Chapter-7 ➤ পরিবেশ, খনিজ ও শক্তি সম্পদ

উঃ-কোটি কোটি বছর ধরে ভূমিকম্প বা অন্যান্য কারণে। গাছপালা মাটির নীচে চাপা পড়ে পরবর্তীকালে ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ ও চাপে, গাছপালার সার অংশের মধ্যেকার কার্বন রূপান্তরিত ও জমাট বেঁধে কয়লাতে পরিণত হয়। প্রাণীদের হাড় থেকেও কয়লা তৈরি হয়।

উঃ-কয়লাখনি গুলি দু-রকমের হয়, যেমন– খোলা মুখ খনি ও সুড়ঙ্গপথ খনি।

কয়লা আছে এমন জায়গায় ওপরের মাটি কেটে পুকুরের মতো গভীর করলে খোলামুখ খনির কয়লা পাওয়া যায়।

আর বড়ো খনিগুলিতে গভীর সুড়ঙ্গ কেটে সেখান থেকে কয়লা পাওয়া যায়।

উঃ-পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম ও পুরুলিয়া জেলায় কয়লা উত্তোলন করা হয়।

উঃ-জ্বলন্ত কাঠে জল ঢাললে তা নিভে যায়। কিন্তু ওর মধ্যে জ্বালানি থেকে যায়। এভাবে কাঠকয়লা পাওয়া যায়। আবার জ্বলন্ত কাঠকে বস্তা চাপা দিয়ে নেভালেও কাঠকয়লা পাওয়া যায়।

উঃ-প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভূগর্ভে গাছপালা চাপা পড়ে চাপ ও চাপের প্রভাবে গাছপালার কার্বন অংশ বা সারাংশ জমাট বেঁধে কয়লা উৎপন্ন হয়। যে-কয়লা মাটির অনেক গভীরে বেশি চাপ ও তাপে বেশিদিন থাকে, সেই কয়লায় কার্বনের পরিমাণ বেশি হয়। আর যে-কয়লা মাটির অল্প গভীরতায় কম চাপ ও তাপে অল্প সময় ধরে তৈরি হয়, সেই কয়লাতে কার্বনের পরিমাণ কম থাকে।

উঃ-দীর্ঘদিন ধরে মাটির নীচে উদ্ভিদ চাপা পড়ে থাকলে তাপ ও চাপের ফলে উদ্ভিদের সার অংশগুলি কার্বনে পরিণত হয়। ওই কার্বন পরে জমাট বেঁধে কয়লায় পরিণত হয়। কার্বন থাকার জন্য কয়লা পোড়ালে ছাই উৎপন্ন হয়।

উঃ-ইটভাটা: এখানে ইট তৈরি হয়। মাটির তৈরি কাঁচা ইট কয়লা দিয়ে পোড়ানো হলে লাল রঙের পাকা, ব্যবহার উপযোগী ইট তৈরি হয়। অনেক শ্রমিক এই কাজে যুক্ত থাকেন।

সুড়ঙ্গ : মাটির নীচে তৈরি করা অন্ধকারময় আঁকাবাঁকা পথ, যার মধ্যে একবার প্রবেশ করলে সহজে বেরোনো যায় না। আগেকার দিনে সৈন্যরা সুড়ঙ্গে লুকিয়ে যুদ্ধ করত। বর্তমান দিনে যানজট কাটানোর জন্য মাটির নীচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে পাতাল রেল চালানো হচ্ছে।

উঃ-কয়লাখনির সুড়ঙ্গে শ্রমিকদের শ্বাসকষ্ট হয় না।

শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা হলে কম্পিউটারের সাহায্যে মাপামাপি করে অক্সিজেন পাঠানো হয়। খনিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেলে অ্যালার্ম বেজে ওঠে তখন আবার অক্সিজেন পাঠিয়ে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার সমাধান করা হয়।

উঃ-কয়লার ধোঁয়ার মধ্যে যেসব ক্ষতিকারক গ্যাস থাকে, তাদের নাম হল—(1) সালফার ডাইঅক্সাইড, (2) কার্বন ডাইঅক্সাইড, (3) কার্বন মনোক্সাইড ও (4) নাইট্রোজেন অক্সাইড।

উঃ-কয়লা, পেট্রোলিয়াম জাতীয় জীবাশ্ম জ্বালানি অত্যধিক পোড়ালে তাতে মিশে থাকা বিষাক্ত গ্যাসগুলি বাতাসের জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে নানা অ্যাসিড তৈরি করে, পরে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টির সঙ্গে ভূপৃষ্ঠের মাটি, জলাশয়ে ঝড়ে পড়ে, একে অম্লবৃষ্টি বা অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।

উঃ-কয়লা পোড়ালে বায়ুদূষণ ঘটে।

কয়লার ধোঁয়াতে নানান ক্ষতিকর গ্যাস ও সূক্ষ্ম পদার্থ থাকে। এগুলি রোজ চোখে লাগলে চোখ-নাক জ্বালা করে। কয়লার ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট হয় ও ফুসফুসের ক্ষতি হয়।

উঃ-অ্যাসিড বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব:

 1.অ্যাসিড বৃষ্টিতে থাকা সালফার বা সালফিউরিক অ্যাসিড গাছের পাতার ক্ষতি করে, ফলে গাছের খাবার তৈরিতে অসুবিধা হয়।

2. মাটি আম্লিক হয়ে অনুর্বর হয়ে পড়ে।

3. জলাশয়ের মাছ ও অন্যান্য প্রাণীদের শ্বসন ব্যাহত হয়, তারা মারা যায়।

4. মারবেল পাথর ও চুনাপাথরের তৈরি সৌধ ফ্যাকাশে ও অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ে।

উঃ-কয়েকটি ধসপ্রবণ এলাকার নাম হল- 1. পার্বত্য অঞ্চল, 2. নদীর পাড়সংলগ্ন অঞ্চল, 3. খনি অঞ্চল।

উঃ-কয়লাখনি থেকে কয়লা তুলে নিলে ওপরের মাটি ধসে যায়। এই ধসের হাত থেকে রক্ষা পেতে গেলে—

(1) কয়লা তোলার পর গর্তগুলিকে মাটি ও বালি দিয়ে ভরাট করতে হবে।

(2) খনি অঞ্চলে প্রচুর গাছ লাগানো প্রয়োজন, কারণ গাছ তার শিকড়ের সাহায্যে জালের মতো ছড়িয়ে থেকে মাটিকে রক্ষা করে।

(3) খনি থেকে কম পরিমাণে কয়লা তুলতে হবে।

উঃ-কয়লাখনি থেকে কয়লা তোলার পর মাটি ও বালি দিয়ে ফাঁকা জায়গাগুলি ভরাট করা হলেও অনেক সময় মাটি আলগা থেকে যায়। এর জন্য খনি অঞ্চলে গাছ লাগানো খুব দরকার। গাছ তার শিকড়গুলিকে জালের মতো ছড়িয়ে দেয়, ফলে আলগা মাটিগুলিকে তা ভালোভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে ও মাটিগুলি ধসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।