense of beauty is more important in the life of the Santhal boy while a rich man's son pays no value to it. Even the so called educated men put shirts on picture frames, litter study table with tea cups and combs and use cocoa tin for paper flowers. In this way they show their devotion to art.

Some people use the open breasted jacket with the dhoti  and some put on high-heeled shoes with the saree. So it reveals that affluent class may not have a sense of taste, beauty and proportion in their dress and daily life. But a poor Santhal  boy displays his artistic temperament and attitude, sense of beauty and order in his hut .

(লেখকের দৃঢ় বিশ্বাস যে, একমাত্র অর্থকরী মূল্যের নিরিখে একটি শিল্পকর্মকে বিচার করা যায় না। যদিনা এরগার মধ্যে সৌন্দর্যবোধ ও মাত্রাজ্ঞান বজায় থাকে, একটি শিল্পকলা এর উদ্দেশ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হবে। শিল্পকলা ধনীও আনন্দপ্রিয়দের একচেটিয়া মালিকানা নয়। সাধারণ লোকেদের জীবন থেকে শিল্পকলাকে নির্বাসিত করা নিরর্থক কারণ সমাজের সমৃদ্ধশালী অংশে যারা রয়েছে তাদের চেয়ে অনেক বেশি সৌন্দর্যবোধ ও মাত্রা (বা শৃঙ্খলা) সাধারণ মানুষ দেখাতে পারে। যদি আমরা একজন গরিব সাঁওতাল ছেলে ও একজন শিক্ষার্থী কলেজ পড়ুয়ার জীবনের দিকে দেখি তাহলে আমরা দেখতে পাব যে, একজন অন্যজনের চেয়ে আরও উন্নত নান্দনিক সংবেদনশীলতার অধিকারী।

এক গরিব সাঁওতাল ছেলে একটি কুটিরে থাকে কিন্তু সে সমস্ত কিছু পরিষ্কার করে এবং তার মাটির পাত্র এবং ছেঁড়া লেপের মতো গৃহস্থালির জিনিসপত্র উপযুক্ত জায়গায় রাখে। কিন্তু একজন শিক্ষিত কলেজ পড়ুয়া হস্টেল বা অস্থায়ী গৃহে থাকে। যদিও তার ঘর রাজপ্রাসাদের মতো প্রশস্ত, তবুও সে তার কাপড়-জামা এবং জিনিসপত্র বিশৃঙ্খল অবস্থায় রাখে। একটি সাঁওতাল ছেলের জীবনে সৌন্দর্যবোধ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে একজন ধনী মানুষের ছেলে এর কোনো মূল্যই দেয় না। এমনকি তথাকথিত শিক্ষিত মানুষজন জামা রেখেদেন ছবির ফ্রেমের ওপরে, পড়ার টেবিলে এনে জড়ো করেন চায়ের কাপ ও চিরুনিগুলি এবং কাগজের ফুলগুলির জন্য কোকৌ (cocoa) টিন ব্যবহার করেন। এইভাবে তারা শিল্পকলার প্রতি তাদের নিষ্ঠা দেখান।

কিছু লোক ধুতির সঙ্গে বুক-খোলা জ্যাকেট ব্যবহার করে এবং শাড়ির সঙ্গে কয়েকজন মহিলা উঁচু হিলের জুতো পরে। তাই দেখা যায় যে সমৃদ্ধশালী শ্রেণির মানুষদের পোশাক ও দৈনন্দিন জীবনে রুচি, সৌন্দর্য ও মাত্রাবোধ নেই। কিন্তু একটি গরিব সাঁওতাল ছেলে তাঁর শিল্পীসুলভ মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি, সৌন্দর্য ও মাত্রাবোধ (বা শৃঙ্খলা) তার কুটিরের মধ্যেই প্রকাশ করে।