Chapter-8, ক্রন্দনরতা জননীর পাশে

দেশজননীর বিপন্নতার মুহূর্তে তাঁর পাশে না থাকলে লেখালেখি, গাওয়া, ছবি আঁকা সব মিথ্যা হয়ে যাবে বলে কবি মনে করেছেন।

দেশের মানুষ আক্রান্ত হলে কোনো শিল্পী প্রতিবাদ করতে না পারার নিজের শিল্পীসত্তা নিয়ে তাঁর মনেই দ্বিধা সৃষ্টি হয়। কবির মতে সেই দ্বিধ সৃষ্টি হয়েছে।

মৃদুল দাশগুপ্তের ‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় 'নিহত উই হলেন গণ-আন্দোলনে শহিদ ও কবির সহনাগরিক।

নিহত ভাইয়ের শবদেহ দেখে কবির মনে হয়েছে ভালোবাসা, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বা মূল্যবোধের জন্যই ক্রোধের জন্ম হওয়া আবশ্যিক |

মৃদুল দাশগুপ্তের 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় নিহত ভাইয়ের শবদেহ দেখে কবির মনে ক্রোধের সঞ্চার হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মৃদুল দাশগুপ্তের 'কন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় নিহত ভাইয়ের শবদেহ দেখে ক্রোধ না জন্মালে ভালোবাসা, সমাজ, মূল্যবোধ সবই অর্থহীন হয়ে যাবে।

‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় কবি মৃদুল দাশগুপ্ত নির "দেশবাসী ভাইয়ের মৃতদেহ দেখে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা থেকে প্রশ্নোদ্ধৃত মস্তকাটি করেছেন।

মৃদুল দাশগুপ্তের 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় নিখোঁজ মেয়েটিকে জঙ্গলে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।

নিখোজ মেয়েটিকে জঙ্গলে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পেয়েও এই নৃশং প্রতিবাদ না জানিয়ে ঈশ্বরের বিচারের আশায় বসে থাকা উচিত নয় বলে কবি মনে করেছেন।

মৃদুল দাশগুপ্তের 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় নিখোঁজ মেয়ে  ছিন্নভিন্ন শরীর জঙ্গলে পেয়ে আকাশের দিকে তাকানোর কথা বলা হয়েছে।

মৃদুল দাশগুপ্তের ‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতা থেকে অংশটিতে কবি প্রশ্নটি করেছেন নিজের কাছেই।

প্রশ্নোধৃত জিজ্ঞাসার উত্তরে কবি জানিয়েছেন যে, তিনি বি বিচারের ভরসায় না থেকে কবিতার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাবেন।

মৃদুল দাশগুপ্তের ‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় ছিন্নভিন্ন মেয়েটিকে জঙ্গলে পেয়ে কবি বিধির বিচার চেয়ে আকাশে তাকাতে পারেন না।

মৃদুল দাশগুপ্তের 'রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় ছিন্নভিন্ন মেয়েটিকে দেখে কবি প্রতিবাদী কবিতার মাধ্যমে তাঁর বি জাগিয়ে রাখতে পারেন।

মৃদুল দাশগুপ্তের ‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশে কবিতায় কবির জাগে জঙ্গলে পাওয়া নিখোঁজ মেয়েটির ছিন্নভিন্ন করুণ অবস্থার ফেটে পড়ার জন্য।

মানবিক এবং সামাজিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী কবি মৃদুল দাশগুপ্ত তাঁর 'কদনরতা জননীর পাশে' কবিতায় 'ভাই' বলতে কৃষিজমি রক্ষার গণ আন্দোলনে শহিদ মানুষদের কথা বুঝিয়েছেন। " "নিহত ভাইয়ের শবদেহ কবির মনে জন্ম দিয়েছে তাঁর ক্রোধের। এই হত্য আর মানবিক লাঞ্ছনায় ব্যথিত হয়ে তিনি নিজের দেশমাতাকে কাদতে দেখেছেন। তাঁর মনে হয়েছে, এই দুঃসময়ে ক্রন্দনরতা জননীর পাশে সর্বশক্তি দিয়ে দাঁড়ানো উচিত। এখন লেখা, গান বা আঁকাআঁকি সব কিছুরই বিষয় হওয়া উচিত এই লাঞ্ছনার প্রতিবাদ। মনের মধ্যে যদি ভালোবাসা থাকে, সামাজিক চেতনা থাকে, মুলাবোধের অস্তিত্ব থাকে তাহলে ক্রোধ আর প্রতিবাদই হওয়া উচিত একমাত্র অস্ত্র। এভাবেই মৃদুল দাশগুপ্ত তৈরি করে নেন। তাঁর নিজস্ব কবিধর্ম, যেখানে কবিতাই হয়ে ওঠে জাগ্রত বিবেকের আত্মপ্রকাশ। সমাজের ঘটনাপ্রবাহকে অনুধাবন করে নিবিড়ভাবে তার সঙ্গে একাত্ম হয়েছেন কবি। সেগুলিকে বিশ্লেষণ করে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁর কবিতায়। বাস্তব থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা নয়, এমনকি বাস্তবকে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করাও নয়, পরিবর্তে সংকটের মধ্যে দাঁড়িয়ে তার করা মৃদুল দাশগুপ্তের প্রতিক্রিয়ার এই ধরনই স্পষ্ট হয় 'কন্সনরতা জননীর পাশে' কবিতায় ।

কবি মৃদুল দাশগুপ্ত তাঁর 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় নিজের সমাজচেতনার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন। সাধারণভাবে এই কবি উচ্চকণ্ঠে কথা বলেন না, কিন্তু তাঁর প্রকাশভঙ্গিতে থাকে দৃঢ়তা। চারপাশের অসংগতি আর অন্যায়, ঘটে যাওয়া অজস্র ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি ক্রন্দনরতা জননীর পাশে। এসে দাঁড়াতে চান। শাসকের হাতে সহনাগরিক ভাইয়ের মৃত্যু তাঁর মনে ক্রোধের জন্ম দেয়। জঙ্গলে পাওয়া নিখোঁজ মেয়ের ছিন্নভিন্ন দেহ তাঁর বিবেককে জাগিয়ে তোলে কবিতার মধ্য দিয়ে। এভাবেই নিজের দায়বদ্ধতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং মূল্যবোধ প্রকাশ করেন কবি। কবিতাকে যখন তিনি চেতনা এবং প্রতিবাদের মাধ্যম করে তোলেন—তখন সেখানে আধ্যাত্মিকতা বা ঈশ্বরবিশ্বাসের কোনো জায়গা থাকে না। তাই নিখোঁজ মেয়ের নৃশংস মৃত্যু দেখতে দেখতে কবির মনে হয়েছে, বর্তমানের এই বিপন্ন সময়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরের কাছে বিচার চাওয়া একেবারেই অর্থহীন। ফলে, অনিবার্য হয়ে পড়েছে সমষ্টিগত ও ব্যক্তিগত প্রতিবাদ। এই বিপন্নতার সময়ে প্রতিবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে তাঁর একমাত্র অম্ল কবিতা। সেই কবিতার মাধ্যমেই নিজের বিক্ষোভ, প্রতিবাদকে সমস্ত স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন কবি। কবির দায়বদ্ধতার যে ছবি তিনি এখানে তৈরি করে দিয়েছেন, কবিতাকে করে তুলেছেন বিবেকের বাহক, তা শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে শিল্পীসত্তার চিরকালীন প্রতিবাদের ইঙ্গিতকেই বহন করে।

"কন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতার উল্লিখিত অংশে 'আমি' বলতে কবি মৃদুল দাশগুপ্ত নিজেকে বুঝিয়েছেন।

কবি মৃদুল দাশগুপ্ত তাঁর 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় নিজের সমাজচেতনার উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখেছেন। সাধারণভাবে এই কবি উচ্চকণ্ঠে কথা বলেন না, কিন্তু তাঁর প্রকাশভঙ্গিতে থাকে দৃঢ়তা। চারপাশের অসংগতি আর অন্যায়, ঘটে যাওয়া অজস্র ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি ক্রন্দনরতা জননীর পাশে। এসে দাঁড়াতে চান। শাসকের হাতে সহনাগরিক ভাইয়ের মৃত্যু তাঁর মনে ক্রোধের জন্ম দেয়। জঙ্গলে পাওয়া নিখোঁজ মেয়ের ছিন্নভিন্ন দেহ তাঁর বিবেককে জাগিয়ে তোলে কবিতার মধ্য দিয়ে। এভাবেই নিজের দায়বদ্ধতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং মূল্যবোধ প্রকাশ করেন কবি। কবিতাকে যখন তিনি চেতনা এবং প্রতিবাদের মাধ্যম করে তোলেন—তখন সেখানে আধ্যাত্মিকতা বা ঈশ্বরবিশ্বাসের কোনো জায়গা থাকে না। তাই নিখোঁজ মেয়ের নৃশংস মৃত্যু দেখতে দেখতে কবির মনে হয়েছে, বর্তমানের এই বিপন্ন সময়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরের কাছে বিচার চাওয়া একেবারেই অর্থহীন। ফলে, অনিবার্য হয়ে পড়েছে সমষ্টিগত ও ব্যক্তিগত প্রতিবাদ। এই বিপন্নতার সময়ে প্রতিবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে তাঁর একমাত্র অম্ল কবিতা। সেই কবিতার মাধ্যমেই নিজের বিক্ষোভ, প্রতিবাদকে সমস্ত স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন কবি। কবির দায়বদ্ধতার যে ছবি তিনি এখানে তৈরি করে দিয়েছেন, কবিতাকে করে তুলেছেন বিবেকের বাহক, তা শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে শিল্পীসত্তার চিরকালীন প্রতিবাদের ইঙ্গিতকেই বহন করে।

‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশে কবিতায় কবি মৃদুল দাশগুপ্ত শাসকের অন্যায় অত্যাচার-বর্বরতার হাত থেকে মুক্তি পেতে বিধাতার সুবিচারের জন্য অপেক্ষা করে থাকতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। নিখোঁজ মেয়েটির ছিন্নভিন্ন শরীর জঙ্গলে দেখতে পেয়ে কবির নিজের কাছেই প্রশ্ন করেছেন—“আমি কি তাকাব আকাশের দিকে/বিধির বিচার চেয়ে?” এবং তার উত্তরে তিনি নিজেই প্রশ্নোদ্ভূত মন্তব্যটি করেছেন।

• আকাশের দিকে তাকিয়ে বিধির বিচার চাওয়া একদিকে যেমন ঈশ্বরনির্ভরতার প্রকাশ ঘটায়, অন্যদিকে তেমনই আত্মশক্তির অভাব ও অসহায়তাকেও নির্দেশ করে। মানুষের অধিকার যখন বিপন্ন হয়, বেঁচে থাকার সুস্থ পরিবেশ আর থাকে না, এমনকি রাষ্ট্রশক্তি নিজেকে নিরঙ্কুশ করতে তার নখ-দাঁত বিস্তার করে—তখন ঈশ্বরের কাছে ন্যায়বিচার চেয়ে বসে থাকা আসলে অনাবশ্যক সময় নষ্ট। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ এবং সহানুভূতিশীল কবি তাই চেয়েছেন অত্যাচারীর আনুগত্য বর্জন করতে। এক একটি অবাঞ্ছিত সামাজিক ঘটনা বা মানবিক লাঞ্ছনা কবির মধ্যে তাই তীব্র ক্রোধের জন্ম দেয়। তাঁর কাছে এই ক্রোধই হয়ে ওঠে সমাজের প্রতি ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা আর মূল্যবোধের প্রকাশ কবিতায় কবি জাগিয়ে তুলতে চান নিজের বিবেককে। আধ্যাত্মিকতা বা বাস্তব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়, কবি চান তাঁর কবিতাকে প্রতিবাদের অস্ত্র করে তুলতে।

ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতার কবি মৃদুল দাশগুপ্ত স্বয়ং তাঁর না-পারার কথা বলেছেন।

→ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শোষণ-বঞ্চনার প্রতিবিধান চেয়ে ঈশ্বরের কাছে আবেদন করা অর্থাৎ হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা কবির পক্ষে সম্ভব নয় ।

বেদনা আর বিক্ষোভ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় তার মনে। নিখোজ মেয়ের ছিন্নভিন্ন শরীর জঙ্গলে পেয়ে কবির মধ্যে বিক্ষোভের আগুন দলে ওঠে। এই জ্বলে ওঠাটাকেই যথার্থ কবিধর্ম বা মানবধর্ম বলে মনে করেন। তিনি। দেশবাসীর এই বিপন্ন অবস্থায় ক্রন্দনরতা দেশজননীর পাশে থাকা, নিহত সহনাগরিক ভাইয়ের মৃতদেহ দেখে ক্রোধের জন্ম হওয়া অন একজন কবির কাছে প্রত্যাশিত। অন্যথায় লেখা, গান গাওয়া কিংবা ছবি আঁকা অর্থাৎ শিল্পীর নান্দনিক প্রয়াসগুলি অর্থহীন হয়ে যায়। শাসকের শোষণে জীবনের অপচয় দেখে প্রতিবাদ না করলে মানুষের ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা কিংবা মূল্যবোধ-এ সবই অর্থহীন হয়ে পড়ে। ঈশ্বরের বিচারের আশায় বসে থেকে বাস্তব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কবির কাছে অমানবিক লাগে। চারপাশের নারকীয় অত্যাচার, সন্ত্রাসের রাজত্ব কবির মনে বেদনার জন্ম দেয় তা ক্রোধের আগুনে রূপান্তরিত হয়.... কবিতায় জাগে/ আমার বিবেক, আমার বারুদ / বিস্ফোরণের আগে।” এভাবেই কবিতাটিতে এক আলোড়িত কবিসত্তার বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, প্রত্যাঘারে স্বপ্নের প্রকাশ ব্লক করা যায়।

মৃদুল দাশগুপ্তের কবিতার মূল্যায়নে অভীক মজুমদার লিখেছেন —“কোনো বিশেষ দল, দলীয়তা নয়, একধরনের 'মানুষের আন্দোলন' বারংবার মৃদুলকে আলোড়িত করে, তাঁকে নাড়িয়ে দেয়" (বোধশব্দ, জানুয়ারি ২০১৩)। তাই সামাজিক অথবা রাজনৈতিক শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র হয়ে ওঠে কবির প্রতিক্রিয়া। ক্রন্দনরতা জননীর পাশে গিয়ে দাঁড়ান কবি। তাঁর কান্নার অংশীদার হতে নয়, বরং কান্নার কারণগুলিকে খুঁজে নিয়ে তার বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ আর প্রতিবাদ উগরে দিতে। সহনাগরিক ভাইয়ের মৃতদেহ দেখে তাঁর মনে ক্রোধের জন্ম হয়। জঙ্গলে পাওয়া নিখোজ মেয়ের ছিন্নভিন্ন শরীর দেখে কবির মনে হয়, আকাশের দিকে তাকিয়ে বিধির বিচারের অপেক্ষায় থাকা একেবারেই অর্থহীন। আর তাই নিজের মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা আর মূল্যবোধকে জাগিয়ে রাখতে কবিতাকে হাতিয়ার করেন কবি। কবিতার মাধ্যমে নিজের বিবেককে জাগিয়ে রাখেন তিনি। এই জাগরণে মানবতা থাকে, আবেগ থাকে আর তার কাঠামোয় রাজনীতিও থাকে। কবি তাই কবিতায় নিজের বিবেক, যা আসলে বারুদের মতোই, তাকে মজুত করে রাখেন বিস্ফোরণের প্রস্তুতি হিসেবে| কারণ এই কবিই তো অন্য কবিতায় প্রশ্ন করেছেন—“বিস্ফোরণ ছাড়া কোনও ঘটনা সম্ভব?" আর বিস্ফোরণ মানেই তো অবস্থার পরিবর্তন—কবি যার স্বপ্ন দেখেন নিরন্তর।

মৃদুল দাশগুপ্তের ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতাটি কবির সমাজভাবনার এক বলিষ্ঠ প্রকাশ। সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় মৃদুল দাশগুপ্তের কবিতাকে বলেছেন, “ব্যক্তিগত স্তর থেকে সামাজিক স্তরে যাওয়ার করিডোর বিশেষ। আর এই করিডোর থেকেই তিনি প্রত্যাঘাত হানেনও।” “ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতাতেও এই একই ভাবনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। সমাজের কবিতা | ক্রন্দনরতা জননীর পাশে এক অস্থির সময়ে শাসকেরা যখন তাদের দায়িত্ব ভুলে যায়, তাদের জনবিরোধী কাজকর্মে দেশের অবস্থা হয় বিপন্ন — তখন সেই লাঞ্ছিত দেশবাসীর পাশেই দাঁড়াতে চান কবি। শিল্প-সাহিত্য-সংগীতের কাছে এই দায়বদ্ধতাই কবি প্রত্যাশা করেন—“কেন তবে লেখা, কেন গান গাওয়া/কেন তবে আঁকাআঁকি?” সহনাগরিকের মৃত্যুদৃশ্য তাঁর মনে ক্রোধের জন্ম দেয়। এই ক্রোধ কবির কাছে ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা এবং মূল্যবোধের প্রতীক। জঙ্গলের মধ্যে পাওয়া নিখোঁজ মেয়ের ছিন্নভিন্ন শরীর কবিকে প্রতিবাদী করে তোলে। আকাশের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরের সুবিচারের জন্য অপেক্ষা করে থাকা তখন তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হয় । নিজের বিবেককে জাগিয়ে রাখতে তিনি প্রতিবাদ করতে চান কবিতার মধ্য দিয়েই। এভাবেই কবিতাকে প্রতিবাদের অস্ত্র করে ‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশে দাঁড়াতে চান কবি |

রুল দাশগুপ্তের কবিতা মূলত বিষয়মুখী। কবি হিসেবে তিনি বিশ্বা করেন—“কাঠ খোদাই-এর সঙ্গে কবিতার তফাত আছে সর্বদাই।” এবং “আঙ্গিক কিছুটা আকাশ থেকেই নেমে আসে।” ‘ক্রন্দনরতা জননীর পাশের কবিতাটিতে চারটি স্তবক আছে । প্রতি স্তবকে রয়েছে চারটি পত্তি, দ্বিতীয় আর চতুর্থ পঙ্ক্তিতে রয়েছে অন্ত্যমিল। শোষণ আর রক্তাক্ততা কবির মধ্যে যে আবেগের জন্ম দিয়েছে, অন্ত্যমিলের নমনীয়তায় তা-ই আন্তরিকভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন কবি। সমগ্র কবিতাটি উত্তমপুরুষের জবানিতে লেখা। অশান্ত সময়ের মাঝখানে কবি নিজেকে দাঁড় করিয়ে প্রতিবাদকে প্রত্যক্ষ ও জীবন্ত করতে চেয়েছেন। ‘আমি' এবং ‘আমার’ শব্দগুলি তাই ঘুরে-ফিরে আসে কবিতায় | কবিতাটির আর একটি লক্ষণীয় গঠনগত বৈশিষ্ট্য হল প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্তবক শেষ হচ্ছে প্রশ্ন বা বিস্ময়চিহ্ন দিয়ে। যেন কবি ঘরপাশে উত্তর খুঁজছেন। আর তা খুঁজতে খুঁজতেই শেষ স্তবকে পৌঁছে যাচ্ছেন সিদ্ধান্তে। সেখানে ঘোষণা করে দিচ্ছেন কবিতায় বিবেক জাগিয়ে রাখার অঙ্গীকার। অন্যদিকে, প্রতিবাদের কবিতা হলেও শব্দ ব্যবহারের মুনশিয়ানায় অদ্ভুত একটি গাঁতিকাব্যিক মেজাজও আলোচা কবিতায় নিয়ে এসেছেন কবি। কবিতার নামই তার নিদর্শন। তাই বলা যায়, বোধের সঙ্গো, অনুভূতির সঙ্গে মিলে প্রতিবাদের ভাষা বিশিষ্ট হয়ে উঠেছে 'রুপনরতা জননীর পাশে' কবিতায় ।

মৃদুল দাশগুপ্ত তাঁর 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় স্বাধীনতা-পরবর্তী এক অস্থির সময়ের ছবি এঁকেছেন। শিল্পের জন্য কৃষিজমি কেড়ে নেওয়া, উর্বরা জমিকে এক ফসলি অনাবাদি জমি হিসেবে চিহ্নিত করা—এইসব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে রক্তাক্ত ও লাঞ্ছিত হতে হয় সাধারণ মানুষকে। এসব ঘটনা কবিকে ব্যথিত করে তুলেছে। নিখোঁজ মেয়ের ছিন্নভিন্ন দেহ জঙ্গলে দেখে কবির মনে হয়েছে, বিধাতার প্রতিবিধানের আশায় বসে না থেকে এখন প্রয়োজন সম্মিলিত প্রতিবাদের। ও কবিতা প্রতিবাদের কবিতা, যার পটভূমিতে রয়েছে স্বদেশ। সে স্বদেশ মৃত্যু আর রক্ত-লাঞ্ছিত, নিপীড়নের কান্নায় ভেজা। মাটি আর মানুষ দিয়েই গড়া হয় দেশজননীর শরীর। সেখানে যখন রক্ত আর কান্না মেশে তখন কবির মনে হয়েছে, দেশজননী যেন ক্রন্দনরতা হয়েছেন ।

শাসকের জনস্বার্থবিরোধী নীতিতে যখন দেশ বিপন্ন, তখন নিপীড়িত দেশবাসী তথা দেশজননীর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছেন কবি। ভাইয়ের মৃত্যু, নিখোঁজ মেয়ের জঙ্গলে পাওয়া ছিন্নভিন্ন শরীর তাঁর মধ্যে একইসঙ্গে জন্ম নিয়েছে ক্রোধ, দায়বদ্ধতা এবং মূল্যবোধের। শাসকের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি কবিতাকে করে তুলতে চেয়েছেন প্রতিবাদের হাতিয়ার। তাই কবিতার মধ্যেই তিনি মজুত করতে চান বিক্ষোভের বারুদ, সামান্য অগ্নিস্ফুলিঙ্গে যা থেকে ঘটবে প্রতিবাদের বিস্ফোরণ।

মৃদুল দাশগুপ্তের 'রুদনরতা জননীর পাশে' কবিতায় 'এখন' বলতে শাসকের ষড়যন্ত্রে মানুষ যখন বিপন্ন, নারীরাও সুরক্ষিত নয়—দেশের সেই সংকটকালীন সময়কে বোঝানো হয়েছে ।

মৃদুল দাশগুপ্ত তাঁর 'ক্রন্দনরতা জননীর পাশে' কবিতায় স্বাধীনতা-পরবর্তী এক অস্থির সময়ের ছবি এঁকেছেন। শিল্পের জন্য কৃষিজমি কেড়ে নেওয়া, উর্বরা জমিকে এক ফসলি অনাবাদি জমি হিসেবে চিহ্নিত করা—এইসব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে রক্তাক্ত ও লাঞ্ছিত হতে হয় সাধারণ মানুষকে। এসব ঘটনা কবিকে ব্যথিত করে তুলেছে। নিখোঁজ মেয়ের ছিন্নভিন্ন দেহ জঙ্গলে দেখে কবির মনে হয়েছে, বিধাতার প্রতিবিধানের আশায় বসে না থেকে এখন প্রয়োজন সম্মিলিত প্রতিবাদের। ও কবিতা প্রতিবাদের কবিতা, যার পটভূমিতে রয়েছে স্বদেশ। সে স্বদেশ মৃত্যু আর রক্ত-লাঞ্ছিত, নিপীড়নের কান্নায় ভেজা। মাটি আর মানুষ দিয়েই গড়া হয় দেশজননীর শরীর। সেখানে যখন রক্ত আর কান্না মেশে তখন কবির মনে হয়েছে, দেশজননী যেন ক্রন্দনরতা হয়েছেন ।