Chapter-7.2⇒জৈব সম্পদ : মৎস্যশিকার

নিজস্ব বা স্থানীয় অধিবাসীদের চাহিদাপূরণের জন্য মৎস্য আহরণ করাকে জীবিকাসত্তাভিত্তিক মৎস্য আহরণ বলে।

মৎস্যচাষ ও মৎস্যশিকার প্রথম স্তরের অর্থনৈতিক কাজের অন্তর্গত।

সামুদ্রিক মৎস্যশিকারকে অবস্থান অনুসারে 2 ভাগে ভাগ করা যায়। যথা— (i) উপকূলীয় বা অগভীর সমুদ্রের মৎস্যশিকার ও (ii) গভীর সমুদ্রের মৎস্যশিকার।

সমুদ্রের জলে ভাসমান ছোটো ছোটো উদ্ভিদ কণাগুলিকে উদ্ভিদ প্ল্যাঙ্কটন বলে।

সমুদ্রের জলে ভাসমান ছোটো ছোটো প্রাণী কণাগুলিকে প্রাণী প্ল্যাঙ্কটন বলে।

দেশের অভ্যন্তরস্থ যেসব নদী, খাল, বিল, হ্রদ প্রভৃতি থেকে মৎস্য আহরণ করা হয়, তাকে অভ্যন্তরীণ মৎস্যক্ষেত্র বলে।

অন্তর্দেশীয় মৎস্যক্ষেত্রকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা—লবণাক্ত জলের মৎস্যক্ষেত্র এবং মিষ্টি জলের মৎস্যক্ষেত্র।

উত্তর সাগর ও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর থেকে অত্যধিক হারে হেরিং মাছ সংগ্রহ করা হয়।

কর্ড ও হ্যাডক মাছ গ্র্যান্ড ব্যাংক অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সংগ্রহ করা হয়।

আটলান্টিক মহাসাগরের একটি মগ্নচড়া হল—ডগার্স ব্যাংক।

বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যাপকহারে মৎস্যচাষকে পিসিকালচার (Pisciculture) বলে।

খাদ্যের প্রয়োজনে যখন সমুদ্রজলে মৎস্য ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদ চাষ করা হয়, তখন তাকে মেরিকালচার বলে।

যেসব মাছ কিছু সময় স্বাদুজলে এবং কিছু সময় নোনা জলে বাস করে তাদের অ্যাম্ফিড্রোমাস মাছ বলে।

পশ্চিমবাংলার শংকরপুরে মৎস্য বন্দর গড়ে তোলা হয়েছে।

মুরোধান ও আবাসিনি হল আপানের উত্তর উপকূলীয় মৎস্যক্ষেত্রের দুটি উল্লেখযোগ্য মৎস্য বন্দর।

ডেমার্সাল মাছের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এরা গভীর জলে বিচরণ করে।

ডেমার্সাল মাছ ধরার জন্য টানা জাল বা ট্রল নেট ব্যবহার করা হয়।

নাতিশীতোয় জলবায়ুতে মাছ ধরা ও সংরক্ষণ সুবিধাজনক।

ডেমার্সাল মাছের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য হল কড়।

উত্তর গোলার্ধের নাতিশীতোয়মণ্ডলে প্রধান বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্রগুলি গড়ে উঠেছে।

পোর্ট এলিজাবেথ মৎস্য বন্দরটি দক্ষিণ-পূর্ব আটলান্টিক মহাসাগরীয় মৎস্যক্ষেত্রের অন্তর্গত।

ডগার্স ব্যাংক মৎস্যক্ষেত্রটি উত্তর-পূর্ব আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।

যে মাছ নদীর মিষ্টি জলে বসবাস করে, কিন্তু ডিম পাড়ার সময় নোনা জলে চলে যায়, তাদের ক্যাটাডোমাস মাছ বলে।

যেসব মাছ সমুদ্র উপকূলের নোনা জলে বাস করে, কিন্তু ডিম পাড়ার সময় নদী বা খালপথে দেশের অভ্যন্তরুথ মিষ্টি জলে চলে আসে, তাদের অ্যানাড্রোমাস মাছ বলে।

যেসব মাছ সমুদ্রজলের ওপরের অংশে ঝাকে ঝাকে কিছু করে, তাদের পিলেজিক মাছ বলে। যেমন- ম্যাকারেল ।

পিলেজিক শ্রেণির মৎস্য ঝাকে ঝাকে ঘুরে বেড়ান।

পিলেজিক মাছ প্রধানত ভাসা জালের সাহায্যে ধরা

যেসব মাছ সমুদ্রজলের গভীরে বিচরণ করে তাদে ডেমার্সাল মাছ বলে, যেমন—কড।

ভেটকি ঈষৎ নোনা জলের মৎস্য।

দুটি কার্পজাতীয় মাছ হল— (i) রুই ও (ii) কাতলা

বিস্তে উপসাগর ও ইংলিশ চ্যানেল থেকে প্রচুর পরিমাণে। কড মাছ সংগ্রহ করা হয়।

ইলিশ, স্যামন প্রভৃতি অ্যানাড্রোমাসজাতীয় মৎস্য।

পশ্চিম-মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ মংস্য খাদ্যের অনুপযোগী।

জাপান উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় মৎস্যক্ষেত্রে অন্তগত দ্বীপপুঞ্জ।

ম্যাকারেল পিলেজিকজাতীয় মৎস্য।

স্ক্যানিয়া হল ডেনমার্কের তথা পৃথিবীর একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য ব্যাবসা কেন্দ্র।

তুমুকিজি হল জাপানের বৃহত্তম মৎস্য বাজার।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ।

কোন দুটি স্রোতের মিলনের ফলে ডগার্স ব্যাংক নামক মোচড়াটি সৃষ্টি হয়েছে?

উন্ন উপসাগরীয় স্রোত ও শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের মিলনের ফলে ডগার্স ব্যাংক নামক মগ্নচড়াটি সৃষ্টি হয়েছে।

হিমশৈলবাহিত পাপনে সঞ্চারের ফলে মগ্নচড়াটি দৃষ্টি হয়। ।

ডগার্স ব্যাংক  হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মগ্নচড়া।

নীল বিপ্লব বলতে মাছের উৎপাদন ও সমুদ্রজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে গৃহীত প্রকল্পসমূহকে বোঝায়।

Fishery Survey of India-র সদর দপ্তর মুম্বাই-এ অবস্থিত।

টানা জাল পদ্ধতিতে গভীর সমুদ্রের মাছ ধরা হয়।

মৎস্যশিকারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথা— 1) জীবিকাসত্তাভিত্তিক মৎস্যশিকার ও (i) বাণিজ্যিক মৎস্যশিকার।

কড় মাছ ট্রল নেট বা টানা জালের সাহায্যে ধরা হয়।

ডেমার্সাল মাছ সাধারণত শিল্পের কাজে ব্যবহৃত হয়।

সামুদ্রিক মৎস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে GPS মৎস্যের অবস্থান। নির্ণয়, মৎস্যশিকার ক্ষেত্রের যথার্থ সীমানা নির্ধারণ প্রভৃতি ।

পৃথিবীর দ্বিতীয় মৎস্য সংগ্রহকারী দেশ হল ইন্দোনেশিয়া।।

উত্তর-পূর্ব আটলান্টিক মহাসাগরীয় ক্ষেত্রে উন্ন উত্তর আটলান্টিক স্রোত ও শীতল সুমেরু স্রোতের মিলন ঘটেছে।

উত্তর-পূর্ব আটলান্টিক মহাসাগরীয় ক্ষেত্রে উষ্ণ উত্তর আটলান্টিক স্রোত ও শীতল সুমেরু স্রোতের মিলন ঘটেছে।

পৃথিবীতে মোট সংগৃহীত মাছের তিন-চতুর্থাংশ সমুজ থেকে আসে।

2012-13 সালে ভারতে 33:20 লক্ষ টন মৎস্য সামুদ্রিক ক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত হয়।

2012-13 সালে ভারতের অভ্যন্তরীণ মৎস্যক্ষেত্র থেকে প্রায় 57.19 লক্ষ টন মৎস্য সংগৃহীত হয়।

বর্তমানে (2012-13) অন্ধ্রপ্রদেশ মৎস্য উৎপাদনে ভারতে প্রথম স্থান অধিকার করে।

ভারতে মৎস্য উৎপাদনে গুজরাত বর্তমানে (2012-13) তৃতীয় স্থানাধিকারী।

বর্তমানে (2012-13) সামুদ্রিক মৎস্য সংগ্রহে পশ্চিমবঙ্গের স্থান সপ্তম।

ভারতে অভ্যন্তরীণ মৎস্য সংগ্রহে অন্ধ্রপ্রদেশ প্রথম (2012-13) স্থান অধিকার করে।

সামুদ্রিক মৎস্য সংগ্রহে কেরল দ্বিতীয় স্থান (2012-13) অধিকার করে।

2012-13 সালে পশ্চিমবঙ্গে অভ্যন্তরীণ মৎস্যক্ষেত্র থেকে 13.37 লক্ষ টন মাছ সংগৃহীত হয়।

গুজরাতে 2012-13 সালে সামুদ্রিক ক্ষেত্র থেকে 6.93 লক্ষ টন মৎস্য সংগৃহীত হয়।

রয়াপুরম মৎস্যবাজার ভারতের চেন্নাইয়ে অবস্থিত।

বিশাখাপত্তনম মৎস্যবন্দর পূর্ব ভারত মহাসাগরীয় মৎস্যক্ষেত্রে অবস্থিত।

Marine Fishing Policy 2004 সালে গৃহীত হয়।

ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে Marine Fishing Regulation Acts চালু করা হয়েছে।

EEZ কথাটির সম্পূর্ণ নাম হল – Exclusive Economic Zone |

সাও কি ওয়েন মৎস্যবাজার হংকং-এ অবস্থিত।

FSI-এর সম্পূর্ণ নাম হল – Fishery Survey of India।

শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত ও উয় উপসাগরীয় স্রোতের  সংযোগস্থলে উত্তর-পশ্চিম আটলান্টিক মৎস্যচারণ ক্ষেত্র গড়ে উঠেছে।

প্যালিওজোয়িক যুগকে মাছের যুগ বলা হয়।

উষ্ণ এ শীতল স্রোতের মিলনস্থলে মৎস্যক্ষেত্র গড়ে অন্যতম দুটি কারণ হল- (i) মঞ্চচড়ার সৃষ্টি ও (ii) মাছের খাদ্যের পর্যাপ্ত জোগান থাকায় মাছের উপস্থিতি।

গ্র্যান্ড ব্যাংক মগ্নচড়াটি শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত ও উর উপসাগরীয় স্রোতের মিলনস্থলে গড়ে উঠেছে।

মাছের অবস্থান ও গতিবিধি জানার উপায়-সংক্রান্ত দুটি প্রযুক্তি হল- (i) কালার একো সাউন্ডার (ii) কালার নেট রেকর্ডার।

মাছের ডিম পাড়ার জন্য অগভীর সমুদ্র আদর্শ।

নরওয়েকে ‘মৎস্যজীবীর দেশ' বলা হয়।

মৎস্যশিকার

রিবারিক এবং স্থানীয় অধিবাসীদের প্রোটিনজাতীয় খাদ্যের ইদাপূরণ, রপ্তানি বাণিজ্য, মৎস্যভিত্তিক শিল্প পরিচালনা, বিপুল মসংস্থানের উদ্দেশ্যে জীবিকাসত্তাভিত্তিক বা বাণিজ্যিকভাবে স্য আহরণকে মৎস্যশিকার বলে।

অনৈতিক উন্নতিতে মাছের গুরুত্ব

নৈতিক উন্নতিতে মাছের গুরুত্ব দু-ভাগে ভাগ করে আলোচনা [ যায়—[1] প্রত্যক্ষ গুরুত্ব ও [2] পরোক্ষ গুরুত্ব ।

[1] প্রত্যক্ষ গুরুত্ব

• মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় উৎকৃষ্ট প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যের প্রধান উৎস হল মাছ। মাছ থেকে পাওয়া যায় ভিটামিন-ডি এবং আয়োডিন। সেজন্য মাছের চাষ ও মৎস্যশিকারকে ঘিরে অন্যান্য নানারকমের কাজের সঙ্গে বহু মানুষ নিযুক্ত আছেন।

2. পোল্ট্রি ফার্মিং-এ হাঁস-মুরগি প্রতিপালনের জন্য শুঁটকি মাছ খাদ্য হিসেবে দেওয়া হয়।

3. মাছ থেকে জৈব সার তৈরি করা হয়। এই সার কৃষিকাজে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।

4. শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে মাছকে ব্যবহার করা হয়। মাছের চর্বি থেকে তেল তৈরি করা হয়। কড মাছ থেকে লিভার অয়েল তৈরি করা হয়। এ ছাড়া, মাছ থেকে ওষুধ, জিলেটিন, আঠা ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

5. মৎস্যশিকার, মাছকে পরিষ্কার করে লবণ দেওয়া, বরফ নেওয়া এবং প্যাকিং করে রপ্তানি করার কাজে বহু মানুষ। যুক্ত আছেন। জলাশয়, ভেড়ি প্রভৃতি স্থানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছের ডিম ফুটিয়ে মাছ চাষ করা হয়। এ ছাড়া, সংকর পদ্ধতিতে মাছের প্রজনন ঘটিয়ে মাছ চাষ করা হয়। এই সমস্ত কাজের দ্বারা বহু মানুষ জীবিকানির্বাহ করেন।

[2] পরোক্ষ গুরুত্ব 

1. মাছ ধরার ট্রলার, নৌকা, এদের যন্ত্রাংশ ও উপকরণ, জাল ইত্যাদি তৈরির জন্য শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য উন্নত প্রযুক্তির ট্রলার ব্যবহার করা হয়। ট্রলারের মধ্যে বিদ্যুতের ব্যবস্থা, উপগ্রহের মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যবস্থা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানার জন্য ব্যবস্থা, সমুদ্রে অবস্থান নির্ণয়ে GPS-এর ব্যবহার, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমুদ্রে জাল ফেলা ও জাল গোটানো, বরফের জন্য হিমায়ন যন্ত্র, কম্পিউটার ইত্যাদি উন্নত ব্যবস্থা থাকে। এ সবের জন্য মৎস্য বন্দর ও তার আশপাশের অঞ্চলে এ জাতীয় । বিভিন্ন শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

2. মাছ ধরে এক জায়গায় জড়ো করা হয় এবং মাছকে প্রক্রিয়াকরণ (Processing) করে তা রপ্তানি করা হয়। এজন্য মৎস্যক্ষেত্রগুলিতে মৎস্য বন্দর গড়ে উঠেছে। এই সমস্ত বন্দরে বহু মানুষ মাল ওঠানো ও নামানোর জন্য কাজ করেন। পশ্চিমবঙ্গে দিঘার কাছে শংকরপুরে এই ধরনের মাছের বন্দর গড়ে উঠেছে। ডায়মন্ডহারবার, জুনপুট থেকেও মাছ রপ্তানি করা হয়।

3. মাছকে টাটকা রাখার জন্য বরফ দেওয়া হয়। এজন্য প্রচুর পরিমাণে বরফ লাগে। বন্দরের কাছে এজনাই প্রচুর বরফ কল গড়ে উঠেছে।

4. মৎস্যকেন্দ্রগুলিতে মাছের বাজার গড়ে উঠেছে। ওই সব বাজারে ছোটো-বড়ো নানা ধরনের মাছ ব্যবসায়ী আছে। মাছের বাণিজ্য করে তারা জীবিকানির্বাহ করে। বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা থেকে ঋণদান ইত্যাদি কাজে বহু মানুষ সরাসরি মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জড়িত আছেন।

5. দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার জন্য মাছ ধরার কেন্দ্রগুলি থেকে স্থানীয় বাজারে মাছ সড়কপথে পাঠানো হয়। এজন্য মাছ পরিবহণে বহু মানুষ যুক্ত আছেন।

6. অনেক ব্যক্তির কাছে ছিপ দিয়ে মাছ ধরা এক ধরনের শখ ও নেশা। এইসব ব্যক্তির শখ মেটানোর জন্য ছিপ তৈরি শিল্প গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া, বড়শিতে মাছ ধরার জন্য। মাছের টোপ হিসেবে পিঁপড়ের ডিম ব্যবহার করা হয়।

7. খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে কাঁচা মাছকে খাদ্যোপযোগী করে টিনের কৌটায় রাখা হয়। এগুলি টিনজাত মাছ (Tinned (Fish) হিসেবে পরিচিত। শীতপ্রধান দেশের অধিবাসীরা। এই টিনজাত মাছ বেশি খায়। এ ছাড়া, ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে মাছের অত্যধিক চাহিদার জন্য এই প্রকার প্রক্রিয়াজাত মাছ প্রচুর রপ্তানি করা হয়।

নাতিশীতোয়মণ্ডলে মৎস্যক্ষেত্রগুলির বিকাশ লাভের কারণ

পৃথিবীর প্রধান মৎস্যচারণক্ষেত্রগুলি উত্তর গোলার্ধের নাতিশীতোয় অঞ্চলের অগভীর সমুদ্রের মগ্নচড়াগুলিতে অবস্থিত। অনুকূল প্রাকৃতিক কারণে এই জলবায়ু অঞ্চলে মৎস্যক্ষেত্রের বিকাশ ঘটেছে। এই কারণগুলি নীচে আলোচনা করা হল—

1 অগভীর সমুদ্র বা মগ্নচড়া বা বিস্তৃত মহীসোপান: পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মৎস্যক্ষেত্রগুলি অগভীর সমুদ্রের মহীসোপান অঞ্চলে গড়ে উঠেছে। মহীসোপান অংশে জলের গভীরতা প্রায় 200 মিটার হওয়ায় সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে। ফলে এই অংশে জলের স্বাভাবিক তাপমাত্রা 20 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। এই আদর্শ উয়তায় সামুদ্রিক প্রাণী, প্ল্যাঙ্কটন (মাছের প্রধান খাদ্য) ও উদ্ভিদ ভালোভাবে বাঁচতে পারে। তাই মহীসোপান অংশে এদের প্রচুর সমাবেশ ঘটে। এ ছাড়া, স্থলভাগ থেকে ধুয়ে আসা আবর্জনার সঙ্গে বিভিন্ন পোকামাকড় মহীসোপানে এসে জমা হয়। ফলে, মাছের খাদ্যের অভাব হয় না। অগভীর সমুদ্র মাছের ডিম পাড়ার পক্ষেও আদর্শ জায়গা।
2 প্ল্যাঙ্কটনের প্রাচুর্য : প্ল্যাঙ্কটন একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ হল ‘ঘুরে বেড়ানো’। সমুদ্রজলে একপ্রকার অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভিদ ও প্রাণী (সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না) জন্মায়, যা সমুদ্রস্রোতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভেসে বেড়ায়। এদের একত্রে প্ল্যাঙ্কটন বলে। এই প্ল্যাঙ্কটন মাছের প্রধান খাদ্য। ভাসমান ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভিদকণাগুলিকে উদ্ভিদ প্ল্যাঙ্কটন এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণীকণাগুলিকে প্রাণী প্ল্যাঙ্কটন বলে। স্থলবিধৌত আবর্জনায় যেসব খনিজ লবণ থাকে, এই প্ল্যাঙ্কটনগুলি তার দ্বারা পৃষ্ট হয়। ফলে, প্ল্যাঙ্কটনের প্রাচুর্যযুক্ত অংশে মাছের প্রচুর সমাবেশ ঘটে।

3. উষ্ম ও শীতল সমুদ্রস্রোতের মিলন : শীতল স্রোতের সঙ্গে বড়ো বড়ো হিমশৈল ভেসে আসে। এইসব হিমশৈলের বরফের মধ্যে আটকে থাকে শৈবাল, নুড়ি, পাথর ইত্যাদি। উয় স্রোতের সঙ্গে শীতল স্রোত যেখানে মিলিত হয়, সেখানে হিমশৈল গলতে থাকে। হিমশৈলবাহিত পদার্থগুলি মহীসোপানে গিয়ে জমা হয়। এভাবে দীর্ঘকাল ধরে বাহিত পদার্থের সঞ্চয়ের ফলে মহীসোপানগুলিতে মগ্নচড়ার সৃষ্টি হয়। এই সব মগ্নচড়া মৎস্যক্ষেত্র হিসেবে সুবিখ্যাত। যেমন—গ্র্যান্ড ব্যাংক, ডগার্স ব্যাংক, রকফল ব্যাংক প্রভৃতি।

4. নাতিশীতোয় জলবায়ু: শীতল নাতিশীতোয় জলবায়ু অঞ্চলে, বিশেষত যেসব স্থানের উন্নতা 20 °সে.-এর কম, সেখানে মাছের সমাবেশ সবচেয়ে বেশি। আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে বলে মাছ ধরার পর তা সহজে নষ্ট হয় না, ফলে মাছ সংরক্ষণের সুবিধা হয়।

5. শিলাময় বন্ধুর ভূমিরূপ: উপকূল সংলগ্ন স্থলভাগ বন্ধুর পর্বতময় বলে কৃষিকাজ করা যায় না। ফলে স্থানীয় অধিবাসীরা মৎস্যশিকার করে জীবিকানির্বাহ করে। নরওয়ে, জাপান প্রভৃতি দেশের বিস্তৃত উপকূলভাগ পর্বতময়। এই দুই দেশ মৎস্যশিকারে খুবই উন্নত।

6. ভগ্ন উপকূল : নাতিশীতোয় অঞ্চলের বেশিরভাগ স্থানের সমুদ্র উপকূল ভগ্ন । এই ভগ্ন উপকূল মাছ শিকারের অনুকূল বন্দর গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

7. সরলবর্গীয় অরণ্যের উপস্থিতি: উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের উচ্চ অক্ষাংশ সরলবর্গীয় অরণ্যে পরিপূর্ণ। এই অরণ্যের গাছ মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার ইত্যাদি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয় যা মাছ সংগ্রহের উন্নতিতে সাহায্য করে।

মৎস্য চাষের ক্ষেত্রে প্ল্যাঙ্কটনের গুরুত্ব
মৎস্যচারণ ক্ষেত্রে প্ল্যাঙ্কটন যেমন মাছের প্রধান খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়, তেমনি প্ল্যাঙ্কটনের জন্য এসব চারণক্ষেত্রে এক সুন্দর খাদ্যশৃঙ্খল গড়ে ওঠে। এখানে খাদ্যশৃঙ্খলের বা পুষ্টিস্তরের সবচেয়ে নীচে থাকে উদ্ভিদ প্ল্যাঙ্কটন। এদেরকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে প্রাণী প্ল্যাঙ্কটন। প্রাণী প্ল্যাঙ্কটনকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে ছোটো মাছ। ছোটো মাছকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বড়ো মাছ। বড়ো মাছকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে আরও বড়ো মাছ। সুতরাং, খাদ্যশৃঙ্খলটি হল

উদ্ভিদ প্ল্যাঙ্কটন প্রাণী প্ল্যাঙ্কটন ছোটো মাছ

আরও বড়ো মাছ - বড়ো মাছ -

বিশ্বের অন্তর্দেশীয় মাছ চাষের বণ্টন

জলের মাছ বেশি ধরা হয় প্রধানত নদীমাতৃক দেশগুলির নদী, হ্রদ এবং অন্যান্য জলাশয় থেকে। বস্তুত, নদীমাতৃক গুলিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে। ফলে নদনদীর উৎপত্তির সঙ্গে গ নদীগঠিত সমভূমি কিংবা বদ্বীপ সমভূমির নীচু অংশে হুখ্য খাল, বিল, পুকুর, ডোবা প্রভৃতি জলাশয় গড়ে ওঠে। নব জলভাগে স্বাভাবিকভাবে প্রচুর মাছ জন্মায় ও অনেক গায় পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করা হয়। নিরক্ষীয় ও মৌসুমি বায়ু অঞ্চলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়। তাই এই জলবায়ুর দেশগুলির অভ্যন্তরভাগের জলাশয় ও নদনদীগুলি থেকে প্রচুর মাছ সংগ্রহ করা হয়। ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমভূমি ঘন জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় মাছের চাহিদা প্রচুর থাকে। এই কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অন্তরে মাছ চাষ বিস্তার লাভ করেছে। যেমন—

1. দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, চিন, মায়ানমার, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিনস্ প্রভৃতি দেশের নদী, হ্রদ ও খাল-বিলে এমনকি বর্ষার সময়ে ধানের খেতেও প্রচুর মাছ ধরা হয়।
2. স্বাদু জলের মাছ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলি ছাড়াও আফ্রিকার বিভিন্ন হ্রদ ও নদনদী (কঙ্গো, জাম্বেসি, নীলনদ প্রভৃতি) থেকে প্রচুর মাছ সংগ্রহ করা হয়।

3. ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে সি. আই. এস. (CIS— Commonwealth of Independent States) অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির নদনদী (ডন, নিপার, নিস্টার, ভোলগা, ইউরাল, মস্কোভা প্রভৃতি নদী এবং কুমসাগর, আজত সাগর প্রভৃতি হ্রদ) থেকে প্রচুর মাছ ধরা হয়।

4. আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ হ্রদ অঞ্চলে, কানাডার হ্রদসমূহে, মিসিসিপি-মিসৌরি, ওহিও প্রভৃতি নদী থেকে মাছ ধরা হয়।

5. এ ছাড়া ওশিয়ানিয়ার অন্তর্গত দেশগুলির বিভিন্ন নদনদী ও হূদ থেকে প্রায় 22 হাজার টন (FAO, 2012) অভ্যন্তরীণ মৎস্য সংগ্রহ করা হয়।

অভ্যন্তরীণ মৎস্যক্ষেত্র পড়ে ওঠার কারণ

বিশ্বের অভ্যন্তরীণ মৎস্যক্ষেত্রসমূহ মূলত নদীমাতৃক ও জনবহুল দেশসমুহে গড়ে উঠেছে। যেসব অনুকূল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক অস্থার জন্য ওইসব মৎস্যক্ষেত্র গড়ে উঠেছে, সেগুলি হল—

1. প্রকৃতিক কারণ

1. জলের গভীরতা: অগভীর জলাশয় ও সুগভীর জলাশয়। মাছ চাষের জন্য উপযুক্ত নয়। গড়ে ও থেকে 6 মিটার। গভীরতাযুক্ত অভ্যন্তরীণ জলাশয় মৎস্যচাষে উপযোগী।

2. জলের রং: হালকা সবুজ রংযুক্ত জলাশয়ের জলে। মৎস্যচাষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যের জোগান থাকে।
3. জলাশয়ের অবস্থান ও আয়তন: দেশের অভ্যন্তরে নদী, হ্রদ, জলাশয়, পুকুর প্রভৃতির উপস্থিতি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ মৎস্যচাষের সহায়ক।
4. সূর্যালোক :প্রচুর পরিমাণে সূর্যালোক জলাশয়ে মাছ চাষের উপযোগী।

5. জলাশয়ের মাটি: অভ্যন্তরীণ মৎস্যক্ষেত্রগুলির তলদেশের মাটি ফসফেট, নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, সোডিয়াম প্রভৃতি। অজৈব পদার্থে সমৃদ্ধ বলে মাছ চাষ করা সুবিধাজনক হয়।

অর্থনৈতিককারণ

চাহিদা: ঘন জনবসতি থাকলে মৎস্যশিকারের শ্রমিক। পাওয়া যায় এবং মৎস্যের চাহিদা বা বাজার সৃষ্টি হয়।।
পরিবহণের সুবিধা: দেশের অভ্যন্তরে উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ মৎস্যক্ষেত্র গড়ে তুলতে বিশেষ সহায়তা করে।
মৎস্য বিপণনের সুবিধা: মৎস্য সংগ্রহের বিশেষ বিপণন ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ মৎস্যক্ষেত্র বিকাশে সাহায্য করে। এ ছাড়া
4. মূলধনের জোগান,
5. মৎস্য গুদামজাত করণের সুবিধা,
6. মৎস্য গবেষণা,
7. প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রভৃতি কারণ অভ্যন্তরীণ মৎস্যক্ষেত্রের বণ্টনে সাহায্য করে।

সাম্প্রতিককালে ক্রান্তীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক মৎস্য শিকারের উন্নতির কারণ

ক্রান্তীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক মৎস্যশিকার দীর্ঘদিন অনুন্নত থাকলেও সম্প্রতিক বছরগুলিতে এই অঞ্চলের ভারত, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, ফিলিপিনস্ প্রভৃতি দেশগুলিতে সামুদ্রিক মৎস্যশিকার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে সামুদ্রিক মৎস্য শিকারের উন্নতির কারণ—

1. মাছের চাহিদা বৃদ্ধিঃ ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন মাছের চাহিদাও বাড়ছে। কেবল অন্তর্দেশীয় মৎস্যক্ষেত্রগুলি থেকে মাছের চাহিদাপূরণ করা সম্ভব হয় না। সামুদ্রিক মাছের জোগান দিয়ে মাছের অভাব পূরণ করতে হয়। এভাবে চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের পরিমাণও বেড়েছে।

2. নগরায়ণ ও দূষণ: ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে বর্তমানে দ্রুত নগরায়ণের ফলে অসংখ্য পুকুর, ডোবা, জলাজায়গা ইত্যাদি ঘরটি করে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে। সে কারণে, আন্তদেশীয় মাছ চাষ ক্রমশ কমে আসছে। অন্যদিকে, শিল্পায়নের প্রভাবে নদনদী প্রভৃতির জল দূষিত হচ্ছে। নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে, সামুদ্রিক মৎস্যশিকারের পরিমাণ বাড়ছে।

3. আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা: বর্তমানে ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশসমূহে মাছ ধরার যন্ত্রচালিত নৌকা, আধুনিক ট্রলার, উন্নত ধরনের জাহাজ, জাল এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যাপক হারে ব্যবহার করা হচ্ছে।

4 প্রযুক্তিবিদ্যা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা: বর্তমানে এই ক্রান্তীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে উন্নতি করার জন্য নতুন নতুন গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ফলে মৎস্যশিকারের পরিমাণ বেড়েছে।

5. মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা: মাছ সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত হিমঘরের ব্যবস্থা গ্রহণ করার ফলে ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে মৎস্য আহরণের পরিমাণ যথেষ্ট বেড়েছে।

6 সরকার ও ক্ষণদান: ট্রলার, নৌকা, জাল ইত্যাদি কেনার জন্য সরকার জেলে সম্প্রদায়কে বিভিন্ন আর্থিক সংস্থার মাধ্যমে ঋণদানের ব্যবস্থা করেছেন। এ ছাড়া সরকার ভরতুকি দেওয়ায় গরিব ধীবর সম্প্রদায় ওইসব সরঞ্জাম কিনতে পারায় সমুদ্রে মাছ…সমুদ্রে মাছ সংগ্রহের পরিমাণ বেড়েছে।

7 বিদেশি উপার্জন: আন্তর্জাতিক বাজারে সামুদ্রিক মাছের চাহিদা খুব বেশি। ক্রান্তীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল সব দেশ মূল্যবান বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের লক্ষ্যে বর্তমানে মৎস্য রপ্তানির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

8 জীবিকার অভাব: আগে এইসব দেশের অধিবাসীরা সামুদ্রিক মৎস্যশিকারে আগ্রহী ছিল না। কিন্তু ক্রম বর্ধমান বেকারত্ব ও জীবিকার সীমাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এইসব দেশের অধিবাসীরা সামুদ্রিক মৎস্যশিকারে এগিয়ে এসেছে।

9. অন্যান্য কারণ: উপরিউক্ত কারণগুলি ছাড়াও সামুদ্রিক মৎস্যশিকারে ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশগুলি আরও কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যেমন যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থার
উন্নতি ঘটানো হয়েছে, ও বিভিন্ন পরিকাঠামোগত সুযোগসুবিধা বাড়ানো হয়েছে, © মাছ প্রক্রিয়াকরণের জন্য আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ইত্যাদি।

ক্রান্তীয় অঞ্চলের মৎস্যক্ষেত্রসমূহ

ক্রান্তীয় অঞ্চলের মৎস্যক্ষেত্রগুলি হল—

1.পশ্চিম-মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় মৎস্যক্ষেত্র— উত্তরে ফিলিপিনস্ থেকে দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।

2. পূর্ব ভারত মহাসাগরীয় মৎস্যক্ষেত্র—ভারত মহাসাগরের উত্তর ও পূর্বদিকের ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশ এই মৎস্যক্ষেত্রের অন্তর্গত।

3.পূর্ব-মধ্য আটলান্টিক মহাসাগরীয় মৎস্যক্ষেত্র আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব-মধ্যভাগে মধ্য আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর বিস্তৃত।
4. পূর্ব-মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় মৎস্যক্ষেত্র মধ্য আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের অন্তর্গত।
5. পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় মৎস্যক্ষেত্র—ভারত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তীয় দেশগুলি এর অন্তর্গত।
6. দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় মৎস্যক্ষেত্র—প্রশান্ত মহাসাগরের অন্তর্গত এই মৎস্যক্ষেত্রটি পেরু ও চিলির উপকূলভাগ বরাবর বিস্তৃত।

 মহীসোপান বা মগ্নচড়া মৎস্য চাষে উন্নতির কারণ

মহীসোপান বা মগ্নচড়ার মৎস্যচাষ খুবই উন্নত এবং সমুদ্রের এই অংশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক হারে মাছ ধরা হয়। এখানে মাছ চাষের উন্নতির কারণগুলি হল—

1. জলের উন্নতা: মহীসোপানগুলির গভীরতা সাধারণত 200 মিটার হওয়ায় এর তলদেশ পর্যন্ত সূর্যের আলো পৌঁছোতে পারে। ফলে জলের স্বাভাবিক উয়তা (20 °সে.) বজায় থাকে, যা মাছের প্রজনন, ডিম পাড়া, বৃদ্ধি প্রভৃতির সহায়ক। এ ছাড়া, মাছের খাদ্য প্ল্যাঙ্কটন এই উন্নতায় ভালো জন্মায়। এজন্য এখানে প্রচুর মাছের সমাবেশ হয়।

2. মাছের খাদ্য: মহীসোপানগুলিতে স্থলভাগের আবর্জনা বৃষ্টির জলে ধুয়ে এসে জমা হয়। আবর্জনার সঙ্গে প্রচুর পোকামাকড় ইত্যাদি আসে। ফলে মাছের খাদ্যের অভাব হয় না।

3.  প্ল্যাঙ্কটনের প্রাচুর্য : প্ল্যাঙ্কটন হল মাছের প্রধান খাদ্য। মহীসোপান অংশে স্থলভাগের ধোয়া আবর্জনায় অনেক খনিজ লবণ জমা হয়। এগুলি দ্বারা প্ল্যাঙ্কটন পুষ্টিলাভ করে। এ ছাড়া উয় স্রোত ও শীতল স্রোতের মিলনে হিমশৈল গলে যায়। সে জন্য প্রচুর আবর্জনার সঞ্চয় ঘটে। এগুলি দ্বারাও প্ল্যাঙ্কটন পুষ্টি লাভ করে। ফলে মহীসোপান বা মগ্নচড়াগুলিতে প্ল্যাঙ্কটনের প্রাচুর্য থাকায় মাছের খাদ্যের অভাব হয় না এবং মাছের ব্যাপক সমাবেশ ঘটে।

4. মাছ শিকারের সুবিধা: মহীসোপানগুলির গভীরতা কম হওয়ায় ড্রিফট নেট, ট্রল নেট, লং লাইন প্রভৃতি মাছ ধরার আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে একসঙ্গে প্রচুর মাছ শিকার করা যায়। এ ছাড়া, এখানে মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে ঘুরে বেড়ায়। তাই একবার জাল ফেলে প্রচুর পরিমাণ মাছ ধরার সুবিধা পাওয়া যায়।

উম্ন ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে মাছের ব্যাপক সমাবেশের কারণ

শীতল স্রোত আবর্জনাসমৃদ্ধ হিমশৈল বলে আনে। উয় স্রোতের মিলনে ওই হিমশৈল গলে যায়। এজন্য এই দুই স্রোতের মিলনস্থলে সমুদ্রের তলদেশে প্রচুর আবর্জনার সঞ্চয় ঘটে। এই অংশে সমুদ্র অগভীর হওয়ায় প্রচুর প্ল্যাঙ্কটন জন্মায়। আবর্জনা খেয়ে প্ল্যাঙ্কটন পুষ্টিলাভ করে ও বেঁচে থাকে। প্ল্যাঙ্কটন মাছের অন্যতম প্রধান খাদ্য হওয়ায় মাছেরা উয় ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে সমাবেশ ঘটায়।

ভারতে মৎস্য চাষের অনুকূল অবস্থা সৃষ্টির কারণ

ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশ হয়েও ভারত মৎস্য চাষে উন্নত। এর কারণগুলি হল—

1 পর্যন্ত মৎস্যচারণ ক্ষেত্র: ভারত নদীমাতৃক দেশ। এদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে অসংখ্য ছোটো-বড়ো নদনদী। বিভিন্ন নদনদী, তাদের শাখানদী, উপনদী প্রভৃতি থেকে প্রচুর পরিমাণ মাছ সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়া খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ ও জলাভূমি থেকে বিভিন্ন ধরনের মাছ শিকার করা হয়। এ ছাড়া বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে জলাধার নির্মাণ করে মৎস্যচাষ করা হয়। সামুদ্রিক মৎস্য সংগ্রহের জন্য ভারতের তিনদিক বেষ্টনকারী বিশাল সমুদ্রও মাছ শিকারের উপযুক্ত জায়গা।

2 বিপুল অন্তরীণ চাহিদা: বেশিরভাগ ভারতবাসীর প্রিয় খাদ্য মাছ। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপুল চাহিদা মৎস্যশিল্পের উন্নতিতে বিশেষ সহায়তা করেছে।

3. জীবিকানির্বাহের ক্ষেত্র: ভারত একটি জনবহুল দেশ। কিন্তু চাষ-আবাদ, খনিজ দ্রব্য উত্তোলন এবং বিভিন্ন শিল্পকর্মের মাধ্যমে সকলের জীবিকার সংস্থান সম্ভব নয়, ফলে বেকারের সংখ্যাও খুব বেশি। সেক্ষেত্রে দেশে মৎস্যক্ষেত্রের প্রাচুর্য থাকায় মাছ শিকার এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজকর্মের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রচুর সংখ্যক মানুষের জীবিকার সংস্থান হয়।

4. বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন : ভারত প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ মাছ ও মাছজাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। তাই, মাছ চাষে ভারতীয়দের বিশেষ আগ্রহ লক্ষ করা যায়।

5 মাছ সংগ্রহের সর্যাম ও পদ্ধতি: বর্তমানে ভারতে সরকারি উদ্যোগে আধুনিক পদ্ধতিতে এবং উন্নতমানের সাজসরঞ্জাম ব্যবহার করে সমুদ্র থেকে মাছ সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাছ ধরার উন্নতমানের জাল, নৌকা, জাহাজ এবং অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার মাছ শিকারের উন্নতিতে সাহায্য করেছে।

6. মাছ চাষে  ঋণদান : মৎস্য সংগ্রহ ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে ভারতে মৎস্যজীবীদের প্রচুর সরকারি ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। ফলে, পর্যাপ্ত মূলধন পেয়ে মৎস্যজীবীরা ব্যাপক হারে মাছ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।

7. প্ৰশিক্ষণ ব্যবস্থা: বর্তমানে সরকার বিভিন্ন মৎস্যক্ষেত্রে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ ও মাছ শিকারের জন্য উন্নত ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন।
8. মাছ সংরক্ষণ ব্যবস্থা : মাছ পচনশীল দ্রব্য। তাই, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নতমানের মাছ সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। মৎস্যজীবীরা যাতে বহুদূরে মাছ সরবরাহ করতে পারে, তার জন্য বর্তমানে মাছ প্রক্রিয়াকরণ ও টিনজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠেছে।

9. বৈদেশিক সহযোগিতা: ভারতের মৎস্য চাষের উন্নতিতে বৈদেশিক অর্থ ও সাজসরঞ্জাম বিশেষভাবে সাহায্য করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন বৈদেশিক সংস্থা ভারতে অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছে। এ ছাড়া, পুরোনো মৎস্য বন্দরগুলির আধুনিকীকরণ ও নতুন মৎস্য বন্দর গড়ে তোলা এবং মৎস্য গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন প্রভৃতি মাছ চাষের উন্নতিতে সাহায্য করেছে।

ভারতের প্রধান প্রধান মৎস্য বন্দর

ভারতের উপকূলীয় প্রায় সব রাজ্যগুলিতে মৎস্য বন্দর আছে। এগুলি হল—
1.পুরী, গঞ্জাম, ভিমুনিপত্তম, বিশাখাপত্তনম, কাঁকিনাড়া, মসুলি পত্তনম, পুদুচেরি, এন্নোর, চেন্নাই, নেগাপত্তনম, শঙ্করপুর, কাকদ্বীপ, নামখানা, ডায়মন্ডহারবার ইত্যাদি পূর্ব উপকূলের মৎস্য বন্দর।

2. পোরবন্দর, মংগ্রল, জাফরাবাদ, সুরাত, মুম্বাই, ম্যাঙ্গালোর, কোঝিকোড, কোচি ইত্যাদি পশ্চিম উপকূলের প্রধান মৎস্য বন্দর।

ভারতে মৎস্য শিকারের উন্নতিকল্পে গৃহীত ব্যবস্থাসমূহ

ভারতের মৎস্যশিকারের উন্নতির জন্য বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় যেসব ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়েছে, সেগুলির সম্বন্ধে আলোচনা করা হল—

1. মৎস্য চাষের আধুনিক শিক্ষার প্রসার: বিভিন্ন রাজ্যে মৎস্যজীবীদের সংগঠিত করে মাছ চাষ বিষয়ে আধুনিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে সারা দেশে মোট 28 টি সংগঠন গড়ে উঠেছে। মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণ ও মাছ চাষের উন্নতিকল্পে ভারতে 429 টি কেন্দ্র (Fish Farmers' Development | Agencies) স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলি প্রায় 3.87 লক্ষ হেক্টর আয়তনের জলভাগে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মাছ চাষ করছে এবং প্রায় 5.04 লক্ষ মৎস্যজীবী এই কেন্দ্রগুলিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছে।

2. ফিশারিস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন: মাছ চাষ- সংক্রান্ত | শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে মুম্বাই, কোচি, চেন্নাই, বিশাখাপত্তনম, ব্যাঙ্গালোর, হায়দ্রাবাদ, ব্যারাকপুর ও আগ্রা-য় কেন্দ্ৰীয় সরকারের পরিচালনাধীন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপিত হয়েছে।

3. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন: বর্তমানে ট্রলারের সাহায্যে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা হচ্ছে। এ ছাড়া 46,223 টি দাঁড়টানা নৌকোকে মোটরচালিত নৌকোয় উন্নীত করা হয়েছে। কেরল, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্য এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার কাজে সহয়তা করার জন্য ফিশারি সার্ভে অব ইন্ডিয়া (FSI) নামে একটি সংস্থাও গঠন করা হয়েছে।

4. নির্বিচারে মৎস্যশিকার বন্ধ করা: ভারতে নির্বিচারে ছোটো মাছ এবং ডিম-সমেত মৎস্যশিকার করা হয়। কিন্তু ছোটো মাছ এবং ডিম-সমেত মাছ ধরলে মৎস্যসম্পদ বিনষ্ট হয়। এর ফলে জৈব উৎপাদনের ধারা বিনষ্ট হয়।

5. মৎস্য সম্পর্কে গবেষণা: মৎস্যসম্পদ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্যের খাদ্যাভ্যাস, প্রজনন সময়, গতিবিধি, জীবন-ইতিহাস প্রভৃতি সম্পর্কে গবেষণার প্রয়োজন আছে।

6. লবণাক্ত জলাভূমিতে মৎস্যচাষ : দেশের লবণাক্ত জলাভূমিকে মৎস্য উৎপাদনের উপযোগী করে তোলার উদ্দেশ্যে ভারত সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই ব্যাপারে 2007-08 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত 30,889 হেক্টর লবণাক্ত জলাভূমিতে চিংড়ি চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের উপকূল অঞ্চলে 39 টি এজেন্সি (BFDA) স্থাপন করা হয়েছে।

7. উন্নত মৎস্য বন্দর: ভারতে মৎস্যশিকারের উন্নতিকল্পে চেন্নাই, কোচি, পারাদ্বীপ, মুম্বাই, বিশাখাপত্তনম ও রায়চকে ছটি প্রধান মৎস্য বন্দর এবং আরও 27 টি অপ্রধান মৎস্য বন্দর ও 1,332 টি মৎস্য অবতরণ ক্ষেত্র নির্মাণ করা হয়েছে।

৪. মৎস্য সংরক্ষণ : মাছ সংরক্ষণের জন্য দেশের বড়ো বড়ো শহরে হিমায়ন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে দিঘার কাছে জুনপুটে ও তামিলনাড়ুর সমুদ্র উপকূলে মাছ থেকে তেল ও সার উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। উল্লিখিত 'ব্যবস্থাসমূহ' গ্রহণ করলে অচিরেই ভারত মৎস্যশিকারে উন্নত হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।

জাপান মাছ শিকারে উন্নত হওয়ার কারণ

উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্যিক জাপান মৎস্যক্ষেত্রের অন্তর্গত একটি প্রধান দ্বীপরাষ্ট্র। এই ছোট্ট দেশ বর্তমানে সামুদ্রিক মাছ শিকারে পৃথিবীতে সপ্তম ान ( 36.11 লঞ্চ টন, FAO, 2012 সাল) অধিকার করে। মৎস্য শিকারে এই দেশের উন্নতির কারণগুলি হল—

1. মহীসোপান আশে অবস্থান: এই দ্বীপরাষ্ট্র মহীসোপান অংশে অবস্থিত।

2. উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলন : উষ্ণ কুরেশিয়ো স্রোত ওশীতল ওয়াশিয়ো স্রোতের মিলনে প্রচুর প্ল্যাঙ্কটনের সমাবেশ হয়। ফলে প্রচুর মাছের সমাবেশ ঘটে।

3. নাতিশীতোর জলবায়ু :শীতল নাতিশীতোর জলবায়ু মাছ শিকার ও মাছ সংরক্ষণের সহায়ক। সীম জাপানের সরলতীয় বনভূমি ছানা ও ট্রলার নির্মাণের উপযোগী।

5. মন বিকার অভাব: জাপান দেশটি পর্বতময়, ফল কৃষিজমি ও সেই সঙ্গে অন্যান্য খনিজ সম্পদের অভাব থাকায় জীবিকার জন্য মানুষকে সমুদ্র সম্পদের ওপর নির্ভর করতে হয়।
6. দক্ষ ধীবর: জলবেষ্টিত হওয়ায় অধিবাসীগণ ছোটোবেলা থেকে নৌ-চালনায় পটু। ফলে, খুবই দক্ষতার সঙ্গে মাছ শিকার করতে পারে।

7. ভগ্ন উপকূলঃ জাপানের উপকূল ভগ্ন হওয়ায় দেশে অনেক মৎস্য বন্দর গড়ে উঠেছে।
8.আধুনিক প্রযুক্তি: শিল্পোন্নত দেশ হওয়ায় উপগ্রহ পরিসেবাযুক্ত অত্যাধুনিক ট্রলার দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে প্রচুর এই সংগ্রহ করতে পারে।

9. অভ্যন্তরের ছাহিদা: সমস্ত অধিবাসী প্রধান প্রোটিন। বাদ্যরূপে মাছ খায়। ফলে মাছের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেশি থাকায় অধিবাসীরা মৎস্যশিকার করে।

জাপানের মৎস্য চাষের অবনতির কারণ

পান উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্যিক মৎস্যক্ষেত্রের দুর্গত একটি প্রধান দ্বীপরাষ্ট্র। এই ছোট্ট দেশে মৎস্য সংগ্রহের সব ধরনের অনুকূল পরিবেশ থাকলেও বিগত কয়েক বছরে উৎস্যের উৎপাদন অত্যধিক হারে কমে গিয়েছে। জাপানে মত্স তাদের অবনতির কারণগুলি হল—

  1. অতিরিক্ত  মৎস্য   সংগ্রহ: অগভীর সমুদ্রে বা উপকূলীয় মাছ ধরার জন্য সার্ডিন, হেরিং, ম্যাকারেল, পিলচার্ড মাছের ঝাকের ওপর মৎস্যজীবীদের নজর সবচেয়ে বেশি। শুধু তাই নয় এই সকল মাছ ধরার সাথে সাথে নির্বিচারে ছোটো মাছ বা ধানি মাছ নষ্ট করে ফেলা হয়।

2 বিশ্ব উন্নকরণ: জাপানে উত্তর থেকে আসা শীতল ওয়াশিয়ো বা কিউরাইল স্রোত এবং দক্ষিণ থেকে আসা উন্ন কুরোশিয়ো বা জাপান স্রোতের মিলনে এই অঞ্চলের জলভাগে প্রচুর প্ল্যাঙ্কটনের সমাবেশ হয়। ফলে মৎস্যও থাকে প্রচুর। কিন্তু বর্তমানে সমগ্র বিশ্বের উন্নতা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় শীতল স্রোতের উয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে উয় ও শীতল স্রোতের সঠিক মিলন ঘটে না। তাই মাছের খাদ্য ও জোগান উভয়ই হ্রাস পাচ্ছে।

3 ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের প্রাবল্য: জলবায়ুগত কারণে জাপানের নিকটবর্তী দক্ষিণ চিন সাগরে বিধ্বংসী টাইফুন ঘূর্ণবাতের আবির্ভাব ঘটে। এর ফলে সমুদ্র থেকে মাছ ধরার কাজে ক্ষতি হয়।

বাংলাদেশে মৎস্য শিকারের অনুকূল অবস্থা

1. অবস্থানগত কারণ : গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের মোহানায় অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশে বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপসহ অসংখ্য ছোটো ছোটো দ্বীপ গড়ে উঠেছে, যেগুলি মৎস্য চাষের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া, এখানকার উপকূলে বিস্তৃত অগভীর মহীসোপানও আছে যা মাছ চাষের অনুকূল।

2. বিস্তৃত উপকূল: বাংলাদেশের দক্ষিণে অগভীর মহীসোপানসহ বিস্তৃত উপকূল আছে, যেখানে নানাধরনের মৎস্যের সমাবেশ ঘটে।

3. নদনদীর বিন্যাস: এদেশে অসংখ্য নদনদী জালের মতো বিন্যস্ত রয়েছে। এইসব নদনদী এবং অসংখ্য খাল, বিল, হ্রদ থেকে প্রচুর পরিমাণে স্বাদুজলের মৎস্য আহরণ করা হয়।

4. অন্যান্য কারণ: অন্যান্য জীবিকার অভাব, অভ্যন্তরীণ বাজারে মাছের বিপুল চাহিদা, মূল্যবান মাছের প্রাধান্য, অসংখ্য অব্যবহৃত মৎস্যক্ষেত্র, স্বাদু ও নোনা জলের মাছের বিপুল বৈচিত্র্য প্রভৃতি এদেশে মৎস্যশিকারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশে মৎস্য শিকারের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসমূহ

বাংলাদেশে মৎস্য শিকারের উন্নতির জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সেগুলির সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল—

1. সামুদ্রিক মৎস্য শিকারের ক্ষেত্রে ক্ষমতা বৃদ্ধি করা

1. বাংলাদেশের জলবায়ু, বাজার ও সামাজিক ব্যবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ এমন প্রযুক্তির প্রয়োগ।

2. মৎস্যশিকারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।
3. GPS এবং GIS ব্যবহার করে মৎস্যশিকারক্ষেত্রের যথার্থ সীমানা নির্ধারণ করা ইত্যাদির মাধ্যমে সামুদ্রিক মৎস্যশিকারে উন্নতিসাধন প্রয়োজন ।

2. পরিকাঠামোগত উন্নয়ন
1.দ্রুত মৎস্য সরবরাহের জন্য রাস্তাঘাটের উন্নতি ঘটানো।
2. মৎস্যশিকারে নিয়মিত ও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
3.দ্রুত তথ্যের আদানপ্রদান করা।
4. বাজার বা বণ্টন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা প্রভৃতি।

3 . ব্যবস্থাপনার উন্নতিসাধন

1. সংগঠক, ব্যবস্থাপক, মূলধনের জোগান প্রভৃতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।

2. আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাজার ব্যবস্থা, প্রযুক্তি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য আদানপ্রদান, সাহায্যদান প্রভৃতির মধ্যে যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।