Chapter-7.4⇒জলসম্পদ : সেচ ও জল সংরক্ষণ

চিনের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলভাগে নগর এলাকার অধিক বিস্তৃতি লক্ষ করা যায়।

চিনের পশ্চিমাঞ্চল মধুধ্যান কৃষির জন্য উপযুক্ত।

জাপানে পর্ণমোচী ও চিরসবুজ বৃক্ষের অরণ্যের সমাবেশ লক্ষ করা যায়।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি নদী উপত্যকা সংলগ্ন অঞ্চলে অধিক তুলো উৎপন্ন হয়।

নেদারল্যান্ডস্-এর অগভীর সমুদ্রগর্ভ থেকে উদ্ধার করা আমি পোল্ডার ভূমি নামে পরিচিত।

প্রামাঝলে ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অর্থনৈতিক কাজ বা কৃষিকাজ গুরুত্ব পায়।

শহরাঞ্চলে ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় (শিল্প) ও তৃতীয় (পরিসেবা) শ্রেণির অর্থনৈতিক কাজ গুরুত্ব পায়।

অপোলিয়ার মারে ডার্লিং নদী অববাহিকা অঞ্চলে ডাউনস্ তৃণভূমি দেখা যায়।

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অংশে নিরক্ষীয় চিরহরিৎ |অরণ্য দেখা যায়।

 

অস্ট্রেলিয়ার 22 শতাংশ ভূমি কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অস্ট্রেলিয়া দেশটি মোট ৮টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে গঠিত। যথা- (I) নিউ সাউথ ওয়েলস্, (i) কুইন্সল্যান্ড, (ii) দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, (iv) তাসমানিয়া, (v) ভিক্টোরিয়া, (vi) পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার ছোটো ছোটো মেষ খামারগুলি শিপ স্টেশন নামে পরিচিত।

নিউজিল্যান্ড দেশটি উত্তর দ্বীপ, দক্ষিণ দ্বীপ ও স্টুয়ার্ট দ্বীপ. নিয়ে গঠিত।

ক্যান্টারবেরি সমভূমি নিউজিল্যান্ডে অবস্থিত।

নিউজিল্যান্ডে নাতিশীতোয় চিরসবুজ অরণ্য লক্ষ করা যায়।

নিউজিল্যান্ডের পূর্ব উপকূল বরাবর ক্যান্টারবেরি সমভূমিতে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুকে কাজে লাগিয়ে ফলের চাষ হয়।

অস্ট্রেলিয়ার ক্ষুদ্রতম রাজ্য হল তাসমানিয়া।

তাসমানিয়া দ্বীপটি ব্যাস প্রণালী দ্বারা অস্ট্রেলিয়ার থেকে বিচ্ছিন্ন।

চিনে প্রধানত ক্লান্তীয় মৌসুমি বা পর্ণমোচী অরণ্য দেখা যোয়।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর সীমায় কানাডা এবং দক্ষিণ সীমায় মেক্সিকো অবস্থিত।

মূলত হ্রদ তীরবর্তী অঞ্চল এবং প্রেইরি অঞ্চলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৃষিজমিগুলি দেখা যায়।

বৃহৎ হ্রদ অঞ্চল সুপিরিয়র, মিশিগান, হিউরন, ইরি ও অন্টারিও হ্রদ নিয়ে গঠিত।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে সরলবর্গীয় ও তুন্দ্রা অরণ্যের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-মধ্যভাগের বিস্তীর্ণ প্রেইরি অঞ্চলে প্রধানত গবাদি পশু পালিত হয়।

নেদারল্যান্ডস্-এ কৃষিকাজ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক ক্রিয়া কলাপ বৃদ্ধি করার জন্য জমির যথেষ্ট অভাব ছিল। এই কারণে কৃষিজমি ও অন্যান্য ক্রিয়াকলাপের সম্প্রসারণের জন্য সমুদ্র থেকে নীচু জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

কানাডার জলবায়ু অত্যন্ত শীতল প্রকৃতির।

জাপান হনসু, হোক্কাইডো, কিউসু ও শিকোকু এই চারটি প্রধান দ্বীপ নিয়ে গঠিত।

জাপানের ঘনবসতিপূর্ণ শহরটির নাম টোকিও।

 

উত্তর কোরিয়ার প্রধান উৎপাদিত শস্য ধান।

ড্রিপ পদ্ধতিতে মাটিতে পাতা নলের সাহায্যে গাছের গোড়ায় বিন্দু বিন্দু করে জল দিয়ে জলসেচ করা হয়।

জল সম্পদের সংরক্ষণ করাই হল শিল্পক্ষেত্রে জনের পুনর্ব্যাবহারের মুখ্য উদ্দেশ্য।

মিশর শুষ্ক জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত হওয়ায় এখানে কৃষিতে জলসেচ ব্যবস্থা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

শুর সাহায্যে পারস্যর চাকা ঘুরিয়ে জলসেচ করার একটি পদ্ধতি হল রাহাত।

জলের সুষ্ঠু ব্যবহারের উদ্দেশ্য হল জল সম্পদের সংরক্ষণ করা।

একটি নদী অববাহিকা অন্য কোনো নদী অববাহিকা থেকে যে উচ্চভূমি দ্বারা পৃথকীকৃত হয়, তাকে জলবিভাজিকা বলে।

বৃহৎ আকৃতির জলবিভাজিকা সাধারণত 20 হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত হয়।

যেসকল জলবিভাজিকার বিস্তার 2 হাজার বর্গকিলো মিটারের কম, তাকে ক্ষুদ্র আকৃতির জলবিভাজিকা বলে।

যখন ছোটো ছোটো সমতল কৃষিজমির চারপাশে উঁচু বাঁধ দিয়ে তার মধ্যে জলসেচ করা হয়, তখন তাকে অববাহিকা জলসেচ পদ্ধতি বলে।

দুটি নদী অববাহিকার মধ্যবর্তী উচ্চভূমি জলবিভাজিকা নামে পরিচিত।

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারতে প্রায় 80% বৃষ্টিপাত হয়।

ভারতের প্রাচীনতম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিদ্রাপং (দার্জিলিং)।

মৌসুমি বায়ুর অনিশ্চয়তার কারণে ভারতে কখনও অতিবৃষ্টি আবার কখনও অনাবৃষ্টি দেখা যায়।

ভারতে জলসেচ ব্যবস্থার সর্বাধিক প্রসার লক্ষ করা যায় উত্তরপ্রদেশে।

ভারতে প্রচলিত জলসেচ পদ্ধতিগুলি হল- (i) সেচখাল (ii) কূপ ও নলকূপ এবং (iii) জলাশয়।

দুটি অপ্রবেশ্য স্তরের মধ্যবর্তী প্রবেশ্য স্তরে জমা জল খননের মাধ্যমে স্বাভাবিক নিয়মে বেরিয়ে এলে তাকে আর্টেজীয় কুপ বলে।

হিরাকুঁদ বাঁধটি ওডিশার মহানদী নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে।

যেসব খাল কেবল বর্ষা বা বন্যার অতিরিক্ত জল পরিবহণ করে তাদের প্লাবন খাল বলে।

IWMP-এর পুরো কথাটি হল—Integrated Watershed Management Programme

বর্ষা ঋতুতে প্লাবন খালগুলিতে জল থাকে।

নদীর নিম্ন প্রবাহে প্লাবন খালগুলি দেখা যায়।

নিত্যবহ নদী থেকে কাটা খালগুলিতে সারাবছর থাকলে তাদের নিত্যবহ খাল বলে।

জলসেচের জন্য নদীতে আড়াআড়িভাবে নির্মিত একপ্রকার বোধ হল অ্যানিকাট।

দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি বর্ষার জলে পুষ্ট বলে দেশের এই অংশে প্লাবন খালের প্রাধান্য বেশি দেখা যায়।

পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর খাল হল একটি প্লাবন খাল।

চা বাগিচাগুলিতে চাষ-আবাদের জন্য ছিটানো বা ফোয়ারার মতো জলসেচ পদ্ধতি অধিক কার্যকরী।

সিন্ধুর উপনদী শতদ্রু নদীর ওপর ডাকরা নাঙ্গাল বাঁধ অবস্থিত।

উত্তর ভারতের বেশিরভাগ নদী বরফগলা জলে পুষ্ট বলে। এখানে নিত্যবহ খালের প্রাধান্য বেশি দেখা যায়।

নল পদ্ধতিতে জলসেচ ব্যবস্থার অপর নাম বদ্ধ জলসেচ পদ্ধতি।

জলাশয় বা পুকুরের মাধ্যমে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি জলসেচ করা হয়।

কৃপ মূলত দু-ধরনের হয়, যথা— (i) স্থায়ী বা পাকা এবং (ii) অস্থায়ী বা কাঁচা।

কুপের মাধ্যমে ভারতের উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি জলসেচ করা হয়।

গ্রান্ড খাল বা বেজিং-হ্যাংজাও খাল হল পৃথিবীর দীর্ঘতম সম্পদ: সেচ ও জল সংরক্ষণ

পৃথিবী বাঁধটির নাম হিরাকুঁদ।

ফারো জলসেচ পদ্ধতিতে সংকীর্ণ খাত বরাবর জলসেচ করা হয়।

ভারতের নদীগুলিকে খালের মাধ্যমে সংযুক্ত করার পরিকল্পনাই হল নদী-সংযুক্তি প্রকল্প।

তরঙ্গায়িত জলসেচ পদ্ধতিতে পাইপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের বিরতি রেখে জলের জোগান করা হয়।

খাল দুই প্রকার, যথা- (i) প্লাবন খাল ও (ii) নিত্যবহ খাল।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি কৃপ ও নলকূপের মাধ্যমে জলসেচ করা হয়।

প্লাবন খালগুলিতে কেবলমাত্র বর্ষাকালে জল পাওয়া যায়।

প্লাবন খালের মাধ্যমে জলসেচ পদ্ধতির প্রধান অসুবিধা হল বর্ষাকাল ছাড়া বছরের অন্য সময় জল পাওয়া যায় না।

পাকিস্তানকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জলসেচ কার্যকরী দেশ বলা হয়।

সুরুর ব্যারেজ পাকিস্তানের জলসেচ পরিকল্পনায় বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

অববাহিকা জলসেচ পদ্ধতিতে সমগ্র জমি জলমগ্ন থাকে।

মাটির নীচে সুড়ঙ্গ কেটে তার মধ্য দিয়ে শাল ও বৃষ্টির জলকে চাষের জমিতে নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতিকে পাকিস্তানে ক্যারেজ প্রথা বলে।

ক্যারেজ সেচ পদ্ধতির মাধ্যমে শুষ্ক জলবায়ু অঞ্চলে জলের বাষ্পমোচনের সম্ভাবনা কমে যায়।

পাকিস্তানে ক্যারেজ প্রথার মাধ্যমে জলসেচ করা হয়।

পাকিস্তানে সিন্ধুর ওপর গড়ে ওঠা সর্বোচ্চ বাঁধ হল তারবেলা।

বর্ডার-স্ট্রিপ পদ্ধতিতে কৃষিজমিকে ছোটো ছোটো গণ্ডে ভাগ করে তার চার পাশে মাটির বাঁধ দিয়ে আল তৈরি করে জলসেচ করা হয়।

নীলনদ থেকে সরাসরি যে খাল কাটা হয়, তাকে মিশরে মুখ্য পাল বলে।

মুখ্য খাল থেকে যে খাল কাটা হয়, তাকে মিশরে প্রধান খাল বা প্রথম স্তরের খাল বলে।

প্রথম স্তরের খাল থেকে যেসব খাল কাটা হয়, মিশরে তাদের বলে শাখা খাল বা দ্বিতীয় স্বরের দাল।

মিশরে দ্বিতীয় স্তরের খাল থেকে সমগ্র বদ্বীপ অঞ্চলে জন কন্টন করার উদ্দেশ্যে যেসব খাল কাটা হয় তাদের বণ্টন বা মেসকাস্ খাল বলে।

এসনা ব্যারেজ মিশরের নীলনদের ওপর নির্মাণ হয়েছে।

গ্রিক পণ্ডিত হেরোডোটাস মিশরকে নীলনদের পান বলেছেন।

মিশরে নীলনদের ওপর আসোয়ান বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

মিশরের কৃষিকাজের উন্নতিতে নীলনদের গুরুত্ব সবথেকে বেশি।

আটবারা নদীর ওপর খমে এল গির্বা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

মিশরের বৃহত্তম জলাধারটির নাম হল নামের হ্রদ।

ব্লু নীল নদীর ওপর সেনার বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

উচ্চ আসোয়ান বাঁধ থেকে আসিয়ুট ব্যারেজ পর্যন্ত মিশরের সেচযোগ্য কৃষিজমির প্রথম বলয়টি বিস্তৃত।

মিশরের সেচযোগ্য কৃষিজমির দ্বিতীয় বলয়টি আসিয়ুট ব্যারেজ থেকে ডেল্টা ব্যারেজের মধ্যবর্তী অঞ্চলে বিস্তৃত।

মিশরকে নীলনদের দান' বলা হয়।।

পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশ চমন, আঙুর ও কিশমিশজাতীয় ফল উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।

মিশরে দ্বি- আবর্তন সেচ পদ্ধতির অন্তর্গত প্রথম শ্রেণির) খালগুলিতে প্রথম সাতদিন জল থাকে।

মিশরে বি- আবর্তন সেচ পদ্ধতির অন্তর্গত দ্বিতীয় শ্রেণির খালগুলিতে পরের সাতদিন জল থাকে।

জল সম্পদ সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি

জীবনধারণের প্রতিটি ক্ষেত্রে জলের প্রয়োজন হয়। মানবসভ্যতাও অনেকাংশে জলের ওপর নির্ভরশীল। কৃষিকাজে, পরিবহণে, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে, গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জলের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। এজন্য জল সংরক্ষণ বিশেষ জরুরি। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল পরিমিত জলের ব্যবহার, যা জল সম্পদ সংরক্ষণের অন্যতম দিক। নীচে জল সম্পদ সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি উল্লেখ করা হল

1. জলসেচের সুষ্ঠু ব্যবহার: সভ্যতার আদিকাল থেকে কৃষিকাজে জলসেচের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। তাই জমিতে পরিমিত জলসেচ করলে জলের অপচয় বন্ধ হয়। বৃষ্টির ন্যায় জল ছিটানো পদ্ধতি (Sprinkler Irrigation) ও বিন্দু বিন্দু আকারে জল জোগানের পদ্ধতিতে (Drip Irrigation) জলসেচ করলে 30 শতাংশ জলের অতিরিক্ত ব্যবহার হ্রাস করা যায়। তাই জল সংরক্ষণে এই দুই পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। সমগ্র ভারতবর্ষে মাত্র 1.2 শতাংশ এলাকায় এই পদ্ধতিতে জলসেচ করা হয়।

2. শিল্পক্ষেত্রে জলের পুনর্ব্যবহার : শিল্পক্ষেত্রে জল সংরক্ষণের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। জল অধিকাংশ শিল্প কারখানায় শীতলীকরণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। তাই শীতলীকরণের কাজে পরিষ্কার, স্বচ্ছ জল ব্যবহার না করে আগের ব্যবহার্য জল পুনরায় ব্যবহার করলে স্বচ্ছ জলের অপচয় রোধ হয় ও পানীয় জল রূপে স্বচ্ছ জলকে ব্যবহার করা যায়।

3. সাধারণক্ষেত্রে জলের চাহিদার হ্রাস ঘটানো: প্রাত্যহিক জীবনে পানীয় হিসেবে, স্নানের জন্য, উঠোন ধোয়ার জন্য, শৌচাগার পরিষ্কার করার জন্য, গবাদিপশুর জন্য ও আরও অন্যান্য ক্ষেত্রে জলের বহুল ব্যবহার দেখা যায়। তাই মানুষ যদি নিজের জলের ব্যবহারকে সীমিত করে, তাহলে বহু পরিমাণ জলের সংরক্ষণ সম্ভব।

4.বন্যাপ্রবণ নদীর সাথে সংযোগ: যেসব নদীর গভীরতা কম, বর্ষাকালে প্রায়ই বন্যা দেখা যায়, সেইসকল নদী থেকে খাল কেটে শুষ্ক নদীখাতের সাথে যুক্ত করতে হবে বা বৃহৎ জলাধার নির্মাণ করে তার সাথে যুক্ত করতে হবে। ফলে বন্যার সময় যে অতিরিক্ত জল প্লাবিত হয় তা রোধ হবে এবং মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কমবে।

5. জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন: জল সম্পদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন সর্বাগ্রে প্রয়োজন। নালা, নর্দমার দূষিত জল যাতে কোথাও না জমে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। বৃষ্টির জল ও নালা নর্দমার মাধ্যমে যাতে নির্দিষ্ট স্থানে অর্থাৎ পরিশোধন ক্ষেত্রে পৌছাতে পারে সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।

6. বৃষ্টির জল সংরক্ষণ: জল সম্পদ সংরক্ষণের এক অন্যতম কার্যকরী পদ্ধতি হল বৃষ্টির জল সংরক্ষণ। প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্ট স্বচ্ছ এই বৃষ্টির জল আমাদের জলের স্বাভাবিক জোগান বজায় রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। তাই ওই বৃষ্টির জলকে বিভিন্নভাবে ধরে রাখা যায়। শহরা বলে বাড়ির ছাদে পতিত বৃষ্টির জলকে পাইপের মাধ্যমে পাশের জলাধারে সঞ্চয় করে রাখা যায়। আবার গ্রাম্য পরিবেশে বৃষ্টির জলধারা যখন মাঠের মধ্য দিয়ে নালি পথে প্রবাহিত হয়, তখন ওই নালিপথকে জলাধারের সাথে সংযোগ করে জল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

7. সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি: যত্রতত্র গভীর নলকূপ বসানোর ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। তা না হলে মাটির অভ্যন্তরে ভৌমজলের ভাণ্ডার হ্রাসপ্রাপ্ত হবে। ফলে জলের অভাব দেখা যাবে।

8. সামগ্রিক সচেতনতা বৃদ্ধি: জল সম্পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বোধ জাগ্রত করতে হবে। জল সম্পদের অযথা অপচয়ের যে মারাত্মক প্রভাব সে সম্পর্কেও তাদের অবহিত করতে হবে। এ ছাড়া গৃহস্থালির ক্ষেত্রে জলের পরিমিত ব্যবহার ও প্রতিটি বাড়িতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ বিশেষভাবে প্রয়োজন।

জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনা

একটি নদী অববাহিকা অন্য কোনো নদী অববাহিকা থেকে যে উচ্চভূমি দ্বারা পৃথকীকৃত হয়, তাকে জলবিভাজিকা বা Watershed বলে। আবার অন্যভাবে বলতে গেলে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি নদী অববাহিকাকে যে উচ্চভূমি পৃথক করে, তাকে জলবিভাজিকা বা Watershed বলা হয়।

প্রকৃতি ও জীবকুলের সম্পর্ক সঠিকভাবে বজায় রাখতে হলে জলবিভাজিকাগুলিকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পৃথিবীর জলবিভাজিকা গুলিকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—[1] শুষ্ক অঞ্চলে জলবিভাজিকার ব্যবস্থাপনা এবং [2] বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে জলবিভাজিকার ব্যবস্থাপনা।

1. শুষ্ক অঞ্চলে জলবিভাজিকার ব্যবস্থাপনা: শুষ্ক অঞ্চলে কৃষি সম্পদের যথেষ্ট অভাব থাকে। এর কারণ এইসব অঞ্চলে মৃত্তিকায় আর্দ্রতার বিশেষ অভাব দেখা যায়। এজন্য শুষ্ক অঞ্চলে জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হল—

1. মৃত্তিকার আর্দ্রতা ধরে রাখা।
2. উন্নত কৃষি পদ্ধতির প্রয়োগ।
3. ছোটো কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি।
4• জল সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার।
5.সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান শুষ্ক অঞ্চলের প্রধান সমস্যা অধিক বাষ্পীভবন।
পদ্ধতি: এজন্য প্রথমেই বাষ্পীভবনের হার কমানো প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে কতকগুলি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন

I. বর্ষাকালের বিপুল পরিমাণ জল সম্পদ ব্যবহারের জন্য ভারতে বর্ষাকাল ছাড়া অন্য সময় জলের ওপর কোনো ঢাকা বা আস্তরণ (Cover) ব্যবহার করলে বাষ্পীভবন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
II. জলের অনুস্রাবণ (Infiltration) বন্ধ করার জন্য নদীখাত (Channel bed) কে. সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো প্রয়োজন।
III. কৃষকদের শুষ্ক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে অধিক মাত্রায় অবহিত করতে হবে।
iv. যেসব ফসল চাষে জলের প্রয়োজন কম হয় সেগুলির চাষে। অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
V. বর্ষার শুরুতে মৃত্তিকা কর্ষণ করে রাখতে হবে যাতে ভূমিতে জল ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
vi. জলবিভাজিকার দুই দিকে ধাপ কেটে রাখতে হবে যাতেবেশি পরিমাণ জল গড়িয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে এবং মৃত্তিকায় বেশি পরিমাণ জল জমা হয়।
vii. ঢালের নীচে গর্ত করে রাখতে হবে যাতে বৃষ্টির জল তার মধ্যে জমা হতে পারে এবং ওই জল পরে ব্যবহার করা যায়।
viii. জলাশয়কে যদি বেশি গভীর করা যায় তা হলে ভৌমজলস্তরের মাধ্যমে তাতে সবসময় জল থাকবে। xি. বেশি সংখ্যায় পুষ্করিণী বা পুকুর খনন করে তারমধ্যে বর্ষার জল ধরে রাখতে হবে। পরে ওই জালকে ব্যবহার করতে হবে। একে Rain Water Harvesting বলে।

2. বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনা: বৃষ্টিবহুল অঞ্চলের সমস্যা এবং জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনাগুলি নীচে আলোচনা করা হল

1. ভূমিধস ও তার ব্যবস্থাপনা: পার্বত্য অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য যে ভূমিধস হয় তার ফলে অনেক সময় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ হয়ে যায়। তখন নদীবক্ষে জল সঞ্চিত হয়ে বিশাল জলাধার সৃষ্টি হয়, যা প্রবল চাপের সৃষ্টি করে।

পদ্ধতি

I. নির্দিষ্ট সময় অন্তর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
ii. প্রথমে ধসপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে ওই এলাকার সমস্ত জমিতে শুধুমাত্র গাছ লাগানো ছাড়া অন্য কোনো কাজ করা যাবে না। জমিকে পতিত জমি (Waste Land)
হিসেবে ফেলে রাখতে হবে।
III. প্রয়োজনে ধসপ্রবণ এলাকায় সারিবদ্ধভাবে সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে ভূমিধসকে আটকাতে হবে।
iv.যে সমস্ত স্থান ফাকা আছে এবং জল ঢুকে ধস নামতে পারে সেইসব স্থানগুলিতে সিমেন্টের দ্বারা সারি সারি ঢালাই করে দিতে হবে।
V.প্রতিটি সারিতে জল দিয়ে ঢালের ফাঁকে ফাঁকে গাছ লাগাতে হবে যাতে এই জল নষ্ট হওয়ার আগেই গাছগুলি সতেজ হয়ে উঠবে এবং ভূমিধস রোধ করতে পারবে।

2• মৃত্তিকা ক্ষয় ও তার ব্যবস্থাপনা: বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে মৃত্তিকা ক্ষয় হয় এবং নানা সমস্যার সৃষ্টি করে।

পদ্ধতি

I.জলবিভাজিকার ঢাল বরাবর প্রচুর ঘাস লাগাতে হবে।
II. প্রচুর সংখ্যায় গাছ লাগানোর মাধ্যমে বৃষ্টির ফোঁটাকে সরাসরি মাটিকে আঘাত করার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

3. বন্যা ও তার ব্যবস্থাপনা: প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে প্রায়ই বন্যা হয়। এর ফলে প্রচুর জীবন ও ধনসম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়।

1) পদ্ধতি

I. নদীখাতগুলিকে গভীর ও পরিষ্কার রাখতে হবে।
II. নদীর তীরবর্তী স্বাভাবিক বাঁধের উচ্চতা বাড়িয়ে নদীকে খাতের ভেতর ধরে রাখতে হবে অর্থাৎ নদীর দু-কূল যাতে প্লাবিত না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
III. নদীর নির্দিষ্ট দূরত্বে বাঁধ নির্মাণ করে বন্যার প্রবণতা রোধ করতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বহু জলবিভাজিকাই মানুষের নানা কাজে ওইসব জলবিভাজিকায় নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এইসব ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে অবৈজ্ঞানিক প্রথায় ব্যবহারের জন্য সমস্যা সমাধানের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার সাহায্য নেওয়া | প্রয়োজন। যার ফলস্বরূপ শিল্প, কৃষি ও পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি | সম্ভব হবে। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে নদীগুলির স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ হয়ে গিয়ে সমগ্র জীবকুলের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে।

অতিরিক্ত জলসেচের প্রভাব

অতিরিক্ত জলসেচের বিপদগুলিকে আমরা দুটি ভাগে ভাগ আলোচনা করতে পারি—[1] প্রত্যক্ষ প্রভাব এবং [2] প্রভাব।

প্রত্যক্ষ প্রভাব : অতিরিক্ত জলসেচের ফলে প্রত্যক্ষ বিপ্রভাব মূলত কৃষিক্ষেত্রে দেখা যায়, যেমন—

1● উদ্ভিদের অক্সিজেনের অভাব : জলাবদ্ধ মৃতি অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকায় উদ্ভিদ শিকড়ের পর্যাপ্ত অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না। ফলে উদ্ভিদের বুদ্ধি ব্যাহত হয়।

2• মূলে পচন রোগ সৃষ্টি: জলাবন্ধ মৃত্তিকায় ব্যাকটেরিয়া, জীবাণু প্রভৃতির ক্রিয়া বৃদ্ধির ফলে গাছের মূলে পচন রোগ
সৃষ্টি হয়।
3. জমির উর্বরতা হ্রাস: জলসেচের সুবিধা নিয়ে বহু জমিতে বছর চাষ করা হয় বলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা কমতে থাকে।
4. বিভিন্ন বিষাক্ত বস্তুর সৃষ্টি : মৃত্তিকা যদি দীর্ঘকাল জলাবদ্ধ থাকে তবে সেখানে দীর্ঘকালব্যাপি বিষাক্ত পদার্থের রাসায়নিক বিক্রিয়া বিভিন্ন প্রকার, যেমন—হাইড্রোজেন সালফাইড, বিউট্রিক অ্যাসিড, ভোলাটাইল ফ্যাটি অ্যাসিড উৎপন্ন হয়।
5. উদ্ভিদের বৃদ্ধি হ্রাস: জলাবদ্ধ পরিবেশে মৃত্তিকায় পুষ্টি উপাদানের জোগান কম হয়। ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার
6.বিভিন্ন প্রকার রোগ সৃষ্টি : জলাবদ্ধ পরিবেশে উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন প্রকার ছত্রাকঘটিত রোগ ছড়ায়।

পরোক্ষ প্রভাব: অতিরিক্ত জলসেচের বিভিন্নপ্রকার পারার বিশনগুলি নীচে আলোচনা করা হল—

1.ভৌমজলতলের পতন: অতিরিক্ত জল তোলার ফলে মৃত্তিকার ভৌমজলতলের পতন ঘটে। ফলে অগভীর কুয়োগুলিতে গ্রীষ্মকালে জল পাওয়া যায় না। গভীর নলকূপ থেকে জল তোলার সময় কিছু সময়ের ব্যবধানে। জল ওঠা বন্ধ হয়ে যায়।

2.লবণের আধিক্য: অতিরিক্ত জলসেচের ফলে মৃত্তিকার নিম্নস্তর থেকে লবণ সেচের জলে দ্রবীভূত হয়ে কৈশিক প্রক্রিয়ায় (Capillary Action) মৃত্তিকার ওপরের স্তরে এসে সঞ্চিত হয়। অনেক সময় মৃত্তিকায় ক্ষারের পরিমাণও বেড়ে যায়, ফলে কৃষিকার্যে ক্ষতি হয়।

3.উদ্ভিদের ধ্বংসসাধন: অধিক পরিমাণে জলসেচের ফলে ভৌমজলতল নেমে গেলে উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার কমে যায়। জলতল অনেক গভীরে নেমে গেলে রাস্তা ও মাঠের ধারের

4. পানীয় জলের সমস্যা: অতিরিক্ত জলসেচের ফলে ভৌমজলতলের দ্রুত পতন ঘটে। ফলে পানীয় জলেরও

5• ধনের সম্ভাবনা: ভৌনজল অত্যধিক হারে তুললে ভূগর্ভে কানের সৃষ্টি হয়। সেখানে হঠাৎ করে জলের চাপ বসে থাকে ওপরের মাটি ধসে যেতে পারে।
6. সমুদ্রের লবণাক্ত জলের অনুপ্রবেশ: অতিরিক্ত জলসেচের সকালে নদীর সোহানার সাদুজালের জোগান কমে যায়। ফলে জোয়ারের সময় সমুদ্রের লবণার জলের মৃত্তিকার ভিতরে বা ভেনজরে অনুপ্রবেশ ঘটে।

জলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার

জীবনধারণের প্রতিটি ক্ষেত্রে জলের প্রয়োজন হয়। মানবসভ্যতাও অনেকাংশে জলের ওপর নির্ভরশীল। জলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারগুলি হল—

1 কৃষিকাজে ও পরিবহণে: সভ্যতার আদিলগ্ন থেকে কৃষিকাজে এবং পরিবহণে জলের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।
2 জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে: জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে জলের ব্যবহার করা হয়।
3 গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজে: প্রাত্যহিক জীবনে জল পানীয় হিসেবে, স্নানের জন্য, উঠোন ধোয়ার জন্য, বাগানের গাছে জলদানের জন্য, বাতানুকূল যন্ত্র চালানোর জন্য, শৌচাগার পরিষ্কার করার জন্য, গবাদি পশুর জন্য ইত্যাদি গৃহস্থালির নানা কাজে ব্যবহৃত হয়।
4 প্রতিষ্ঠানের কাজে: হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, হস্টেল, সিনেমা হল, অফিস, আদালত, শিল্প-কারখানা, রেলওয়ে স্টেশন প্রভৃতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রচুর পরিমাণে জল ব্যবহৃত হয়।
5 নাগরিক পরিসেবায়: বিভিন্ন পার্কে, সুইমিং পুলে, নর্দমার নোংরা পরিষ্কারে, এমনকি রাস্তার ধারে জলের ট্যাংক নির্মাণ করে ঠান্ডা পানীয় জল সরবরাহে জলকে ব্যবহার করা হয়।
6 অগ্নিনির্বাপক রূপে: গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র কোনো জায়গায় আগুন লাগলে, আগুন নেভানোর কাজে জল ব্যবহার করা হয়। শহরে প্রধানত দমকলের গাড়ির মাধ্যমে জল পরিবহণ করে আগুন নেভানো হয়। জলের এরূপ ব্যবহারকে সমাজের দুর্ঘটনাজনিত জলের ব্যবহার বলে।
7 শিল্পক্ষেত্রেঃ ওপরে আলোচিত বিভিন্ন ক্ষেত্র ছাড়াও শিল্পক্ষেত্রে জলের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ করা যায়। শিল্পে বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে এবং বর্জ্য পদার্থ পরিশোধনের জন্য জলকে ব্যবহার করা হয়। জল একটি সর্বজনীন দ্রাবক হওয়ায় শিল্পে এর ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ করা যায় ।

জলাভাবের প্রধান চারটি কারণ

আমাদের দেশে জলের যথেষ্ট উৎস থাকা সত্ত্বেও, যথোপযুক্তভাবে জলের ব্যবহার ও পরিচালনা ব্যবস্থার অভাবে বিভিন্ন প্রান্তে জলের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। জলাভাবের প্রধান কারণগুলি হল—

আমরা প্রতিদিন গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে ভৌমজল তুলে নিচ্ছি। ফলে মাটির গভীরে জলের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে।

1. পুকুর, ডোবা, হ্রদ প্রভৃতির জল অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহারের ফলে এই সঞ্চয় ভাণ্ডারও দিনে দিনে ফুরিয়ে আসছে।
2. পরিবেশ দূষণের ফলে পৃথিবীর জলচক্র স্বাভাবিক নিয়মে হচ্ছে না। এর ফলেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দিনে দিনে কমে যাচ্ছে।
3.শিল্পাঞ্চল ও কৃষিজমিতে যে দূষণ ঘটছে তার ফলেও বহু অঞ্চলের স্বাদু জল ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে।

ভারতীয় কৃষিতে জলসেচের প্রয়োজনীয়তা

কৃষিকাজে বৃষ্টিপাতের অভাব হলে কৃত্রিম উপায়ে কৃষিভূমিতে জল সরবরাহ করা হয়। কৃষিভূমিতে কৃত্রিম উপায়ে সঠিক সময়ে এবং পরিমিত মাত্রায় জলের ব্যবস্থা করাকেই জলসেচ বলা হয়। ভারতের মতো কৃষিপ্রধান দেশে কৃষিকাজের উন্নতির জন্য জলসেচের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি। কারণ—

1. অনিয়মিত বৃষ্টিপাত : ভারতে প্রতিবছর যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে, তার প্রায় শতকরা ৪০ ভাগই ঘটে বর্ষাকালের মাত্র 4 মাসের মধ্যে—দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের ফলে। ভারতে বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এই বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমন খুবই অনিয়মিত। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কোনো বছর স্বাভাবিক সময়ের আগেই আসে, আবার কোনো বছর আসতে অনেক দেরি করে। প্রত্যাগমনের ক্ষেত্রেও একই অনিশ্চিত অবস্থা লক্ষ করা যায়। কেবল তাই নয়, কখনও হয় অতিবৃষ্টির, ফলে বহু কৃষিভূমি বন্যায় ভেসে যায় আবার কখনও হয় অনাবৃষ্টির ফলে খরার প্রকোপে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের কৃষিকাজে বৃষ্টিপাতের এই অনিশ্চয়তার প্রতিকার একমাত্র জলসেচ ব্যবস্থার দ্বারাই সম্ভব।

2. বৃষ্টিপাতের আঞ্চলিক অনিশ্চয়তা: ভারতের সর্বত্র প্রয়োজনমতো বৃষ্টিপাত হয় না। বৃষ্টিপাতের আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার জন্য রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, গুজরাতের উত্তর ও পশ্চিমাংশ, দাক্ষিণাত্যের মালভূমির অভ্যন্তরভাগ প্রভৃতি অঞ্চলে কৃষিকাজের জন্য জলসেচের ওপর নির্ভর করতে হয়।

3. শুষ্ক শীত ঋতু :পূর্ব উপকূলের দক্ষিণ-পূর্বাংশ এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের কিছু এলাকা ছাড়া ভারতের অবশিষ্ট অংশে শীত ঋতুতে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে। সুতরাং, শীত ঋতুতে ভারতের বেশিরভাগ স্থানে গম, ডাল প্রভৃতি রবিশস্য চাষের জন্য জলসেচ প্রয়োজন।

4. মৃত্তিকার জলধারণক্ষমতার তারতম্য: বিভিন্ন মৃত্তিকার জলধারণক্ষমতা বিভিন্ন। ল্যাটেরাইট ও লোহিত মৃত্তিকার জলধারণক্ষমতা খুবই কম। পূর্ব এবং দক্ষিণ ভারতে এই দু-ধরনের মৃত্তিকার প্রাধান্য দেখা যায়। সুতরাং, ওইসব অঞ্চলে কৃষিকাজের জন্য জলসেচ ব্যবস্থার একান্ত প্রয়োজন।

5. প্রয়োজনমতো জল সরবরাহ: ধান, গম, পাট, তুলো, ইক্ষু প্রভৃতি ফসল চাষ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জলের প্রয়োজন হয়। বৃষ্টিপাত নিয়মিত ও পরিমিত হয় না বলে এইসব ফসল উৎপাদনের জন্য জলসেচের প্রয়োজন।

6. উচ্চফলনশীল শস্যের চাষ বৃদ্ধি: ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য ফসলের চাহিদাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেবলমাত্র উচ্চফলনশীল খাদ্যশস্য চাষের মাধ্যমেই খাদ্য ফসলের উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি করা সম্ভব। কিন্তু উচ্চফলনশীল খাদ্যশস্য চাষের জন্য প্রচুর পরিমাণ জল সরবরাহের প্রয়োজন হয়। সুতরাং, একমাত্র জলসেচের সুবিধা থাকলেই উচ্চফলনশীল খাদ্যশস্যের চাষ করে দেশের খাদ্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব।

7. একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন: উচ্চফলনশীল বীজ চাষ করা ছাড়াও একই কৃষিজমিতে বছরে তিন-চারবার ফসল চাষ করলেও দেশের কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। জমিতে জলসেচের সুবিধা থাকলেই কৃষিজমিতে বছরে

উত্তর ভারতের জলসেচের সম্ভাবনা

ভারতে কতকগুলি ভৌগোলিক অবস্থা জলসেচের সম্ভাবনা বৃদ্ধির পক্ষে অনুকূল। এগুলি হল—

1.বরফগলা জলে পৃষ্ঠ নদনদী: উত্তর ভারতের বড়ো বড়ো নদীগুলি বরফগলা জলে পুষ্ট বলে এগুলিতে সারাবছর জল থাকে। এর ফলে উত্তর ভারতের নদীগুলি থেকে নিত্যবহ খাল খনন করার সুবিধা রয়েছে, যেখান থেকে সারাবছর কৃষিকাজের প্রয়োজনীয় জল সরবরাহ করা যাবে।
2. বিস্তীর্ণ সমভূমি: উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে, পূর্ব উপকূলে বিস্তীর্ণ সমভূমি থাকায় সহজে খাল কেটে জলসেচ করা
3. স্বপ্ন গভীর ভৌমজলস্তর : পলিগঠিত অঞ্চলগুলিতে পলিস্তরের সামান্য নীচে জলস্তর থাকায় সহজেই কূপ ও নলকূপ খনন করে ভূগর্ভস্থ জল সেচের কাজে ব্যবহার করা যায়।
4. বৃষ্টির জলের প্রাচুর্থ: বর্ষাকালে দেশের খালবিল, নদীনালা,হ্রদ, পুকুর ও অন্যান্য জলাশয় জলপূর্ণ হয়ে যায় বলে বছরের অন্যান্য সময় সেগুলির সঞ্চিত জল দিয়ে জলসেচ করা যায়।
5. বাঁধ তৈরির অনুকূল ভূপ্রকৃতি : উপদ্বীপীয় মালভূমির শক্ত ও কেলাসিত শিলা দ্বারা গঠিত ভূপ্রকৃতি ওই অঞ্চলের নদনদীসমূহের গতিপথে বাঁধ এবং কৃত্রিম জলাধার তৈরির পক্ষে বিশেষভাবে অনুকূল।

ভারতে খালের সাহায্যে জলসেচের সুবিধা ও অসুবিধা

ভারতে যেসব এলাকায় কৃষিজমির কাছাকাছি নদী প্রবাহিত হয়েছে এবং ভূমির ঢালও খুব বেশি নয়, যেখানে নদী থেকে সহজেই খালের মাধ্যমে জল এনে কৃষিজমিতে জলসেচ করা যায়। ভারতে এই পদ্ধতির বহু সুবিধার সাথে বেশ কিছু অসুবিধাও দেখা যায়।

সুবিধা

1• খালের জলের সঙ্গে নদীর পলি বাহিত হয়ে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
2. খালের সাহায্যে এক বিস্তৃত অঞ্চলে জলসেচ করা সম্ভব।
3. যন্ত্রের সাহায্যে খালের জলপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় বলে প্রয়োজনমতো জল কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়।
4. গ্রীষ্মকালে কৃপ বা জলাশয়ে জলের পরিমাণ খুব কমে যায়। ফলে এদের সাহায্যে জলসেচ করা সম্ভব হয় না। কিন্তু খালের সাহায্যে প্রায় সারাবছরই জলসেচ করা যায়।
অসুবিধা
1. বর্ষাকালে অনেক সময় বাঁধের অতিরিক্ত জল ছাড়া হয়, ফলে খালের জল দু-কূল ছাপিয়ে বন্যার সৃষ্টি করে। এর ফলে খালের জল নিকটবর্তী কৃষিজমিতে জমে থেকে ফসলের ক্ষতি করে।

2. সমভূমি ছাড়া অন্য কোনো স্থানে এই সেচ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না।

ভারতীয় কৃষিতে খাল দ্বারা জলসেচের উপযোগিতা বেশি হওয়ার কারণ

কৃষিজমিতে প্রধানত নদনদী ও জলাধারের জল ব্যবহারের জন্য। যে খাল খনন করা হয়, তাকেই বলে সেচখাল। এই খাল দুই প্রকার— প্লাবন খাল ও নিত্যবহ খাল। ভারতীয় কৃষিতে এই খাল দ্বারা জলসেচের উপযোগিতা অপরিসীম। এর কারণ—

1. অসংখ্য নদনদীর জলের জোগান: ভারত নদীমাতৃক দেশ, অর্থাৎ দেশের বিভিন্ন অংশের ওপর দিয়ে অসংখ্য নদনদী প্রবাহিত হয়েছে। এর ফলে এখানকার অধিকাংশ জায়গায় খাল খনন করে কৃষিজমিতে জলসেচ করা যায়।

2. সারাবছর বরফগলা জলের জোগান: সুবিস্তৃত উত্তর ভারতের নদীগুলি বরফগলা জলে পুষ্ট বলে এগুলিতে সারাবছর জল থাকে এবং তাই প্রায় সমগ্র উত্তর ভারতেই সারাবছর খাল দ্বারা জলসেচ করা যায়।

3. খাল খননের উপযোগী ভূমিরূপ: ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সমভূমি থাকায় সহজে খাল খনন করে জলসেচ করা যায়।

4. ভূমির ঢালজনিত সুবিধা: দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভূমির ঢাল সুষম বলে খাল দিয়ে সহজেই জল প্রবাহিত হতে পারে।(যেমন—সমভূমি অঞ্চলে)।

5. জলাধার তৈরির সুবিধা: দক্ষিণ ভারতে বরফগলা জলে পুষ্ট নদী না থাকলেও ওখানকার ভূমিরূপ ঢেউ-খেলানো বলে সহজেই বাঁধ দিয়ে জলাধার নির্মাণ করা যায় এবং তারপর ওগুলি থেকে খাল খনন করে জলসেচ করা হয়।

6 ভূগর্ভস্থ জলস্তর হ্রাস: দেশের অধিকাংশ জায়গাতেই এখন ভূগর্ভস্থ জলস্তর দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এরকম এক পরিস্থিতিতে ভূপৃষ্ঠস্থ জল অর্থাৎ নদনদীর জলধারা খালের মাধ্যমে কৃষিকাজে ব্যবহার করা ছাড়া আমাদের কৃষির উন্নতিবিধান বা জল সম্পদ সংরক্ষণের আর কোনো বিকল্প নেই। সবশেষে বলা যায়, খাল দ্বারা জলসেচের উপযোগিতা এতটা বেশি বলেই বর্তমান ভারতের মোট সেচসেবিত কৃষিজমির সর্বাধিক অংশে (প্রায় 40 শতাংশ) খালের মাধ্যমে জলসেচ করা হয়।

কূপ ও নলকূপের সাহায্যে জলসেচের সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধা

1.নদী থেকে খাল কেটে যেসব দূরবর্তী জমিতে জল নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় সেসব ক্ষেত্রে সেচের কাজে কূপ ও নলকূপ ব্যবহার করা ছাড়া পথ নেই।
2. ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পলল মৃত্তিকায় কূপ ও নলকূপ খনন করা সুবিধাজনক।
3. নলকূপের সাহায্যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জলসেচের ব্যবস্থা করা যায়। একটি গভীর নলকূপের সাহায্যে 300-360 একর জমিতে সহজেই সেচকাজ করা যায় ।
4. পুকুর বা জলাশয় নির্মাণ করলে চাষযোগ্য জমির অনেকখানি অংশ নষ্ট হয়, কিন্তু কূপ বা নলকূপের ক্ষেত্রে তা হয়না।.

অসুবিধা

1.কূপের জলে সাধারণত লবণের ভাগ বেশি থাকে। দীর্ঘকাল ধরে এই লবণাক্ত জলে চাষ-আবাদ করলে জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পায় ।
2. দক্ষিণ ভারতের কঠিন শিলাস্তরে কূপ খনন করা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়সাপেক্ষ।
3. কূপের সাহায্যে ক্রমাগত প্রচুর জল তুললে ভূ-অভ্যন্তরের জলস্তর নেমে যায়।
4.ভৌমজল লবণাক্ত হলে নলকূপের সাহায্যে জল উত্তোলন করা হয় না।

ভারতের জলসেচ ব্যবস্থার প্রভাবসমূহ

ভারতের জলসেচ ব্যবস্থার প্রভাবসমূহ করতে জলসেচের সুযোগসুবিধা ক্রমশ বেড়েছে। যার ফলে এই দেশের অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এর কিছু অনুকূল ও প্রতিকূল প্রভাব লক্ষ করা যায়।
অনুকূল প্রভাব: ভারতের কৃষিব্যবস্থায় জলসেচ থেকে প্রাপ্ত সুবিধাগুলি সীমাহীন। যথা—
1• কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি: পর্যাপ্ত জলসেচের মাধ্যমে ভারতে অধিক পরিমাণে উচ্চফলনশীল বীজের চাষ সম্ভব হয়েছে, যার ফলে এদেশে কৃষিজ উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে।

2.রবিশস্য চাষে সাফল্য: ভারতে শীতকাল বৃষ্টিহীন থাকে, ফলে রবিশস্য চাষ ব্যাহত হয়। কিন্তু বর্তমানে জলসেচের মাধ্যমে বিভিন্ন রবিশস্য (গম, ডাল, তৈলবীজ প্রভৃতি) চাষ করা হচ্ছে।

3. শুষ্ক অঞ্চলে কৃষিকাজের সম্প্রসারণ: ভারতের শুষ্ক মরুপ্রায় অঞ্চলসমূহে জলসেচের মাধ্যমে শস্য উৎপাদন করা হচ্ছে যা কৃষিজ উন্নয়ন তথা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ প্রভাব ফেলেছে। যেমন—ইন্দিরা গাখি সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজস্থানের মরুপ্রায় অঞ্চলে ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

4. শিল্পের বিকাশ : জলসেচের মাধ্যমে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। যেমন— চিনি শিল্প, কার্পাস-বয়ন শিল্প, তেল নিষ্কাশন শিল্প ইত্যাদি।

5. অতিরিক্ত জীবিকার সংস্থান: ভারতের প্রায় 65 শতাংশ মানুষের জীবন ও জীবিকা কৃষির ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। তাই জলসেচের মাধ্যমে চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের জীবিকার সংস্থানও বৃদ্ধি পেয়েছে।

6.বন্যা নিয়ন্ত্রণ: ভারতের বিভিন্ন বহুমুখী নদী পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য হল জলসেচ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো। বর্ষাকালে ভারতের অনেক কৃষিজমি বন্যায় প্লাবিত হয় | ফলে ফসলের প্রচুর ক্ষতি হয়। সময়মতো চাষের কাজে বাঁধগুলি থেকে জল ছেড়ে দেওয়া হলে, এই প্লাবন রোধ করা সম্ভব হয়।

7.দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন: ভারতের মতো কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির দেশে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে একদিকে যেমন গ্রামের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটে, অন্যদিকে তেমন শিল্পের উন্নতি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি। পায়। সুতরাং, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন জলসেচ ব্যবস্থ উন্নতির সাথে বহুলাংশে সম্পর্কিত।

প্রতিকূল প্রভাব: জলসেচের সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় কৃষিতে কিছু সমস্যাও সৃষ্টি হয়েছে, যেমন—

1 ত্রুটিপূর্ণ ফসল চাষ: জলসেচের সুবিধা থাকায় অনেক জমিতে সারাবছর চাষ করা হচ্ছে অর্থাৎ অনেক একফসলি জমি বহুফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। বহুফসলি জমিতে ফসল নির্বাচন সঠিক না হলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হয়। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বহু এলাকায় একই ফসল, যেমন—আখ পরপর চাষ করার ফলে জমির উর্বরতা অনেক হ্রাস পেয়েছে।

2 জমা জলের সমস্যা: সেচের কাজে অতিরিক্ত জল ব্যবহার করার ফলে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘকাল জমিতে জল জমে থাকে। এর ফলে পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর তার প্রভাব পড়ে এবং বর্ষার সামান্য বৃষ্টিপাতেই ওইসব অঞ্চলে বন্যা বা প্লাবনের সম্ভাবনা দেখা দেয়।

3. জমির লবণতা বৃদ্ধি পায়: উত্তরপ্রদেশের অনেক জায়গায় ভূগর্ভস্থ জল অত্যধিক পরিমাণে সেচকার্যে ব্যবহার করার ফলে মাটির নিম্নস্তরের লবণ জলে দ্রবীভূত হয়ে কৈশিক প্রক্রিয়ায় (Capillary Action) মাটির ওপরে এসে জমা হচ্ছে। এই লোনা জল বা মাটি ফসল উৎপাদনের পক্ষে বাধার সৃষ্টি করছে।

মিশরে জলসেচের প্রয়োজনীয়তা

মিশরে জলসেচের প্রয়োজনীয়তার কারণগুলি হল—

1. মরুভূমির দেশ: সাহারা মরুভূমির পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত বলে মিশরের অধিকাংশ এলাকা মরু ও মরুপ্রায় অঞ্চলের অন্তর্গত। তাই কৃষিকাজের জন্য জলসেচ একান্ত প্রয়োজন।
2. শীতকালীন স্বল্প বৃষ্টিপাত : মিশরে বৃষ্টিপাত হয় খুবই কম । কেবলমাত্র দেশের উত্তরাংশে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রভাব থাকায় শীতকালে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।
3 নদনদীর অভাব: মিশর আয়তনে যথেষ্ট বড়ো দেশ হলেও এখানে নীলনদ ছাড়া অন্য কোনো উল্লেখযোগ্য নদী নেই। জলের এই অভাবপূরণের জন্য এখানে সেচের মাধ্যমে চাষ করতে হয়।
4 মৃত্তিকার সীমিত জলধারণক্ষমতাঃ মৃত্তিকায় অতিরিক্ত পরিমাণে বালি থাকায় জলধারণক্ষমতাও কম। নিয়মিত সেচের ব্যবস্থা ছাড়া এ মৃত্তিকায় চাষ করা যায় না।
5. কৃষির অত্যধিক গুরুত্ব: মিশরে যথেষ্ট পরিমাণে তুলো, আখ প্রভৃতি উৎপন্ন হয়। এখানে শিল্পোন্নয়ন আশানুরূপ না হওয়ায় এদেশের অর্থনীতিতে কৃষির (তুলো চাষ, আখ চাষ ইত্যাদির) গুরুত্ব সীমাহীন। আর এসবের জন্য জলসেচ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

মিশরের জলসেচ ব্যবস্থায় নির্মিত বাঁধ ও জলাধারসমূহ

নদী পরিকল্পনার আওতায় নীলনদ এবং তার কয়েকটি উপনদীর ওপর অনেকগুলি বাঁধ ও জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। যেমন—

1. নীলনদের ওপর আসোয়ন বাঁধ, 2. ব্লু নীলের ওপর সেনার বাঁধ, 3. আটবারা নদীর ওপর খমে এল গির্বা বাঁধ প্রভৃতি। এ ছাড়া, কেবলমাত্র কৃষিকাজের জন্য মিশরের নীলনদের ওপর বেশ কয়েকটি সেচবাঁধ বা ব্যারাজ নির্মিত হয়েছে, যেমন— 4.এসনা ব্যারাজ, 5. আসিয়ুট ব্যারাজ, 6.নাগ হামাদি ব্যারাজ প্রভৃতি। এইসব বাঁধ ও ব্যারাজের দু-পাশে থেকে অসংখ্য খাল ও শাখা খাল খনন করা হয়েছে। এইভাবে সারাবছর ধরে খালের মাধ্যমে প্লাবনভূমিতে এবং প্লাবনভূমির বাইরে ব্যাপক সেচকাজ করা সম্ভব হওয়ায় নীলনদের অববাহিকা এক সমৃদ্ধ কৃষি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

মিশরে জলসেচ ব্যবস্থার প্রভাব

মিশরে জলসেচ ব্যবস্থার প্রভাব সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল—

অনুকূল প্রভাব:

1. কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি: মিশর মরুভূমির দেশ— সাহারা মরুভূমির পূর্বাংশে অবস্থিত। এখানে বৃষ্টিপাত হয় খুবই কম বার্ষিক 25 সেন্টিমিটারেরও কম। এরকম শুষ্ক পরিবেশে সাধারণত কৃষিকাজ করা যায় না। কিন্তু মিশরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে নীলনদ। বর্ষাকালে নীলনদের উৎস অন্যলে যখন প্রবল বৃষ্টিপাত হয়, তখন নীলনদে বন্যা দেখা দেয়। অতীতে এই বন্যার জল সেচকার্যে ব্যবহার করে নীলনদ অববাহিকায় তুলো, ধান, গম, যব, আখ, তামাক, ভুট্টা প্রভৃতি নানা ধরনের ফসল উৎপাদন করা হত। আর এই সেচকার্যের সুবিধার জন্যই মিশরে নীলনদের আসোয়ান বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁধের পশ্চাতে যে জলাধার তৈরি হয়েছে, তার নাম নাসের হ্রদ। এইসব জলাধার ও সেচবাঁধের জল খালের মাধ্যমে অত্যন্ত নিপুণভাবে সেচকার্যে ব্যবহার করা হয় বলেই শুষ্ক মরুভূমির দেশ মিশর হয়েছে আজ শস্যশ্যামলা। এর ফলে এখানে প্রচুর পরিমাণে ভূলো, আখ, ভুট্টা, ধান, গম, তৈলবীজ, তামাক প্রভৃতি উৎপাদিত হয়। প্রকৃতপক্ষে মিশর মরুভূমির দেশ বলেই এখানকার কৃষিকার্যে জলসেচের গুরুত্ব খুব বেশি।

2. শিল্পের বিকাশ: জলসেচের সুবিধার জন্য মিশরে প্রচুর পরিমাণে দীর্ঘ আঁশযুক্ত তুলো, আখ, তামাক, কফি প্রভৃতি কৃষিজ কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন জোগান পাওয়া যায়। যা দিয়ে কার্পাস-বয়ন, চিনি, তামাক ও কফি প্রভৃতি বাগিচাভিত্তিক শিল্প বিকশিত হয়েছে।

3. অতিরিক্ত জীবিকার সংস্থান: জলসেচের মাধ্যমে কৃষিরউন্নয়ন ঘটানোর পর বহু মানুষ কৃষিকাজে নিযুক্ত হয়েছে।

4.• কৃষিসমৃদ্ধ এলাকার সম্প্রসারণ: নীলনদ থেকে সারাবছর ধরে খালের মাধ্যমে প্লাবনভূমিতে ও প্লাবনভূমির বাইরে ব্যাপক সেচকাজ সম্ভব হওয়ায় এদেশে কৃষিসমৃদ্ধ অঞ্চলের সীমা সম্প্রসারিত হচ্ছে।

5.দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন: মিশরের মতো শুষ্ক আবহাওয়াযুক্ত দেশে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে কৃষি ও শিল্পের উন্নতির সাথে সাথে সমগ্র দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটেছে।

প্রতিকূল প্রভাব

1• লবণতা বৃদ্ধিঃ নীলনদের বদ্বীপ অঞ্চলের যেসব স্থানে ভৌমজল সেচকাজে ব্যবহৃত হয়। সেইসব স্থানে মৃত্তিকার লবণতা বৃদ্ধি এক বিশেষ সমস্যা।

2. সমুদ্রের লবণাক্ত জলের অনুপ্রবেশ: নীলনদের জল খালের মাধ্যমে বেশি পরিমাণে কৃষিজমিতে ব্যবহার করার ফলে সমুদ্র থেকে নদীতে লবণাক্ত জল অনুপ্রবেশের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

3. জলের জোগান: নীলনদের উচ্চ অববাহিকা অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম হলে নীলনদে জলের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং তখন এখানকার সম্পূর্ণ সেচনির্ভর কৃষিব্যবস্থা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা দেশের অর্থনীতির ওপর প্রতিকূল প্রভাব ফেলে।

4. মিষ্টি জলের বাস্তুতন্ত্রের ধ্বংসপ্রাপ্তি: মিষ্টি জলের জোগান কম হওয়ায় এখানকার মিষ্টি জলের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে।

পাকিস্তানে জলসেচ ব্যবস্থার প্রভাবসমূহ

পাকিস্তানে জলসেচ ব্যবস্থার প্রভাব সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা। করা হল—

অনুকূল প্রভাৰ

1. শুষ্ক পরিবেশে কৃষিকাজ: পাকিস্তানের অধিকাংশ এলাকা শুষ্ক পরিবেশের অন্তর্গত। ফলে জলসেচের মাধ্যমে এসকল শুষ্ক অঞ্চলে চাষ-আবাদ করা হচ্ছে, যা দেশের উন্নতির ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। জলসেচের সুবিধার জন্যই সিন্ধু সমভূমি অঞ্চলে কৃষিকাজ সবচেয়ে ভালো হয়।

2. কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি: শুষ্ক পরিবেশে জলসেচের মাধ্যমে এদেশের মাত্র এক-চতুর্থাংশ এলাকায় চাষ-আবাদ সম্ভব। হয়েছে। এসকল অঞ্চলে উল্লেখযোগ্যভাবে গম, ধান, তুলো, আর প্রভৃতি বিভিন্ন ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয় বিশ্বের বিভিন্ন খাদ্যফসল উৎপাদনে পাকিস্তান এক উল্লেখযোগ্য স্থানও অধিকার করে। (যেমন—ধান উৎপাদনে দশম, গম উৎপাদনে ষষ্ঠ, তুলো উৎপাদনে চতুর্থ, আখ উৎপাদনে পঞ্চম ইত্যাদি FAO, 2013) |

3. শিল্পের বিকাশ: জলসেচের মাধ্যমে কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। যেমন—কার্পাস-বয়ন শিল্প, চিনি শিল্প ইত্যাদি। অতিরিক্ত জীবিকার সংস্থান: পাকিস্তান কৃষিপ্রধান দেশ। জলসেচের মাধ্যমে এদেশের যেসকল অঞ্চলে চাষ-আবাদ হয়, সেখানকার শতকরা প্রায় 85 জন কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে।

4. দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন: পাকিস্তানের মতো কৃষিভিত্তিক দেশে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে একদিকে যেমন কৃষিজ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে তেমন। শিল্পের উন্নতি ও মাথাপিছু আয়ের বৃদ্ধি ঘটে। যার ফলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটে।

প্রতিকূল প্রভাৰ

1• সিন্ধু নদের মোহানায় মিষ্টি জল ও পলির জোগান হ্রাস: সিন্ধু নদে বিভিন্ন ব্যারেজ নির্মাণের পরে মিষ্টি জলের প্রবাহমাত্রা বিপজ্জনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। নদীর মোহানায় জল ও পলির পরিমাণ কম হওয়ার প্রভাবগুলি নিম্নরূপ—

1. সক্রিয় বদ্বীপ অঞ্চলের হ্রাস: সিন্ধু নদের ওপরে বাঁধ নির্মাণের পূর্বে সিন্ধু নদের সক্রিয় বদ্বীপ অঞ্চলের আয়তন ছিল 6,200 বর্গকিমি। কিন্তু বাঁধ নির্মাণের পর সক্রিয় বদ্বীপের আয়তন অনেক হ্রাস পেয়েছে।
II. উপকূলভূমির পশ্চাদপসারণ: 1950 সালের উপগ্রহ চিত্র ও বর্তমান উপগ্রহ চিত্র তুলনা করে দেখা গেছে পাকিস্তানের উপকূলভূমির পশ্চাদপসারণ ঘটেছে।
iii. লবণতার পরিমাণ বৃদ্ধি: সিন্ধুর মোহানায় মিষ্টি জলের পরিমাণ কমার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের লবণাক্ত জলের অনুপ্রবেশ বেড়ে গেছে। ফলে ক্রমাগত ধান চাষের জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে।
iv. মিষ্টি জলের বাস্তুতন্ত্রের ধ্বংসপ্রাপ্তি: মিষ্টি জলের জোগান কম হওয়ায় মিষ্টি জলের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে।

2. ভৌমজলের পরিমাণ হ্রাস: এদেশের কৃষিকার্যে ব্যবহৃত মোট জলের প্রায় 38 শতাংশের উৎস ভৌমজল। কৃষিতে মাত্রাতিরিক্ত ভৌমজল ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ভৌমজলের সঞ্চয় আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

পাকিস্তানে জলসেচের প্রয়োজনীয়তা

[1]বৃষ্টির স্বল্পতা : পাকিস্তানের অধিকাংশ সমতলভূমি সিন্ধু ও পাকিস্তানে জলসেচের প্রয়োজনীয়তার কারণগুলি হল— এর বিভিন্ন উপনদীগুলি দ্বারা বাহিত পলি সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অত্যন্ত কম হওয়ায় সর্বত্র কৃষিকাজ করার জন্য জলসেচের প্রয়োজন হয়।

[2] মরুভূমির আধিক্য: পাকিস্তানের অধিকাংশ স্থান মরুভূমির অন্তর্গত। এই সকল অঞ্চলে কৃষিকার্যের জন্য জলসেচ প্রয়োজন।

[3] নদীতে অনিয়মিত জলপ্রবাহ: পাকিস্তানের নদীগুলিতে সারাবছর অনিয়মিত জলপ্রবাহ লক্ষ করা যায়। ফলে নদীগুলিতে বাঁধ দিয়ে বর্ষার জল আটকে রেখে সারাবছর নিয়মিত জলের জোগানের জন্য জলসেচ ব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজনীয়।

[4] বর্ষার অতিরিক্ত জলের ব্যবহার: পাকিস্তানের বেশিরভাগ নদীই বরফগলা জলে পুষ্ট। বর্ষার অতিরিক্ত জলকে বাঁধের পশ্চাদিকের জলাধারে ধরে রেখে শুষ্ক ঋতুতে সেচের মাধ্যমে চাষের কাজে ব্যবহার করা হয়।

[5]নরম মৃত্তিকা: পাকিস্তানের সিন্ধু উপত্যকার অধিকাংশ স্থানের মৃত্তিকা নরম প্রকৃতির। এই প্রকার নরম মৃত্তিকায় কৃপ খনন করা সহজসাধ্য ও কম ব্যয়সাপেক্ষ। সে কারণে পাকিস্তানে খালের মাধ্যমে বেশি পরিমাণ জায়গায় জলসেচ করা হয়।

[6] সুলড সেচ ব্যবস্থা : খালের মাধ্যমে জলসেচ সবচেয়ে সুলভ প্রকৃতির সেচ ব্যবস্থা। পাকিস্তানের মতো দরিদ্র দেশে এইপ্রকার জলসেচ ব্যবস্থা উপযুক্ত।

 পাকিস্তানের সেচযোগ্য জমির বণ্টন

পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশের সেচসেবিত জমির বণ্টন উল্লেখ করা হল—

1 সিন্ধু প্রদেশ: সিন্ধু প্রদেশে জলসেচ ব্যবস্থার মূল উৎস হল সিন্ধু নদ। এখানে তিনটি বাঁধের মাধ্যমে জল প্রবেশ করে। এগুলি হল—গুড়ু বাঁধ, সুক্কুর বাঁধ এবং কোটরি বাঁধ। মোট খালের দৈর্ঘ্য প্রায় 18 হাজার কিলোমিটার। এখানে মোট সেচসেবিত জমির পরিমাণ প্রায় 53 লক্ষ হেক্টর, যার মধ্যে নলকূপ ও কূপের মাধ্যমে প্রায় 11.3 লক্ষ হেক্টর জমিতে জলসেচ করা হয়। জলসেচের সুবিধা থাকায় সিন্ধু প্রদেশ বিশ্বের অন্যতম কৃষিসমৃদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়েছে। এখানে ধান, গম, তুলো, আখ প্রভৃতির উৎপাদন লক্ষ করা যায়।

2 পাঞ্জুৰি প্ৰদেশ : পাঞ্জাব প্রদেশে জলসেচের উদ্দেশ্যে 13টি বাঁধ, 2টি জল সরবরাহকারী বিশেষ নল (Siphon), 12টি সংযোগকারী খাল এবং 23টি বিশেষ খাল ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এগুলির সর্বমোট দৈর্ঘ্য প্রায় 34,500 কিলোমিটার। এই প্রদেশে সর্বমোট সেচসেবিত জমির পরিমাণ প্রায় 138 লক্ষ হেক্টর। বর্তমানে নলকূপ ও কূপের মাধ্যমে এখানকার প্রায় 68 লক্ষ হেক্টর জমিতে জলসেচ করা হয়। উন্নত জলসেচ ব্যবস্থার জন্য পাঞ্জাব প্রদেশের কৃষিজমিগুলিতে ফসলের উৎপাদন হার খুবই বেশি। এখানকার বিস্তীর্ণ এলাকায় গম চাষ হয়। এ ছাড়া, পশ্চিম পাঞ্জাবের মন্টগোমারি ও লায়লপুরে প্রচুর পরিমাণে দীর্ঘ আঁশযুক্ত উন্নতমানের তুলো উৎপাদিত হয়।

3 বালুচিস্তান: গুড়ু বাঁধ ও সুক্কুর বাঁধের মাধ্যমে সিন্ধু নদ থেকে জল বালুচিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। বালুচিস্তানে মোট সেচসেবিত জমির পরিমাণ প্রায় 8.1 লক্ষ হেক্টর। এখানে প্যাট ফিডার খাল পদ্ধতি (Pat Feeder Canal System)-এর উন্নতির মাধ্যমে জলসেচের সম্প্রসারণ ঘটেছে। জলসেচ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বালুচিস্তান মালভূমি ও এর পূর্বভাগে প্রচুর পরিমাণে খেজুর, পিচ, তরমুজ, আপেল, খোবানি প্রভৃতি নানারকম ফল উৎপন্ন হয়। আঙুর ও কিশমিশের জন্যও এই অঞ্চল বিখ্যাত।

4 খাইবার পাখতুনখোয়া: সোয়াট্ (Swat) নদী ও তারবেলা বাঁধের মাধ্যমে এই প্রদেশে জলসেচ করা হয়। মোট সেচসেবিত জমির পরিমাণ প্রায় ৪.9 লক্ষ হেক্টর। এই প্রদেশটির দক্ষিণভাগে জলসেচের সাহায্যে গম, আখ চাষ করা হয়।