Geography

হুগলি নদীর মােহনায় লােহাচড়া বদ্বীপটি ক্রমশ ডুবে। যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা কয়েকটি কারণ নির্দেশ করেছেন—[1] সমুদ্রজলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, [2] উপকূলের ক্ষয়, [3] প্রবল ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতি। এ ছাড়া [4] ম্যানগ্রোভের ধ্বংস এই দ্বীপের খুব ক্ষতি করছে।

আপাত দৃষ্টিতে কোনাে সম্পর্ক নেই। কারণ ফারাক্কা ব্যারেজ হল মুরশিদাবাদের একটি বাঁধ আর লােহাচড়া দ্বীপটি হল। বঙ্গোপসাগরের মধ্যে সম্প্রতি ডুবে যাওয়া একটি দ্বীপ। কিছু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 1974 সালে ফারাক্কা ব্যারেজ তৈরি হওয়ার পর থেকে হুগলি নদীর মধ্যে দিয়ে গঙ্গায় অধিকাংশ জল প্রবাহিত হচ্ছে। বর্ষাকালে আরও বেশি জল এসে সুন্দরবনের দ্বীপগুলিকে জলমগ্ন করে তুলছে। যে কারণে, লােহাচড়া দ্বীপের মতাে আরও দ্বীপের অদৃশ্য হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

হাড়িয়াভাঙা নদীর মােহানা থেকে 2 কিমি দূরে এই দ্বীপের অবস্থান। ভৌগােলিক অবস্থা অনুযায়ী এটি 21°37’00” উত্তর এবং 89° 08'30'' পূর্ব অবস্থানে রয়েছে। 1970 সালে ভােলা ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এই দ্বীপের খুব ক্ষতি হয়। 1974 সালে এর  আয়তন ছিল 2500 বর্গমিটার (উপগ্রহ চিত্র থেকে)। বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ নিমজ্জিত দ্বীপ।

কলকাতা থেকে মাত্র 150কিমি দূরে বঙ্গোপসাগরের মধ্যে এটি একটি সুন্দরবনের সাধারণদ্বীপ। পরীক্ষায় দেখা গেছে, 1951 সালে ঘােড়ামারা দ্বীপটির আয়তন ছিল 38.23 বর্গকিমি, 2011 সালে এর আয়তন দাঁড়ায় 4.37 বর্গকিমি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই দ্বীপটিও সম্পূর্ণ ডুবে যাবে।

ভূমিঢালের পরিবর্তন হলে অনেকসময় নদীর নিম্নক্ষয় করার ক্ষমতা আবার ফিরে পাওয়াকে নদীর পুনর্যৌবন লাভ বলে। ভূ-আন্দোলনের জন্য নদীর ক্ষয়সীমার পরিবর্তন, নদীগ্রাস প্রভৃতি কারণে নদীতে জলের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং কোনাে কারণে নদীর বােঝার পরিমাণ কমে গেলে নদী পুনর্যৌবন লাভ করে।