Chapter-8, ভারতের প্রতিবেশী দেশসমূহ ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক

ভারতকে ঘিরে ৭টি প্রতিবেশী দেশ রয়েছে। তাদের মধ্যে পূর্বদিকে বাংলাদেশ, মায়ানমার; পশ্চিমদিকে পাকিস্তান; উত্তর-পশ্চিমদিকে আফগানিস্তান; উত্তরদিকে নেপাল, ভুটান, চিন; দক্ষিণে → শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ অবস্থিত ।

ভারতের স্থলভাগের সীমানা যুক্ত রয়েছে যে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সেগুলি হল – 1 বাংলাদেশ, 2 নেপাল, 3 ভুটান, 4 চিন, 5 পাকিস্তান, 6 আফগানিস্তান এবং 7 মায়ানমার।

পশ্চিমবঙ্গ: 1 বাংলাদেশ, ও নেপাল, ও ভুটান—এই তিনটি প্রতিবেশী দেশের সীমান্তকে স্পর্শ করে আছে। জম্মু ও কাশ্মীর: 1 চিন, 2 পাকিস্তান, ও আফগানিস্তান – এই তিনটি প্রতিবেশী দেশের সীমান্তকে স্পর্শ করে আছে।

ভুটানের দক্ষিণাংশ হিমালয় পর্বতমালার ঠিক পাদদেশে অবস্থিত বলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখা সরাসরি এসে আঘাত করে । ফলে ডুয়ার্স অঞ্চলে বজ্রপাতসহ প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হয় | এজন্যেই ভুটানকে 'Land of Thunder Dragon' বা 'বজ্রপাতের দেশ" বলে। এখানকার বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় 500-700 সেমি ।

নেপালের প্রধান কৃষিজ ফসলসমূহ হল—ধান, গম, পাট, তামাক, নীল তৈলবীজ, ভুট্টা, ডাল, আখ প্রভৃতি। এ ছাড়া, এখানে বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন—কমলালেবু, আনারস প্রভৃতি উৎপাদন করা হয়। নেপালে কিছু চা বাগিচাও রয়েছে।

নেপাল ভারতে যেসব দ্রব্য রপ্তানি করে সেগুলি হল—তৈলবীজ, ডাল, কাঁচা পাট, চামড়া প্রভৃতি । নেপাল ভারত থেকে যেসব জিনিস আমদানি করে সেগুলি হল—গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ, তুলো, রাসায়নিক সার, বস্ত্র প্রভৃতি ।

নেপালের রাজধানীর নাম কাঠমান্ডু। বাগমতী নদীর তীরে অবস্থিত কাঠমাণ্ডু নেপালের প্রধান শহর এবং পর্যটনকেন্দ্র। এর লোকসংখ্যা প্রায় 'দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা পরিষদ' বাSAARC (সার্ক)-এর সদর দপ্তর এই কাঠমাণ্ডু শহরেই অবস্থিত।

ভুটান অরণ্যসমৃদ্ধ দেশ এবং এখানকার প্রায় 70 শতাংশ ভূমি অরণ্যাবৃত। সুউচ্চ পার্বত্য এলাকায় নানা ধরনের মূল্যবান গাছ জন্মায়, যেমন—বার্চ, ম্যাপল, বিচ, ওক, অ্যাশ, রডোডেনড্রন, ম্যাগনোলিয়া প্রভৃতি। এ ছাড়া, পর্বতের পাদদেশ অঞ্চলে শাল, সেগুন, শিশু প্রভৃতি গাছ দেখা যায় |

ভুটানের পার্বত্য অঞ্চলে সরলবর্গীয় গাছ, যেমন—পাইন, ফার, দেবদারু প্রভৃতি উদ্ভিদের বনভূমি দেখা যায় ভুটানের দক্ষিণাংশের তরাই অঞ্চলে বাঁশ, বেত ও দীর্ঘ ঘাসের বনভূমি দেখা যায়। এই বনভূমি থেকে মধু, মোম, লাক্ষা, কাঠ এবং দীর্ঘ ঘাস সংগ্রহ করা হয়।

ভূটানের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিজ ফসলগুলি হল—ধান, ভুট্টা, গম, আলু, বড়ো এলাচ, আপেল ও কমলালেবু।

ভুটান খনিজ সম্পদে অনুন্নত। তবে ভুটানের গোমতুতে (সামচি জেলা) ডলোমাইট ও চুনাপাথর পাওয়া যায়। পূর্ব ভুটানের সামড্রপ জংখার জেলায় জিপসাম, দক্ষিণ-পূর্ব ভুটানের টিনটালি নামক স্থানে কোয়ার্টজাইট, দক্ষিণ পূর্ব ভুটানের বাংটার ও ডেওতহাং-এ কয়লা, এ ছাড়াও, ভুটানে সামান্য মারবেল, স্লেট, আকরিক লোহা, ট্যাঙ্ক, গ্র্যানাইট প্রভৃতি পাওয়া যায়।

বাংলাদেশের প্রধান শিল্পগুলি হল— পাটশিল্প, বস্ত্রবয়ন শিল্প, কাগজ শিল্প চিনি শিল্প, চা শিল্প প্রভৃতি এবং কয়েক ধরনের কুটিরশিল্প, যেমন—তাঁত শিল্প, শঙ্খ শিল্প প্রভৃতি।

কর্ণফুলি নদীর খাড়িতে অবস্থিত চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রধান বন্দর | মংলা (চালনা) বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান বন্দর। এ ছাড়া, বরিশাল, সদরঘাট (ঢাকা) বাংলাদেশের অন্যান্য প্রধান বন্দর ।

আমদানিকৃত দ্রব্য: কয়লা, কার্পাস সুতো, ইস্পাত, মোটরগাড়ি, রেলইঞ্জিন, শস্যবীজ, চিনি, লবণ, রাসায়নিক দ্রব্য, খনিজ তেল প্রভৃতি |

রপ্তানিকৃত দ্রব্য: পাট ও পাটজাত দ্রব্য, সুপারি, প্রাকৃতিক গ্যাস, সুতির পোশাক, মাছ, চামড়া, কাগজ, তামাক, ইলিশ মাছ প্রভৃতি ।

মায়ানমারের উল্লেখযোগ্য কৃষিজ ফসলগুলি হল ধান, ভুট্টা, জোয়ার, যব, চিনাবাদাম, তামাক, তুলা, আখ, রবার প্রভৃতি।

→ ইরাবতী বদ্বীপ এলাকা মায়ানমারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল |

মায়ানমারকে ‘সেগুন কাঠের দেশ' বলে কারণ বিশ্বের প্রায় 70 শতাংশ সেগুন কাঠ এই দেশ থেকেই সংগৃহীত হয় ।

1 দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এদেশে বছরে দুবার বৃষ্টিপাত হয় বলে এখানে প্রচুর ধান চাষ করা যায়। 2 শ্রীলঙ্কার পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর চা, কফি, রবার, কোকো, তামাক এবং নানারকম মশলার চাষ হয়। 3 শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিমের বালিমাটিতে প্রচুর দারুচিনি চাষ হয় বলে এই দেশকে দারুচিনির দ্বীপ বলে। 4  ধান এদেশের প্রধান ফসল হলেও ভুট্টা, মিলেট, কলা, তুলো প্রভৃতি ফসলও উৎপাদিত হয়। 5 সমুদ্রের ধারে প্রচুর নারকেল, সুপারি চাষ হয়। এ ছাড়া, জাফনা উপদ্বীপে প্রচুর তামাক চাষ হয়। এইসব কারণে শ্রীলঙ্কার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ।

শ্রীলঙ্কার প্রধান কৃষিজ ফসলগুলি হল—ধান, চা, রবার, তামাক, নারকেল, দারুচিনি, লবঙ্গ, ভুট্টা, তৈলবীজ, কলা, মিলেট প্রভৃতি। 3. শ্রীলঙ্কার কয়েকটি খনিজ সম্পদের নাম লেখো। • শ্রীলঙ্কায় প্রচুর গ্রাফাইট এবং অল্প পরিমাণ বক্সাইট ও চুনাপাথর পাওয়া যায়। এ ছাড়া, এখানে কয়েকটি মূল্যবান রত্ন যেমন—নীলকান্তমণি, পদ্মরাগমণি, বৈদুর্যমণি প্রভৃতি পাওয়া যায়। 4. শ্রীলঙ্কা ভারত থেকে কী কী দ্রব্য আমদানি ও ভারতে কী কী দ্রব্য রপ্তানি করে।

শ্রীলঙ্কা ভারত থেকে যেসব দ্রব্য আমদানি করে সেগুলি হল— চিনি, ইস্পাত, কয়লা, পাটজাত দ্রব্য, বস্ত্র, ওষুধ ইত্যাদি । শ্রীলঙ্কা ভারতে যেসব দ্রব্য রপ্তানি করে সেগুলি হল—লবঙ্গ, দারুচিনি, গ্রাফাইট, চামড়া, মূল্যবান রত্ন প্রভৃতি।

শ্রীলঙ্কার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিল্প হল চা শিল্প, রাবার শিল্প, সিমেন্ট - শিল্প, চর্ম শিল্প, কাগজ শিল্প, রাসায়নিক শিল্প, বস্ত্র শিল্প, কাঠচেরাই শিল্প, প্লাইউড প্রস্তুতি শিল্প প্রভৃতি।

গম এবং তুলো-এই দুটিই পাকিস্তানের প্রধান কৃষিজ ফসল। এ ছাড়া, এখানে যথেষ্ট পরিমাণে ধান, জোয়ার, বাজরা, ভুট্টা, আখ, তামাক এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন—আপেল, বেদানা, আঙুর, পিচ, খেজুর প্রভৃতি উৎপন্ন হয়।

পাকিস্তানের কয়েকটি খাল হল -1 ইরাবতী নদীর দোয়ার খাল, 2 চন্দ্রভাগা নদীর উচ্চ ও নিম্ন চন্দ্রভাগা খাল, ও) বিতস্তা নদীর উচ্চ ও নিম্ন বিতস্তা খাল, 1 সিন্ধু খাল প্রভৃতি ।

পাকিস্তান, ভারত থেকে প্রধানত যেসব দ্রব্য আমদানি করে সেগুলি হল—কয়লা, চা, চিনি, লোহা ও ইস্পাত, যন্ত্রপাতি, অভ্র, রাসায়নিক দ্রব্য, কেন্দুপাতা (বিড়িপাতা) প্রভৃতি। পাকিস্তান, ভারতে যেসব দ্রব্য রপ্তানি করে সেগুলি হল— তুলো, চামড়া, পশম, খনিজ লবণ, শুকনো ফল, সিমেন্ট প্রভৃতি ।

শ্রীলঙ্কার মধ্যভাগের কুরুনেগালা এবং বোগালা অঞ্চলে গ্রাফাইট, মধ্যভাগের উচ্চভূমির দক্ষিণাংশে রত্নপুরার কাছে অবস্থিত সবরগামুয়ায় মূল্যবান রত্ন, যেমন—নীলকান্তমণি, পদ্মরাগমণি, বৈদূর্যমণি প্রভৃতি এবং উত্তরাংশে জাফনা উপদ্বীপে চুনাপাথর উত্তোলন করা হয়। গ্রাফাইট উৎপাদনে শ্রীলঙ্কা পৃথিবীতে প্রথম স্থান অধিকার করে।

উত্তর প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক রাখার প্রয়োজনীয়তা: ভারতের উত্তরে চিন, নেপাল ও ভুটান, পশ্চিমে পাকিস্তান, উত্তর-পশ্চিমের সংকীর্ণ সীমায় আফগানিস্তান, পূর্বদিকে মায়ানমার ও বাংলাদেশ এবং দক্ষিণে শ্রীলঙ্কা অবস্থিত। পক প্রণালী ও মান্নার উপসাগর শ্রীলঙ্কাকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। মালাবার উপকূলের কাছে লাক্ষাদ্বীপের সামান্য একটু দক্ষিণে আছে মালদ্বীপ |

এইসব প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন কারণ—

1 বাণিজ্যিক আদানপ্রদান: বিশ্বের কোনো দেশই তার প্রয়োজনীয় সব পণ্য বা উপকরণ উৎপাদন করতে পারে না, আবার দেশে যা কিছু উৎপন্ন হয়, তার সবটাই সেই দেশ ব্যবহার করতে পারে না— কিছুটা উদ্‌বৃত্ত থাকে। তাই পণ্যদ্রব্য আদানপ্রদান বা বাণিজ্যিক লেনদেনের কারণে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা খুব প্রয়োজনীয় |

2 জল সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার: ভারতে এমন অনেক নদী আছে যেগুলির ঊর্ধ্বপ্রবাহ বা নিম্নপ্রবাহ প্রতিবেশী দেশগুলির অন্তর্গত। অর্থনৈতিক উন্নয়নে এইসব নদীকে সুষ্ঠুভাবে ব্যবহারের জন্যও ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজনীয়

3 বেআইনি অনুপ্রবেশ ও অবৈধ বাণিজ্য রোধ: সীমান্ত অঞ্চলে চোরাচালান, বেআইনি অনুপ্রবেশ, মাদক দ্রব্য পাচার ইত্যাদি নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়। এগুলি বন্ধ করার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক রাখা প্রয়োজনীয়

4 আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মিলিত মত প্ৰকাশ: উন্নত দেশগুলির ক্রমবর্ধমান শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানানো এবং এই পটভূমিতে নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা ভারতের পক্ষে একান্ত প্রয়োজনীয়
5 প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সহায়তা: বন্যা, খরা, ভূমিকম্প, সুনামি প্রভৃতি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অর্থ ও রাগজনিত সাহায্য লাভের জন্য ভারতকে প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হয়।

6 যুদ্ধবিগ্রহের আগ কা হ্রাস; সর্বোপরি প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখলে দেশে যুদ্ধবিগ্রহের আণকা কমে, ফলে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হ্রাস করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশি সচেষ্ট হওয়া যায়।

নেপালে কৃষি এবং শিল্পের তেমন কোনো উন্নতি না হলেও পর্যটনশিল্পে এই দেশ অনেকটা এগিয়ে আছে। এর কারণ নেপাল হিমালয় পর্বতের কোলে অবস্থিত বলে পাহাড় পর্বতবেষ্টিত এই দেশটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতি মনোহর। গভীর নদী উপত্যকা, জলপ্রপাত, পর্বতশৃঙ্গ, বিভিন্ন রঙের ফুলের সৌন্দর্য দেখার জন্য সারা পৃথিবী থেকে বহু মানুষ এখানে আসেন।

1 পর্বতশৃঙ্গের সমাহার: পৃথিবীর দশটি উঁচু পর্বতশৃঙ্গের মধ্যে আটটি পর্বতশৃঙ্গই এদেশে রয়েছে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টও নেপালে অবস্থিত।

2 পর্বত আরোহণের সুবিধা: নেপালে সারা পৃথিবী থেকে পর্যটকেরা পর্বতশৃঙ্গ আরোহণের জন্য আসেন। প্রতিবছর মাউন্ট এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, অন্নপূর্ণা প্রভৃতি শৃঙ্গগুলি জয় করার জন্য পৃথিবীর বহু মানুষ এখানে পৌঁছান এবং এই জন্যই বহুমূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের এটি একটি বৃহত্তম উৎস।

3 পর্যটন উপযোগী পরিকাঠামো: নেপালে যেহেতু বহু পর্যটক আসেন তাই এদেশে পর্বত আরোহণের জন্য যাবতীয় পরিকাঠামো মজুত। শেরপা, পর্বতে আরোহণের যাবতীয় সরঞ্জাম, পোশাক এবং পর্বত আরোহণের ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থাও এখানে আছে।

4 হোটেল ব্যবসা: নেপালের সর্বত্র হোটেল এবং যানবাহনের সুব্যবস্থা রয়েছে অর্থাৎ পর্যটকদের থাকা খাওয়া, যাতায়াত এবং অন্যান্য পরিসেবা ব্যবস্থা এখানে অতি উন্নত।
5 প্রাচীন স্থাপত্য: নেপালের কাঠমান্ডু, নাগারকোট, পোখরা, লুম্বিনী প্রভৃতি শহরে প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এর মধ্যে পশুপতিনাথের মন্দির, কপিলাবস্তু অট্টালিকা, মুক্তিনাথ, জনকপুর প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য স্থান।
6 রাজধানী শহর কাঠমাণ্ডু: বাগমতী নদীর ধারে অবস্থিত কাঠমাণ্ডু এদেশের রাজধানী, বিমানবন্দর ও প্রধান শহর। এখানকার বৌদ্ধনাথ মন্দির, ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়, পশুপতিনাথ মন্দির ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের নেপালে টেনে আনে।

ভুটান ফলপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পে উন্নত, কারণ—

1 ফল চাষ: প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ভুটানে কৃষি ও শিল্প খুব বেশি উন্নতি করতে পারেনি। ফলে পর্বতের তালে এবং উপত্যকায় প্রচুর পরিমাণে ফল চাষ হয়। বিশেষ করে কমলালেবু, আপেল, আনারস, আঙুর এখানকার চাষযোগ্য ফল। এইসব ফল থেকে ফলপ্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে উঠেছে।

2 ফল চাষের অনুকূল জলবায়ু: উচ্চতার কারণে ভুটানের জলবায়ু উন্ন নাতিশীতোয় প্রকৃতির এইরকম জলবায়ু ফল উৎপাদনে আদর্শ ।

3 উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ: নানা ধরনের ফল থেকে জ্যাম, জেলি, আচার, স্কোয়াস প্রভৃতি তৈরির জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তির কারখানা গড়ে উঠেছে | ফলে এই শিল্পের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটেছে এবং তা সমগ্র পৃথিবীতে খ্যাতি লাভ করেছে ।

4 বৈদেশিক চাহিদা বৃদ্ধি: ভুটানে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলের রস থেকে তৈরি মদ বিদেশের বাজারে ব্যপক চাহিদার সৃষ্টি করেছে |

5 পরিকাঠামোগত উন্নয়ন: দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ফল সারা বছর তাজা এবং টাটকা রাখার জন্য হিমঘর নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে ফল সংরক্ষণ করা হয়। ভুটানের ফুন্টশোলিং ও খামচি ফল সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত ।

মায়ানমার অরণ্য সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ। দেশের প্রায় 67% ভূমি অরণ্যাবৃত। উদ্ভিদের প্রকৃতি অনুসারে এখানকার অরণ্যকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যায়—

1 চিরসবুজ অরণ্য; বর্ষণসিক্ত পার্বত্য অঞ্চলে চিরসবুজ বৃক্ষ জন্মায় । এই অরণ্যের পিনকাডো বা আয়রন উড এবং সেগুন কাঠ বা বার্মা টিক পৃথিবী বিখ্যাত। বিশ্বের প্রায় 70 শতাংশ সেগুন কাঠ এই দেশ থেকেই সংগৃহীত হয়। এ ছাড়া, দেশের দক্ষিণাংশে বাঁশ ও বেত গাছ জন্মায়।

2 পর্ণমোচী বৃক্ষের অরণ্য: পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের স্বল্পতার দরুন পর্ণমোচী উদ্ভিদ জন্মায়। যেমন— শাল, অর্জুন, শিশু, জারুল, শিমুল প্রভৃতি।

3 তৃণভূমি: দেশের মধ্যভাগের শুষ্ক অঞ্চলে বড়ো বড়ো ঘাসের তৃণভূমি ও কাঁটাঝোপ দেখা যায়।

4 অন্যান্য: এ ছাড়া, পার্বত্য অঞ্চলে সরলবর্গীয় পাইন এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ দেখা যায় ।

পাকিস্তানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম, তাই কৃষিকাজ সম্পূর্ণরূপে সেচব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। উন্নত সেচব্যবস্থার সাহায্যে এখানকার মরুপ্রায় অঞ্চলকে সুফলা ও শস্যশ্যামলা করে তোলা হয়েছে। এইজন্য পাকিস্তানকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জলসেচ কার্যকরী দেশ বলে আখ্যায়িত করা হয়। পাকিস্তানে যেসব সেচ পদ্ধতিগুলি প্রচলিত সেগুলি হল

1 খালসেচ: জলসেচের জন্য সিন্ধু ও তার বিভিন্ন উপনদীর ওপর অনেক বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। যেমন—সিন্ধুর ওপর সুর বাঁধ, মহম্মদ বাঁধ, জিন্না বাঁধ, বিতস্তার ওপর মঙ্গলা বাঁধ প্রভৃতি। এ ছাড়া, অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বাঁধগুলি হল তারবেনা, মারালা, রসুন, বাপ্পো প্রভৃতি। এইসব বাঁধের পেছনে নির্মিত জলাধার থেকে খালের মাধ্যমে সেচ কাজ করা হয়। দেশের প্রায় 43 অংশের বেশি সেচকার্য ই পদ্ধতিতে হয়। পাকিস্তানের কতকগুলি উল্লেখযোগ্য খাল হল ইরাব নদীর নিম্নবারি দোয়াব খাল, চন্দ্রভাগা নদীর উচ্চ ও নিম্ন চন্দ্রভাগা খান, বিতস্তা নদীর উচ্চ ও নিম্ন বিতস্তা খাল, সিন্ধু খাল প্রভৃতি।

2 ক্যারেজ পদ্ধতি: পশ্চিমে বালুলিভানের শুষ্ক অঞ্চলে জল নিয়ে যাওয়া সময় অত্যধিক তাপে যাতে জল শুকিয়ে না যায় তাই মাটির নীচে সু কেটে কৃষিক্ষেত্রে জল নিয়ে যাওয়া হয়। জল নিয়ে যাওয়ার এই প্রথার নাম ক্যারেজ প্রথা ।