Chapter -6⇒শিলা মাটি

উ:- মানুষের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও দৈনন্দিন জীবনে শিলার ব্যবহার বা অর্থনৈতিক গুরুত্ব বা অবদান অপরিসীম। বিভিন্ন প্রকার শিলার  ব্যবহার নীচে আলোচিত হল –

আগ্নেয় শিলার ব্যবহার :

1)নির্মাণ কার্যে : বাড়ি তৈরিতে, বাড়ির মেঝে তৈরিতে গ্রানাইট পাথর ব্যবহৃত হয়। রামেশ্বরম, মাদুরাই, মহাবলীপুরমের প্রসিদ্ধ মন্দিরগুলি গ্রানাইট পাথরে তৈরি।

2)রাস্তাঘাট নির্মাণে: রাস্তাঘাট,রেললাইন, ট্রামগাইলে ব্যাসল্ট  শিলার টুকরো ব্যবহৃত হয়।

3)বাঁধ নির্মাণে: জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী জলাধার ও বাঁধ নির্মাণে এই শিলা ব্যবহৃত হয়।

4)খনিজ সংগ্রহ: আগ্নেয় শিলা থেকে সোনা, রূপো, সিসা,  দস্তা প্রভৃতি খনিজ সংগৃহীত হয়।

পাললিক শিলার ব্যবহার: 

1)শিল্পক্ষেত্রে : চুনাপাথর, ডলোমাইট ব্যবহৃত হয় গৃহনির্মাণ,  সিমেন্ট শিল্পে, রাসায়নিক ও লৌহ-ইস্পাত শিল্পে।

2)বাড়িঘর নির্মাণ কার্যে : বিভিন্ন ধরনের প্রাসাদ, দুর্গ নির্মাণে  বেলেপাথর ব্যবহৃত হয়। দিল্লির লালকেল্লা, রাজস্থানের দুর্গ,  সাঁচীস্তূপ বেলেপাথরে নির্মিত।

3)কৃষিকার্যে : পাললিক শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে সৃষ্ট পলি থেকে  পলিমাটি তৈরি হয়। পলিমাটি কৃষিকার্যে অত্যন্ত উপযোগী।

4)বাসনপত্র তৈরিতে : ফায়ার ক্লে, চায়না ক্লে বা চিনামাটি  কাদাপাথরের রূপভেদ। চিনামাটি থেকে বাসনপত্র তৈরি হয়।

5)ভৌমজল : সচ্ছিদ্র পাললিক শিলায় ভূগর্ভস্থ জলের সঞ্জয়  ঘটে। সেই ভৌমজল মানুষের পানীয়, কৃষি, শিল্প ইত্যাদির  প্রয়োজনীয় জল সরবরাহ করে।

6)খনিজ সম্পদ : পাললিক শিলায় কয়লা, খনিজ তেল ও  প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি অমূল্য সম্পদ পাওয়া যায়।

রূপান্তরিত শিলার ব্যবহার :

1)নির্মাণ কার্যে : মারবেল থেকে নানা শৌখিন দ্রব্যাদি, প্রাসাদ,  মন্দির ইত্যাদি নির্মিত হয়। যেমন— আগ্রার তাজমহল,  কলকাতার মারবেল প্যালেস, GPO ইত্যাদি। পাহাড়ি অঞ্চলে  স্লেট পাথর মেঝে ও ছাদ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।

2)শিল্পক্ষেত্রে : গ্রাফাইট থেকে পেনসিলের শিষ, প্লেট পাথর  তৈরি হয় যা লেখার কাজে ব্যবহৃত হয়।

3)খনিজ সংগ্রহ: শিলা রূপান্তরিত হলে ধাতব ও অধাতব  খনিজ একদিকে চলে আসে। ফলে খনিজ সংগ্রহের সুবিধা হয়।

উ:- মৃত্তিকার শ্রেণিবিভাগ : মৃত্তিকার গঠন অর্থাৎ, মৃত্তিকার  মধ্যস্থিত শিলাকণার আকার ও গঠনের প্রকৃতি অনুসারে মৃত্তিকাকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। সেগুলি হল – 1)বেলে মাটি,2)এটেল মাটি ও 3)দোআঁশ মাটি।

1)বেলে মাটি (মোটা গ্রথনের মৃত্তিকা) : যে মাটিতে বালির  ভাগ বেশি, তাকে বেলে মাটি বলে। এই মাটিতে বালুকণার পরিমাণ  থাকে 80 90 শতাংশ। এই মৃত্তিকা স্তরে বালুকণা অপেক্ষাকৃত বড়ো  হয়। একটি বালিকণা অন্য একটি বালিকণা থেকে আলাদা আলাদা  থাকে বা পৃথকভাবে অবস্থান করে। ফলে জলধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত  কম হয় । জল অতি সহজেই মৃত্তিকা কণার স্তর ভেদ করে অনেক নীচে  চলে যায়। জল ধৌত প্রক্রিয়ায় (Leaching) মৃত্তিকার মধ্যস্থিত খনিজ  পদার্থ নীচের স্তরে নিয়ে যায়। এর ফলে মৃত্তিকার ওপরের স্তর অনুর্বর  ও শুষ্ক থাকে। স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও কৃষিজ ফসল তাদের প্রয়োজনীয়  খাদ্য এই মৃত্তিকা থেকে সংগ্রহ করতে পারে না অর্থাৎ, বেলে মাটি  কৃষিজ ফসল উৎপাদনে সহায়ক নয়।

2)এঁটেল মাটি (সূক্ষ্ম গ্রথনের মৃত্তিকা) : যে মাটিতে কাদার  ভাগ বেশি, তাকে এঁটেল মাটি বলে। এই মাটিতে পলিকণা বা কাদার  ভাগ প্রায় 75 – 90 শতাংশ থাকে। এই মৃত্তিকা স্তরে পলিকণা অত্যন্ত  সূক্ষ্ম ও ঘনসন্নিবিষ্ট থাকে। ফলে এই মাটির জলধারণ ক্ষমতা অধিক।  সেই কারণে এই মাটি আঠালো ও কর্দমাক্ত হয়। জল এই মৃত্তিকাস্তর  ভেদ করে নীচে চলে যেতে পারে না তাই মাটির মধ্যে বায়ু প্রবেশ  করতে পারে না। এঁটেল মাটি জলপূর্ণ হলে কর্দমাক্ত হয় এবং জলশূন্য  হলে কঠিন হয়। ফলে এঁটেল মাটিতে চাষ করা কষ্টসাধ্য ও কৃষিকাজের  পক্ষে অনুপযোগী।

3)দোআঁশ মাটি (মাঝারি গ্রথনের মৃত্তিকা) : যে মাটিতে  অর্ধেক (50%) কাদা বা পলি ও অর্ধেক (50%) বালি মেশানো থাকে,  তাকে দোআঁশ মাটি বলে। এই মাটিতে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পলিকণা ও  বালুকণা ঘনসন্নিবিষ্ট থাকে। এই মাটি একদিকে যেমন জলধারণ  করতে সক্ষম, তেমনি অন্যদিকে মাটির মধ্যে বায়ু চলাচলে কোনো  অসুবিধা হয় না। এই মৃত্তিকা স্তরে সামান্য জল চুঁইয়ে গিয়ে আর্দ্র মৃত্তিকা  স্তর সৃষ্টি করে, যা কৃষিকাজের পক্ষে অত্যন্ত উপযোগী। উল্লেখ্য,  উপাদানের তারতম্য অনুসারে দোআঁশ মৃত্তিকাকে আবার কয়েকটি  উপবিভাগে ভাগ করা যায় সেগুলি হল – (i) বেলে দোআঁশ মাটি,  (ii) পলি দোআঁশ মাটি, (iii) পলিমাটি, (iv) বেলে এঁটেল দোআঁশ মাটি,  (v) পলি এঁটেল দোআঁশ মাটি, (vi) এঁটেল দোআঁশ মাটি প্রভৃতি।

উ:- ভূপৃষ্ঠস্থ মৃত্তিকা সৃষ্টিতে নিম্নলিখিত চারটি প্রধান উপাদানের  প্রাধান্য দেখা যায়। যেমন—

1)খনিজ পদার্থ : মৃত্তিকাস্থিত যাবতীয় উপাদানগুলির মধ্যে  খনিজ পদার্থের পরিমাণই বেশি প্রায় 45% এবং এটি মৃত্তিকার মোট  ওজনের প্রায় ৪০% - 90% হয়ে থাকে। মৃত্তিকা গঠনকারী বিভিন্ন  আকৃতির খনিজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – সিলিকন, লৌহ,  অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম প্রভৃতি। মাটিতে এই সবকটি  উপাদানই যৌগিক অবস্থায় বিরাজ করে।

2)জল : মৃত্তিকায় অবস্থানরত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান  হল জল। মৃত্তিকার মূল গঠনের প্রায় 25% জল থাকে। বায়ুমণ্ডল  থেকে অধঃক্ষিপ্ত জলকণা মৃত্তিকার জলভাণ্ডার গড়ে তোলে।

3)বায়ু : মৃত্তিকার মধ্যস্থিত শূন্যস্থানগুলি বায়ু দ্বারা পরিপূর্ণ  থাকে। মৃত্তিকার মূল গঠনের প্রায় 25% বায়ু অবস্থান করে।  মৃত্তিকাস্থিত বায়ুতে অবস্থানরত প্রধান প্রধান গ্যাসীয় উপাদানগুলি  হল নাইট্রোজেন, অক্সিজেন এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড।

4)জৈব পদার্থ : মৃত্তিকার মোট উপাদানের মাত্র 5% হল জৈব  পদার্থ। বিভিন্ন মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ বিশ্লেষিত হয়ে মৃত্তিকায় জৈব  পদার্থের ভাণ্ডার গড়ে ওঠে। মৃত্তিকায় অবস্থানরত বিভিন্ন জীবের  বিশ্লেষিত কালচে বর্ণের দেহাবশেষ হিউমাস নামে পরিচিত। এই জৈব  পদার্থের মধ্যে ৪০ ভাগ হল উদ্ভিদ ও প্রাণীর পচে যাওয়া দেহ, 10 ভাগ  উদ্ভিদের পাতা, শিকড় এবং 10 ভাগ অণুজীব।

উ:- উৎপত্তি ও গঠন অনুসারে আগ্নেয় শিলাকে দুটি ভাগে  ভাগ করা যায়। যথা-

1)নিঃসারী আগ্নেয় শিলা (Extrusive Igneous Rock) :  ভূ-অভ্যন্তরের তাপ ও চাপের তারতম্যের ফলে উত্তপ্ত তরল ম্যাগমা  ভূত্বকে আগ্নেয়গিরি বা ফাটলের মধ্যে দিয়ে ভূপৃষ্ঠে লাভারূপে নির্গত  হয়। শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এই লাভা দ্রুত শীতল ও কঠিন হয়ে যে  শিলার সৃষ্টি করে, তাকে নিঃসারী আগ্নেয়শিলা বলে।উদাহরণ : ব্যাসল্ট। খুব দ্রুত জমাট বাঁধে বলে এর দানাগুলো  খুব সূক্ষ্ম হয়।

2)উদ্‌বেধী আগ্নেয় শিলা (Intrusive Igneous Rock) :  ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা অনেক সময় ভূপৃষ্ঠে পৌঁছোতে না পেরে ভূ-অভ্যন্তরের  ফাটলের মধ্যে সঞ্জিত হয় এবং ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে যে  শিলার সৃষ্টি করে, তাকে উদ্‌বেধী আগ্নেয় শিলা বলে। ধীরে ধীরে জমাট  বাঁধে বলে কণাগুলি বড়ো আকৃতির হয়। উদাহরণ – গ্রানাইট।

পললের উৎপত্তি অনুসারে পাললিক শিলাকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা-

1)সংঘাত শিলা (Clastic Rock) : গ্রিক শব্দ ‘Clastic’ কথার  অর্থভগ্ন’। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির (জল, বায়ুপ্রবাহ, নদী প্রভৃতি)  প্রভাবে আগ্নেয় ও পাললিক শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পলিতে পরিণত হয়  এবং সেই পলি সজ্জিত হয়ে যে পাললিক শিলা সৃষ্টি হয়, তার নাম।  সংঘাত শিলা এক্ষেত্রে শিলার রাসায়নিক ধর্মের কোনো পরিবর্তন হয়  না। যেমন— বেলেপাথর, কাদাপাথর প্রভৃতি।

2)অসংঘাত শিলা (Non-Clastic Rock) : যান্ত্রিক বিচূর্ণন  ব্যতিরেকে অর্থাৎ, সংঘাত ভিন্ন অন্য কোনো উপায়ে (রাসায়নিক  জৈব) যেসব পাললিক শিলার সৃষ্টি হয়, তাকে অসংঘাত শিলা বলে  যেমন— ডলোমাইট, জিপসাম, চক প্রভৃতি।

রূপান্তরিত শিলাকে উৎপত্তি অনুসারে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা-  1)উত্তাপের ফলে সৃষ্ট : ভূপৃষ্ঠের শিলাসমূহ কোনোভা  উত্তপ্ত ম্যাগমার সংস্পর্শে এলে শিলার রুপান্তর ঘটে।

2)চাপের ফলে সৃষ্ট : ভূপৃষ্ঠের শিলাসমূহ ভূ-আলোড়ে  ফলে ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে ওপরের শিলাস্তরের প্রবল চাপে  শিলার রূপান্তর ঘটে।

উঃ- বিভিন্ন প্রকার শিলাগঠিত অঞ্চলের ভূমিরূপ বিভিন্ন ধরনের হয়। যেমন—

1)গোলাকৃতির ভূমি: গ্রানাইট শিলাগঠলোঅঞ্চল সাধারণত গোলাকৃতির হয়, কারণ আবহিবকারের শল্কমোচন মাধ্যমে গ্রানাইট শিলার উপিরভাগ পেঁয়াজের খোসার মতো উঠে যায়, একে টর বলে। উদাহরণ  - ছোটোনাগপুরের মালভূমি।

2)চ্যাপটা ধাপযুক্ত ভূমিরূপ : ব্যাসল্ট শিলাগঠিত অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে লাভা নিঃসরণে চ্যাপটা বা সমতল প্রকৃতির ধাপযুক্ত ভূমিরূপ (ট্র্যাপ) সৃষ্টি হয় ।উদাহরণ – দাক্ষিণাত্যের মালভূমি

3)কাস্ট ভূমিরূপ : চুনাপাথর ও ডলোমাইটযুক্ত অঞ্চলে ফাটল ও ছোটো ,বড়ো গর্তযুক্ত ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়। চুনাপাথরের গুহায়  স্ট্যালাকটাইট ,স্ট্যালাগমাইট ও স্তম্ভ প্রভৃতি গড়ে ওঠে । উদাহরণ- দেরাদুনের তাপকেশ্বর অঞ্চল।

4)খাড়া ঢালযুক্ত ভূমিরূপ : বেলপাথরযুক্ত অঞ্চলের নদী গুলিতে খাড়া পাড় লক্ষ করা যায়।

5)জলপ্রপাত সৃষ্টি :  কোয়ার্টজাইট শিলাযুক্ত স্থানে সমতল ও নিম্নভুমি সৃষ্টি হয়।

6)মোনাড্‌নক : কঠিন শিলাগঠিত অঞ্চলে উচ্চভূমি  (মোনাডনক) অবথান করে।উদাহরণ-রাঁচি মাল্ভুমি।

7)সমতল নিম্নভুমি: কোমল শিলাযুক্ত স্থানে সমতল ওনিম্নভুমি  হয়। উদাহরণ— গাঙ্গেয় সমভুমি।

8)অবশিষ্ট পর্বত : একটি বিস্তীর্ণ কোমল শিলা দ্বারা গঠিত অঞ্চলের মাঝে যদি কোনো স্থানে কঠিন শিলা অবথান করে, তবে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয় পেয়ে অবনমিত হয় এবং কঠিন শিলা অপেক্ষাকৃত কম পেয়ে অবশিষ্ট পর্বতরুপে দাড়িয়ে থাকে।

9)ক্ষয়প্রাপ্ত সমভূমি : পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত অঞ্চল খুব সহজে এবং অতি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্ষয়জাত সমভুমিতে পরিণত হয়।

উ:- আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য :

1)প্রাথমিক শিলা : পৃথিবীতে প্রথম সৃষ্টি হয়েছে বলে আগ্নেয় শিলাকে প্রাথমিক শিলা বলা হয়। 2)কেলাসযুক্ত: এই শিলা কেলাসিত ও স্ফটিকযুক্ত হয়। 3)রাসায়নিক ধর্ম : এই শিলা আম্লিকও ক্ষারকীয় উভয় প্রকৃতিরই হয়। 4)কাঠিন্য : কঠিন ও ভারী হওয়ার সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।  5)অস্তরীভূত:আগ্নেয় পদার্থ একসঙ্গে জমাট বাঁধে বলে কোনো স্তরভেদ বা স্তরায়ণ তল দেখা যায় না। তাই একে অস্তরীভূত শিলাও বলা হয়। 6)জলধারণ ক্ষমতা : এই শিলায় কোনো ছিদ্র না থাকায় জলধারণ করতে পারে না। 7)কণাবিন্যাস :এই শিলার কণাগুলি অত্যন্ত ঘনসন্নিবিষ্ট। 8)জীবাশ্মের অনুপস্থিতি : আগ্নেয় শিলায় কোনো জীবাশ্ম থাকে না। 9)খনিজের উপস্থিতি : আগ্নেয় শিলায় মূল্যবান খনিজ (সোনা, রুপো, সিসা,দস্তা) পাওয়া যায়। 10)দারণ ফাটল : এই শিলায় উল্লম্ব দারণ(Joint) ও ফাটল (Crack) দেখা যায়, যা দিয়ে শিলার মধ্যে জল প্রবেশ করতে পারে।11) রং : এই শিলার রং হালকা (গ্রানাইট) থেকে গাঢ় (ব্যাসল্ট) পর্যন্ত হয়ে থাকে।12)ভূমিরূপ : ব্যাসল্ট জাতীয় আগ্নেয় শিলায় চ্যাপটা ও গ্রানাইট জাতীয় আগ্নেয় শিলায় গোলাকৃতির ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।

 

উ:- উত্তপ্ত তরল অবস্থা থেকে শীতল হয়ে কঠিন অবস্থায় আসার সময় জলের অণু খনিজের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত হয়ে কেলাস গঠন করে, যা  দেখতে স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল।

আগ্নেয় শিলা সৃষ্টি হওয়ার সময় তার মধ্যে গরম খনিজ জল শিরার মতো অবস্থান করে। শিলা ঠান্ডা হলে ওই শিরার আকারে থাকা খনিজ জলের অণু কেলাস গঠন করে।

কোয়ার্টজ, ক্যালসাইট, হিরে প্রভৃতি খনিজে কেলাসের গঠন ভালোভাবে দেখা যায়। কেলাস ঘনকাকৃতি বা ষড়ভুজাকৃতির হয়।

উ:- প্রারম্ভিক পর্যায় : পৃথিবীর সৃষ্টির সময় উত্তপ্ত তরল অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে তাপ বিকিরণ করে কঠিন হয়ে পৃথিবীর উপরের আবরণ ভূত্বকরূপে প্রথমে আগ্নেয় শিলা সৃষ্টি হয়। তাই আগ্নেয় শিলা প্রাথমিক শিলা নামে পরিচিত।

পরবর্তী পর্যায় : এই কঠিন ভূত্বকের নীচে অর্থাৎ, ভূ-অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধাতব পদার্থ যেমন— সিলিকন, লোহা, নিকেল, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি উত্তপ্ত ও গলিত অবস্থায় ম্যাগমারূপে আছে। এই ম্যাগমা ভূ-অভ্যন্তরের প্রবল চাপে ভূত্বকের কোনো দুর্বল ফাটল, ছিদ্রপথ বা আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে ভূপৃষ্ঠে উঠে এসে নিঃসারী আগ্নেয় শিলা বা ভূ-অভ্যন্তরেই ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে জমাট বেঁধে (উদ্‌বেধী) আগ্নেয় শিলা সৃষ্টি করে।

উ:- পাললিক শিলা নিম্নলিখিত পর্যায়ে সৃষ্টি হয় –

1)শিলার ক্ষয় : আগ্নেয় শিলা সৃষ্টির পর বহুদিন ধরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি যেমন— নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্রতরঙ্গ, উয়তা, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পলি, বালি, কাদা প্রভৃতি সূক্ষ্ম পদার্থে পরিণত হয়।

2)অপসারণ : এইসব সুক্ষ্ম পদার্থ নদী, বায়ু, হিমবাহ দ্বারা পরিবাহিত হয়ে সমুদ্র, হ্রদ বা নদীর তলদেশে জমা হতে থাকে।

3)সঞ্চয় : এভাবে হাজার হাজার বছর ধরে পলির ওপর পলির স্তর পড়তে থাকে।

4)সংঘবদ্ধকরণ : কালক্রমে নীচের পলির স্তর, ওপরের পলিস্তর ও জলরাশির প্রবল চাপে এবং ভূগর্ভের তাপে জমাট বেঁধে পাললিক শিলায় পরিণত হয়।

উ:- পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য :

1)স্তরবিন্যাস : স্তরে স্তরে পলি জমে গঠিত হয় বলে পাললিক শিলার অপর নাম স্তরীভূত শিলা। 2)স্তরায়ণ তল : একটি স্তর আর একটি স্তর থেকে যে তল দ্বারা আলাদা থাকে, তাকে স্তরায়ণ তল বলে।3)জীবাশ্মের উপস্থিতি : একমাত্র পাললিক শিলাস্তরের মধ্যেই জীবাশ্ম থাকে।4)কাঠিন্য : অন্যান্য শিলার তুলনায় কাঠিন্য কম, হালকা ও ভঙ্গুর, এর ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা বিভিন্ন রকম হয়।5)প্রবেশ্যতা : এই শিলা ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় জল প্রবেশ করতে পারে, তাই একে প্রবেশ্য শিলা (Permeable Rock) বলে।6) সম্পদের উপস্থিতি : কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।7)কেলাস :এই শিলায় কেলাসগুলি দেখা যায় না। 8)প্রকৃতি : ভঙ্গুর প্রকৃতির হওয়ায় সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।9)দাগ বা চিহ্নের ছাপ : স্থলভাগে পাললিক শিলায় কাদায় চিড় খাওয়া দাগ থাকে এবং সমুদ্রগর্ভের পাললিক শিলায় ঢেউয়ের দাগ (রেপল ) থাকে।

উ:- রূপান্তরিত বা পরিবর্তিত শিলার বৈশিষ্ট্য :

1)কাঠিন্য :আগ্নেয় বা পাললিক শিলা রূপান্তরিত হলে তা পূর্বেকার তুলনায় বেশি কঠিন হয়। ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।2)স্ফটিক :আগ্নেয় শিলা রূপান্তরিত হলে আরো মসৃণ, চকচকে ও স্ফটিকগুলি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। 3)জীবাশ্মের অনুপস্থিতি : রূপান্তরিত শিলায় জীবাশ্ম থাকে না, অত্যধিক চাপ ও তাপে তা নষ্ট হয়ে যায়। 4)চিহ্ন : রূপান্তরিত শিলায় অনেক সময় সূক্ষ্ম পাতের বিন্যাস বা মোটা স্তরের দাগ দেখা যায়।5)খনিজের উপস্থিতি : রূপান্তরের ফলে শিলামধ্যস্থ খনিজ পদার্থগুলির পুনর্বিন্যাস হয়।একই ধরনের খনিজ একই দিকে চলে আসে বলে খনিজ সম্পদ সংগ্রহের সুবিধা হয় । 6)চিহ্ন : রূপান্তরিত শিলায় অনেক সময় সূক্ষ্ম পাতের বিন্যাস বা মোটা স্তরের দাগ দেখা যায়। 7)শিলাকণার বিন্যাসঃ রূপান্তরিত  নিস্‌ শিলায় শিলাকণা সমান্তরাল , ফিলাইটে,তরঙ্গায়িত, সিস্টে পএায়িত, মারবেলে কেলাসিত ,কোয়ার্টজাইটে মসৃণ ও চকচকে হয়ে থাকে।

উ:-শিলা থেকে মৃত্তিকা সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় পেডোজেনেসিস (Pedogenesis)। এটি কয়েকটি পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিতে সৃষ্টি হয় যা নিম্নে বর্ণনা করা হল-

1)আবহবিকার (Weathering) : এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি যেমন— নদী, বায়ু, বৃষ্টিপাত, সমুদ্রতরঙ্গ প্রভৃতি দ্বারা বহুদিন ধরে আদি শিলা (Parent Rock) ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়।

2)সংযোজন (Addition) : এরপর সেই চূর্ণ-বিচূর্ণ শিলার সঙ্গে বিভিন্ন জৈব পদার্থ (Organic Matter) যেমন- ঝরে পড়া পাতা, মৃত ও পচনশীল উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ প্রভৃতি মিশ্রিত হয়।

3)অপসারণ (Transportation) : তৃতীয় পর্যায়ে বৃষ্টির জল, নদীর জল, সমুদ্রতরঙ্গ প্রভৃতির মাধ্যমে সেই চূর্ণ-বিচূর্ণ শিলাখণ্ডের কিছুটা অপসারিত হয়।

4)রেগোলিথের উৎপত্তি (Formation of Regolith) : অপসারণের পর যে অবশিষ্ট অংশ পড়ে থাকে, তাকে বলা হয়। রেগোলিথ। এই রেগোলিথই হল মৃত্তিকার মূল উপাদান।

এভাবে কালক্রমে বিভিন্ন ভৌত-রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রেগোলিখ ভূত্বকের ওপরে খনিজ ও জৈব পদার্থসমৃদ্ধ পাতলা কোমল স্তররূপে বিকাশ লাভ করে, যা মাটি (Soil) নামে পরিচিত।

 

 

 

উ:- পাললিক শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় কারণ : নদী, সমুদ্র বা হ্রদের তলায় স্তরে স্তরে পলি জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহও তার মধ্যে চাপা পড়ে যায়।

পরবর্তীকালে নাম পলি জমাটবদ্ধ হয়ে পাললিক শিলা গঠনের সময় ওইসব উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহ ধীরে ধীরে প্রস্তরীভূত হয়ে যায় এবং শিলাস্তরের ওপর তার ছাপ সৃষ্টি হয়। এইজন্য জীবাশ্ম শুধুমাত্র শিলাতেই দেখা যায়।

উদাহরণ : টেথিস সাগরের বিশাল পলি সঞ্চিত হওয়ার সময় তার জীবকুল জীবাশ্মে পরিণত হয় ও এই কারণে হিমালয় পর্বতগাত্রে জীবাশ্ম পাওয়া যায়।

উ:- যে নির্দিষ্ট তল বরাবর পাললিক শিলার পরপর দুটি ভিন্নস্তর একে অপরের থেকে পৃথক থাকে তাকেই স্তরায়ন তল বা Bedding Plane বলে। সমুদ্র, হ্রদ বা কোনো জলাশয়ের তলদেশে পলি, বালি, নুড়ি, কাঁকর পাথর সঞ্চিত হয়ে কালক্রমে ওপরের চাপ ও নীচের তাপে পাললিক শিলায় পরিণত হয়। এই পদার্থগুলি বহুকাল ধরে, ভারী থেকে হালকা হিসেবে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হতে থাকে। তাই পাললিক শিলায় একাধিক স্তর দেখা যায়। এই স্তরগুলির পরস্পরের মাঝেই স্তরায়ন তল অবস্থান করে।

উ:- পৃথিবীর তিনভাগ জল আর একভাগ স্থল। এই স্থলভাগের  উপরিস্তরে রয়েছে মাটি। এই মাটির ওপর নির্ভর করে পৃথিবীর সমস্ত  জীবকূল অর্থাৎ উদ্ভিদ, প্রাণী, জীবাণু, মানুষ সবাই বেঁচে আছে।

মানুষের জীবন ধারণের জন্য যে তিনটি মৌলিক চাহিদা  রয়েছে – খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান, তার জোগান দেয় মাটি, আমাদের  জীবনে মাটির গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন—  1)জীবকুলের আবাসস্থল : পৃথিবীর প্রায় সমস্ত জীব  সম্প্রদায়ের বাসভূমি হল মাটি। মানুষ যে বাড়ি তৈরি করে তার ভিত্তি  মাটি, তেমনি মাটিতে বসবাসকারী জীবকুলের বাসভূমিও মাটি।

2)কৃষিকাজ : মাটি ছাড়া কৃষিকাজ অসম্ভব। বিভিন্ন মাটিতে  বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ ভালো হয়। যেমন— পলিমাটিতে ধান, পাট  চাষ, কালো মাটিতে তুলো চাষ প্রভৃতি।3)জলের জোগান : মাটি বৃষ্টির জল ধারণ করে পরিবেশের  আর্দ্রতা রক্ষা করে। মাটির নীচ থেকে এই জল সংগ্রহ করে আমরা পান  করি এবং নানা প্রাত্যহিক কাজে ব্যবহার করি।

4)ঘরবাড়ি নির্মাণের উপকরণ : গ্রামে মাটি দিয়ে বাড়ি তৈরি  করা হয়। এছাড়া বাড়ি-ঘর নির্মাণে ব্যবহৃত ইট, সিমেন্ট, টালি প্রভৃতি  তৈরিতে মাটি ব্যবহার করা হয়।

5)কুটির শিল্প : মাটি দিয়ে নানা প্রকারের খেলনা, ঘর  করছেন। অর্থ উপার্জন করছেন।  সাজানোর জিনিস তৈরি করে বহু মানুষ তাদের জীবিকা অর্জন

6)অন্যান্য ব্যবহার : চারাগাছের বাগান তৈরি করে জীবিকা  নির্বাহ করা, ফুলগাছ রোপণ করা, পশুচারণ প্রভৃতি কাজ মাটি ছাড়া  ভাবা যায় না। তাই বলা যায়, সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীর খাদ্যসংস্থান ও  জীবনধারণ সবকিছুই মাটিকেন্দ্রিক। মাটিই জীবনের ধারক।

উ:- সমুদ্র, হ্রদ বা জলাশয়ের তলদেশে পলি সঞ্চিত হয়ে ওপরেরচাপ ও নীচের তাপে জমাট বেঁধে কঠিন হয়ে পাললিক শিলার সৃষ্টি  হয়। এই শিলা সৃষ্টির সময় পলির সঙ্গে জলজ ও স্থলজ উদ্ভিদ ও  প্রাণীর দেহাবশেষ সঞ্চিত হয়। এগুলি পাললিক শিলার মধ্যে  জীবাশ্মরূপে এবং কার্বন, হাইড্রোকার্বন, ক্যালশিয়াম কার্বনেট বা চুন  জাতীয় পদার্থরূপে অবস্থান করে। তাই পাললিক শিলাকে জৈব  শিলা বলে। যেমন— চুনাপাথর, কয়লা প্রভৃতি।

উ:- রেগোলিথের ওপর জীবজগতের অর্থাৎ উদ্ভিদ, প্রাণী,  জীবজন্তু, জীবাণু ও মানুষের সক্রিয় ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে মাটি সৃষ্টি হয়।

1)উদ্ভিদের ভূমিকা :

(i) হিউমাস তৈরি : গাছের ডাল, পাতা, ফুল, ফল, শিকড়  মাটিতে পড়ে বিয়োজিত হয়ে যে হিউমাস তৈরি হয় তা মাটিকে উর্বর করে তোলে।(ii)মাটিকে অম্লত্ব ও ক্ষারকত্ব প্রদান : গাছের পাতায়  পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম কম থাকলে মাটি অম্লধর্মী হয়। তৃণভূমি  অঞ্চলের মাটি ক্ষারধর্মী হয়।(iii) জৈব পদার্থের উপস্থিতি : জৈব  পদার্থ মাটির জলধারণ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। (iv) মাটির রং  প্রদান : জৈব পদার্থ বেশি থাকলে সেই মাটির রং কালো হয়। জৈব  পদার্থ কম থাকলে হালকা হয়।(v) মাটির ভৌত ধর্ম : গাছের শিকড়  মাটির মধ্যে প্রবেশ করলে মাটিতে জল ও বায়ু চলাচল ভালোভাবে  হতে পারে। মাটির গঠন সংঘবদ্ধ হয়।

2)জীবজন্তুদের ভূমিকা :

(i) মাটির মধ্যে বসবাসকারী প্রাণী  (ইঁদুর, পিঁপড়ে, কেঁচো প্রভৃতি) কোমল শিলায় গর্ত খুঁড়ে শিলাকে  চূর্ণ-বিচূর্ণ করে। (ii) মৃৎভেদী প্রাণীরা মাটির বিভিন্ন স্তর খুঁড়ে মাটির  মিশ্রণ ঘটায়। মাটিতে ক্যালশিয়াম ও নাইট্রোজেনের পরিমাণ বাড়ায়।(iii) ব্যাকটেরিয়া, অ্যালগি, ফ্যাংগাস এরা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর  দেহাবশেষ বিয়োজিত করে সেগুলিকে হিউমাসে পরিণত করে।

3)মানুষের ভূমিকা : মানুষ কৃষিকাজ, খনিজ উত্তোলন,  রাস্তাঘাট-বাড়িঘর নির্মাণ, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে যেমন মাটির সৃষ্টিতে  সাহায্য করছে, তেমনি বৃক্ষচ্ছেদন, শিল্পস্থাপন, মাত্রাতিরিক্ত জলসেচ  প্রভৃতির মাধ্যমে মাটি সৃষ্টিতে বাধা দানও করে।

উ:- গ্রানাইট শিলা রূপান্তরিত হয়ে নিস্ শিলায় পরিণত হয়।

বৈশিষ্ট্য :

1)খনিজ : কোয়ার্টজ, ফেল্ডসপার, অভ্র, হর্নব্লেন্ড, অগাইট।

2)সৃষ্টির প্রক্রিয়া : তীব্র চাপের  ফলে গ্রানাইট শিলা নিস্ শিলায়  পরিণত হয়।

3)ক্ষয় : এই শিলা  অত্যন্ত শক্ত ও ক্ষয় প্রতিরোধী।

4)খনিজের অবস্থান : অনেক  নিস্-এ বলয়ের আকারে  খনিজগুলি একসঙ্গে থাকে। এই  ধরনের নিস্কে ব্যান্ডেড নিস্ বলে। এর থেকে নির্দিষ্ট খনিজ সহজে  সংগ্রহ করা যায়। 5)কাঠিন্য : গ্রানাইট শিলার তুলনায় নিস্ কম শক্ত  হয়।

6)গঠন : কোয়ার্টজ, ফেল্ডসপার, অভ্র, হর্নব্লেন্ড, ফেরো  ম্যাগনেশিয়াম প্রভৃতি উপাদান দিয়ে নিস্ বা নাইস গঠিত। এর  খনিজের কণাগুলি বড়ো হয়।

7)রং : নিসের রং ধুসর, সাদা ও ফিকে  কালো হয়।

8)ভূমিরূপ : নিস্ শিলা গঠিত ভূমির উপরিভাগ সমতল  প্রকৃতির হয়। কারণ এর কণাগুলি সমান্তরালভাবে সাজানো থাকে।

9)অবস্থান/বণ্টন : নিস পাতালিক আগ্নেয় শিলা গ্রানাইট থেকে  সৃষ্টি হয়। সেজন্য এটি মাটির অনেকটা নীচে অবস্থান করে। তবে  ভূ-আন্দোলনের প্রভাবে কখনো কখনো ভূপৃষ্ঠের অনেকটা কাছাকাছি।  চলে আসে।

ব্যবহার : রাস্তাঘাট তৈরিতে ও নির্মাণকার্যে এই শিলা ব্যবহৃত হয়।

উ:- সংজ্ঞা : জীবাশ্ম = জীব + অশ্ম। জীব অর্থাৎ, যার জীবন  আছে এবং ‘অশ্ম’ শব্দের অর্থ শিলা বা প্রস্তর। কোনো জীবদেহ শিলায়  পরিণত হলে বা প্রস্তরীভূত হলে তাকে জীবাশ্ম বলে।

উৎপত্তি : সমুদ্রগর্ভে স্তরে স্তরে পলি সঞ্চিত হওয়ার সময়  অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ ওই স্তরের মধ্যে চাপা পড়ে যায়।  কালক্রমে পলিস্তর জমাট বেঁধে শিলায় পরিণত হওয়ার সময় এগুলি  প্রস্তরীভূত হয়ে জীবাশ্মে পরিণত হয়। একমাত্র পাললিক শিলায়  দেখতে পাওয়া যায়।

গুরুত্ব : পাললিক শিলাস্তরে প্রাপ্ত এই জীবাশ্মের গুরুত্ব  অপরিসীম। এই জীবাশ্ম পরীক্ষা করে— 1)জীবের আবির্ভাবকাল জানা যায়।2)শিলার বয়স জানা যায়।3)বিভিন্ন যুগে জীবের বিবর্তন  ও জলবায়ুর পরিবর্তন সম্পর্কে জানা যায়।

উদাহরণ : হিমালয় পর্বত সৃষ্টির সময় টেথিস সাগরের  বিশাল পলি সঞ্চিত হয়। বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী, উদ্ভিদের দেহ চাপা  পড়ে ও পলির সঙ্গে এগুলিও ধীরে ধীরে প্রস্তরীভূত হয়, তাই  হিমালয়ে জীবাশ্ম দেখতে পাওয়া যায়।

উ:- সংজ্ঞা : বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ মৃত্তিকা মধ্যস্থিত  জীবাণু দ্বারা  সূক্ষ্ম  বিয়োজিত হয়ে মাটির  ওপরের স্তরে এক  ধরনের কালো রঙের  জটিল জৈব পদার্থের  স্তরের সৃষ্টি হয়, একে  হিউমাস বলে। হিউমাস  সৃষ্টির  প্রক্রিয়াকে  হিউমিফিকেশন (Humification) বলে।

বৈশিষ্ট্য : 1)মাটির হিউমাসের প্রধান উপাদানগুলি হল -   কার্বন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, সালফার, ফসফরাস,লিগনিন, প্রোটিন, ফ্যাট ইত্যাদি।

2)হিউমাস কলয়েড ধনাত্মক আয়নযুক্ত।3)হিউমাস সমৃদ্ধ মাটির জলধারণ ক্ষমতা খুব বেশি।

4)হিউমাস মৃত্তিকার গঠন, সচ্ছিদ্রতা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

5)হিউমাস বিয়োজিত হয়ে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ মাটিতে মেশে।  তাই যে মাটিতে হিউমাস বেশি থাকে সেই মাটি খুব উর্বর হয়।

6)হিউমাস মূলত মাটির উপরিস্তরে গড়ে ওঠে এবং তা গাঢ়  কালো বর্ণের হয়।

উ:- অর্থ : 'Regolith' শব্দটি গ্রিক শব্দ। 'Regos' = Blanket  covering এবং Lithos = Rock থেকে এসেছে। অর্থাৎ রেগোলিথ হল  ভূমিভাগের ওপরের শিলাচূর্ণের আস্তরণ। 1897 সালে আমেরিকান  ভূতত্ত্ববিদ জর্জ পি মেরিল ‘রেগোলিথ’ শব্দটির উদ্ভব ঘটান।

সংজ্ঞা : মৃত্তিকা সৃষ্টির প্রথম পর্যায়ে আদি শিলা যান্ত্রিক ও  রাসায়নিক আবহবিকারের ফলে চূর্ণবিচূর্ণ হয়। এই শিলাচূর্ণ ভূত্বকের  উপর শিথিল ও কোমল একটি আবরণ সৃষ্টি করে, একে রেগোলিথ  বলে।

বৈশিষ্ট্য : 1)রেগোলিথই মৃত্তিকা সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায় ও প্রধান শর্ত।2)রেগোলিথ হল আবহবিকারের ফলে সৃষ্ট যাবতীয়  বস্তুভারের অসমৃদ্ধ স্তর।3)এই বস্তুটি শিলাচূর্ণ ও মৃত্তিকার মাঝামাঝি  অবস্থা। 4)আবহবিকারের পরিমাণ বেশি হলে রেগোলিথের গভীরতা  বেশি হয়।5)রেগোলিথ মূলত অজৈব পদার্থ দ্বারা তৈরি।6)কালক্রমে বিভিন্ন জৈবিক, রাসায়নিক ও জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রেগোলিথের সূক্ষ্ম শিলাচূর্ণগুলি বিশ্লিষ্ট ও স্তরীভূত হয়ে মৃওিকা সৃষ্টি করে।

উদাহরনঃ পর্বতের পাদদেশীয় ঢালে সঞ্চিত ট্যালাস স্ক্রি ইত্যাদি হল রেগোলিথ জাতীয় পদার্থ ।

উঃ-ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির ঘাতপ্রতিঘা  চূর্ণ-বিচুর্ণ ও ক্ষয়ীভূত হয়ে ভূপৃষ্ঠের কোনো অবনমিত অঞ্চলে  (অগভীর নদী, হ্রদ, সমুদ্র বা জলাশয়) তলদেশে ক্রমশ স্তরে  স্তরে সঞ্ঝিত হতে থাকে। কালক্রমে ওই সঞ্চিত পললরাশি ভূগর্ভের তা  ওপরের জলরাশি ও শিলাস্তরের প্রবল চাপে কঠিন হয়ে পাললিক  শিলায় পরিণত হয়। এই শিলা স্তরে স্তরে পলি সঞ্চিত বা সজ্জিত হে  গঠিত হয় বলে, একে স্তরীভূত শিলা বলে। এই শিলার মধ্যে একটি স্ত  অন্য একটি স্তরের সঙ্গে যে তলে যুক্ত থাকে, তাকে স্তরায়ণ তল বলে।

উ:- মাটির প্রধান উপাদান খনিজ পদার্থ। মাটিতে 45% খনিজ   পদার্থ, 25% বাতাস, 25% জল এবং বাকি 5%-এ অন্যান্য পদার্থ বর্তমান   থাকে। ওই 5% অন্যান্য পদার্থের মধ্যে প্রায় ৪০% উদ্ভিদ ও প্রাণীর   পচাগলা অংশ বা হিউমাস থাকে, 10% থাকে উদ্ভিদের পাতা ও শিকড়   এবং বাকি 10%-এ থাকে অণুজীব।

উ:- রেললাইনে ব্যাসল্ট শিলা রাখা হয়। ব্যাসল্ট হল এক ধরনের   আগ্নেয় শিলা। পাইরক্সিন, কোয়ার্টজ, ফেসপার, লোহা, অলিভিন   ইত্যাদি খনিজের সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় খুব শক্ত প্রকৃতির হয়। খুব   ভারী ও ক্ষয় প্রতিরোধী এই শিলা রেললাইনের মাঝে থাকায় লাইনগুলি   ট্রেন যাওয়ার পরেও স্থানচ্যুত হয় না এবং রেল, বৃষ্টির জল, বায়ু দ্বারা   সহজে ক্ষয়প্রাপ্তও হয় না।