Chapter-7.3⇒ভূমি ব্যবহারের প্রকৃতি

চিলি দেশটির আকৃতি লম্বা ফিতার মতো, যার উত্তর দক্ষিণে বিস্তার বেশি কিন্তু পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তার খুব কম।

আর্জেন্টিনায় প্রাপ্ত তৃণভূমিটি পম্পাস নামে পরিচিত। 1

'গাউচো'-দের আবাসস্থল দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনায়।

ব্রাজিলের অধিকাংশ জমিতে বনভূমি অবস্থিত।

আর্জেন্টিনার মাংস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলি ফ্রিগোরিফিকে (Frigorifico) নামে পরিচিত।

ব্রাজিলের আমাজন অববাহিকায় সেলভা অরণ্য দেখা যায়।

ব্রাজিলের প্রধান বাগিচা ফসল কফি ও রবার।

এখানকার উর্বর সমভূমিতে প্রচুর পরিমাণে গম ও অন্যান্য কৃষিজ ফসল উৎপন্ন হয় বলে ইউক্রেনকে শস্য ভাণ্ডার'

বা রুটির কুড়ি বলে।

দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ ভাগে সর্বাধিক কৃষিজমি লক্ষ করা যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রের পশ্চিম প্রান্তের প্রায় 10% ভূমি মরুভূমির কাঁটাজাতীয় উদ্ভিদ ও তৃণ আচ্ছাদিত হওয়ায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।

ইউক্রেনের অধিকাংশ জমি কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অস্ট্রেলিয়ার মারে-ফার্সিং নদী অববাহিকার জমি কৃষিকাজে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়।

তাসমানিয়া দ্বীপের প্রায়  21 শতাংশ ভূমি জাতীয় পার্ক হিসেবে সংরক্ষিত।

কের দিক থেকে এশিয়ার বৃহত্তম দেশ হল চিন।

কোরিয়ার রাজধানী ও বৃহত্তম শহরের নাম পিয়ংয়াং।

চিনের রাজধানীর নাম বেজিং।

দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম শহর তথা রাজধানী হল সিওল।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ও অন্যতম শিল্পোন্নত দেশ হল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অংশে রকি পর্বত অবস্থিত।

চিলির রাজধানী তথা বৃহত্তম শহর হল স্যান্টিয়াগো।

ব্রাজিলের দীর্ঘতম নদীর নাম আমাজন।

স্তেপ তৃণভূমি বাণিজ্যিক গম চাষের জন্য বিখ্যাত।

 ভূমি বা জমি

মোড়া ভূত্বকের অন্তর্গত স্থলভাগ যার ওপর গঠনগত বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মাটি তৈরি হয়। এই মাটির স্তর দিয়ে পৃথিবীর প্রায় 30 শতাংশ স্থলভাগই হলো ভূমি বা জমি।

বৈশিষ্ট্য: জমি ত্রিমাত্রিক শ্রেণির। ও ভূমি অবস্থানগতভাবে নির্দিষ্ট। O এটি একটি বাস্তুতান্ত্রিক উপাদান। এটি মানুষের অন্যতম সম্পদ বা মূলধন। ভূমি বা জমির ব্যবহার গতিশীল।

গ্রামাঞ্চলের ভূমি ব্যবহারের বৈশিষ্ট্য

গ্রামাঞ্চলের ভূমি ব্যবহারের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—
1. ভূমির মূল চরিত্র বা বৈশিষ্ট্য যথাসম্ভব অপরিবর্তিত বা অক্ষুণ্ণ রাখা হয়।
2. প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য যেন যথাসম্ভব বজায় থাকে, তা লক্ষ রাখা হয়।
3. তবে জনসংখ্যার চাপ ও আর্থসামাজিক কারণে গ্রামাঞ্চলের ভূমির দ্রুত রূপান্তর ঘটছে।
4.সামগ্রিকভাবে এখানে সাংস্কৃতিক ভূদৃশ্য অপেক্ষা প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য বেশি চোখে পড়ে।
5. ভূমির গুণাগুণ অনুযায়ী কামা বা আদর্শ ভূমি ব্যবহার করা। হয় (যেমন—উর্বর জমিতে কৃষিকাজ, উঁচু বা জলাশয়ের ধারে বাসস্থান কিংবা বন্ধ্যা জমি শ্মশান, ভাগাড়ের জন্য ব্যবহৃত হয়)।

6.ভূমি ব্যবহারের ধারা ও ধরন মূলত ভূমির প্রধান চরিত্র ও গুণাগুণ অনুযায়ী করা হয়। খুব কম ক্ষেত্রে বা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটে (যেমন— জলাশয়গুলি। মাছ চাষ ও সেচের জলের জন্য ব্যবহৃত হয়, এগুলিকে ভরাট করে কৃষিজমি বা বাসস্থানের প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয় না)।

7.গ্রামাঞ্চলের ভূমি ব্যবহার প্রধানত প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত। কারণ এসব অঞ্চলে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মধারা প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল।

8• ভূমি ব্যবহারে সুষ্ঠু পরিকল্পনার বদলে আর্থসামাজিক বিষয়গুলি বিবেচনা করা হয়।

গ্রামাঞ্চলের হলের প্রধান ভূমির ব্যবহার

1. কৃষিকাজ: শস্যক্ষেত্র (কর্ষিত ও অকর্ষিত জমি), ফলের বাগান, ফুলের বাগান, নার্সারি, পশুপালন ক্ষেত্র ও চারণভূমি, মাছ চাষের পুকুর, ভেড়ি, জলাশয় ইত্যাদি।

2. বনভূমির ব্যবহার : অরণ্য আচ্ছাদিত ভূমি, অরণ্য থেকে উদ্ধার করা ভূমি এবং বনভূমিকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক বিনোদনমূলক ভূমি ব্যবহার। যেমন—অভয়ারণ্য- গুলিতে পর্যটন শিল্পের জন্য ব্যবহৃত ভূমি। উদাহরণ— পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন (বাঘ ও কুমির), মহানন্দা, জলদাপাড়া, মধ্যপ্রদেশের কানহা, গুজরাতের গির অরণ্য (সিংহ), রাজস্থানের সরিষ্কা (বাঘ), উত্তরপ্রদেশের জিম করবেট প্রভৃতি এবং আফ্রিকার মামারা বিখ্যাত।

3.নাসগৃহ ও রাস্তাঘাট নির্মাণ: গ্রামাঞ্চলে বাসগৃহ ও রাস্তাঘাট তৈরির জন্য জমির ব্যবহার।

4.অন্যান্য: শ্মশান, কবরস্থান, ভাগাড় (মৃত গবাদিপশু ফেলার স্থান) ইত্যাদি। এসব ভূমি সাধারণত গ্রামের একধারে প্রত্যন্ত এলাকায় থাকে।

ভূমি ব্যবহার

মানব সমাজে ভূমি এক মৌলিক সম্পদ। এই সম্পদকে মানুষ নিজের প্রয়োজনে এমনভাবে ব্যবহার করে যে-কোনো অঞ্চলের বিদ্যমান বাস্তুতান্ত্রিক পরিবেশের সঙ্গে ওখানকার মানুষের পারস্পরিক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেজন্য মানুষ একই ভূমিকে বিকল্প অনেক কাজে ব্যবহার করতে পারে। যেমন পতিত জমিকে উপযোগী করে বসবাস, কৃষিকাজ কিংবা শিল্পের জন্য ব্যবহার করা যায়। তাই, অনেকগুলি প্রধান বিকল্প ভূমি ব্যবহারের মধ্য থেকে মানুষ সর্বাধিক উপযুক্ত বা আদর্শ ভূমি ব্যবহারটিকে বেছে নেয়। সুতরাং, কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের স্বল্প অথবা দীর্ঘমেয়াদীভাবে স্থান ও কালের সাপেক্ষে জন্য সমস্ত উন্নত ও অব্যবহৃত জমির সুপরিকল্পিত ব্যবহারের ধারা বা পদ্ধতিকে ভূমি ব্যবহার বলা হয়। FAO-এর মতে কোনো বিশেষ অঞ্চলের ভূমি আচ্ছাদনের বিন্যস্তকরণে মানুষের বুদ্ধি, শ্রম, কার্যাবলি, ইত্যাদির মাধ্যমে যে পরিবর্তন সাধিত হয়,তাকে ভূমি ব্যবহার বলে।”
শহরাঞ্চলের হলে ভূমি ব্যবহারের বৈশিষ্ট্য।

শহরাঞ্চলের পালের ভূমি ব্যবহার গ্রামাঞ্চলের ভূমি ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ পৃথক বলা যায়। এর প্রধান কারণ এসব অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মধারা গ্রামাঞ্চল থেকে পৃথক। ফলে ভূমি ব্যবহারের বৈশিষ্ট্যও আলাদা হয়। যেমন

1.পৌর ভূমি ব্যবহার ধারা প্রাথমিকভাবে ভূমির উন্নয়ন।
2.রূপান্তরের সঙ্গে জড়িত। ভূমির মূল চরিত্রের আংশিক অথবা আমূল রূপান্তর ঘটে।

3..ভূমির রূপান্তরের মাধ্যমে তার উৎকর্ষতাকে পূর্বের অপেক্ষা বহুগুণ বাড়ানো হয়। অর্থাৎ জমি অর্থনৈতিক দিক থেকে মূল্যবান হয়ে ওঠে।

4. প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তে ভূমি ব্যবহারে মানব বাস্তুতন্ত্র (Human Ecology) গড়ে ওঠে। যেমন—শহরের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য এলাকার ভূমি অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা, প্রশাসনিক ভবন ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিংবা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে বসতি বলয় গড়ে ওঠে। এমনকি শহরের প্রান্তভাগে বা শহরতলি অঞ্চলে শাকসবজি ও দুগ্ধ উৎপাদন বলয় গড়ে ওঠে।

5. ভূমির রূপান্তর যুক্ত ঘটে এবং তা দ্রুত সাংস্কৃতিক ভূদৃশ্যে পরিণত হয়। এজন্য শহরের সর্বত্র প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তে সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি হয়। শহরের অধিকাংশ স্থান বড়ো বড়ো অট্টালিকা, উঁচু উঁচু ইমারত ও রাস্তাঘাটে পরিপূর্ণ থাকে, ফলে এই অঞ্চলে ফাঁকা জমির পরিমাণ খুবই কম থাকে।

6. রূপান্তরের মাধ্যমে শহরের সমস্ত ভূমির উৎপাদন ক্ষমতা মোটামুটি একই রাখা হয় বা এক রাখার চেষ্টা করা হয়। ফলে এখানে আদর্শ বা কাম্য ভূমি ব্যবহার মানব বাস্তুতান্ত্রিক নিয়মেই পরিচালিত হয়।

7. শহরের ভূমি ব্যবহার মূলত ত্রিমাত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এখানে ভূমির গভীরতাকে যেমন কাজে লাগানো হয় (পাতাল রেল, ভূগর্ভস্থ পথ, ভূগর্ভস্থ পার্কিং কেন্দ্র ইত্যাদি) তেমন সুউচ্চ অট্টালিকা তৈরি করে ওপরের দিককেও ব্যবহার করা হয়।

8• শহরের ভূমি ব্যবহার জমির অর্থনৈতিক মূল্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনামাফিক করা হয়।

শহরাঞ্চলের প্রধান ভূমি ব্যবহার

1.বসবাস: টিন ও টালির ছাউনির বাড়ি (বস্তি এলাকায়),বহুতলবিশিষ্ট প্রাসাদ ও অট্টালিকা।
2. পরিবহণ ও যোগাযোগ: পাকা রাস্তা, রেলপথ, রেল ইয়ার্ড কারশেড, বিমান বন্দর, বন্দর ও পোতাশ্রয়, বাস গ্যারাজ, টারমিনাল ইত্যাদি।
3.  ব্যবসা স্তলঃ বাজার ও দোকানপাট ইত্যাদি।

4 শিল্প: ছোটো, বড়ো ও মাঝারি শিল্প, শিল্প তালুক ও বাণিজ্যতালুক (SEZ—বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, রাসায়নিক তালুক,
অর্থ তালুক) ইত্যাদি।
5 প্রতিষ্ঠান: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান (কর্পোরেট সংস্থা, ব্যাংক, বিমা), প্রশাসনিক ও অন্যান্য অফিস, আদালত ইত্যাদি।
6 সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও বিনোদন: প্রেক্ষাগৃহ ও থিয়েটার কক্ষ, আর্ট গ্যালারি, উদ্যান, পার্ক, খেলার মাঠ ও স্টেডিয়াম, মেলা প্রাঙ্গণ, স্মৃতি সৌধ, ধর্মীয় স্থান, সংগ্রহশালা। (মিউজিয়াম) ইত্যাদি।
7. অন্যান্য: খোলা জায়গা, শ্মশান, কবরস্থান, অণ্ডাল ফেলার মাঠ ইত্যাদি।