Chapter-7, আমি দেখি

আমি দেখি” কবিতায় “বহুদিন জঙ্গলে কাটেনি দিন" কথাটির মাধ্যমে কবি সবুজের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘকালীন বিচ্ছেদের কথা বুঝিয়েছেন।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি' কবিতায় বহুদিন জঙ্গলে না যাওয়ার ফল হিসেবে কবি নাগরিক আগ্রাসন ও সবুজের হত্যালীলা দেখেছেন।

‘আমি দেখি” কবিতায় নগরজীবনের প্রতি কবির অনাস্থা প্রকাশ পেয়েছে।

‘আমি দেখি” কবিতাটিতে নগরজীবনের প্রতি কবির বিতৃন্না এবং তাঁর প্রকৃতির সান্নিধ্যলাভের আকাঙ্ক্ষাই প্রকাশিত হয়েছে।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি' কবিতায় শহরের অসুখ হা করে কেবল সবুজ খায় অর্থাৎ সবুজ প্রকৃতিকে গ্রাস করে।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি' কবিতায় শহরের অসুখের কারণে সবুজের অনটন অর্থাৎ বৃক্ষনিধন ঘটে।

নগরসভ্যতার বিকাশে শহরজীবন থেকে গাছ অর্থাৎ সবুজ হারিয়ে যাচ্ছে বলে কবি কথাটি বলেছেন।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি' কবিতায় 'শহরের অসুখ'-এর কারণে অর্থাৎ নগরায়ণের জন্যই শহরে সবুজের অনটন ঘটে।

'আমি দেখি' কবিতায় কবি গাছ তুলে এনে বাগানে বসাতে বলেছেন।

শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'আমি দেখি' কবিতায় গাছগুলো তুলে আনতে বলেছেন কারণ, সবুজ গাছ দেখা আর তার স্পর্শ কবির শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

‘আমি দেখি' কবিতায় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় গাছগুলো তুলে এনে বাগানে বসাতে বলেছেন।

‘আমি দেখি” কবিতায়‘আমার’ অর্থাৎ কবির শুধুই গাছ দেখা দরকার।

‘আমি দেখি' কবিতায় কবি বাগানে সবুজ গাছ দেখতে চেয়েছেন।

‘আমি দেখি’ কবিতায় কবির গাছ দেখা দরকার কারণ তাঁর শরীরের জন্য গাছের সবুজ প্রয়োজন ।

কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘আমি দেখি' কবিতায় বলেছেন যে, আরোগ্যের জন্য গাছের সবুজটুকু শরীরে অত্যন্ত দরকার।

‘আমি দেখি” কবিতায় মানসিক সতেজতা ও শারীরিক সুস্থতা অর্থাৎ আরোগ্যলাভের লক্ষ্যে কবি গাছের প্রতি আকর্ষণ বোধ করেছেন।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘আমি দেখি' কবিতায় “ঐ সবুজের ভীষণ দরকার” কথাটির অর্থ কবির জীবনে গাছেদের উপস্থিতির খুব প্রয়োজন।

দেখি কবিতায় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় পাঠক বা সাধারণ এ কথা বলেছেন।

প্রেম, শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'আমি দেখি' কবিতায় গাছগুলোকে বাগানে আমাকে বলেছেন।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি কবিতায় গাছগুলোকে বাগানে বসাতে বলা হয়েছে, কারণ তাঁর চোখ সবুজ দেখতে চায় আর দেহ চায় সবুজ বাগানের সান্নিধ্য।

আমি দেখি কবিতায় কবির চোখ সবুজ কামনা করে এবং কবির কামনা করে সবুজ বাগানের সান্নিধ্য।

চা সবুজ চায় কারণ, আরোগ্যের জন্য সবুজের অত্যন্ত দরকার।

'আমি দেখি কবিতায় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় বাগানে গাছ দেখতে চাইছেন কারণ তাঁর চোখ এবং দেহ সবুজের আকাঙ্ক্ষা করছে।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি' কবিতায় প্রশ্নোধৃত মন্তব্যটি করেছেন কবি স্বয়ং।

→ প্রকৃতিপ্রেমী কবি মনে করেছেন যে, তাঁর গাছ দেখা দরকার কারণ শরীর মনের সজীবতার জন্য গাছের সবুজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শুধু শরীর ভালো রাখার জন্যই নয়, শরীরকে সুস্থ করে তোলার জন্যও গাছের সবুজের ভীষণ দরকার। কবির চোখ তার আরামের জন্য স্নিখ সবুজের সন্ধান করছে। দেহ নিজেকে সুস্থ রাখার জন্যই সবুজের স্পর্শ চাইছে। কবির এই সবুজের সন্ধান শুধুই যে তাঁর ব্যক্তিগত ভালো থাকার জন্য তা নয়, বরং যে অসুখের কথা কবি বলেছেন তা নাগরিক জীবনের ক্লান্তি, বিচ্ছিন্নতা এবং অবসাদকেও নির্দেশ করে।

বহুদিন শহুরে জীবনে আবদ্ধ থাকার জন্য কবির আক্ষেপ শোনা গেছে 'আমি দেখি' কবিতাটিতে। খুব কাছ থেকে নিজের জীবন আর অভিজ্ঞতা দিয়ে কবি বুঝেছেন “শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায়।” অর্থাৎ নাগরিক সভ্যতা প্রকৃতিকে হত্যা করে। এই অবস্থায় কবির আক্ষেপ ধ্বনিত হয়েছে বহুদিন জঙ্গলে যেতে না পারার জন্য, সেখানে দিন কাটাতে না পারার জন্য। নাগরিক জীবনে আটকে থাকা মানুষের তীব্র হৃদযন্ত্রণাই যেন প্রকাশিত হয়েছে কবির এই আক্ষেপে। আর এই আক্ষেপ থেকে মুক্তিলাভের জন্যই কবি তাঁর বাগানে গাছ এনে বসানোর কথা বলেছেন।

শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'আমি দেখি' কবিতায় প্রশ্নোধৃত মন্তব্যটি করেছেন।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের "আমি দেখি" কবিতায় কবি প্রকৃতপক্ষে বৃক্ষবন্দনা করেছেন। জঙ্গল থেকে গাছ তুলে এনে বাগানে বসানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। কবিতার একেবারে শুরুতেই কবি বলেছেন, “আমার দরকার শুধু গাছ দেখা।” তাঁর শরীরের জন্য সবুজ গাছেদের সান্নিধ্য একান্ত প্রয়োজন বলে কবি জানিয়েছেন। নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা, ক্লান্তি আর একঘেয়েমি থেকে মুক্তির জন্য প্রকৃতির কাছে চলে যাওয়া কবির একটি প্রিয় অভ্যাস। অন্য একটি কবিতায় কবি লিখেছিলেন— "গাছের ভিতরে গিয়ে বসি আমি, গাছ / কথা বলে।” প্রকৃতিপ্রেমী কবির জীবনযাপনের কৃত্রিমতা স্বাভাবিকভাবেই তাঁর অসুখের কারণ বলে মনে হয়। এক জায়গায় তিনি নিজেই লিখেছেন “সারাদিন কাজ করে সন্ধ্যায় মৃত্যুর / ভিতরে সেঁধিয়ে যাওয়া শ্রেণীবদ্ধভাবে / এভাবেই কি দিন যাবে? এভাবেই কি যাবে?" বহুদিন জঙ্গলে না যাওয়ার বেদনা তাই কবির মনে তাঁর আক্ষেপ তৈরি করে। তাই প্রকৃতির বুকে নিজেকে মেলে ধরতে না পেরেই কবির মনে হয়েছে বাগানে গাছ বসানো প্রয়োজন। এই প্রয়োজন তাঁর চেতনাকে সজীব করার জন্য, মনের সতেজতার জন্য, শারীরিক ও মানসিক আরোগ্যলাভের জন্য।

'আমি দেখি" কবিতায় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে আনতে চান সবুজের স্পর্শ নাগরিক জীবনের ধূসরতাকে ঢেকে দিতে তাঁর প্রয়োজ গাছের সবুজ, যে সবুজ শুষে নিতে পারে শিল্পসভ্যতার যাবতীয় অসুখ। এখানে 'ঐ সবুজ' বলতে প্রকৃতির সেই সবুজকেই বুঝিয়েছেন কবি।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি' কবিতায় প্রশ্নোধৃত মন্তব্যটি করেছেন কবি স্বয়ং।

→ প্রকৃতিপ্রেমী কবি মনে করেছেন যে, তাঁর গাছ দেখা দরকার কারণ শরীর মনের সজীবতার জন্য গাছের সবুজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শুধু শরীর ভালো রাখার জন্যই নয়, শরীরকে সুস্থ করে তোলার জন্যও গাছের সবুজের ভীষণ দরকার। কবির চোখ তার আরামের জন্য স্নিখ সবুজের সন্ধান করছে। দেহ নিজেকে সুস্থ রাখার জন্যই সবুজের স্পর্শ চাইছে। কবির এই সবুজের সন্ধান শুধুই যে তাঁর ব্যক্তিগত ভালো থাকার জন্য তা নয়, বরং যে অসুখের কথা কবি বলেছেন তা নাগরিক জীবনের ক্লান্তি, বিচ্ছিন্নতা এবং অবসাদকেও নির্দেশ করে।

বহুদিন শহুরে জীবনে আবদ্ধ থাকার জন্য কবির আক্ষেপ শোনা গেছে 'আমি দেখি' কবিতাটিতে। খুব কাছ থেকে নিজের জীবন আর অভিজ্ঞতা দিয়ে কবি বুঝেছেন “শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায়।” অর্থাৎ নাগরিক সভ্যতা প্রকৃতিকে হত্যা করে। এই অবস্থায় কবির আক্ষেপ ধ্বনিত হয়েছে বহুদিন জঙ্গলে যেতে না পারার জন্য, সেখানে দিন কাটাতে না পারার জন্য। নাগরিক জীবনে আটকে থাকা মানুষের তীব্র হৃদযন্ত্রণাই যেন প্রকাশিত হয়েছে কবির এই আক্ষেপে। আর এই আক্ষেপ থেকে মুক্তিলাভের জন্যই কবি তাঁর বাগানে গাছ এনে বসানোর কথা বলেছেন।

শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'আমি দেখি' কবিতায় প্রকৃতির সবুজের কথা বলেছেন।

প্রকৃতিপ্রেমী কবি মনে করেছেন যে, তাঁর গাছ দেখা দরকার কারণ শরীর মনের সজীবতার জন্য গাছের সবুজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শুধু শরীর ভালো রাখার জন্যই নয়, শরীরকে সুস্থ করে তোলার জন্যও গাছের সবুজের ভীষণ দরকার। কবির চোখ তার আরামের জন্য স্নিখ সবুজের সন্ধান করছে। দেহ নিজেকে সুস্থ রাখার জন্যই সবুজের স্পর্শ চাইছে। কবির এই সবুজের সন্ধান শুধুই যে তাঁর ব্যক্তিগত ভালো থাকার জন্য তা নয়, বরং যে অসুখের কথা কবি বলেছেন তা নাগরিক জীবনের ক্লান্তি, বিচ্ছিন্নতা এবং অবসাদকেও নির্দেশ করে।

বহুদিন শহুরে জীবনে আবদ্ধ থাকার জন্য কবির আক্ষেপ শোনা গেছে 'আমি দেখি' কবিতাটিতে। খুব কাছ থেকে নিজের জীবন আর অভিজ্ঞতা দিয়ে কবি বুঝেছেন “শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায়।” অর্থাৎ নাগরিক সভ্যতা প্রকৃতিকে হত্যা করে। এই অবস্থায় কবির আক্ষেপ ধ্বনিত হয়েছে বহুদিন জঙ্গলে যেতে না পারার জন্য, সেখানে দিন কাটাতে না পারার জন্য। নাগরিক জীবনে আটকে থাকা মানুষের তীব্র হৃদযন্ত্রণাই যেন প্রকাশিত হয়েছে কবির এই আক্ষেপে। আর এই আক্ষেপ থেকে মুক্তিলাভের জন্যই কবি তাঁর বাগানে গাছ এনে বসানোর কথা বলেছেন।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি' কবিতায় শহরের যান্ত্রিক ও কৃত্রিম পরিবেশে কবি হাঁফিয়ে উঠেছেন। তাই তিনি চেয়েছেন এর থেকে মুক্তি পেতে। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কাছে জঙ্গল হল সেই জায়গা যা মনকে ভালো রাখে। অথচ সেই জঙ্গলের সঙ্গেই ঘটে গেছে কবির দীর্ঘবিচ্ছেদ। "বহুদিন শহরেই আছি"—কবির বিচ্ছেদের স্পষ্ট স্বীকারোক্তি। কবি শহরের বুকে দেখেছেন 'সবুজের অনটন'। তাই কবির মনে সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য তীব্র আক্ষেপ জমা হয়েছে। অসুস্থ, ক্লান্ত নাগরিক জীবন থেকে মুক্তির জন্যই কবি জঙ্গলে অর্থাৎ সবুজ প্রকৃতির মাঝে যেতে চেয়েছেন। সেই ইচ্ছার পূরণ না হওয়াতেই তীব্রতর হয়েছে কবির আক্ষেপ। * এই অভাবপূরণের জন্য কবি চেয়েছেন তাঁর বাগানে গাছ এনে বসানো হোক | চোখ যে সবুজের সন্ধান করে কিংবা দেহ যে সবুজের স্পর্শ চায়, জঙ্গলের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতার কারণে কবি তাকেই চেয়েছেন নিজের বাগানে | প্রকৃতির বুকে নিজের আশ্রয় না পাওয়ার যন্ত্রণা থেকেই কবি তাঁর বাগানে সবুজকে দেখতে চেয়েছেন। শহর যত বাড়ছে, নগরায়ণের দাবি মেনে সবুজ ততই ধ্বংস হচ্ছে। এই অবস্থায় কবির আর্তি—“গাছ আনো, বাগানে বসাও।"

শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'আমি দেখি' কবিতায় প্রকৃতির প্রতি নিজের প্রবল আকর্ষণের কথা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করেছেন। কবি লক্ষ করেছেন, নাগরিক আগ্রাসন ধীরে ধীরে গ্রাস করেছে প্রকৃতিকে। শহরে নির্বিচারে চলেছে সবুজের হত্যালীলা। এই আগ্রাসনকেই কবি 'শহরের অসুখ বলেছেন, যা ধ্বংস করে চলেছে সবুজ প্রকৃতিকে। এই নগরায়ণের অসুখ থেকে মুক্তি পথ হিসেবে কবি গাছেরই সহায়তা চেয়েছেন। তিনি প্রকৃতিকে শহরের মধ্যে নতুনভাবে স্থাপন করতে চেয়েছেন। এই ইচ্ছা থেকেই কবির আবেদন "গাছগুলো তুলে আনো, বাগানে বসাও” – কবিতার প্রথম পঙ্গুত্ততেই কবির প্রকৃতির ছোঁয়া পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। এরই সঙ্গে জঙ্গলে দীর্ঘদিন না যাওয়ার আক্ষেপও কবির মনে তীব্র হয়েছে। “বহুদিন জঙ্গলে যাইনি" বলার সঙ্গে সঙ্গেই কবি লিখেছেন, "বছুদিন শহরেই। আছি।" শহরের আর এক বৈশিষ্ট্য সবুজের অনটন'। নগরসভায় বিকালের শর্ত মেনেই কংক্রিটের জঙ্গলে সবুজকে বিদায় নিতে হয়। নাগরিক আড়ম্বর ও বিলাসের কারণে নির্বিচারে গাছ কাটা হয়। এভাবে 'শহরের অসুখা গিলে খায় প্রকৃতির সবুজকে |

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি" কবিতাটি হল গাছকে ভালোবেসে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সেই গাছকে আঁকড়ে কবির বেঁচে থাকার ইচ্ছার প্রকাশ। এই বৃক্ষপ্রেম বা প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তাঁর কবিতার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

“আমি মানবো সাপটে ধরবো নতুন বাগান, নতুন গাছটি বেঁচে উঠবো সরস ঋজু রোদ্দুরে বৃষ্টিতে।"

এই বেঁচে ওঠার জন্যই 'আমি দেখি' কবিতাতেও কবি গাছের জন্য আকুলতা প্রকাশ করেছেন, বাগানে গাছ দেখতে চেয়েছেন। কারণ শরীরের জন্য গাছের সবুজ সান্নিধ্য দরকার। জঙ্গলের মুক্তজীবনে বহুদিন না যেতে পারার দুঃখ থেকেই বাগানে গাছ দেখতে চেয়েছেন কবি। নাগরিক জীবনের ক্লান্তি আর বিষাদকে ভুলে থাকার জন্য, মানসিক সতেজতার জন্য গাছেদের একান্ত প্রয়োজন কবির। অন্য একটি কবিতায় কবি লিখেছিলেন “খুঁটিয়ে দেখেছি বন, বনাঞ্চল, গাছের শিখরে/... আমোদ বিন্যস্ত থাকে লতায় পাতায়।" এই কারণেই কবি গাছেদের সান্নিধ্য চেয়েছেন। সবুজের বিস্তারে তাঁর চোখ আরাম খুঁজে পায়, শরীর সতেজ হয় আর মানসিক আরোগ্যলাভ সম্ভব হয়। এভাবেই জীবনজুড়ে গাছেদের জন্য কবির আকাঙ্ক্ষা তীব্রভাবে উচ্চারিত হয়েছে আলোচ্য কবিতায়।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের আমি দেখি' কবিতাটি প্রকৃতিপ্রেমী কবির ব্যক্তিগত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। যদিও সেইসঙ্গে যুক্ত থাকে তাঁর সমাজ সম্পর্কিত মনোভাবও। দূষিত নাগরিক জীবনের অংশীদার কবি চেয়েছেন তাঁর বাগানে। গাছ বসানো হোক, কারণ শরীর এবং মনের সতেজতার জন্য গাছের সবুজের খুব দরকার। এই সবুজ তাঁর আরোগ্যকে নিশ্চিত করবে।

কবিতার দ্বিতীয় স্তবকে আছে জঙ্গলে বহুদিন না যেতে পারার জন্য কবির আক্ষেপ। শহরে গাছ কেটে ফেলাই হল কবির চোখে শহরের অসুখ। নগরসভ্যতার বিকাশের সঙ্গেই এই ‘সবুজের অনটন' নিশ্চিত হয়ে যায়। ফলে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা যখন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, সেই পরিপ্রেক্ষিতেই কবির কাতর অনুরোধ—বাগানে গাছ বসানো হোক কবির চোখ এবং দেহ এই সবুজ চায় | অর্থাৎ সবুজের জন্য একইসঙ্গে কবির শারীরিক ও মানসিক চাহিদা তীব্রতর হয়েছে। কবির সবুজ গাছে ভরা বাগান দেখার বাসনা প্রকাশিত হয়েছে ‘আমি দেখি' কথাটির মধ্য দিয়ে। ‘আমি’—উত্তমপুরুষে একবচনের ব্যবহার স্পষ্ট করে কবির নিজেকে, আর ‘দেখি’ স্পষ্ট করে সেই নিজের উপভোগের ক্ষেত্রকে। কবিতার নামকরণে তো বটেই, শেষ পঙক্তিতেও এই শব্দবন্ধের ব্যবহার যেন কবির মনের বাসনাকে তীব্রতর করে তোলে।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা সম্পর্কে কবি শঙ্খ ঘোষ লিখেছিলেন— “ভালোবেসেছিলেন তিনি সংসারছুট অরণ্যপ্রান্তর সমুদ্র পাহাড়, প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গিয়ে তিনি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন প্রকৃতি।” শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা তাই হয়েছে প্রকৃতিময় । প্রকৃতি হয়েছে তাঁর আশ্রয়, জঙ্গলের প্রতি এক নিবিড় টান অনুভব করেছেন কবি আর প্রকৃতির প্রতীক হয়ে গাছ বারেবারে উঠে এসেছে তাঁর কবিতায়। ‘আমি দেখি” কবিতাটিও গাছকে কেন্দ্র করে রচিত। নিজের জীবনে গাছের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছেন কবি। নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা শরীরের সতেজতাকে নিংড়ে নেয়। তাই সুস্থ শরীরের প্রয়োজনেই সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়া দরকার। শুধু শরীর নয়, কবির মনও চায় সবুজের সান্নিধ্য। বহুদিন ধরে বৃক্ষনিধনের সাক্ষ্য বহন করে চলা শহরে থাকার জন্য তাই কবির আক্ষেপ – “বহুদিন জঙ্গলে
যাইনি।” অন্য একটি কবিতায় কবি লিখেছিলেন—“প্রকৃতির কাছে ফেরো, মানুষ যেভাবে/শূন্য ভালোবাসা থেকে কাছে ফেরে সম্পূর্ণ কলমে...।” এই আকর্ষণ থেকেই নগরজীবনে বিষণ্ণ কবি গাছ তুলে এনে বাগানে বসাতে বলেছেন। এটি কবির কোনো ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নয়, এ যেন সমগ্র বিশ্বের মানুষের হয়ে কবির প্রার্থনা—সবুজ, সুস্থতা আর সজীবতার জন্য ।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য তাঁর সংযম ও পরিমিতিবোধ। ‘আমি দেখি” কবিতাটিতেও সহজসরল ভাষায় অন্ত্যজ শব্দের পাশে মাত্রার ভারসাম্য বজায় রেখে কবি অবলীলায় তৎসম শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেমন—“আরোগ্যের জন্যে ঐ সবুজের ভীষণ দরকার।” তাঁর কবিতা প্রসঙ্গে ধ্রুবকুমার মুখোপাধ্যায় লিখেছেন—“শক্তির কবিতা গড়ে ওঠে নিসর্গের বুকে আশ্রয় কামনায়।” ‘আমি দেখি” কবিতায় কবির প্রকৃতিনির্ভরতা প্রাধান্য পেয়েছে। গঠনগত দিক থেকে অসম মাত্রার পঙ্ক্তিতে বিন্যস্ত এই কবিতাটিতে মোট পক্তি সংখ্যা ষোলোটি। পাঁচটি পঙ্ক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রথম স্তবক। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তবকটির পক্তি সংখ্যাও তাই । শেষে একটি পঙ্ক্তিতে বলা হয়েছে, “আমি দেখি ||” | এই শেষ পঙ্ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। এখানে কবির দেখাটা আর-পাঁচজনের একান্ত ইচ্ছার সঙ্গে মিলে যায়। আলোচ্য কবিতায় শহরের মতো একটি অচেতন বস্তুতে মানবত্ব অর্পণ করেছেন কবি—“শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায়।” শহরগুলো যত বাড়ছে, নগরায়ণের দাবি মেনে ততই সবুজ ধ্বংস হচ্ছে। মানুষের বেঁচে থাকার প্রয়োজনে সবুজ খুবই দরকার। তাই কোনোপ্রকার ভণিতা না করে কবির সরাসরি নির্দেশ—“গাছ আনো, বাগানে বসাও।” কবিতার শুরুতে, কবিতার মাঝে এবং কবিতার শেষে এই একই ভাব কবি ব্যক্ত করেছেন।