Chapter-6, জলবায়ু অঞ্চল

উত্তর যেহেতু প্রতি 1000 মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা 6.5° সেলসিয়াস হারে হ্রাস পায় তাই উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদেরও প্রকৃতিগত পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। একারণে পার্বত্য অঞ্চলে উচ্চতার সাথে স্বাভাবিক উদ্ভিদ ও জলবায়ুর পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। যেমন— পর্বতের পাদদেশে চিরহরিৎ বনভূমি, 1000-2000 মিটার উচ্চতায় পর্ণমোচী উদ্ভিদ, 2000-4000 মিটার উচ্চতায় সরলবর্গীয় বনভূমি এবং 4000 মিটার উচ্চতার ওপর আল্পীয় তৃণভূমি জন্মায় |

কোনো বিস্তৃত এলাকায় জলবায়ুর উপাদানগুলি প্রায় একইরকম হলে ওই নির্দিষ্ট এলাকাটি একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ও স্বতন্ত্র জলবায়ু অঞ্চল হিসেবে গড়ে ওঠে। পৃথিবীর বিভিন্ন তাপমণ্ডলের অন্তর্গত 13টি গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু অঞ্চল হল— উষ্ণমণ্ডলের অন্তর্গত জলবায়ু অঞ্চল : 1 নিরক্ষীয় জলবায়ু, 2 ক্ৰান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু, ও ক্রান্তীয় তৃণবলয় বা সাভানা জলবায়ু, 4 ক্রান্তীয় উন্ন মরু জলবায়ু। নাতিশীতোয়মণ্ডলের অন্তর্গত জলবায়ু অঞ্চল : 5 ভূমধ্যসাগরীয়
জলবায়ু, 6 স্তেপ জলবায়ু, 7 চিনদেশীয় জলবায়ু। লীতল নাতিশীতোয়মণ্ডলের অন্তর্গত জলবায়ু অঞ্চল: ও পশ্চিম প্রান্তীয় সামুদ্রিক জলবায়ু, 9 সাইবেরীয় বা তৈগা জলবায়ু, 10 পূর্ব উপকূলীয় বা লরেন্সীয় জলবায়ু |
হিমমণ্ডলের অন্তর্গত জলবায়ু অঞ্চল : 1 তুন্দ্রা জলবায়ু, 2 মেরু জলবায়ু। পার্বত্য অঞ্চলের অন্তর্গত জলবায়ু অঞ্চল : 3 ক্রান্তীয় ও নাতিশীতো
পার্বত্য জলবায়ু।

সাধারণত নিরক্ষরেখার উভয়দিকে 59-10° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় জলবায়ু দেখা যায়। যেমন—

1 দক্ষিণ আমেরিকা: ব্রাজিলের উত্তরাংশে অর্থাৎ আমাজন নদীর অববাহিকায়।

2 আফ্রিকা: কঙ্গো বা জাইরে নদীর অববাহিকা অঞ্চলে, গিনি উপকূলে।

3  মধ্য আমেরিকা: পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস, পুয়াতেমালা প্রভৃতি দেশে।

4  এশিয়া: সুমাত্রা, জাভা, বোর্নিও, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউগিনি, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ প্রভৃতি অঞ্চলে।

নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে আপতিত হওয়ার ফলে সারাবছর তাপমাত্রা বেশি থাকে (বার্ষিক গড় উন্নতা 27°সে)। দিনেরবেলা এই অঞ্চলের উন্নতা 38° সে পর্যন্ত হতে পারে। তাছাড়া সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে এখানে কোনো ঋতু পরিবর্তন হয় না। তাই এখানে বার্ষিক উন্নতার প্রসর হয় মাত্র 2°-3° সে। এ ছাড়া জলভাগ বেশি হওয়ার ফলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও বেশি হয়। এইসব কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।

নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারাবছরই লম্বভাবে পড়ে বলে এখানে উন্নতা খুব বেশি থাকে। সাধারণত দিনেরবেলা গড় তাপমাত্রা 27 30 °সে হলেও মাঝে মাঝে এই উন্নতা প্রায় 36 38 °সে হয় ফলে অধিক পরিমাণে বাষ্পায়ন হয় ও আবহাওয়া উরু-আর্দ্র থাকে। কিন্তু রাতে তাপ বিকিরণের ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রায় 20°25°সে-এর কাছে নেমে আসে অর্থাৎ তাপমাত্রার প্রসর বেশি হয়। তাই রাতের দিকে বেশ শীত অনুভূত হয়। সেইজন্য নিরক্ষীয় অঞ্চলের রাত্রিকে ক্রান্তীয় শীতকাল বলে।

অধিক উন্নতার কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এখানে জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ার জন্য বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণও বেশি হয়। এই উম্ন এবং আর্দ্র বাতাস ওপরে উঠে গিয়ে শীতল ও ঘনীভূত হয় এবং পরিচলন প্রক্রিয়ায় বিকেলের দিকে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টিপাত ঘটায়। এখানে বছরে প্রায় 250-300 দিন বৃষ্টিপাত হয় ।

সারাবছর ধরে প্রচুর বৃষ্টিপাত, অধিক উন্নতা এবং বায়ুমণ্ডলে প্রচুর আর্দ্রতার জন্য নিরক্ষীয় অঞ্চলে বড়ো বড়ো পাতাযুক্ত চিরসবুজ গাছের গভীর বনভূমির সৃষ্টি হয়েছে এখানে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টিপাত হয়, ফলে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় জলের কোনো অভাব হয় না, এ ছাড়াও প্রখর সূর্যালোক উদ্ভিদকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।

নিরক্ষীয় চিরহরিৎ অরণ্যের বৈশিষ্ট্যগুলি হল— 0 নিরক্ষীয় বৃষ্টি অরণ্যের উদ্ভিদগুলি প্রায় 60 মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। 2 বৃক্ষের নিম্নাংশে তেমন কোনো শাখাপ্রশাখা থাকে না, ওপরের দিকে চাঁদোয়ার (canopy)-র মতো ঘন পত্ররাজি দেখা যায়। 3 এই বনভূমি অত্যন্ত ঘন, দুর্ভেদ্য এবং চিরহরিৎ প্রকৃতির। 4 এই অরণ্যে বহু প্রজাতির বৃক্ষ একসঙ্গে অবস্থান করে। এই অরণ্যে স্বাভাবিক উদ্ভিদের উচ্চতাভিত্তিক পাঁচটি স্তর দেখা যায়— [i] সর্বোচ্চ স্তর—বৃক্ষগুলি 30-60 মিটার দীর্ঘ, [ii] দ্বিতীয় স্তর — বৃক্ষগুলি 25-30 মিটার দীর্ঘ, [iii] তৃতীয় স্তর—বৃক্ষগুলির উচ্চতা 12-20 মিটার, [iv] চতুর্থ স্তর ঝোপঝাড় ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ এবং [v] সর্বনিম্ন স্তর – লতাপাতা, মস, ফার্প, অর্কিড ইত্যাদি |

নিরক্ষীয় অঞ্চলের অরণ্যের ব্যবহার (1) রবার গাছের রস বা আঠা থেকে রবার সংগ্রহ করা হয়, যা ব্রাজিলে কালো সোনা নামে পরিচিত। ব্রাজিল নাট থেকে বাদাম সংগ্রহ করা হয়, যা থেকে তেল তৈরি করা হয়। বাদামের খোসা থেকে বোতাম তৈরি হয়। 3 জাপোটি গাছের রস থেকে চিউইংগাম প্রস্তুত করা হয়। 4 পাম গাছের তেল থেকে ভোজ্যতেল, সাবান, গ্লিসারিন প্রস্তুত করা হয়। 5 সিঙ্কোনা গাছের ছাল থেকে ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক ওষুধ কুইনাইন প্রস্তুত করা হয়। 6 এই অরণ্যের কাঠ আসবাব শিল্পে, জাহাজ ও মঞ্চ নির্মাণ, পরিকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে চাষবাস তেমন ভালো হয় না। কারণ— (i) অধিক বৃষ্টিপাত : কৃষিকাজের জন্য বৃষ্টিপাত প্রধান ভূমিকা নেয়। কিন্তু অধিক বৃষ্টিপাত কৃষিকাজে বাধা দেয়। প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হয় বলে ফসল ঘরে তোলা অসুবিধাজনক।

2) বনভূমির প্রাধান্য: এখানে চিরসবুজ বনভূমি ফসল উৎপাদনে বাধা দেয়। কয়েকদিন ফেলে রাখলেই জমি আগাছায় ভরে ওঠে।

3) কীটপতঙ্গের আক্রমণ: আর্দ্র স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার জন্য ফসল নানা

প্রকার কীটপতঙ্গ দ্বারা আক্রান্ত হয়। ফলস্বরূপ ফসলের উৎপাদন

বহুলাংশে হ্রাস পায় ।

4 প্রাচীন পদ্ধতিতে চাষ: নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশগুলি আর্থ সামাজিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। তাই এদের কৃষি পদ্ধতিও আদিম। এই পদ্ধতিতে চাষ করলে খুব কম পরিমাণে ফসল উৎপাদন হয়।

5  পাতলা মৃত্তিকা স্তর ও অনুর্বর মাটি: নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে মৃত্তিকার স্তর অপেক্ষাকৃত পাতলা এবং মাটি অনুর্বর। উপরিউক্ত কারণগুলির জন্য নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল চাষবাষের অনুপযুক্ত। এরই ফলশ্রুতি হিসেবে এখানকার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা হল বনভূমি থেকে ফলমূল সংগ্রহ এবং পশুশিকার।

নিরক্ষীয় অঞ্চলে কাষ্ঠল উদ্ভিদের প্রাধান্য থাকলেও কাষ্ঠ শিল্প সেভাবে গড়ে ওঠেনি, কারণ—

বৃক্ষের প্রকৃতি : এই অরণ্যের উদ্ভিদগুলির কাঠ অত্যন্ত শক্ত প্রকৃতির, ফলে গাছগুলি কাটা এবং তার থেকে আসবাবপত্র নির্মাণ খুব অসুবিধাজনক | দুর্গমতা: নিরক্ষীয় বনভূমি এতই দুর্গম যে এই অরণ্যের ভিতরে প্রবেশ করা খুব কষ্টসাধ্য।

পরিবহণে অসুবিধা: প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ার কারণে নিরক্ষীয় বৃষ্টি অরণ্যের মাটি ভিজে এবং স্যাঁতসেতে থাকে, ফলে সড়ক বা রেলপথের মাধ্যমে কাটা কাঠ অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য । রোগব্যাধির প্রকোপ: ক্রান্তীয় বৃষ্টি অরণ্যে নানাবিধ পোকামাকড়, মাছি, মশা, সাপ ইত্যাদি থাকায় বনভূমি থেকে কাঠ সংগ্রহ করা রীতিমতো দুঃসাধ্য ব্যাপার। রোগব্যাধির প্রকোপে তেমন কেউ অরণ্যে প্রবেশ করে না। শ্রমিকের অভাব: নিরক্ষীয় বনভূমি অঞ্চলে শ্রমিকের অভাবে বনে কাঠ কাটা ও সংগ্রহ করা বেশ অসুবিধাজনক।

পৃথিবীর সর্বত্র জলবায়ু একরকম নয়, কোথাও উয়তা বেশি, আবার কোথাও তীব্র ঠান্ডা; কোথাও বৃষ্টিপাত বেশি, আবার কোথাও শুষ্ক মরুভূমি; কোথাও সারাবছরই বৃষ্টিপাত হয়, আবার কোথাও বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে (গ্রীষ্মকালে বা শীতকালে) বৃষ্টিপাত হয় । জলবায়ুর এইসব তারতম্য অনুসারে

পৃথিবীর এক-এক জায়গায় এক-একরকম গাছপালা, জীবজন্তু, কৃষি পদ্ধতি, মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ, অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, বাড়িঘরের ধরন ইত্যাদি দেখা যায়। যেমন—মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে আর্দ্র গ্রীষ্মকাল ও শুষ্ক শীতকালের কারণে পর্ণমোচী বৃক্ষের অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখানকার অধিবাসীরা কৃষিকাজ ও পশুপালনের ওপর ভিত্তি করে জীবনধারণ করে। অন্যদিকে তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলে সারাবছরব্যাপী বিস্তৃত শীত ঋতুর কারণে শৈবালজাতীয় উদ্ভিদ জন্মায়। এখানকার অধিবাসীরা পশুশিকার করে জীবিকানির্বাহ করে। এককথায় জলবায়ু প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পরিবেশ তথা মানুষের জীবনধারার ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

জলবায়ু অঞ্চল: অক্ষাংশগত অবস্থান, জল ও জলভাগের অবস্থান, সূর্যরশ্মির পতনকোপের পার্থক্য, আর্দ্রতা, তাপ, চাপ প্রভৃতির ওপর নির্ভর করে পৃথিবীর নানা স্থানে জলবায়ুর পার্থক্য এবং মিল উভয়ই চোখে পড়ে। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে যখন সমধর্মী জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়, তখন ওই সমধর্মী জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যযুক্ত অঞ্চলগুলিকে জলবায়ু অঞ্চল হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

বিখ্যাত আবহবিদ ট্রিওয়ার্থা বলেন, ভূপৃষ্ঠের ওপরের কোনো অঞ্চলের জলবায়ুর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলির অবস্থা ও জলবায়ুর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি মোটামুটি একরকম হলে, তখন তাকে জলবায়ু অঞ্চল বলে। যেমন— নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল, মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল, তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চল প্রভৃতি।

জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:

1 নিয়ন্ত্রক: জলবায়ু অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণ করে সেখানকার উন্নতা, বৃষ্টিপাত,

বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ, মেঘাচ্ছন্নতা প্রভৃতি।

2 বিস্তৃতি: পৃথিবীর প্রতিটি জলবায়ু অঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট বিস্তৃতি রয়েছে।

3 পৃথককরণ: দুটি জলবায়ু অঞ্চলকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায় না, কারণ দুটি জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে স্পষ্ট কোনো সীমারেখা নেই ।

4 উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের ওপর প্রভাব: কোনো অঞ্চলের জলবায়ু সেই অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতকে প্রভাবিত করে। তাই কোনো স্থানের স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য দেখে সেখানকার জলবায়ু অঞ্চল সম্পর্কে ধারণা করা যেতে পারে। যেমন—জলপাই অরণ্য ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুকে উপস্থাপিত করে, আবার মেরু ভাল্লুক মেরু জলবায়ুকে উপস্থাপিত করে।

5 মানুষের ওপর প্রভাব : জলবায়ু অঞ্চল মানুষের আর্থ-সামাজিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে। এ ছাড়া জলবায়ু মানুষের খাদ্যাভ্যাস, পোশাক, বাড়িঘর নির্মাণ ও অন্যান্য বিষয়কেও নিয়ন্ত্রণ করে।

6 উপঅঞ্চল: একটি বড়ো জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে উপাদানগুলির স্থানগত পার্থক্যের কারণে একাধিক উপঅঞ্চলের সৃষ্টি হয়।

অবস্থান: নিরক্ষরেখার উভয়দিকে 5°-10° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় জলবায়ু পরিলক্ষিত হয়। দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলের আমাজন অববাহিকা, আফ্রিকার জাইরে নদীর অববাহিকা ও গিনি উপকূল, মধ্য আমেরিকার পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, সুয়াতেমালা, হন্ডুরাস প্রভৃতি দেশ, এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাংশ প্রভৃতি দেশ বা অঞ্চলে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজ করে। উন্নতা: সারা বছর সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে বলে নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর উন্নতা সবসময়ই বেশি থাকে। এখানে বার্ষিক উন্নতার গড় 27 ° সে এবং বার্ষিক উন্নতার প্রসর মাত্র 2° থেকে 3 ° সে। তবে রাতে উন্নতা কিছুটা কমে যায় (25 ° সে) বলে নিরক্ষীয় অঞ্চলের রাত্রিকে ক্রান্তীয় শীতকাল নামে অভিহিত করা হয়। বৃষ্টিপাত: সারা বছর বেশি উয়তা এবং বাতাসে প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প থাকার জন্য নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিন অপরাহ্নে পরিচলন পদ্ধতিতে বৃষ্টিপাত হয়। প্রতিদিন অপরাহ্নেও টে-4 টের সময় এই বৃষ্টিপাত হওয়ায় একে 4 O'clock rain বলে । এইভাবে এখানে বছরে প্রায় 250 থেকে 300 দিন বৃষ্টি হয় এবং বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গড়ে 200-300 সেমি)

নিরক্ষরেখার উভয়দিকে 5°-10° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় জলবায়ু দেখা যায়। এই প্রকার জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল— উন্নতা: O এখানে সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় উন্নতা বেশি থাকে, ফলে এখানকার বার্ষিক গড় উয়তা প্রায় 27°সে-এর কাছাকাছি থাকে। 2) বার্ষিক উন্নতার প্রসর হয় মাত্র 2° থেকে 3 °সে। 3 দিন ও রাতের মধ্যে উন্নতার প্রসর বেশি (প্রায় 15°-20 °সে), হওয়ায় ভোররাতের দিকে এই অঞ্চলে কিছুটা শীত অনুভূত হয় এবং এই জন্য এখানকার রাত্রিকে ক্রান্তীয় শীতকাল বলা হয় ।

সূর্যরশ্মির পতনকোণ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যের আলো সারাবছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে।

দিনরাত্রির দৈর্ঘ্য: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর ধরে দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান থাকে (12 ঘন্টা)। বায়ুপ্রবাহ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে যেহেতু চিরস্থায়ী নিম্নচাপ বলয় অবস্থান করে তাই উর্ধ্বমুখী বায়ুস্রোত দেখা গেলেও ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে তেমন কোনো বায়ুপ্রবাহ দেখা যায় না, অর্থাৎ বাতাসে শান্তভাব লক্ষ করা যায়।

আর্দ্রতা: নিরক্ষীয় অঞ্চলে জলভাগ বেশি এবং সূর্যের আলো লম্বভাবে পড়ে বলে জলের বাষ্পীভবনের হার বেশি হয়। সেজন্য বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও সর্বাধিক হয় অর্থাৎ স্যাঁতসেতে আবহাওয়া বিরাজ করে।

বৃষ্টিপাত অধিক উচ্চতা এবং আর্দ্রতার কারণে প্রায় প্রতিদিন বিকেলে আকাশে কিউমুলোনিয়াস মেঘের সঞ্চার ঘটে এবং বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হয়। এখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গড়ে 200-300 সেমি | প্রায় প্রতিদিন বিকেলে বৃষ্টিপাত হয় বলে একে 4'0 clock rain বলে ।

ঋতুহীনতা: সূর্যরশ্মি প্রায় সারা বছর লম্বভাবে পড়ার জন্য নিরক্ষীয় অঞ্চলে মাত্র একটি ঋতুই দেখা যায়, তা হল গ্রীষ্মকাল।

নিরক্ষরেখার উভয়দিকে 5°-10° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় জলবায়ু দেখা যায়। এই প্রকার জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল— উন্নতা: O এখানে সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় উন্নতা বেশি থাকে, ফলে এখানকার বার্ষিক গড় উয়তা প্রায় 27°সে-এর কাছাকাছি থাকে। 2) বার্ষিক উন্নতার প্রসর হয় মাত্র 2° থেকে 3 °সে। 3 দিন ও রাতের মধ্যে উন্নতার প্রসর বেশি (প্রায় 15°-20 °সে), হওয়ায় ভোররাতের দিকে এই অঞ্চলে কিছুটা শীত অনুভূত হয় এবং এই জন্য এখানকার রাত্রিকে ক্রান্তীয় শীতকাল বলা হয় ।

সূর্যরশ্মির পতনকোণ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যের আলো সারাবছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে।

দিনরাত্রির দৈর্ঘ্য: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর ধরে দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান থাকে (12 ঘন্টা)। বায়ুপ্রবাহ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে যেহেতু চিরস্থায়ী নিম্নচাপ বলয় অবস্থান করে তাই উর্ধ্বমুখী বায়ুস্রোত দেখা গেলেও ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে তেমন কোনো বায়ুপ্রবাহ দেখা যায় না, অর্থাৎ বাতাসে শান্তভাব লক্ষ করা যায়।

আর্দ্রতা: নিরক্ষীয় অঞ্চলে জলভাগ বেশি এবং সূর্যের আলো লম্বভাবে পড়ে বলে জলের বাষ্পীভবনের হার বেশি হয়। সেজন্য বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও সর্বাধিক হয় অর্থাৎ স্যাঁতসেতে আবহাওয়া বিরাজ করে।

বৃষ্টিপাত অধিক উচ্চতা এবং আর্দ্রতার কারণে প্রায় প্রতিদিন বিকেলে আকাশে কিউমুলোনিয়াস মেঘের সঞ্চার ঘটে এবং বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হয়। এখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গড়ে 200-300 সেমি | প্রায় প্রতিদিন বিকেলে বৃষ্টিপাত হয় বলে একে 4'0 clock rain বলে ।

ঋতুহীনতা: সূর্যরশ্মি প্রায় সারা বছর লম্বভাবে পড়ার জন্য নিরক্ষীয় অঞ্চলে মাত্র একটি ঋতুই দেখা যায়, তা হল গ্রীষ্মকাল।

নিরক্ষীয় অঞ্চলে অধিক উন্নতা, বৃষ্টিপাত ও অন্যান্য জলবায়ুগত কারণে এখানকার জীববৈচিত্র্য ভিন্ন প্রকৃতির । A. উদ্ভিদ বৈচিত্র্য: প্রায় সারা বছর বৃষ্টিপাত, অধিক উন্নতা, স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার জন্য নিরক্ষীয় অঞ্চলে উদ্ভিদের সর্বাধিক বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়েছে |

1  কাষ্ঠল উদ্ভিদ: ব্রাজিলের আমাজন অববাহিকা, আফ্রিকার কঙ্গো বা জাইরে অববাহিকার চিরসবুজ, বৃহৎ পত্রযুক্ত, অসংখ্য শক্ত কাঠের বৃক্ষের সমাবেশ দেখা যায়। ব্রাজিলে এই অরণ্যকে সেলভা অরণ্য বলে। দেখা গেছে, ব্রাজিলের বৃষ্টি অরণ্যের কোনো কোনো স্থানে দুই বর্গকিমি অঞ্চলে প্রায় 300 প্রজাতির উদ্ভিদ পাশাপাশি অবস্থান করছে। নিরক্ষীয় অরণ্যের গাছের পাতাগুলি বেশ চওড়া হয় এবং গাছগুলি ঠাসাঠাসিভাবে অবস্থান করে বলে এই অরণ্যের ওপরের অংশে চাঁদোয়ার মতো আচ্ছাদন তৈরি হয়। ফলে বনভূমির নীচের অংশে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না, সেইজন্য নিরক্ষীয় বনভূমির নীচের অংশে দিনেরবেলা গোধূলির মতো পরিবেশ বিরাজ করে । রোজউড, আয়রন উড, মেহগনি, আবলুস, রবার ইত্যাদি উদ্ভিদ এখানে জন্মায়।

2 বিরুৎ শ্রেণির উদ্ভিদ: বৃহৎ উদ্ভিদের ওপর নানাধরনের পরগাছা, লতানো উদ্ভিদ, মস, ফার্ন ইত্যাদি বিরুৎ শ্রেণির উদ্ভিদ দেখা যায় ।

৩ অন্যান্য বৃক্ষ : সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে নারকেল, পাম, সুপুরি, তালজাতীয় উদ্ভিদ জন্মায় ।

 

প্রাণী বৈচিত্র্য: নিরক্ষীয় বৃষ্টি অরণ্য ঘন, দুর্ভেদ্য এবং সবুজ হওয়ায় নানা ধরনের বন্যপ্রাণী এখানে বাস করে। তবে অরণ্যের ভূমিসংলগ্ন অংশ স্যাঁতসেঁতে, অন্ধকার হওয়ায় এবং লতা, গুল্ম, ঝোপঝাড় দ্বারা আবৃত থাকে বলে যেসব প্রাণী গাছে চড়তে পারে তাদের আধিক্যই বেশি। @ গাছের উঁচু অংশে বসবাসকারী প্রাণী: সোনালি বানর, উড়ন্ত কাঠবেড়ালি, ম্যাকাও পাখি, প্রজাপতি, শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং প্রভৃতি প্রাণী গাছের

'সবচেয়ে উপরের অংশে বাস করে।

2 অরণ্যের মধ্যবর্তী পর্যায়ে বসবাসকারী প্রণী: গরিলা, হনুমান, বাদুড়, বিভিন্ন কীটপতঙ্গ প্রভৃতি। ও ভূমি-সন্নিহিত অংশে বসবাসকারী প্রণী : চিতাবাঘ, শূকর, শেয়াল, গণ্ডার, হাতি প্রভৃতি ।

4 জলভাগে বসবাসকারী প্রণী: বিভিন্ন জলাভূমি ও নদীতে কুমির, বিষাক্ত সাপ, অ্যানাকোন্ডা প্রভৃতি সরীসৃপ প্রাণীরা বাস করে।

ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য: ভারতের 1 পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম চাল,

2 মেঘালয় মালভূমি, ও আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ৫ লাক্ষাদ্বীপ এবং 5 হিমালয় পর্বতের পাদদেশে ক্রান্তীয় চিরসবুজ অরণ্য দেখা যায়। পর্ণমোচী অরণ্য: ভারতের 1 হিমালয়ের তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চল 2 ওডিশা, ও ছোটোনাগপুর মালভূমি, 4 মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু প্রভৃতি অঞ্চলে পর্ণমোচী অরণ্য দেখা যায় |

মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অরণ্যে বানর, হরিণ, হাতি, গণ্ডার, চিতা, নেকড়ে, ভাল্লুক, হায়েনা, শিয়াল প্রভৃতি বন্যজন্তু দেখা যায়। ভারত বাংলাদেশের সুন্দরবন অরণ্যে আছে বিশ্ববিখ্যাত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং অসম ও উত্তরবঙ্গের বনভূমিতে আছে বিখ্যাত একশৃঙ্গবিশিষ্ট গণ্ডার (আফ্রিকার গণ্ডারের দুটি শৃঙ্গ থাকে)। গুজরাতের গির অরণ্যে সিংহ বাস করে। এ ছাড়াও যেখানে তৃণভূমি রয়েছে সেখানে গৃহপালিত পশু হিসেবে গোরু, ছাগল, মেষ প্রভৃতি প্রতিপালন করা হয়।

জুন মাসের প্রথম দিকে সূর্য কর্কটীয় অঞ্চলে লম্বভাবে কিরণ দেয় ফলে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশের তাপমাত্রা অত্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং তা শক্তিশালী নিম্নচাপ বলয়ে পরিণত হয়। গভীর নিম্নচাপের কারণে নিকটবর্তী আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্র জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ভারতে দ্রুত প্রবেশ করে। সেই কারণে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতের আকাশ মেঘে ঢাকা পড়ে ও বজ্রবিদ্যুৎসহ হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয় অর্থাৎ বর্ষাকালের সূচনা হয়। একে মৌসুমি বায়ুর বিস্ফোরণ (burst of monsoon) বলে। এই বায়ু সর্বপ্রথম কেরলের মালাবার উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান খনিজ সম্পদে যথেষ্ট সমৃদ্ধ। যেমন ভারতের উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলে আকরিক লোহা, কয়লা, বক্সাইট, অভ্র, ম্যাঙ্গানিজ, তামা প্রভৃতি খনিজ সম্পদ আহরিত হয় | মায়ানমার, দক্ষিণ চিন এবং ভারতের কয়েকটি স্থানে প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া, থাইল্যান্ডে টিন, মায়ানমারে টাংস্টেন। মূল্যবান পাথর, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস, অস্ট্রেলিয়ায় বক্সাইট এবং লোহা ও আকরিক প্রভৃতি আহরিত হয়। তবে ভারত ও চিন ছাড়া অন্যান্য এলাকায় কয়লা, আকরিক লোহা, বক্সাইট, তামা, ম্যাঙ্গানিজ প্রভৃতি মূল্যবান খনিজ দ্রব্য খুবই কম পরিমাণে আহরিত হয়। ভারতের বম্বে হাই খনিজ তেল, দামোদর উপত্যকা কয়লা, মহানদী উপত্যকা লৌহ আকরিক উত্তোলনের জন্য প্রসিদ্ধ ।

মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলটি কৃষি এবং খনিজ সম্পদ—উভয়েই সমৃদ্ধ । তাই এই অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন শিল্পের সঙ্গে ভারী ও খনিজভিত্তিক শিল্পেরও বিকাশ ঘটেছে। এই জলবায়ু অঞ্চলে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প এবং বৃহদায়তন শিল্পের সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে। এই অঞ্চলের প্রধান শিল্পগুলি হল— ইঞ্জিনিয়ারিং, রাসায়নিক, পেট্রো-কেমিক্যাল, সিমেন্ট, লোহা ও ইস্পাত, জাহাজ নির্মাণ, কাগজ শিল্প প্রভৃতি। এ ছাড়া, বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক শিল্প, যেমন—চা, পাট, বস্ত্র, চিনি, রবার প্রভৃতিও বিকাশ লাভ করেছে। মৎস্য শিল্পেও এই অঞ্চল যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে।

মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল, কারণ—

1 এখানকার সহনশীল জলবায়ু মানুষের বসতির পক্ষে আদর্শ।

2 এই অঞ্চলের কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, পরিবহণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যুগান্তকারী পরিবর্তন সূচিত হয়েছে |

3 ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে মানুষের বিপুল সমাহার মানবসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার হয়ে উঠেছে |

মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল পৃথিবীর সর্বাধিক জনবহুল অঞ্চল হওয়ার কারণগুলি হল অনুকূল জলবায়ু: মোসুমি জলবায়ু অঞ্চলের গড় উন্নতা 20-30 °সে. বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ 150-200 সেমি, এ ছাড়া সহনশীল আবহাওয়ার জন্য এখানে বেশি সংখ্যক মানুষ বাস করে।

মাতি; এই জলবায়ু অঞ্চলের নদীগঠিত উর্বর পলিমাটি ও কালোমাটির অবস্থান কৃষির উন্নতির পক্ষে সহায়ক।

অরণ্য সম্পদ: পর্ণমোচী ও চিরহরিৎ অরণ্যের কাঠ এবং বনজ সম্পদ মানুষের জীবিকা অর্জনে সহায়তা করে | খনিজ সম্পদ: এখানে আকরিক লোহা, তামা, বক্সাইট, খনিজ তেল প্রভৃতি

যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়, ফলে নানাধরনের শিল্প গড়ে উঠেছে। কৃষিকাজ: অনুকূল জলবায়ু, উর্বর মাটি এবং অনেক নদনদীর কারণে সর্বত্র চাষবাস হয় ধান, গম, পাট ও অন্যান্য খাদ্যশস্য এখানকার প্রধান ফসল । শিল্প: এই জলবায়ু অঞ্চলে লৌহ-ইস্পাত, বস্ত্রবয়ন, চিনি, পাট, তেল শোধনাগার প্রভৃতি শিল্প গড়ে ওঠায় জনবসতির ঘনত্ব বেড়েছে।

মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে, বিশেষত ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশ-গুলিতে প্রধানত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হলেও এই বায়ুর প্রকৃতি একেবারেই অনিশ্চিত ও অনিয়মিত। তাই মাঝে মাঝেই এই বায়ুর মাধ্যমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয় | ফলে বন্যা দেখা দেয়, আবার অনেক সময় অনাবৃষ্টি বা স্বল্পবৃষ্টির জন্য খরাও সৃষ্টি হয় ।

খরা হওয়ার প্রবণতার কারণ: 1 নির্ধারিত সময়ের তুলনায় মৌসুমি বায়ুর আগমনে দেরি হলে, অথবা অনেক আগে বিদায় নিলে, 2 এক টানা বেশ কিছুদিন বৃষ্টি না হলে, ও মৌসুমি বায়ু দুর্বল হলে, 4 বৃষ্টির অভাবে মৃত্তিকার আর্দ্রতা হ্রাস পেলে বা ভূগর্ভস্থ জলস্তর নীচে নেমে গেলে খরা সৃষ্টি হয়।

বন্যা হওয়ার প্রবণতার কারণ: 1 নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটলে অথবা দেরিতে বিদায় নিলে, 2 মৌসুমি বায়ুর অতি সক্রিয়তার জন্য অল্প সময়ে অধিক বৃষ্টিপাত বা একটানা অনেকদিন বৃষ্টিপাত হলে, ও নদীবাঁধ ভেঙে গেলে, 4 জলাধার থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়লে বন্যার সৃষ্টি হয় |

শীত, গ্রীষ্মে স্থলভাগ ও জলভাগের উন্নতা ও বায়ুচাপের তারতম্যের সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর উৎপত্তির সম্পর্ক আছে। গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে কর্কটক্রান্তিরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পড়ে। তাই স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হয় ও নিম্নচাপ গঠন করে। এই সময় নিরক্ষরেখার দক্ষিণে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শীতকাল ও উচ্চচ্চাপ বিরাজ করে। সেইজন্য এই উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু উত্তর গোলার্ধের নিম্নচাপের দিকে ছুটে আসে। আসার সময় ভারত মহাসাগর থেকে জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে ও ফেরেলের সূত্রানুযায়ী নিরক্ষরেখা পেরিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুরূপে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করে ও বর্ষাকালের সূচনা করে।

মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল: মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে সমুদ্রের ওপর দিয়ে আসা আর্দ্র বায়ু প্রবাহিত হয় বলে যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু শীতকালে স্থলভাগ থেকে শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয় বলে বৃষ্টিপাত হয় না, ফলে আবহাওয়া শুষ্ক থাকে।

গ্রীষ্মে ও শীতে দুই বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ: মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে যেদিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়, শীতকালে ঠিক তার বিপরীত দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়। যেমন—ভারতীয় উপমহাদেশে গ্রীষ্মকালে প্রবাহিত হয় আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু, আবার শীতকালে প্রবাহিত হয় শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু।

গ্রীষ্ম ও শীত উভয়ই উম্ন: গ্রীষ্মকালে এই জলবায়ু অঞ্চলের গড় উচ্চতা হয় 30 °সে এবং শীতকালে গড় তাপমাত্রা হয় প্রায় 25 সে অর্থাৎ গ্রীষ্ম ও শীত উভয়ই উন্ন থাকে। বার্ষিক উন্নতার প্রসর প্রায় 12-15 |

প্রচুর বৃষ্টিপাত : মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে সাধারণভাবে বছরে গড়ে 75 সেমি থেকে 150 সেমি বৃষ্টিপাত হয় তবে ভূপ্রকৃতি এবং সমুদ্র থেকে দূরত্ব অনুসারে = বৃষ্টিপাতের পরিমাণের পার্থক্য হয়। মৌসুমি বৃষ্টিপাতের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকায় এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত চেরাপুঞ্জির মৌসিনরাম পৃথিবীর সর্বাধিক বর্ষণসিক্ত অঞ্চল ( 1270 সেমি)। অন্যদিকে, থর মরু অঞ্চলে বছরে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে।

ঋতু পর্যায়: দুই বিপরীতধর্মী মৌসুমি বায়ু (দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব)-এর আগমন ও প্রত্যাগমন অনুসারে এখানকার জলবায়ুতে চারটি ঋতু পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়, যেমন—উত্তর গোলার্ধে 1 ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস শীতল ও শুষ্ক ঋতু, নাম শীতকাল, 2 মার্চ থেকে মে মাস উন্ন ও শুষ্ক ঋতু, নাম গ্রীষ্মকাল, 3 জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস আর্দ্র ঋতু, নাম বর্ষাকাল এবং @ অক্টোবর ও নভেম্বর মাস আর্দ্র ঋতুর নির্গমন ও শীতল ঋতুর আগমন, নাম শরৎকাল। দক্ষিণ গোলার্ধের মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে ঠিক এই সময়গুলিতেই বিপরীত ঋতু বিরাজ করে।

বায়ুচাপ: মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে কর্কটক্রান্তিরেখার সন্নিকটে গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। ফলে দক্ষিণ গোলার্ধের জলভাগ থেকে শীতল ও ভারী বায়ু উচ্চচাপ কেন্দ্র থেকে নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। শীতকালে এর বিপরীত অবস্থার সৃষ্টি হয়।

মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশ উন্নত। যেমন— কৃষিতে সমৃদ্ধি: প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূল হওয়ায় মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অধিকাংশ অধিবাসী কৃষিকাজ করে জীবিকানির্বাহ করে। এখানে প্রচুর পরিমাণে ধান, গম, চা, আখ, তুলো, পাট, ডাল, তৈলবীজ প্রভৃতি উৎপন্ন হয়, যার মধ্যে ধান সবচেয়ে বেশি উৎপন্ন হয়।

পশুজাত দ্রব্যের উৎপাদনে প্রাচুর্য এখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পশুপালনের উপযোগী বিস্তীর্ণ তৃণভূমি না থাকলেও প্রায় সর্বত্রই গৃহপালিত পশু হিসেবে গোরু, ছাগল, ভেড়া এবং কোনো কোনো এলাকায় মহিষ প্রতিপালিত হয়। ফলে পশুজাত দ্রব্য, যেমন- দুধ ও দুধজাত দ্রব্য, মাংস, চামড়া প্রভৃতি যথেষ্ট পরিমাণে উৎপন্ন হয়। এই অঞ্চলে রেশমকীট, লাক্ষাকীট ও প্রতিপালন করা হয় এবং বহু অঞ্চলে পোলট্রি ফার্মিংও গড়ে উঠেছে।

মৎস্যচাষ: অভ্যন্তরীণ জলভাগের ওপর নির্ভর করে বহু ফিলারি গড়ে উঠেছে এবং সমুদ্র উপকূল-সংলগ্ন মংস্যক্ষেত্রগুলি থেকেও মৎস্যশিকার করা হয়।

খনিজ সম্পদ উত্তোলন: এই জলবায়ু অঞ্চল খনিজ সম্পদে বিশেষ সমৃদ্ধ হওয়ায় এখানকার অনেক অধিবাসীরা (যেমন— ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির লৌহ আকরিক, ম্যাঙ্গানিজ, বক্সাইট, কয়লা, অম্ল প্রভৃতি; মায়ানমারের টিন, সিসা, দস্তা, তামা, খনিজ তেল প্রভৃতি; থাইল্যান্ডের টিন; অস্ট্রেলিয়ার বক্সাইট ও লৌহ আকরিক প্রভৃতি) খনিজ সম্পদ উত্তোজন করে জীবিকানির্বাহ করে।

শিল্পের উন্নতি: এই অঞ্চলের যেসব জায়গায় শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী কৃষিজ ও খনিজ কাঁচামাল পাওয়া যায়, সেখানে বিভিন্ন ধরনের শিল্প গড়ে উঠেছে, যেমন - 1 ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্প, কার্পাসবয়ন শিল্প, পাটশিল্প, চিনিশিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প প্রভৃতি, 2 বাংলাদেশে পাটশিল্প, 3 মায়ানমারে খনিজ তেলশোধন শিল্প ও মহিল্যান্ডের ইলেকট্রনিকস ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প, 3 দক্ষিণ চিনে চিনি, কার্পাসবয়ন ও পাটশিল্প, ও পাকিস্তানে কার্পাসবয়ন শিল্প প্রভৃতি গড়ে উঠেছে।

ঘন জনবসতি ও শহর স্থাপন: এশিয়ার মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল বিশ্বের সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। কারণ এখানকার রওনা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র, ইরাবতী, সিকিয়াং, মেকং, চাও ফ্রায়া প্রভৃতি নদীর সমভূমি অঞ্চ জনবসতির ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। তাই এখানে বড়ো বড়ো শহরও গড়ে উঠেছে। যেমন- 1 ভারতের মুম্বই, কলকাতা, দিল্লি, চেন্নাই,

হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গ প্রভৃতি, ও পাকিস্তানের করাচি, ও বাংলাদেশের ঢাকা, @ শ্রীলঙ্কার কলম্বো, © মায়ানমারের ইয়াংগন, O ঘাইল্যান্ডের ব্যাংকক 7 ভিয়েতনামের হ্যানয় প্রভৃতি।

বনজ সম্পদ সংগ্রহ: এই জলবায়ু অঞ্চলের কিছু অধিবাসী বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও বনজ শিল্পের ওপর ভিত্তি করে জীবিকানির্বাহ করে । শাল, সেগুন, মেহগনি প্রভৃতি বৃক্ষ থেকে আসবাবপত্র, জাহাজ নির্মাণ; বাশ ও সাবাই ঘাম থেকে কাগজ ও কাগজের মণ্ড প্রস্তুত; বিভিন্ন বৃক্ষ থেকে নানাপ্রকার উপজাত দ্রব্য যেমন—রবার, আঠা, মধু, লাক্ষা, মোম, নানাবিধ ওষুধ প্রভৃতি সংগ্রহ ও প্রস্তুত করা হয়।

শিলিগুড়ি থেকে যখন গ্যাংটক যাচ্ছিলাম, তখন উচ্চতার পরিবর্তন ঘটছিল। উচ্চতার তারতম্যের জন্যই উন্নতার হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে। আর এর ওপর নির্ভর করেই স্বাভাবিক উদ্ভিদের পরিবর্তন ঘটে।

শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক:  শিলিগুড়ি সন্নিহিত অঞ্চলে চিরহরিৎ ও আর্দ্র পর্ণমোচী বৃক্ষের অরণা দেখেছি। এই অরণ্যে শাল, সেগুন, শিশু, খয়ের, বাঁশ প্রভৃতি গাছ রয়েছে।।

2 1500 মিটার পর্যন্ত অঞ্চলে মিত্র পর্ণমোচী বনভূমি রয়েছে। অর্থাৎ এখানে।

কিছু চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমিও দেখা যায়। ওক, ম্যাপল, লরেল প্রভৃতি গাছ এই অরণ্যে জন্মায়। ও গ্যাংটকে নাতিশীতোয় সরলবর্গীয় বনভূমি, যেমন পাইন, ফার, দেবদারু, সিডার প্রভৃতি গাছ রয়েছে। গ্যাংটক থেকে নাথুলা পাস: গ্যাংটকের থেকে নাথুলা পাস আরও অনেক উঁচুতে অবস্থিত। গ্যাংটক শহর ছেড়ে আরও উচ্চতায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে গাছের চেহারা বদলে যাচ্ছিল। নাথুলা পাস যাওয়ার আগে থেকেই উদ্ভিদ একেবারে কমে আসছিল। দূরে দূরে বরফ দেখেছি। কিন্তু গাছ আয়। তেমন দেখতে পাইনি। সবুজ ঘাস আর ছোটো ছোটো গাছ এখানে। দেখলাম। একে আলপাইন তৃণভূমি বলে। এখানে জুনিপার, রডোডেনড্রা গাছের বনভূমি দেখেছি।

মানচিত্রে দেখেছি আমাদের অঞ্চলের অর্থাৎ বেথুয়াডহরির একটু উত্তরদিক দিয়ে কর্কটক্রান্তিরেখা চলে গেছে । আমি বই পড়ে জেনেছি যে আমাদের এই অঞ্চল ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। এই অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত পর্যবেক্ষণ করে মোটামোটিভাবে নীচের তথ্যগুলি পাওয়া গেল— উদ্ভিদজগৎ: 1 আমাদের এখানে আম, জাম, কাঁঠাল, বট, অশ্বত্থ, পেয়ারা, কুল প্রভৃতি গাছ জন্মায়। 2 বেথুয়াডহরিতে একটি সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। এখানে শাল, সেগুন, গামার ও অন্যান্য গাছের বনভূমি রয়েছে। শীতের সময় গাছের সব পাতা ঝরে পড়ে। বসন্ত এলে গাছে গাছে কচি
সবুজ পাতা গজায়। গরমকালে গাছগুলি সবুজ হয়ে ওঠে। 4 এই অঞ্চলে গরমকালে আমরা নানারকম ফল পাই যেগুলির বেশিরভাগই স্থানীয়। প্রাণীজগত্ : 1 এটি একটি কৃষিপ্ৰধান অঞ্চল। তাই এই অঞ্চলে বন্য প্রাণী তেমন নেই। 2 নানারকম পাখি, যেমন—চড়ুই, কাক, ফিঙে, কাঠঠোকরা, ঘুঘু, কোকিল, মুরগি, হাঁস দেখা যায়| ও রাস্তাঘাটে কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া দেখা যায়। এই অঞ্চলে দু-একবার কেউটে সাপ, ছোড়া, গোখরো, হেলে সাপ, সবুজ লাউডগা সাপ দেখা গেছে। 4 বেথুয়াডহরির অরণ্যে অনেকগুলি হরিণ আছে। শুনেছি এখানে ময়াল সাপও আছে। প্রচুর বাঁদর, হনুমান, কাঠবেড়ালি, শেয়াল এই বনে থাকে।

আমি জলপাইগুড়ি জেলার গরুমারা জাতীয় উদ্যানের নিকটবর্তী গ্রামে বাস

করি | আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাব নিম্নরূপ— 0 বাসস্থান: এই অঞ্চলটি তরাই ও ডুয়ার্সের অন্তর্গত বলে এখানকার জলবায়ু আর্দ্র এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুব বেশি। তাই এই অঞ্চলের বাড়িগুলির ছাদের ঢাল খুব বেশি। বেশিরভাগ বাড়ির ছাদ টিনের তৈরি। মাটি থেকে 4 – 5 ফুট উঁচুতে বাড়ির মেঝে থাকে মাটি স্যাঁতসেঁতে এবং শ্বাপদ সংকুল হওয়ায় এরূপ পরিকাঠামো করা হয়েছে।

2 খাদ্য: আমরা সাধারণত ভাত খাই । প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে এখানে ধান চাষ খুব ভালো হয়। এ ছাড়া নানা সবজি খেয়ে থাকি | নদীগুলি থেকে মাছ পাই | এখানে প্রচুর চা বাগিচা থাকায় আমরা প্রায় প্রত্যেকেই চা পান করি । এ ছাড়া আমরা খুব আনারসও খাই ।

3 পোশাক: পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য অংশের মতোই আমরা ছেলেরা শার্ট প্যান্ট পরি ও কেউ কেউ হাফপ্যান্ট ও গেঞ্জি পরে। মহিলারা শাড়ি, সালোয়ার কামিজ পরেন। তবে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে বাইরে বেরোলে প্রায় প্রত্যেকের হাতেই অধিকাংশ সময় ছাতা থাকে। পায়ে বেশিরভাগ রবারের জুতো থাকে। জোঁকের উপদ্রব বেশি বলে খালি পায়ে আমরা চলাচল করি না। এখানে মশার উপদ্রব খুব বেশি হওয়ায় মশারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

4 জীবিকা: আমরা বেশিরভাগ কৃষিজীবী। তবে অনেকে বন থেকে পাতা, কাঠ, ফুল সংগ্রহ করে। প্রচুর মানুষ চা বাগিচায় কাজ করেন।
কাষ্ঠভিত্তিক শিল্পই বেশি গড়ে উঠেছে। তাই অনেকেই কাঠের মিস্ত্রি হিসেবে দক্ষ| অল্প কয়েকজন চাকুরিজীবী আছেন এবং অনেক মানুষ ব্যাবসা করেন।