Chapter-8 ➤ পরিবেশ ও পরিবহণ

উঃ-মানুষ পরিবহণের ক্ষেত্রে একটি প্রাচীন মাধ্যম হল পালকি; এটি কাঠের তৈরি। একটি বড়ো কাঠের বাক্স যেখানে একজন বা দুজন মানুষ বসতে পারেন। তাতে ছোটো দরজা থাকে। পালকির দু-দিকে কাঠের হ্যান্ডেল লাগানো থাকে। এইভাবে তৈরি হয় পালকি। সামনের কাঠের হ্যান্ডেলটি দুজন ও পিছনের কাঠের হ্যাণ্ডেলটি দুজন, মোট চার জন কাঁধে নিয়ে চলে। পালকিতে করে দু-এক জনের বেশি যাওয়া সম্ভব না-হলেও ধনী, জমিদার শ্রেণির মানুষজন যাতায়াতের জন্য এটি পছন্দ করতেন।

উঃ-আগেকার দিনে স্থলপথের চারিদিকে বন ছিল ও তার মধ্য দিয়ে ছিল রাস্তা, ফলে বন্য জন্তু ও দুর্বৃত্তের আক্রমণের ভয়ে মানুষ জলপথে যাতায়াত শুরু করল।

উঃ- (1) সাধারণ নৌকায় কোনো ইঞ্জিন থাকে না। কিন্তু ভুটভুটিতে বা লঞ্চে ইঞ্জিন থাকে।

(2) সাধারণ নৌকা জোরে যেতে পারে না, কিন্তু লঞ্চ বা ভুটভুটি জোরে যেতে পারে।

উঃ-হাল নৌকার পেছন দিকে থাকে। এটি বেশ লম্বা কাঠের তৈরি হয়। হাল অনেকটা সাইকেলের হ্যান্ডেলের মতো কাজ করে। নৌকা কোন্ দিকে যাবে হাল তা ঠিক করে দেয়। হাল ঠিক করে না-ধরলে নৌকা উলটে যাবে। সেজন্য প্রায় সব জলযানেই হাল থাকে।

উঃ-জোরে চলতে পারে এমন কয়েকটি আধুনিক জলযান হল— ভুটভুটি, লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ ইত্যাদি।

উঃ-1) সড়কপথ : পরিবহণ ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম হল স্থলভাগে নির্মিত সড়কপথ। এই পথে পরিবহণের মাধ্যম হল— বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি প্রভৃতি।

2) রেলপথ : রেলপথ স্থলভাগের শ্রেষ্ঠ পরিবহণ মাধ্যম। এই পথে ভারী এবং বেশি পরিমাণ জিনিসপত্র ও মানুষকে সস্তায় ও দ্রুত দূরবর্তী স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ।

3) জলপথ : অন্তর্দেশীয় জলপথে ও সমুদ্রে নৌকা, লঞ্চ ও জাহাজের মাধ্যমে পরিবহণ করা যায়।

4) বিমানপথ : দুর্গম ও দূরবর্তী অঞ্চলে দ্রুত পরিবহণের মাধ্যম হল বিমানপথ।

উঃ-পেট্রোল-ডিজেলের সাহায্যে গাড়ি চালানো হয়। এই পেট্রোল-ডিজেলের দহনের ফলে উৎপন্ন ধোঁয়ার মধ্যে বিষাক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড থাকে। ওই সমস্ত ধোঁয়া বাতাসে মিশছে। আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে ওই ধোঁয়া শরীরে প্রবেশ করলে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি করে, তাই গাড়ির ধোঁয়া বিষাক্ত।

উঃ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ও মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত নানান কার্যকলাপের দ্বারা পরিবেশের (বায়ু, জল, মাটি প্রভৃতি) গুণমানের অবনতিকে বলে পরিবেশদূষণ।

উঃ-প্রতিনিয়ত যানবাহন, কলকারখানা প্রভৃতি থেকে উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করে। এর ফলে মানুষের দেহে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এই কার্বন ডাইঅক্সাইডকে শোষণ করতে পারে একমাত্র সবুজ | উদ্ভিদ। সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির সময় বাতাস থেকে কার্বন  ডাইঅক্সাইড শোষণ করে, তাই দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়তে হলে বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন।

উঃ-গাড়ির ধোঁয়ায় থাকা সালফার ডাইঅক্সাইড গাছের পক্ষে সবথেকে ক্ষতিকারক। গাড়ির ধুলো পাতার ওপর জমে কালো হয়ে যায়, এরকম পাতা সূর্যালোক শোষণ করতে না-পারায় গাছপালা ঠিকমতো খাদ্য তৈরি করতে পারে না।

উঃ-গাড়ির ধোঁয়া থেকে কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড প্রভৃতি জটিল হাইড্রোজেনযুক্ত গ্যাস বাতাসে ছড়ায়।

উঃ-ট্রেনের দু-দিকের চাকার ভিতর দিকে খাঁজ থাকে। কোনো দিকই লাইন থেকে সরতে পারে না। তাই সরু রেল- লাইনের ওপর দিয়ে রেলগাড়ি ছুটে চলে।

উঃ-কয়লা পুড়িয়ে যে-তাপ উৎপন্ন করা হয়, সেই তাপে জলকে ফুটিয়ে বাষ্পে রূপান্তরিত করা হয়। সেই বাষ্পের চাপে একটি মোটা পিস্টন বেরিয়ে আসে। তার ঠেলায় চাকা ঘোরে। এইভাবে বাষ্পের সাহায্যে রেল চলে।

উঃ-1853 খ্রিস্টাব্দের 16 এপ্রিল থেকে এদেশে ট্রেন চলছে। 1854 খ্রিস্টাব্দে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত ট্রেন চালু হয়। দীর্ঘপথে ট্রেন চলার সেই শুরু।

উঃ- 1) পেট্রোল, ডিজেলের ভাণ্ডার সীমিত, এগুলি একদিন নিঃশেষ হবে। এদের দামও ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী, সেজন্য সাইকেল একটি ভালো বিকল্প যান হতে পারে।

2) সাইকেল চালালে বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, কারণ প্যাডেল করে এটি চালানো হয়।

3) সব ধরনের পাকা রাস্তা, মাটি বা কাঁচা বা মোরাম রাস্তার ওপর সাইকেল স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারে।

4) সাইকেল সহজলভ্য, দাম কম, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মোটরচালিত যানবাহনের তুলনায় খুবই কম, সেজন্য সাইকেল পরিবেশবান্ধব এবং ভবিষ্যতে খুব দরকারি হবে।

উঃ-1) মোটরচালিত যানগুলি (লরি, ট্যাক্সি, মোটরবাইক, বাস, টেম্পো, লরি প্রভৃতি) প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত করে, যার প্রভাবে বায়ু দূষিত হয়। এর প্রভাবে গাছপালা, মানুষ রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।

2) বিভিন্ন যানবাহন থেকে যে তেল-মোবিল মাটিতে মেশে তার প্রভাবে মাটি বিশেষ করে কৃষিজমির ক্ষতি হয়। মোবিল ও তেল জলে মিশে জলজ প্রাণী ও মাছের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

3) জেট প্লেন, এক্সপ্রেস ট্রেন, লরির হর্ন অত্যধিক হারে শব্দদূষণ ঘটায়, যার প্রভাবে মানুষ নানা রোগের শিকার হচ্ছে। এভাবে যানবাহনের প্রভাবে মাটি, জল, বায়ু সার্বিকভাবে আমাদের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

উঃ- ট্রেনে চলাচলের সুবিধা—

1) দ্রুতগতির পরিবহণ: ট্রেন অনেক নিরাপদ, মোটর চালিত যানের থেকে অনেক দূরের গন্তব্যে খুব তাড়াতাড়ি যাওয়া সম্ভব।

2) পরিবহণ খরচ: স্থলভাগের অন্যান্য পরিবহণ মাধ্যমগুলির চেয়ে কম খরচে ট্রেনে অনেক বেশি মালপত্র এবং মানুষ পরিবহণ করা যায়।

3) দূষণ: ট্রেন ইলেকট্রিক ও ডিজেলচালিত ইঞ্জিনে চলে। উন্নত প্রযুক্তির ইঞ্জিন ব্যবহৃত হওয়ায় বায়ুদূষণ খুব কম হয়।

4) সাংস্কৃতিক প্রভাব: বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সংস্কৃতির মেলবন্ধন গড়ে ওঠে, তাদের মধ্যে মেলামেশার সুযোগ ঘটে।